অনুবাদঃ নাজিম হিকমতের কবিতাগুচ্ছ-১


অনেক আগে টার্কিস কবি নাজিম হিকমতের কিছু কবিতা অনুবাদ করেছিলাম। নাজিম হিকমত আমার অন্যতম প্রিয় কবি। প্রিয় কবির কিছু কবিতা ইস্টিশনের যাত্রীদের সাথে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না। মুল কবিতা টার্কিস ভাষায়। আমি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছি। জানি ঘোড়ার ডিম হয়েছে। একেই তো কবিতা লেখা অনেক কঠিন কাজ, তার উপর অনুবাদ… ইস্টিশনের যাত্রীদের ভালোবাসা পেয়ে পেয়ে অভ্যেস গেছে খারাপ হয়ে। তাই এই ঘোড়ার ডিমও পোস্ট করার সাহস দেখালাম।



অনেক আগে টার্কিস কবি নাজিম হিকমতের কিছু কবিতা অনুবাদ করেছিলাম। নাজিম হিকমত আমার অন্যতম প্রিয় কবি। প্রিয় কবির কিছু কবিতা ইস্টিশনের যাত্রীদের সাথে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না। মুল কবিতা টার্কিস ভাষায়। আমি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছি। জানি ঘোড়ার ডিম হয়েছে। একেই তো কবিতা লেখা অনেক কঠিন কাজ, তার উপর অনুবাদ… ইস্টিশনের যাত্রীদের ভালোবাসা পেয়ে পেয়ে অভ্যেস গেছে খারাপ হয়ে। তাই এই ঘোড়ার ডিমও পোস্ট করার সাহস দেখালাম।

———————————————————————————-

সংক্ষেপে কবির পরিচয়-
তুর্কি ভাষার কবি নাজিম হিকমতের জন্ম তৎকালীন সোলনিকায় ১৯০২ সালে। মৃত্যু মস্কোতে ১৯৬৩ সালে। কবিতা ছাড়াও উনি গল্প, উপন্যাস, নাটক লিখেছেন। তাঁকে “রোম্যান্টিক কমিউনিস্ট” এবং “রোম্যান্টিক রেভ্যুলিউশনারী” হিসেবে বর্ননা করা হয়। রাজনৈতিক ভাবাদর্শের কারনে জীবনের একটা বড় অংশ তাঁকে জেলে বন্দী বা নজরবন্দী করে রাখা হয়। পঞ্চাশটিরও বেশী ভাষায় তাঁর কবিতা অনুবাদ করা হয়েছে।

Hiroshima Child
———————

প্রতিদিন এসে আমি দাঁড়াই তোমাদের দরজায়
কিন্তু কেউ শোনেনা আমার নিঃশ্বব্দ পদধ্বনি।
অনবরত কড়া নাড়া সত্বেও আমি অদৃশ্যই থাকি,
কারন- আমি মৃত, আমি মৃত।

যদিও মৃত, বয়স মাত্রই সাত,
অনেক আগে হিরোশিমা নগরে।
ঠিক তখনকার মতো আজও আমার বয়স সাত,
কারন মৃত্যুর পর শিশুদের বয়স থেমে যায়।

লকলকে শিখায় কুঁকড়ে গেছে আমার চুল,
চোখের সামনে একটা পর্দা নেমে ধীরে, খুব ধীরে নিভে গেছে আলো,
মৃত্যু এসে ধুলায় মিশে গেছে আমার অস্থি-মজ্জা,
বাতাসের ঝাঁপটায় মিশে গেছে দূর থেকে দূরে।

ফলমূল বা খাদ্যের প্রয়োজন ফুরিয়েছে
ফুরিয়েছে জীবনের সকল চাহিদা।
নিজের জন্য আজ কিছুই চাইনা আমি,
কারন- আমি মৃত, আমি মৃত।

আজ আমার দাবী একটাই- শান্তি।
নিরন্তর লড়ে যাও তোমরা, জাগো-
আগামী পৃথিবীর প্রতিটি শিশু যেন
বড় হয়, হাসে-খেলে- শান্তির মাঝে।

***************************

Angina Pectoris
——————–

হৃদয়ের অর্ধেক এখানে, এইখানে ডক্টর
বাকী অর্ধেক চীনে,
ইয়েলো রিভারের দিকে এগিয়ে যাওয়া
সেনাবাহিনীর স্রোতে।
এবং প্রতিটি সকালে, ডক্টর
প্রতিটি সকালের সুর্যোদয়ে
আমার হৃদয় ছুটে যায় গ্রীসে।
এবং প্রতিটা রাতে, ডক্টর
যখন বন্দীরা গভীর নিদ্রায়, হাসপাতালের নিশ্চুপ বিছানায়,
জীর্ন বাতিল ঘরের মতোই আমার হৃদয়
থেমে যায় ইস্তানবুলে।

অতঃপর দশ বছর পার করে
আমার অভাগা দেশবাসীকে
দেওয়ার মতো আছে শুধু একটা আপেল, ডক্টর
একটা লাল রঙের আপেলঃ
-আমার হৃদয়।
বুকের এই তীব্র ব্যাথার এটাই একমাত্র কারন, ডক্টর
এই এনজাইনা পেক্টরিস-
না নিকোটিন, না বন্দীত্ব, অথবা এথেরোস্ক্লেরোসিসও নয় এর কারন।
আমি রাতের ঝলমলে বারগুলোর দিকে তাকাই,
এবং তীব্র চাপ চাপ ব্যাথা সত্বেও
আমার হৃদয় স্পন্দিত হয়
আকাশের দূরতম নক্ষত্রের মতোই।

********************************************

After Release From Prison
——————————

জেগে আছো?
কোথায় তুমি?
বাড়িতে?
এখনও অনভ্যস্ত্-
ঘুম, না জেগে আছো?
পরিচিত নিজ বাসভূমে।
তেরোটা বছর বন্দী জীবন কাটানোর মতোই
নিতান্তই আরেকটা বিস্ময়-
কে শুয়ে আছে তোমার পাশে?
একাকীত্ব নয়, তোমার স্ত্রী-
শান্ত দেবীর মতো নিশব্দ ঘুমে,
অথবা গর্ভবতি রমণীর লাজুক হাসিতে।
কটা বাজে এখন?
-আটটা।
তারমানে, তারমানে সন্ধ্যা পর্যন্ত তুমি নিশ্চিন্ত,
কারন পুলিশের স্বভাবই এই-
চকচকে দিনের আলোতে কখনই হানা দেবেনা তোমার ঘরে।

৩২ thoughts on “অনুবাদঃ নাজিম হিকমতের কবিতাগুচ্ছ-১

  1. অসম্ভব চমৎকার এক কবির অনন্য
    অসম্ভব চমৎকার এক কবির অনন্য কিছু কাজের অসাধারন অনুবাদ… :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :ফুল: :ফুল: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    আতিক ভাই, :bow: :bow: :bow: :বুখেআয়বাবুল:

  2. অনবদ্য…
    আতিক ভাই, অনেক

    অনবদ্য…
    আতিক ভাই, অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নাজিম হিকমতের নাম আর আলোচনা পড়া থেকে বেশী কিছু জানা হয় নি! আজ আপনার সৌজন্যে দারুণ কিছু কবিতার সাথে পরিচয় হল।।
    আপনাকে ধইন্যা অফুরন্ত… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow: :bow: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  3. এই লোকটাকে কোনদিন যে আমি গুলি
    এই লোকটাকে কোনদিন যে আমি গুলি করমু !!! তারে এতো কইরা কইসি, এইসব ডাক্তারি-কবিরাজী-হেকিমি বাদ দেন। দেশে বহুত মানুষ আছে এইসব নিয়া টাইম পাস করার। আপনের লাইন এইটা না। আপনে থাকবেন- শিল্প-সাহিত্য-সঙ্গীত-নৃত্য-সংস্কৃতি এইসব নিয়া। বেহুদা ইশটিটিসকুপ-থারমু লয়া কানা গল্লিতে ঘুইরা ঘাইরা কি লাভ? আলোতে আসেন মিয়া। দেখেন… দুনিয়াতে কত্তো মজা….

    টাইম থাকতে কথা শুনেন। এইটা কিন্তু নির্ভেজাল থ্রেট।
    :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

  4. আতিক, খুব ভালো লাগলো পড়ে,
    আতিক, খুব ভালো লাগলো পড়ে, ইন্টারেস্টিংলি নাজিম হিকমতের কবিতার যে মূল কাব্যময়তা তা অদ্ভুত ভাবে উপস্থিত আছে এই অনুবাদ গুলো তে ! আমি Strongly recommend করি, নাজিম হিকমতের আরও কিছু কবিতা অনুবাদ করে তার একটি সংকলন করা যেতে পারে ।

    1. ধন্যবাদ সারওয়ার ভাই (ধারণা
      ধন্যবাদ সারওয়ার ভাই (ধারণা থেকে বললাম, কারণ কোন নাম উল্লেখ না করে লিখেছেন। তবে শব্দের ব্যবহার দেখেই ধারণা করলাম এটা আপনি 😀 )। আপনার মন্তব্য খুবই ইন্সপায়ারিং।

  5. ওহ চমৎকার !!
    প্রতিদিন এসে আমি

    ওহ চমৎকার !!

    প্রতিদিন এসে আমি দাঁড়াই তোমাদের দরজায়
    কিন্তু কেউ শোনেনা আমার নিঃশ্বব্দ পদধ্বনি।
    অনবরত কড়া নাড়া সত্বেও আমি অদৃশ্যই থাকি,
    কারন- আমি মৃত, আমি মৃত।

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  6. আতিক ভাই, একবার পড়লে কবিতা
    আতিক ভাই, একবার পড়লে কবিতা আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। একটু জাবর কাটা লাগে। তাই কবিতা সম্পর্কে কিছু বলতে পারলাম না।
    তবে আপনি থামবেন না, চালিয়ে যান। অনুবাদ ভালো হয়েছে, কারণ পড়তে বোরিং লাগে নাই।

  7. আপনার মাধ্যমে নাজিম হিকমতের
    আপনার মাধ্যমে নাজিম হিকমতের নাম প্রথম শুনলাম। কবিতাগুলো আজকে পড়লাম। অনুবাদ চমৎকার হয়েছে আতিক ভাই।
    খলিল জিবরানের কবিতা পড়েছেন? না পড়লে একবার পড়ে দেখেন, নাজিম হিকমতের নাম ভুলে যাবেন।

    1. জিবরানের কবিতাও ভালো। তাই বলে
      জিবরানের কবিতাও ভালো। তাই বলে নাজিম হিকমতের নাম ভুলে যেতে চাই না। :শয়তান:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *