গোলাম আযম নয় ওর নাম শয়তান আযম

সকালে ভাইজানের সাথে গেলাম ফিজিওথেরাপি সেন্টারে। ভাইজানের কোমরে সেইমাপের ব্যাথা, অনেকদিন যন্ত্রণায় ভুগে অবশেষে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হয়ে ফিজিওথেরাপি নিতে গেলেন। ডাক্তার সাহেব যেই ফিজিওথেরাপি সেন্টারের সুপারিশ করেছিলেন সেটি জামায়াতের হওয়ায় সেখানে করাননি ভাইজানে।

প্রথমদিনের মত শুরু হলো ফিজিওথেরাপি, অনেক বাছাই শেষে আওয়ামীপন্থী একটি থেরাপি সেন্টার। টেকনিশিয়ান জিজ্ঞাসা করলো ডাক্তার সাহেবের সুপারিশ করাটাতে যাই নি কেনো। সহজ-সুলভ ভঙ্গিমায় উত্তর দিলাম, “ওইটা জামাতের, বাঙালীর জন্য জামাতী পণ্য ব্যবহার হারাম


সকালে ভাইজানের সাথে গেলাম ফিজিওথেরাপি সেন্টারে। ভাইজানের কোমরে সেইমাপের ব্যাথা, অনেকদিন যন্ত্রণায় ভুগে অবশেষে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হয়ে ফিজিওথেরাপি নিতে গেলেন। ডাক্তার সাহেব যেই ফিজিওথেরাপি সেন্টারের সুপারিশ করেছিলেন সেটি জামায়াতের হওয়ায় সেখানে করাননি ভাইজানে।

প্রথমদিনের মত শুরু হলো ফিজিওথেরাপি, অনেক বাছাই শেষে আওয়ামীপন্থী একটি থেরাপি সেন্টার। টেকনিশিয়ান জিজ্ঞাসা করলো ডাক্তার সাহেবের সুপারিশ করাটাতে যাই নি কেনো। সহজ-সুলভ ভঙ্গিমায় উত্তর দিলাম, “ওইটা জামাতের, বাঙালীর জন্য জামাতী পণ্য ব্যবহার হারাম

তখনও বুঝতে পারি নাই টেকনিশিয়ান শালা শিবির সমর্থক ছাগু। সে প্রথমে মৃদু হাসি দিলেও পরমুহুর্তেই পক্ষ-অবলম্বন করতে চাইলো। ঐদিকে ততক্ষণে আরেকজন বুজুর্গ এসে গেলেন। মুরুব্বীকে দেখেই সহজে বোঝা যাবে উনি ধর্ম মানেন এবং পালন করেন। আর কিছু না হোক উনার দাঁড়িই বলে দিবে উনার ধর্ম মানার কথা।

টেকনিশিয়ান মনে হয় একটু সাহস আর জোর পেলো মুরুব্বীকে দেখে। তাই ধর্মীয়ভাবে জামায়াতের ভিত্তি স্থাপনে সচেষ্ট হলো। মোটামুটি নীরব হয়ে আছি আমি আর ভাইজান। জামায়াতের ধর্ম পালন আর এই দেশে ধর্ম রক্ষার যে দায়িত্ব সেটি বোঝাতে টেকনিশিয়ান কেবল শুরু করলো আর তখনই মুরুব্বী হালকা একটা পদক্ষেপ নিলেন থেরাপি থামিয়ে শোয়া থেকে একদম উঠে বসে।

রীতিমতো তাব্দা খেয়ে গেলাম। এবার আমরাও যোগ দিলাম, ধর্মীয়ভাবে জামাতকে কোপাইতে। এই ব্লগে, অনলাইনে যেভাবে কোপাই তা কম-বেশি সবাই জানি কিন্তু যা জানিনা তা জানলাম মুরুব্বীর কাছ থেকে।

এইদেশে মওদুদীবাদ যখন প্রচার হচ্ছিলো তখন বাজারের সেরা কাগজ দিয়ে মওদূদীর বই বাংলায় অনুবাদ করে তা ছাপানো হতো। স্কুল-কলেজের সেরা ছাত্রদের ধর্মীয়ভাবে উদ্বুদ্ধ করে সেসব তাদের হাতে তুলে দিতো জামায়াতের নেতারা। ১৯৬৭ সালে গোলাম আযম নোয়াখালী কলেজে শিক্ষকতা করতো আর সেখানেই সে গড়ে তোলে ইসলামী ছাত্র সংঘ। সেই ছাত্র সংঘের কর্মীদের দিয়ে বাজারের সেরা কাগজে মুদ্রিত মওদূদীর বই ছড়িয়ে দেয়া হতো কলেজের ছাত্রদের মাঝে; মওদূদীবাদ প্রচারে। এইসকল ভ্রান্ত-ধারণার জন্য কলেজের সচেতন ছাত্ররা তার নাম দেয় “শয়তান আযম“।

মজার ব্যাপার হলো মুরুব্বী একদা সাঈদীর ভক্ত থাকলেও যেকাল থেকে সাঈদীর ভন্ডামী ধরা পড়লো সেইকাল থেকে আর সাঈদীর ওয়াজে যায় না। মুরুব্বীর বক্তব্য হলো ধর্ম আর রাজনীতি দুইটা আলাদা জিনিস, যারা ধর্মীয় নেতা হবে তারা রাজনৈতিক নেতা হতে পারবে না। সাঈদীর ওয়াজে শিবিরের ছেলেরা মুসলিমদের হিন্দু বানিয়ে উপস্থাপন করে, নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলে আবার খালেদার নেতৃত্ব মেনে নেয় সাঈদী।

একবার মুরুব্বীর বাসাতে ছাত্রী সংস্থার কর্মীরা এসেছিলো বায়তুল মালের চাঁদা তুলতে। মুরুব্বী নাকি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন, বায়তুল মালের টাকা দিয়ে কয়টা ক্ষুর কেনা হয় প্রতিমাসে রগকাটার জন্য?

হেফাজত প্রসঙ্গে মুরুব্বীর স্পষ্ট বক্তব্য হলো, যদি তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে একমাত্র কোরানই সত্য, কোরানের প্রতিটি বাণীই সত্য তাহলে তারা অবশ্যই মানতো ইসলাম ধর্ম রক্ষা এবং এর হেফাজতের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তারা মানেনা বলেই ইসলাম হেফাজতের নামে এইসকল ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। নবী করিম যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রে গাছ কাটতে বারণ করেছেন সেখানে এই হেফাজতীরা বিনা কারণে এতো গাছ কেটে প্রমাণ করে দিলো তারা আর যাই হোক ইসলাম অনুসারী না।

আমরা আর কথা না বাড়িয়ে মুরুব্বীকে সমর্থন দিয়ে গেলাম। অবশ্য মুরুব্বী বারবার বলছিলেন, “আল্লাহ আমারে ক্ষমা করি দিও, গীবত গাওয়া হারাম। এরপরেও এইসব বইলতেছি।” মুরুব্বীর কথা-বার্তায় এটি বলতে পারি উনি যথেষ্ট সচেতন একজন মানুষ। জামায়াত-হেফাজত সম্পর্কে উনি সজাগ আছেন দেখে মনটাই সকাল থেকে ভালো হয়ে গেলো।

বিদায় নেবার সময় মুরুব্বীকে মন থেকে সালাম দিয়ে বিদায় নিলাম।

৩৬ thoughts on “গোলাম আযম নয় ওর নাম শয়তান আযম

  1. কবি কালীদাস কহেন-
    দাড়ি টুপি

    কবি কালীদাস কহেন-
    দাড়ি টুপি দেখিলেই সবেরে
    জামাতী ন’ বলেন।।

    সুপার পোস্ট অমিত দা। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :salute:

    1. কবে কইছিলো কালীদাস? কালীদাসের
      কবে কইছিলো কালীদাস? কালীদাসের কালেও কি জামাত ছিলো? :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

      1. কালীদাস মাঝে মাঝে
        আমার মাথায়

        কালীদাস মাঝে মাঝে
        আমার মাথায় ভর করে।
        :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য:

        1. ওরে শ্লার মাইরররররর…..
          ওরে শ্লার মাইরররররর….. আচ্ছা সে যাই হোক এইডা কিন্তু স্ট্যাটাস লিখতে গিয়ে পোস্ট হয়ে গেছে।

          সুপার পোস্ট অমিত দা।

          আমার মেঝ ভাইয়র নাম অমিত, সে ব্লগে লেখে না, এমনকি অন্য চার ভাইও। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

          1. ভুল হয়ে গেল দাদা,বল ছুরেছিলাম
            ভুল হয়ে গেল দাদা,বল ছুরেছিলাম চীন চলে গেছে জাপান। :কানতেছি: :কানতেছি: সমস্যা নাই ভাইয়ের ভাই’ইত।

          2. চীন আর জাপান এক নয়, ইপ ম্যান
            চীন আর জাপান এক নয়, ইপ ম্যান আর নানকিং জেনোসাইড পড়ে এই সিদ্ধান্ত মাইন্যা নিছি বউত আগে। :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

          3. আরে ধুর এইটাতো কথার
            আরে ধুর এইটাতো কথার কথা।আপনেরা চীন জাপান হইবেন কেরে?আপনেগো নাক কি বোঁচা বোচাঁ?

          4. বোঁচা কিনা কইতে পারি না তয়
            বোঁচা কিনা কইতে পারি না তয় লম্বা আছি ভালোই…. :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য:

        2. কালি দাসের কালে না থাকলেও জয়
          কালি দাসের কালে না থাকলেও জয় দাসের কালে আছে। আর মনে করেন কালি দাসের নাতি জয় দাস(আমি) বলসে 😉 😉

          1. হ তোমরা তোমরাই তো। দাস মিল
            হ তোমরা তোমরাই তো। দাস মিল আছে তো হইছেই। আমার মায়ের বংশও দাশ, মাঝে মাঝে মা’কে ক্ষেপাইতে বলি “দাস পাঁদে ঠাস ঠাস“। তোমারে ক্ষেপাইতে বলি নাই কিন্তু। :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি:

          2. এইডা কোন কথা? জয়
            এইডা কোন কথা? :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: জয় এখানে কইলাম আমার কুনুই হাত নাই :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই:

      2. কবে কইছিলো কালীদাস? কালীদাসের

        কবে কইছিলো কালীদাস? কালীদাসের কালেও কি জামাত ছিলো

        মাইরালা… :ভেংচি: 😀 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *