ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল


শীতের রেষ অনেকটাই কমে গেছে । অবশ্য শহরে শীতের প্রতাপ খুব একটা বুঝাও যায় না। তবে যতটুকু বুঝা যায়, ওইটুকু উপভোগ্য। যতটুকু প্রকৃতি আমার কাছে ধরা দেয় এই ইট কাঠের দেয়ালের ফাঁকে ওইটুকু আমি লুফে নেই। আর মাঝে মাঝে পুরোপুরি লুফে নেওয়ার জন্য গাড়ি ছুটাই আমার রাড়িখালে। যে গ্রামটি সম্পূর্ণ ভাবে গেঁথে আছে আমার ভেতরে। যে গ্রামে আমি প্রথম নিঃশ্বাস নেই, সেই গ্রামের গন্ধ আমি এই বদ্ধ শহরে বাস করেও বুক ভরে নিতে পারি। চোখ বন্ধ করলেই আমি আমার বাড়ির উঠোন দেখতে পাই। যেখানে আমার শৈশবের গড়াগড়ি লেগে আছে। আমি দেখতে পাই আমার পুকুরটিকে। যেখানে আমি শহরে আসার আগ পর্যন্ত সাঁতরিয়ে এ মাথা থেকে ও মাথা গিয়েছি।

আমি দেখতে পাই আমার বাড়ির পিছনে জঙ্গলটিকে। যেখানে আমার বাল্যকালের বাল্যবন্ধুর সাথে প্রথম আবিষ্কার করেছিলাম এক দুর্ধষ প্রচণ্ড অসহ্য চরম সুখের অজানা অনুভূতি।
আমি দেখতে পাই আমার ধান ক্ষেতটিকে । যেখানে আমি মধ্য দুপুরে ছুঁটে যেতাম । বুক ভরে শ্বাস নিয়ে সোনালি ধানের এক অদ্ভুত শিহরণ জাগান মাদকতায় ভরপুর ঘ্রাণ নিতাম। আমার সময়ের কোন জ্ঞান থাকতো না যখনই আমি এই ভরা ধান ক্ষেতের মাঝে বিচরণ করতাম। আমার ধ্যান ভাঙত মায়ের ডাকে। মনে হতো যেন মধুরতম কোন স্বপ্ন থেকে জেগেছি।

আমি দেখতে পাই আমার স্কুলটিকে। যেখানে আমার জ্ঞানের প্রথম হাতেখড়ি। যে স্কুলটি আমার জ্ঞান স্পৃহার প্রথম স্তম্ব। যেখানে আমি লিখতে শিখি পড়তে শিখি, এক একটি বিষয় কি দুর্বার তীব্র আকর্ষণ শক্তি দিয়ে আমাকে টানত। আমি মন্ত্র মুগ্ধের মত পড়ে যেতাম। আমার কোন ক্লান্তি আসতো না। আমি ভেবে কেঁপে উঠি, ওই স্কুলটি না থাকলে আমি পড়তাম কীভাবে, লিখতাম কীভাবে,শিখতাম কীভাবে, জানতাম কীভাবে । আমার তৃষ্ণার মত জ্ঞান আহরণের প্রথম ভীতটিই যদি না থাকতো আমি বেঁচে থাকতাম কীভাবে! ওই স্কুলটি ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ। ওটি না থাকার কথা আমি কল্পনাও করতে পারি না। প্রবল ভয়ে আমি কুঁকড়ে যাই। বন্ধ চোখে স্কুলটিকে দেখতে আমার ভাল লাগে।

আমি সুখ পাই যখন কল্পনায় দেখি আমি আবার ১৫ বছরের বালক, আবার আমি বই কাঁধে স্কুল যাচ্ছি। আমি দাড়িয়ে আছি মধ্য দুপুরে ধান ক্ষেতের মাঝে, ঘ্রাণ নিচ্ছি সুবজ আর সোনালি আভার। আমি শুনতে পাই, বাবা আমাকে বলছে “ পড় পড় পড়”। আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত সন্ধ্যা থেকে পড়েই যাই, নিঃশ্বাসে বইয়ের ঘ্রাণ নিতাম বুক ভরে। বইয়ের ঘ্রাণ আমি এখনো নেই। দিনের অধিকাংশ সময় জুড়ে বই’ই থাকে আমার সাথে।

সাধারণ গ্রামে সাধারণ ভাবেই আমার জন্ম হয়েছিলো। শুধু চিন্তা চেতনা আমি সাধারণ করতে পারি নি। আমার আশেপাশের মানুশজন যা যা করতো আমি তা নির্দ্বিধায় করতে পারতাম না। আমার মনে প্রশ্ন জাগত। আমি উত্তরের আশায় তন্ন তন্ন করে খুঁজি প্রতিটি মহাগ্রন্থ। হতাশ হয়ে ফিরে আসি। তাই সেখানে আমার বিশ্বাস জন্মে নি। কোন অলৌকিক সত্ত্বার কাছে আমি মাথা নত করতে পারি নি। আমি যৌক্তিকতা খুঁজেছিলাম, কিন্তু প্রতিটি মহাগ্রন্থেই আমি পাই, পৌরাণিক কাহিনী, ভয় আর লোভ।

অদৃশ্য সত্ত্বা থেকে দৃশ্যমান সত্তাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার কাছে। তাই আমি বিজ্ঞানে বিশ্বাসী, সৃষ্টির বিবর্তনে আর পরিবর্তনে বিশ্বাসী। বস্তু আমার সামনে আছে বলে, বা আমি তাঁর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানি বলেই একে আর আলাদা ভাবে বিশ্বাস করার প্রয়োজন নেই। যেমন ভাবে আমরা সূর্যে বিশ্বাসী নই, চাঁদে বিশ্বাসী নই, পাহাড়ে বিশ্বাসী নই নদীতে বিশ্বাসী নই, কারণ এসব দৃশ্যমান এবং অবশ্যই অস্তিত্বশীল। অদৃশ্য অলৌকিক বিষয়েই বিশ্বাসের প্রয়োজন। আমি অসাদৃশ্য কোনকিছুতে আকর্ষণ অনুভব করিনি কখনো। আর আকর্ষণ ছাড়া কিছুই গ্রহন করতে পারিনা আমি।

আমি হালকা শীতের মধ্যে হেঁটে ফুলার রোডের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পৌঁছাই। খুব বেশি দূরে নয়। হেঁটে যেতে আমার ভাললাগে। ক্লাস নেই আজকে। কিছু খাতা দেখার কাজ আর এক অনুজ অনুরাগি সাংবাদিককে কয়েকঘন্টার সময় দেওয়া। গত দুই দিন ধরেই দিচ্ছি। তাঁর সাথে এই ইন্টার্ভিউ ভালো যাচ্ছে। সে গতানুগতিক প্রশ্ন করে না। আমার শৈশব কিশোর যৌবন শিক্ষা অধ্যাপনা লেখালেখি আদর্শ চিন্তা চেতনা মূল্যবোধ সব কিছু নিয়ে সে খুব তীক্ষ্ণ প্রশ্ন করছে। তীক্ষ্ণতা আমার পছন্দ। স্পষ্টভাষী মানুষ আমার পছন্দ।

আজ সে সময়ের আগেই এসেছে। চা সিগারেটে কিছুক্ষণ সাধারণ আলাপ। তাঁর হাতের সিগারেট শেষ হতেই সে হঠাৎ জিজ্ঞেস করে “ প্রতিক্রিয়াশিলতা সম্পর্কে আপনার কি ধারণা?”
প্রশ্নটি আমার পছন্দ হয়।
এখন তো বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়াশিলতা নেই, আছে গভীরতর প্রতিক্রিয়াশিলতা। আমরা বাস করছি শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে, সমগ্র বাংলাদেশকেই আমার এখন কারাগার মনে হয়। এই নিয়ে আমার একটি বই আছে। যা লিখতে আমার কষ্ট হয়, সত্য আর বাস্তব সবসময় নিষ্ঠুর এবং ভয়ংকর। নিজ দেশের এই নিষ্ঠুরতা আর ভয়ঙ্করতা লিখতে আমি অনেকবার মানশিকভাবে আহত হয়েছি। এখানে মুক্তচিন্তা নেই, বিজ্ঞান নেই, সততা নেই, নৈতিকতা নেই আছে চুরি ঘুষ আল্লার নামে দুর্নীতি, ভয় লোভ, মাদ্রাসা। এখানে বিজ্ঞানের লোকরা হয়ে উঠেছে মাদ্রাশার শিক্ষকদের মতই অন্ধ”

= রাজনীতিবিদদের নিয়ে কি ভাবেন আপনি?
রাজনীতিবিদদের নিয়ে নতুন করে কি বলবো। এরা মানুশকে কোন অধিকার দিতে চায় না, এরা স্বৈরাচারী, জনগণকে এরা পশু মনে করে। আমরা চেয়েছিলাম একটি সৎ মুক্ত স্বাধীন গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল রাষ্ট্র আর সমাজ। কিন্তু আমরা পেয়েছি প্রতিক্রিয়াশিলতা। আর রাজনীতি তো এখনে সবচেয়ে নষ্ট পেশা। আমাদের রাজনীতিবিদরা জনগণকে ঠকানোর জন্য ধর্ম ভণ্ডামো করে। সবার জন্য শিক্ষা চাকুরি বাসস্থান চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব না কিন্তু সবাইকে বেহশ্তে নেওয়া সম্ভব, এতে কোন খরচ নেই। ধর্মের জন্য এখানে ব্যয় করা হয় অনেক অর্থ যা অন্য কাজে ব্যয় করলে অনেক উপকার হতো।

=সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে কি সন্তুষ্ট আপনি?
হেসে উঠলাম আমি । অনুজও হেসে উঠলো। “ বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা আমার কাছে পুরোপুরি দোজগের মতো মনে হয়। এখানে গণতন্ত্রের ছদ্ম চর্চা আছে, দুর্নীতিতে ভরপুর। আমাদেরসমাজ একটি প্রথা বদ্ধ সমাজ। ধর্ম এখানে রোগের মতো ছড়িয়ে আছে। ধর্ম চলছে , সঙ্গে চলছে দুর্নীতি, ঘুশ, খুন ধর্ষণ,

আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকি। একটি দীর্ঘশ্বাস বের হয়। এরপর বলি “ আমি বাল্যকালে এতো প্রথাবদ্ধতা দেখি নি, এতো প্রতিক্রিয়াশিলতা দেখি নি, এতো অন্ধত্ব দেখি নি, এতো হাস্যকর উগ্র ধর্মান্ধতা দেখি নি, দেখি নি এতো বোরখা টুপির ছড়াছড়ি।

অনুজটির জন্য আমি আরও এক কাপ চায়ের কথা বলি, আমরা রুম থেকে বের হয়ে কলা ভবনের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই। তার সাথে টেপ রেকর্ডারটিও আসে আমাদের সাথে। কলা ভবনের বারান্দা সব সময় আমার ভালো লেগেছে। ছাত্র অবস্থায়ও আমি বারান্দায় এসে দাড়াতাম, আজও দাঁড়াই।

= সংস্কারের কোন দুর্গে আপনি প্রস্নবিদ্ধ করেছেন?

যদিও আমি সংস্কারের সকল স্তরেই আঘাত করেছি , প্রশ্ন করেছি। জ্ঞান, শিল্পকলা সমাজ রাষ্ট্র ধর্ম মৌলবাদ সব ক্ষেত্রেই। তবে সমস্যা হল মূর্খ ভণ্ডরা মনে করে আমি শুধু ধর্ম আর মৌলবাদ নিয়েই বলেছি। মাঝে মাঝে আমি হাঁসি নিজে নিজে যে আমি সারাজীবন এতো পড়লাম, গবেষণা করলাম ভাবলাম লিখলাম বুঝলাম সবই কি ধর্ম নিয়ে ছিল! আমার পি এইচ ডি ছিল ভাষাতত্ত্বের উপর। অথচ প্রতিক্রিয়াশীলরা আমার ধর্ম আর মৌলবাদের লেখা ছাড়া কিছুই দেখল না। আমি এতো অলস বা এতোই ক্ষুদ্র মস্তিস্কের অধিকারী না যে আজীবন বা জীবনের অধিকাংশ সময় অপ্রয়োজনীয় ধর্ম নিয়ে চিন্তা করে কাটিয়ে দিবো। তবে মৌলবাদীদের ভণ্ডামি নোংরামি আমি তুলে ধরে এসেছি সব সময়, ভবিষ্যতেও তুলে ধরব।

= স্যার, আপনার ভয় করে না? অনেক হুমকি পান, আপনাকে মুরতাদ ঘোষণা করা হয়েছে, জামাতিরা কিন্তু তীব্র ভাবে ক্ষেপে আছে আপনার উপর।

আমি একটু মুচকি হাসলাম। তুমি কি এই প্রশ্নও তোমার ইন্টার্ভিউতে ছাপাবে? শুনো, আমার মৃত্যু ভয় নেই। পৃথিবীর সব কিছুর শেষ আছে। আমারও শেষ আছে। আমি অমর হতে চাই না। তবে এখনই মরতে চাই না। আরও ২০, ২৫ বছর বাঁচলে মনে হয় যথেষ্ট হবে আমার জন্য। কি বল? আমার আরও পড়ার আছে, আরও লেখার আছে আরও জানার আছে। এতো তাড়াতাড়ি এসব ছেড়ে যেতে চাই না। আর প্রতিক্রিয়াশীলরা প্রতিনিয়তই আমার উপর অসন্তুষ্ট। কিন্তু তাদের আমি সেই যোগ্য মনে করি না যে তাদের সন্তুষ্টের উপর আমার কোন কিছু মেনে চলতে হবে। বা আমার লেখার স্বাধীনতার কোথাও বাধা সৃষ্টি করবো। আমি মাথা নত করতে শিখি নি কখনো। কোন সভা দল সঙ্ঘ প্রথা ধর্ম অর্থাৎ শেকলের সাথে জড়িত হই নি কখনো। যেখানে আমি ভুল দেখেছি আমি তার সঠিকটা বলেছি, যেখানে অন্যায় দেখেছি আমি তার বিপক্ষে বলেছি, যেখানে সংস্কার দেখেছি সেখানে সংস্কার ভেঙ্গেছি, যেখানে ভণ্ডামি দুর্নীতি ধর্মের নামে নোংরামি বীভৎসতা দেখেছি সেখানে আমি তীব্র ভাবে কলম ধরেছি। আমার কলম থেকে বের হয়ে আসা অকাট্য জ্বলজ্বলে যুক্তি প্রতিক্রিয়াশীলদের বুকে কাপুনি ধরিয়ে দিয়েছে। তারা চিৎকার তো করবেই। করতে দাও, তাদের চিৎকারে কি সিংহের গৌরব ভাঙবে!

-আপনি নিজেকে সিংহ ভাবেন তাহলে?
“হাহাহাহাহা, তাদের এবং অনেকের তুলনায় আমি সিংহই। চল ক্ষুধা লেগেছে, খেয়ে নেই । এরপর বইমেলায় যাবো। আর মাত্র দুই দিন। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন বই মেলায় না গেলে হয় না আমার।

সন্ধ্যায় আমি যাই বইমেলায়। আমার গ্রামের পর এই এক মাস বইমেলাই এমন জায়গা যেখানে আমি ব্যাকুল হয়ে বার বার আসি। যদিও এখানে রয়েছে অনেক সমস্যা, বইয়ের দোকানের পর্যাপ্ত জায়গায় অভাব, বইমেলার বাইরে অহরহ পাটি বিছিয়ে বই বিক্রি, ধুলোবালি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। তবুও এখানে আমি প্রান খুঁজে পাই। যেদিকে তাকাই বই ছাড়া কিছু দেখি না। প্রতিটি মুহূর্তও আমাকে এক অদ্ভুত সীমাহীন ভাল লাগার আবেগে জড়িয়ে রাখে যতক্ষণ আমি বই মেলায় থাকি। আমি ঘুরি , প্রিয় ভাজনদের সাথে আড্ডা দেই। চা খাই, সিগারেট খাই, আমার প্রকাশকের স্টলে গিয়ে বসি। আমার পাঠকরা আসে, বই কিনে আমার, অটোগ্রাফ চায় বইয়ে। আমার পাঠকরা অনুরাগীরা আমাকে সুখি করে। আমি অবাক হই বিস্মিত হই আমারও এতো পাঠক আছে, যারা আমার বই পড়ে বুঝতে পারে। বাজারি বইয়ের ভিড়ে তারা আমার বইটি বেছে নেই। আমি গর্বিত আমার পাঠক অনুরাগীদের নিয়ে। কারণ ওরা বোদ্ধা। আমার বই তাদের ভাবায় প্রশ্ন জাগায় মনে , আমার বই পড়ে তারা ভাঙে হাজার বার নিজেকে আবার গড়েও তুলে। আমার খুবই ভালো লাগে যখন তারা আমার বইয়ের প্রশংসা করে বুঝে। অনেকে অবশ্য আছে না বুঝেই প্রশংসা করে, যেমন না বুঝে অনেকেই সমালোচনাও করে। তখন আমার হাঁসি আসে।

আমি অনেকক্ষণ থাকি আমার স্টলে, আড্ডা দেই, অটোগ্রাফ দেই। শেষ হয়ে যাবে দুই দিন পরেই। এই চিন্তা আমাকে কষ্ট দেয়। দুই দিন পরে আর এমন মাতাল করা বইরের গন্ধ পাবো না, চারিদিকে বইয়ের সমারোহ দেখবো না।

ফিরতে রাত ১০ টার মতো হয়ে যায়। হেঁটেই আমি বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। প্রতিদিনই আমি কয়েকটি বই কিনে নেই যাই। আজ নিয়েছি দুটি। কিছুটা ঠাণ্ডা বাতাস ছুঁয়ে যাচ্ছে আমাকে , আমার ভালো লাগে, দানবের মতো গাড়ি গুলো চলাফেরা কিছুটা কমেছে এই সময়ে। যা শ্রবন ইন্দ্রিয়কে শান্তি দেয়। রিক্সার টুংটাং আওয়াজ মনে প্রফুল্লতা জাগায়। ল্যাম্পপোস্টের হলদে আলো সুখকর বিষণ্ণতা জাগায়। আমি হাঁটতে থাকি।
হঠাৎ আমার ডান কাঁধে ভারী ধারালো কিছু বিঁধে যায়। প্রচণ্ড যন্ত্রণা আমি কুঁকড়ে যাই। বাম হাতে বই ধরা ছিল আমার, সেই বই দিয়েই আমি ডান হাত চেপে ধরতে চাই। আমি দেখতে পাই কয়েকজন মানুষকে, যাদের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা। আমি যন্ত্রণায় তাদের দিকে ভালো করে তাকাতে পারছি না। এরপরেই তারা আমার মুখ বরাবর একটি ধারালো তীক্ষ্ণ সান দেওয়া চাপাতি দিয়ে কোপ মারে। আমি সেই হলদে আলোতেও চাপাতির চাকচিক্ক্য খুব ভালো করেই দেখি। আরও তীব্র অমানুষিক যন্ত্রণায় গোঙাতে থাকি। আমি বুঝতে পারি আমার চোয়াল আলাদা হয়ে খুলে পরে যাচ্ছে। আমি ডানহাত ছেড়ে এবার মুখটি চেপে রাখি। আরও একটি কোপ দেয় তারা মাথার পিছনে পাশে। আমি বুঝতে পারি অঝোরে রক্ত পড়ছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারি না কোন অংশ চেপে রাখবো, মাথা মুখ না হাত। তীব্র প্রচণ্ড ভয়াল যন্ত্রণা হচ্ছিলো আমার প্রতিটি ইন্দ্রিয়তে। যেন আমি এই যন্ত্রণা ভোগ করা ছাড়া আর কোন অনুভূতি কোনোদিন পাই নি। আমি মাটিতে লুটে পরি। রক্তে আমার পুরো শার্ট ভিজে যায়। আমি চিৎকার করতে চাই যন্ত্রণায়, সাহায্যের জন্য কাউকে ডাকতে চাই, কিন্তু আমার মুখের চোয়াল জায়গা থেকে সড়ে যায় । আমি কোন কথা বলতে পারি না। শুধু গোঙ্গানো ছাড়া। মাথার পিছনে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছিলো। তবুও আমি দেখতে পাই যারা এসেছিলো আমাকে হত্যা করতে তারা দৌড়ে চলে যাচ্ছে, হয়তো কেউ আসছে আমাকে বাঁচাতে এটা দেখে নয়তো মনে করেছে আমি মরে যাচ্ছি।

হ্যাঁ আমি মরে যাচ্ছি। আমার শরীর অবশ হয়ে যাচ্ছে। কোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়াতে পারছি না। শুধু যেখানে যেখানে আঘাত পেয়েছি সেই জায়গায় তীব্র তীক্ষ্ণ অত্যন্ত জোরালো যন্ত্রণা হচ্ছে। আমি শুধু সেই যন্ত্রণার অনুভূতি ছাড়া আর কিছুই অনুভব করতে পারছি না।
আমি কয়েকজন মানুষকে দেখি যারা আমাকে ধরাধরি করে তুলে নিয়ে যায়। হয়তো এরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। আমাকে গাড়িতে তোলা হয়, এতো তাড়াতাড়ি তারা এ্যাম্বুলেন্স পেলো কি করে! এটা তো বাংলাদেশ!। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারি এটা এ্যাম্বুলেন্স না।

হঠাৎ আমি আমার কন্যাকে দেখতে পাই। আমি ওকে দেখে অবাক হই। সে এখানে আসলো কীভাবে! কন্যাকে দেখে অবাক হয়েছি দেখে আমি বুঝতে পারি যে আমার যন্ত্রণা ছাড়াও আরও অনুভূতি অনুভব করার ক্ষমতা এখনো আছে। তার মানে কি আমি মরছি না? আমি বেঁচে থাকবো? আমাকে কি এরা বাঁচাতে পারবে? আমার ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ছোট হয়ে আসছে। শরীরে মনে হচ্ছে যুগান্তরের ক্লান্তি ভর করছে। চোখ মেলে তাকাতে আমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হচ্ছে। এতোটা শক্তি আর অবশিষ্ট নেই আমার মাঝে।
আমি ঢলে পড়ছি। নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছি। মাথার পিছনের যন্ত্রণা আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। কিন্তু সেটি সহ্য করার ক্ষমতাও বোধহয় আর বাকি নেই আমার। আমি কাৎরাতে থাকি, গোঙাতে থাকি। আমার একবার একটি প্রচণ্ড চিৎকার দিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু আমি ব্যর্থ হই।

আমি জানি না আবার আমি চিৎকার করতে পারবো কিনা, লিখতে পারবো কিনা, পড়তে পারবো কিনা, ভাবতে পারবো কিনা , শিশির দেখতে পারবো কিনা, জ্যোৎস্না দেখতে পারবো কিনা, নদীর ঢেউ দেখতে পারবো কিনা, মেঘের গর্জন শুনতে পারবো কিনা, বৃষ্টির ধারা দেখতে পারবো কিনা, সূর্যের তেজ অনুভব করতে পারবো কিনা, রাতের নির্জনতা অনভব করতে পারবো কিনা, আমার সন্তানদের দেখতে পারবো কিনা, বারান্দায় মাঝে মাঝে বসে থাকা সেই চড়ুইকে আবার দেখতে পারবো কিনা! আমি জানি না।


২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সালে; বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময় প্রথা বিরোধী কবি উপন্যাসিক সমালোচক ভাষাবিজ্ঞানী প্রাবন্ধিক হুমায়ুন আজাদের উপর বর্বরোচিত হামলা করে মৌলবাদীরা। একই বছর আগস্টে তিনি জার্মানিতে মৃত্যু বরণ করেন।

৪৯ thoughts on “ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল

  1. চমৎকার লাগলো লেখাটা। গল্পের
    চমৎকার লাগলো লেখাটা। গল্পের মতো করে হুমায়ূন আজাদের পুরো জীবনী এতো ছোট পরিসরে তুলে আনা নিঃসন্দেহে সাহসী প্রচেষ্টা। তাতে আপনি সফল। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. কী তুলে এনেছি নিজেও জানি না।
      কী তুলে এনেছি নিজেও জানি না। তবে যেহেতু এখন কিছু লিখতে পারি তাই একটি ক্ষুদ্র চেষ্টা তাঁকে নিয়ে কিছু লিখার।

  2. আমি জানি না আবার আমি চিৎকার

    আমি জানি না আবার আমি চিৎকার করতে পারবো কিনা, লিখতে পারবো কিনা, পড়তে পারবো কিনা, ভাবতে পারবো কিনা , শিশির দেখতে পারবো কিনা, জ্যোৎস্না দেখতে পারবো কিনা, নদীর ঢেউ দেখতে পারবো কিনা, মেঘের গর্জন শুনতে পারবো কিনা, বৃষ্টির ধারা দেখতে পারবো কিনা, সূর্যের তেজ অনুভব করতে পারবো কিনা, রাতের নির্জনতা অনভব করতে পারবো কিনা, আমার সন্তানদের দেখতে পারবো কিনা, বারান্দায় মাঝে মাঝে বসে থাকা সেই চড়ুইকে আবার দেখতে পারবো কিনা! আমি জানি না।

    ক্ষমা করুন স্যার,আমরা যে অভাগা বাঙ্গালী। আমরা হিরেকে ছুরে ফেলে নর্দমাকে বুকে জড়াই।

  3. আমার প্রিয় শিক্ষক, মননের
    আমার প্রিয় শিক্ষক, মননের অভিভাবক, চেতনায় জাগ্রত মহামানবকে নিয়ে লেখার জন্য লেখককে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সালে; বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময় প্রথা বিরোধী কবি উপন্যাসিক সমালোচক ভাষাবিজ্ঞানী প্রাবন্ধিক হুমায়ুন আজাদের উপর বর্বরোচিত হামলা করে মৌলবাদীরা। একই বছর আগস্টে তিনি জার্মানিতে মৃত্যু বরণ করেন।

    স্যারের জন্য শোকগাঁথা –

    আর হৃদয়ের আকুতি =

    ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল, ভালো থেকো।
    ভালো থেকো ধান, ভাটিয়ালি গান, ভালো থেকো।
    ভালো থেকো মেঘ, মিটিমিটি তারা।
    ভালো থেকো পাখি সবুজ পাতারা।
    ভালো থেকো

    চর, ছোট কুড়ে ঘর, ভালো থেকো।
    ভালো থেকো চিল, আকাশের নীল, ভালো থেকো।
    ভালো থেকো পাতা, নিশির শিশির।
    ভালো থেকো জল, নদীটির তীর।
    ভালো থেকো গাছ, পুকুরের মাছ, ভালো থেকো।
    ভালো থেকো কাক কুহুকের ডাক, ভালো থেকো।
    ভালো থেকো মাঠ, রাখালের বাশিঁ।
    ভালো থেকো লাউ, কুমড়োর হাসি।
    ভালো থেকো আম, ছায়া ঢাকা গ্রাম, ভালো থেকো।
    ভালো থেকো ঘাস, ভোরের বাতাস, ভালো থেকো।
    ভালো থেকো রোদ, মাঘের কোকিল,
    ভালো থেকো বক আড়িয়ল বিল,
    ভালো থেকো নাও, মধুমতি গাও,ভালো থেকো।
    ভালো থেকো মেলা, লাল ছেলেবেলা, ভালো থেকো।
    ভালো থেকো, ভালো থেকো, ভালো থেকো।

    1. অসম্ভব প্রিয় একটি কবিতা। এতো
      অসম্ভব প্রিয় একটি কবিতা। এতো কাতর মনে হয় এই কবিতাকে; ইচ্ছে করে একটু আদর করি।

    2. ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল,

      ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল, ভালো থেকো।
      ভালো থেকো ধান, ভাটিয়ালি গান, ভালো থেকো।
      ভালো থেকো মেঘ, মিটিমিটি তারা।
      ভালো থেকো পাখি সবুজ পাতারা।
      ভালো থেকো
      চর, ছোট কুড়ে ঘর, ভালো থেকো।
      ভালো থেকো চিল, আকাশের নীল, ভালো থেকো।
      ভালো থেকো পাতা, নিশির শিশির।
      ভালো থেকো জল, নদীটির তীর।
      ভালো থেকো গাছ, পুকুরের মাছ, ভালো থেকো।
      ভালো থেকো কাক কুহুকের ডাক, ভালো থেকো।
      ভালো থেকো মাঠ, রাখালের বাশিঁ।
      ভালো থেকো লাউ, কুমড়োর হাসি।
      ভালো থেকো আম, ছায়া ঢাকা গ্রাম, ভালো থেকো।
      ভালো থেকো ঘাস, ভোরের বাতাস, ভালো থেকো।
      ভালো থেকো রোদ, মাঘের কোকিল,
      ভালো থেকো বক আড়িয়ল বিল,
      ভালো থেকো নাও, মধুমতি গাও,ভালো থেকো।
      ভালো থেকো মেলা, লাল ছেলেবেলা, ভালো থেকো।
      ভালো থেকো, ভালো থেকো, ভালো থেকো।

      :bow: :bow: :bow: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :দীর্ঘশ্বাস:

  4. স্যার আমাদের কখনোই হয়তো ক্ষমা
    স্যার আমাদের কখনোই হয়তো ক্ষমা করবেন না। অধম বাঙালি ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য নয়। নিকৃষ্ট মানুষরা যেভাবে সক্রেটিসের উপর অত্যাচারের খড়্গ চালিয়ে হত্যা করেছিলো মহামনীষিকে, সেই একই পরিণতি বরণ করতে হয় বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিমান লেখকটির। আমি নিশ্চিত, সক্রেটিস যদি বাংলাদেশে জন্মাতেন, তিনি হুমায়ূন আজাদ হতে চাইতেন। :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট:

    1. আমার পরিবার আর প্রিয়মানুষটির
      আমার পরিবার আর প্রিয়মানুষটির পর উনাকেই সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি।
      উনার সৃষ্টির সান্নিধ্যে যদি না আসতাম তবে কোনও পরিবর্তনই আসতো না আমার মধ্যে।
      উনার মত শক্তিশালী লেখক নেই এই বাঙলায়। এক সময় বাঙালী হারে হারে বুঝবে কী রত্ন তারা হারিয়েছে। যদিও বা সেই সময় আসবে যদি কোন কিছু নষ্টদের অধিকার থেকে রক্ষা করতে পারি।

      1. একই কথা আমার ক্ষেত্রেও
        একই কথা আমার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমি ক্লাশ টেনে কি ছিলাম আর SSC দেয়ার পর তাঁর বই গুলো পড়ে যে একটা বিশাল ধাক্কা খেতাম আর সেই ধাক্কা আমাকে ওলট পালট করে দিয়েছিলো!! এখনও আমি সেই ধাক্কাটা অনুভব করি। জাস্ট একটা কথাই বলবো -“Thank you, SIR!! :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট:

          1. আমার মনে হয় এক সময়ের বাংলাদেশ
            আমার মনে হয় এক সময়ের বাংলাদেশ স্যারের মূর্তি বানিয়ে রাখবে রাস্তার মোড়ে মোড়ে আর ঘরে থাকবে বাঁধানো ছবি। এমনকি ক্লোন করে তাকে জাগিয়েও তুলতে পারে ৩০১৪’র বাংলাদেশে বা বিশ্বে!

    2. সক্রেটিস যদি বাংলাদেশে

      সক্রেটিস যদি বাংলাদেশে জন্মাতেন, তিনি হুমায়ূন আজাদ হতে চাইতেন।

      — যদিও অনেক বেশী আবেগ তাড়িত শুনাচ্ছে তবুও বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে। তিনি আসলেই এই বাঙলার সক্রেটিস।। দুর্দান্ত বলেছেন অঘুট্রন ভাই…

  5. ক্ষমা করবেন স্যার।আমরা অভাগা
    ক্ষমা করবেন স্যার।আমরা অভাগা বাঙালি, আমরা গুণী-র কদর করতে পারি নাহ্।স্যার যেখানেই থাকেন ভাল থাকবেন, অনেক ভালো থাকবেন……. :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট:

    1. হ্যা ১০০০ বছরের পরের ইতিহাসে
      হ্যা ১০০০ বছরের পরের ইতিহাসে হুমায়ুন আজাদকে হয়তো বাংলাদেশের সক্রেটিস হিসেবে মর্যাদা দেয়া হবে।

  6. বাঙালি মুসলমান জীবিত

    বাঙালি মুসলমান জীবিত প্রতিভাকে লাশে পরিনত করে, আর মৃত প্রতিভার কবরে আগরবাতি জ্বালে।

    স্যারেরই একটা প্রবচন; কে জানত স্যারের জন্যই তা সত্যি হয়ে যাবে! :মনখারাপ:
    স্যার হয়তো জানতেন, আর সে ঝুকি নিয়েই লিখতেন। :bow: :bow:

    স্যারের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা; যিনি যুগপৎ ধারণ করতেন দ্রোহ ও প্রেম। :salute: :salute: :salute:

  7. আপনার দুর্দান্ত লিখনিতে
    আপনার দুর্দান্ত লিখনিতে অসাধারণ এই বহুমাত্রিক সম্পর্কে ভাল ধারণা পাওয়া যায়। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow: :bow:

    বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময় প্রথা বিরোধী কবি উপন্যাসিক সমালোচক ভাষাবিজ্ঞানী প্রাবন্ধিক হুমায়ুন আজাদ-কে :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    1. অনেক ধন্যবাদ
      অনেক ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  8. আমি প্রথমদিকে মনে করছিলাম,
    আমি প্রথমদিকে মনে করছিলাম, এইটা হুমায়ুন আজাদেরই লেখা… হয়তো জার্মানিতে বসে লিখছিলেন… 😛

    দারুণ একজন মানুষ নিয়ে দারুণ লিখনি…

    1. :
      আপনার মন্তব্যের প্রথম

      :খাইছে: :খাইছে: : :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে:
      আপনার মন্তব্যের প্রথম অংশ পড়ে আমি খাট থেকে পরে গেছি!

  9. আমি যখন প্রথম মন্তব্য করি,
    আমি যখন প্রথম মন্তব্য করি, তখন আমি স্টিকি করার কথা লিখেছিলাম তারপর ভাবলাম পোস্টটা নিচে পরে গেছে এখন আর হবে না, তাই লেখাটা মুচে ফেললাম। আজ ডুকে দেখি স্টিকি করা।
    অসংখ্য ধন্যবাদ ইস্টিশন মাস্টারকে। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  10. দারুণ লিখেছেন এক কথায়। পড়ার
    দারুণ লিখেছেন এক কথায়। পড়ার সময় মনে হচ্ছিল যেন, ধর্মানুভুতির উপকথা ও অন্যান্য বইটির সারমর্ম পড়ছিলাম। সেই রাঢিখাল, সেই হিন্দু গ্রাম, সেই গরীবানা থেকে ধনী অতঃপর ধার্মিক হয়ে ওঠা। উনার লেখাগুলো যতবারই পড়ি ততবারই নতুন কিছু পাই, সবচাইতে মজার ব্যাপার পড়তে পড়তে তা সহজেই কল্পনা করতে পারি।

    হুমায়ুন আজাদ কতটা শক্তিশালী, দৃঢ় এবং আত্মপ্রত্যয়ী ছিলেন তা শেষের ছবিটি দেখলেই বুঝতে পারি। আহত চোয়ালটুকু নিজেই ধরে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন তিনি। অনেক সাহস ছিলো তার মানতেই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *