বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাড়ি প্রাপ্তির ইতিহাস এবং প্রসঙ্গ কথা !

কিছুকাল আগে বহু বিতর্কিত মইনুল রোডের বাড়ি নিয়ে দেশের উচ্চ আদালতের রায় অনুসারে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের (সরকারী ভাষ্য মতে তিনি স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার পর) পর ‘বাড়ি’ সংক্রান্ত ঘটনাটি দেশে ‘টক অব দ্যা কান্ট্রি’-তে পরিণত হয়েছিল। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অভিভাত ক্লাব, পাড়া-মহল্লা সর্বত্রই আলোচনার বিষয়বস্ত্ত ছিল খালেদা জিয়ার বাড়ি ও উচ্ছেদ কার্যক্রম। এ নিয়ে বেগম জিয়া সরাসরি তার গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে নিজেকে ‘বাস্ত্তহারা’ এবং তার দীর্ঘদিনের অর্জিত ‘আপোষহীন লৌহ নেত্রী’র ‘গুড উইল’ বিসর্জন দিয়ে ‘ব্যাপক কান্নাকাটি’ করে নিজেকে অত্যন্ত ‘সাধারণ পর্যায়ের মহিলা’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।

দেশের মানুষ যখন বিষয়টির একটি পরিসমাপ্তি মোটামুটি টানছিল, ঠিক তখনই বিএনপির প্রাক্তন মহাসচিব মরহুম খন্দকার দেলোয়ার সাহেব বর্ণিত বিতর্কিত বাড়িটির প্রসঙ্গ টানতে গিয়ে, বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাড়ি ও ড. ওয়াজেদ মিয়ার ‘সুধা সদন’ বানানো নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং বঙ্গবন্ধুর পবিরারের ‘শ্রেণি বিন্যাস’ করতে গিয়ে আরেকটি ‘গ্রেনেড বিস্ফোরণ’ ঘনিয়েছিলেন। পাকিস্তান থেকে ৪৩-বছরে পা দেয়া বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যবেক্ষণকারী একজন সচেতন বাঙালি হিসেবে এ বিষয়ে ৩-টি বাড়ির তুলনামূলক তথ্যচিত্র পাঠকের অবগতির জন্যে তুলে ধরার তীব্র তাগিদ অনুভব করছি নিজের বিবেক থেকেই।

প্রাক্তন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের নামে বরাদ্দকৃত ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের বাড়িটি বরাদ্দের ইতিহাস, জমির পরিমাণ, বাড়ির ভেতরের সাজসজ্জা ও অলঙ্করণ মিডিয়ায় প্রকাশ, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নোটিশ, বেগম জিয়ার পক্ষে দেশের উচ্চ আদালতে নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টের রায় এবং সুপ্রিমকোর্ট কর্তৃক আপিল খারিজ ইত্যাদির ধারাবাহিক ইতিহাস দেশের প্রায় সকল মানুষের এখন প্রায় ‘মুখস্ত’ বিধায়, বর্ণিত বাড়ির ঘটনাগুলো আর পুন. আলোচনা করা হলনা।

বরং এ প্রসঙ্গে দেখা যাক বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের ও ড. ওয়াজেদ মিয়ার ‘সুধা সদন’ প্রাপ্তির ধারাবাহিক ঘটনাক্রম।

ছাত্রাবস্থায় বঙ্গবন্ধু কোলকাতা ইসলামিয়া কলেজে পড়তেন। অজপাড়াগাঁ টুঙ্গীপাড়ার অধিবাসী বঙ্গবন্ধুর পরিবার একদম ‘নিঃস্ব’ হলে তাকে নিজ খরচে ‘বেকার হোস্টেলে’ রেখে কোলকাতা পড়াতে পারতেন না। সে ক্ষেত্রে তার পিতা নিয়মিত তাকে পড়ালেখার খরচ পাঠাতেন বলে জানা যায় বিভিন্ন সূত্র থেকে [যার বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যাবে বঙ্গবন্ধুর নিজের লেখা অসমাপ্ত আত্মকাহিনীতে]। তা ছাড়া যারা টুঙ্গীপাড়ার বঙ্গবন্ধুর পুরনো বাড়ি দেখেছেন, তারা জানেন গ্রামের মধ্যেও তাদের পাকা ভবন ছিল। সুতরাং বলা যেতে পারে, নিম্ন মধ্যবিত্ত বা নিঃস্ব পরিবারে ঐ সময়ে গ্রামে পাকা বাড়ি থাকার কথা নয়। গ্রামীণ জীবনে তখন কেবল জমিদার শ্রেণির লোকজনের পাকা দালান বা বাড়ি ছিল।

৩২ নম্বরের বাড়ি বিষয়ক জানা প্রকৃত তথ্যটি হচ্ছে, ১৯৫৬ সনে আতাউর রহমান খানের মন্ত্রীসভায় বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্পমন্ত্রী। মন্ত্রী হিসেবে তিনি ১৯৫৭ সনে ‘গণপূর্ত বিভাগে’ একটি প্লটের জন্যে আবেদন করলে, তাকে ৩২ নম্বরের ১-বিঘার প্লটটি বরাদ্দ প্রদান করা হয় (বর্তমানে রাজউকের মত যেখানে মন্ত্রী, সাংসদ ও বিচারপতিদের জন্যে বিনা লটারীতে এখনো প্লট বরাদ্দের আইন বিদ্যমান), যার সরকারি দাম নির্ধারিত হয় ঐ সময়ে ৬,০০০/- টাকা। মূল্য পরিশোধে প্রথমে তিনি ২,০০০/- টাকা ও পরবর্তীতে বিধি অনুসারে কিস্তিতে বাকি ৪.০০০/- টাকা পরিশোধ করেন। এরপর মন্ত্রীত্ব চলে গেলে বঙ্গবন্ধুর পরিবার ঢাকার অনেক যায়গায় ‘ভাড়া বাড়ি’তে থাকতেন। ১৯৬০ সালে বঙ্গবন্ধু আলফা ইন্সুরেন্সে ৩,০০০/- টাকা মাসিক বেতন উচ্চপদে চাকুরী পান। উচ্চ বেতনের টাকা থেকে বঙ্গবন্ধু ১৯৬১ সনে বর্ণিত প্লটে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। এরপর হাউস বিল্ডিং থেকেও লোন নেন। ১৯৬১ সনে মাত্র ১-রুমের এই বাড়িটি নির্মাণের পর বঙ্গবন্ধু তাতে ওঠেন। বাড়িটি নির্মাণে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক পাকিস্তান আমলে নেয়া ১২,০০০/- টাকার লোন তিনি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট/প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীনও পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে, লোন বকেয়া থাকার কারণে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর বাড়িটি নিলামে ওঠে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮২ সনে ঐ লোন পরিশোধ করার পর বাড়িটি তিনি ফিরে পান পৈত্রিক সূত্রে। এর সাথে কি তুলনীয় হতে পারে অন্য কারোর বাড়ি দখলের কিসসা?

মরহুম ড. ওয়াজেদ মিয়ার সততা নিয়ে এদেশে এখনো এমনকি তার শত্রুরাও কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনি। তিনি এদেশের একজন নামকরা পরমাণু বিজ্ঞানী ছিলেন এ কথাও এদেশের অনেক মানুষই জানে। ড. ওয়াজেদ ১৯৬৩ সনে চাকুরীতে যোগ দিলেও তিনি শেখ হাসিনাকে বিয়ে করেন ১৯৬৭ সনে। বঙ্গবন্ধুর মত ড. ওয়াজেদ মিয়ারও ঢাকায় কোন বাড়ি ছিলনা। ঢাকায় বাড়ি বা প্লট না থাকার কারণে ড. ওয়াজেদ ১৯৭৩ সনে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে প্লট বরাদ্দের জন্যে আবেদন করলে, তাকে ১৯৭৪ সনে ‘সুধা সদন’ এর বর্তমান ১৪-কাঠার প্লটটি ৭০,০০০/- টাকা সরকারী মূল্যে বরাদ্দ দেয়া হয়। সরকারী বিধি মোতাবেক তিনি কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ করেন। ১৯৮২ সনে তিনি সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে মহাখালীতে সরকারী বাসায় বসবাস করে সূধা সদনের বর্তমান বাড়িটি নির্মাণ শুরু করেন।

বাড়ি নির্মাণে তিনি প্রথমে হাউজ বিল্ডিং থেকে ঋণ হিসেবে ৬-লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে বাড়ির কাজ শেষ না হলে তিনি যথাক্রমে আরব বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে মোট প্রায় ৪০-লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। লোনের টাকা পরিশোধের জন্যে তিনি বাড়িটি নির্মাণের পর পরই ভাড়া দেন। এ নিয়ে মৃত খন্দকার দেলোয়ার ছাড়া বাংলাদেশের আর কেউ অদ্যাবধি যৌক্তিক কারণেই কোন প্রশ্ন তোলেনি।

এদেশের লক্ষ-কোটি মানুষ জানে যে, ক্ষমতায় থেকেও বঙ্গবন্ধু তার বর্ণিত পাকিস্তান আমলে নির্মিত ৩২ নম্বরের প্রায় অসমাপ্ত অতি সাধারণ বাড়িটির কোন ‘উন্নয়ন’ তথা ‘হাইরাইজ’ বানাননি। এদেশের গরিব মানুষের ‘হক’ তিনি কখনো নষ্ট করার কথা চিন্তা মাথায় আনেননি। আমার প্রবাসে থাকা ১২-বছরের স্বজন ‘নাবিলা’-কে নিয়ে একবার বর্ণিত বাড়িতে ‘বঙ্গবন্ধু জাদুঘর’ দেখতে গেলে এক পর্যায়ে ঐ বাড়ির ‘সোফা’ ‘আচারের বৈয়াম’ ইত্যাদি দেখে স্বজনের প্রশ্ন ছিল, ‘‘বঙ্গবন্ধু কি খুব গরিব ছিলেন? কারণ তার বাড়ির জিনিসপত্রতো খুবই কমদামি কেন’’। মৃত্যুর পর নাকি বঙ্গবন্ধুর ব্যাংক হিসাবে মাত্র ৫১,০০০/- টাকা পাওয়া যায়, যা ঐ সময়ের বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী সামরিক শাসকদের দ্বারা অনুসন্ধান করা হয়েছিল। ড. ওয়াজেদ মিয়া কোনরূপ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এ কথা এদেশের কোন মানুষই বিশ্বাস করে না।

এদেশের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করবো, বঙ্গবন্ধুর উত্তরসুরী হিসেবে আপনার সততার বিষয়েও এদেশের অনেক মানুষ নিঃসন্দেহ কিন্তু তারপরও বিরোধিরা নানা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে আপনার আর পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে। তারপরও যদি আপনি বর্ণিত শত্রুদের কথার সমুচিৎ জবাব দেয়ার জন্যে আপনার নিজের, আপনার পিতা বঙ্গবন্ধু ও আপনার দাদা ও ড. ওয়াজেদ মিয়ার বর্তমান ও অতীত সম্পত্তির সমুদয় বিবরণ এদেশের কোটি মানুষের সামনে প্রকাশ করেন পত্রিকা ও মিডিয়ার মাধ্যমে, তবে আপনার মর্যাদা বাড়বে বৈ কমবে না। বরং আপনার এই উদারতা এ জাতির সামনে চমৎকার দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকবে, আর মিথ্যা সমালোচক জোঁকের মুখে ‘লবণ আর হুকোর পানি’ পড়ার মত, তারাও রক্তপান ছাড়াই গড়িয়ে পড়বে নিচে পরাজিত জোঁকের মত! যা ২০১৪ সনে প্রত্যাশা করে আপনার অনেক শুভাকাঙ্খি। কিন্তু নির্লজ্জেরা এখনো মৃত বঙ্গবন্ধুর নামে অপপ্রচার চালাচ্ছেই, যার সততা হতে পারে একটা জাতির ঈর্ষণীয় উদাহরণ। তারপরো সৎ এ মৃত মানুষটির কবরের পাশে দাঁড়ালে মননে জাগে-

ঘাস ফুল মধুমতির নবান্নের মাঝেও শিশিরের জলে ভেজা শব্দগুলো টুঙ্গীপাড়ার আঙিনায় দাঁড়ানো হাসিনা-রেহানার হৃদয়-তন্ত্রী ছিঁড়ে শোণিতে প্রবাহিত হয়। নিশুতি জ্যোৎস্নায় ঘাসের বুক চিড়ে উড়ে চলা এক ঝাক জোনাকি বঙ্গবন্ধুর কবরে আলো জ্বালাতে থাকে অক্লান্ত শ্রম-নিষ্ঠায়। মধুমতির শ্রাবণ বিলের ক্লান্ত জলমালা সোনালী ধানক্ষেতের বিজন ঘাসে ঢেউ খেলে উড়ে যায় অনন্তের সবুঝ মাঠে। অগণিত পাখির কিচির-মিচির আর ডানার শব্দে পিতার কবরের পাশে এসে দাঁড়ায় কষ্টের স্মৃতি বয়ে বেড়ানো কন্যাদ্বয়। কবরের কাছে এলেই পিতার শরীরের ওমের স্মৃতি-শব্দ তাদের বিমোহিত করে, বাবার শায়িত শরীরের অদ্ভুদ ছান্দনিক দ্যূতির ভেতর থেকে বেলি ফুলের তীব্র ঘ্রাণ তাদের নাক বেয়ে মগজে গিয়ে অনুরণন তোলে। কবরের গায়ে গুণগ্রাহীদের সদ্য লাগানো বিশালাকার জীবনান্দের কবিতায় লেখা এপিটাফের দিকে চোখ পড়ে দু’বোনের। শীতার্দ্র নোনা জলের ক্লেদাক্ত ভেজা চোখে এপিটাফ পড়ে যায় তারা দু’জনে মননের করুণ অর্কেস্ট্রায় –

‘জীবন যে কাটিয়াছে বাংলায়-চারিদিকে বাঙালির ভিড়/ধান কাটা হয়ে গেলে মাঠে-মাঠে কত বার কুড়ালাম খড়;/বাঁধিলাম ঘর এই শ্যামা আর খঞ্জনার দেশ ভালবেসে/যেদিন সরিয়া যাব তোমাদের কাছ থেকে-দূর কুয়াশায়/চ’লে যাব, সেদিন মরণ এসে অন্ধকারে আমার শরীর/সেদিন র’বে না কোন ক্ষোভ মনে-এই সোঁদা ঘাসের ধূলায়/যখন মৃত্যুর ঘুমে শুয়ে র’ব-অন্ধকারে নক্ষত্রের নিচে/খয়েরী অশথপাতা-বঁইচি, শেয়ালকাঁটা আমার এ দেহ ভালবেসে/গভীর ঘাসের গুচ্ছে র’য়েছি ঘুমায়ে আমি, -নক্ষত্র নড়িছে/আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে-এই বাংলায়’। [বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ শাসনের ইতিহাস ১৯৭৪-২০১৪ থেকে নেয়া]

লেখকের ফেসবুক ঠিকানা [ধর্মান্ধতামুক্ত যুক্তিবাদিদের ফ্রেন্ডভুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানাই ] : https://www.facebook.com/logicalbengali

২৭ thoughts on “বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাড়ি প্রাপ্তির ইতিহাস এবং প্রসঙ্গ কথা !

  1. চমৎকার একটি তথ্যমুলক পোস্ট।
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    চমৎকার একটি তথ্যমুলক পোস্ট। আপনার লেখা আমার কাছে প্রতিদিনের ক্লাসের হোমওর্য়াকের মত মনে হয়। ধন্যবাদ এই ধরনের তথ্যমুলকপোস্ট নিয়মিত দেওয়ার জন্য। আপনার লেখাগুলোর পাঠক এখন কম হলেও লেখাগুলো সারাজীবন আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের খোরাক দিয়ে যাচ্ছে বলে আমি মনে করি। এই লেখাগুলো মানুষ একসময় রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করবে।

    আপনার কি-বোর্ড যুদ্ধ আপনি চালিয়ে যান। পাশে আছি। লেখাটি ফেবু’তে শেয়ার দিলাম। সবাইকে অনুরোধ করব লেখাটি সব জায়গায় ছড়িয়ে দিন। আমাদের প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানুক।

    1. সহমত দুলাল ভাই…
      সহমত দুলাল ভাই… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: বাঙ্গালী ভাইয়ের এই লেখাগুলো একসময় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মূল্যবান দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হবে… :তালিয়া: :bow:

      1. সহমত দুলাল ভাই… বাঙ্গালী

        সহমত দুলাল ভাই… বাঙ্গালী ভাইয়ের এই লেখাগুলো একসময় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মূল্যবান দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হবে…

        আরেক সহসমর্থক মাইকেলকেও ধন্যবাদ আমার বিতর্কমূলক লেখা আর তার বিরুদ্ধে দাড়ানো ৯৯% পাঠকের বিরূপ সমালোচনায় পাশে থাকার প্রত্যয়ে। শুভ সকাল মাইকেল। :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

    2. সহযোদ্ধা নুর নবী দুলালকে
      সহযোদ্ধা নুর নবী দুলালকে সাধুবাদ। জি ভাই মনোকষ্ট একটু থাকবেই কষ্টকর লেখার পাঠক আকালে। একটা সাধারণ লেখা ৩০/৪০-মিনিটেই শেষ করে ওঠা যায় কি-বোর্ডের সামনে থেকে, কিন্তু তথ্যসমৃদ্ধ লেখার জন্য ঘাটতে হয় অনেক রেফারেন্স, অনেক সময়। যার জন্য বিতর্ক, গালি (কখনো জুতা) ইত্যাদি অপেক্ষা করতে থাকে পোস্টোত্তর পর্বে। তারপরো আপনাদের মত ২/৪ জনের সুখকর মন্তব্যে + রক্তনেশায় চলতে থাকে অব্যাহত যুদ্ধ।

      আপনাকে আবার ধন্যবাদ জানাই ফেবুকে শেয়ার করার জন্য। ভাল থাকুন দাদা। :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    1. আপনিও দারুণ কাজ করেছেন ডানা
      আপনিও দারুণ কাজ করেছেন ডানা “প্রিয়তে” নিয়ে, অতএব শোধবোধ। ধন্যবাদ বোনাস :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. এ নিয়ে বেগম জিয়া সরাসরি তার

    এ নিয়ে বেগম জিয়া সরাসরি তার গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে নিজেকে ‘বাস্ত্তহারা’ এবং তার দীর্ঘদিনের অর্জিত ‘আপোষহীন লৌহ নেত্রী’র ‘গুড উইল’ বিসর্জন দিয়ে ‘ব্যাপক কান্নাকাটি’ করে নিজেকে অত্যন্ত ‘সাধারণ পর্যায়ের মহিলা’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন

    ভদ্র ভাষায় গুলাপিরে অসাধারন বাঁশ… :শয়তান: :মাথানষ্ট: :হাহাপগে: :ভেংচি: 😀 😀

  3. দারুন লিখেছেন, এগিয়ে যান ভাই।
    দারুন লিখেছেন, এগিয়ে যান ভাই। প্রকৃত ইতিহাস সকলেরই জানা দরকার। আর হ্যাঁ

    দেশের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করবো, বঙ্গবন্ধুর উত্তরসুরী হিসেবে আপনার সততার বিষয়েও এদেশের অনেক মানুষ নিঃসন্দেহ কিন্তু তারপরও বিরোধিরা নানা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে আপনার আর পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে। তারপরও যদি আপনি বর্ণিত শত্রুদের কথার সমুচিৎ জবাব দেয়ার জন্যে আপনার নিজের, আপনার পিতা বঙ্গবন্ধু ও আপনার দাদা ও ড. ওয়াজেদ মিয়ার বর্তমান ও অতীত সম্পত্তির সমুদয় বিবরণ এদেশের কোটি মানুষের সামনে প্রকাশ করেন পত্রিকা ও মিডিয়ার মাধ্যমে, তবে আপনার মর্যাদা বাড়বে বৈ কমবে না। বরং আপনার এই উদারতা এ জাতির সামনে চমৎকার দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকবে, আর মিথ্যা সমালোচক জোঁকের মুখে ‘লবণ আর হুকোর পানি’ পড়ার মত, তারাও রক্তপান ছাড়াই গড়িয়ে পড়বে নিচে পরাজিত জোঁকের মত! যা ২০১৪ সনে প্রত্যাশা করে আপনার অনেক শুভাকাঙ্খি।

    একেবারেই মনের কথা বলেছেন ভাই।

    একবার একজনের প্রশ্নের বিপরীতে বোকা বনে যাই আমিও। তখনতো পুরাই আকাল অবস্থা, কই পাই এই তথ্য? কোথায় পাই বঙ্গবন্ধুর বাড়ীর ইতিহাসের কাহিনী? কোথায় পাই সাহসের ঠিকানা ৩২ নং এর ইতিহাস? তখন সেই তথ্য দিলো নির্ঝর মজুমদার। দেরী না করে ফেসবুকের নোটসে সংরক্ষন করে ফেলি সেই তথ্যটি।
    ৩২ নং ধানমন্ডির ইতিহাস

    1. ধন্যবাদ সব মন্তব্য আর তথ্যের
      ধন্যবাদ সব মন্তব্য আর তথ্যের জন্যে। নির্ঝর মজুমদারের পোসট দেখবো। ভাল থাকুন দাদা। :bow: :bow: :bow: :bow: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  4. ঘাস ফুল মধুমতির নবান্নের

    ঘাস ফুল মধুমতির নবান্নের মাঝেও শিশিরের জলে ভেজা শব্দগুলো টুঙ্গীপাড়ার আঙিনায় দাঁড়ানো হাসিনা-রেহানার হৃদয়-তন্ত্রী ছিঁড়ে শোণিতে প্রবাহিত হয়। নিশুতি জ্যোৎস্নায় ঘাসের বুক চিড়ে উড়ে চলা এক ঝাক জোনাকি বঙ্গবন্ধুর কবরে আলো জ্বালাতে থাকে অক্লান্ত শ্রম-নিষ্ঠায়। মধুমতির শ্রাবণ বিলের ক্লান্ত জলমালা সোনালী ধানক্ষেতের বিজন ঘাসে ঢেউ খেলে উড়ে যায় অনন্তের সবুঝ মাঠে। অগণিত পাখির কিচির-মিচির আর ডানার শব্দে পিতার কবরের পাশে এসে দাঁড়ায় কষ্টের স্মৃতি বয়ে বেড়ানো কন্যাদ্বয়। কবরের কাছে এলেই পিতার শরীরের ওমের স্মৃতি-শব্দ তাদের বিমোহিত করে, বাবার শায়িত শরীরের অদ্ভুদ ছান্দনিক দ্যূতির ভেতর থেকে বেলি ফুলের তীব্র ঘ্রাণ তাদের নাক বেয়ে মগজে গিয়ে অনুরণন তোলে। কবরের গায়ে গুণগ্রাহীদের সদ্য লাগানো বিশালাকার জীবনান্দের কবিতায় লেখা এপিটাফের দিকে চোখ পড়ে দু’বোনের। শীতার্দ্র নোনা জলের ক্লেদাক্ত ভেজা চোখে এপিটাফ পড়ে যায় তারা দু’জনে মননের করুণ অর্কেস্ট্রায় –

    অসাধারণ তথ্যপূর্ণ পোস্ট তার উপর ছন্দময় লেখনী আমাকে মুগ্ধতায় ভরিয়ে দিল।
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. যাক ভাই দম বন্ধ হওয়া পরিবেশ
      যাক ভাই দম বন্ধ হওয়া পরিবেশ থেকে কিছুটা শ্বাস নিলাম। এটা আমার একটা বড় উপন্যাসের কিছু অংশমাত্র। ভাল থাকুন ভাই।

  5. আপনাকে ধন্যবাদ এই পোস্টটির
    আপনাকে ধন্যবাদ এই পোস্টটির জন্য……

    স্টিক করার দাবী জানাই।

    আর আপনাকে অনুরোধ করবো এমন পোস্ট দেয়ার জন্য।

    আর আগের পোস্টে কিছু প্রশ্ন করেছিলাম এই পোস্টে উত্তর পেলাম।

    🙂 🙂 🙂 শুভ কামনা রইলো।

    1. ধন্যবাদ জয়কে। সব পোস্ট আপনার
      ধন্যবাদ জয়কে। সব পোস্ট আপনার মনপুত হবে এ কথা মনে হয় ঠিক না। আমার (এবং আপনারো) পোস্টের বিষয়বস্তু আমার/আপনার ভেতর থেকেই আসে, হতে পারে কাকতালীয়ভাবে তার কোনটা আপনার মতের সাথে মিলে যায় কিংবা হতেও পারে এর বিপরীত। সব কিছু পড়বো, দেখবো, বুঝবো। গ্রহণ কিংবা বর্জন করবো ই্চছেমত।

      ভাল থাকুন।

    1. আপনি যেভাবে ডাক্তারী পেশার
      আপনি যেভাবে ডাক্তারী পেশার ব্যাপারে অত্যন্ত যৌক্তিক ও সত্য ভাষণকে গ্রেনেড মেরে উড়িয়ে দিতে চাই্ছেন সেভাবে।

      আপনার পছন্দ হলে তা ভাল লেখা, আর আপনার মতের বিরুদ্ধে গেলে তা খারাপ, এ বক্তব্য আধুনিক মননের হাজারো মানুষ গ্রহণ করলেও, আমার কাছে তা হাস্যকর। ধন্যবাদ ভাল থাকুন।

Leave a Reply to ড. লজিক্যাল বাঙালি Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *