ভাষা আন্দোলন… শহীদ মিনার… একাল ও সেকাল

১৯৭১ সালের জামাতে ইসলামীর মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামে ১২ মের সাংস্কৃতিক অনুপ্রবেশের ইতি হোক শিরোনামে লেখা হয়েছিল :

হিন্দুস্তানী সংস্কৃতি মুসলমান সংস্কৃতিতে প্রবেশ করে পূর্ব পাকিস্তানের সংস্কৃতি ক্ষেত্রের প্রচণ্ড ক্ষতিসাধন করেছে। যার ফলে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় শ্লোগানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ আল্লাহু আকবর ও পাকিস্তান জিন্দাবাদ বাক্যগুলি বাদ পড়ে এগুলোর জায়গা নিয়েছিলো জয় বাংলা। মুসলমানী ভাবধারার জাতীয় সঙ্গীতের স্থান দখল করেছিলো মুসলিম বিদ্বেষী হিন্দু কবির রচিত গান।…


১৯৭১ সালের জামাতে ইসলামীর মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামে ১২ মের সাংস্কৃতিক অনুপ্রবেশের ইতি হোক শিরোনামে লেখা হয়েছিল :

হিন্দুস্তানী সংস্কৃতি মুসলমান সংস্কৃতিতে প্রবেশ করে পূর্ব পাকিস্তানের সংস্কৃতি ক্ষেত্রের প্রচণ্ড ক্ষতিসাধন করেছে। যার ফলে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় শ্লোগানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ আল্লাহু আকবর ও পাকিস্তান জিন্দাবাদ বাক্যগুলি বাদ পড়ে এগুলোর জায়গা নিয়েছিলো জয় বাংলা। মুসলমানী ভাবধারার জাতীয় সঙ্গীতের স্থান দখল করেছিলো মুসলিম বিদ্বেষী হিন্দু কবির রচিত গান।…

শহীদ দিবসের ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগী মুসলমান ছাত্রদের জন্য দোয়া কালাম পড়ে মাগফেরাত কামনার পরিবর্তে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনার্থে হিন্দুয়ানী কায়দা, নগ্নপদে চলা, প্রভাতফেরী, শহীদ মিনারের পাদদেশে আঁল্পনা আকা ও চন্ডীদেবীর মূর্তি স্থাপন ও যুবক-যুবতীদের মিলে নাচগান করা মূলত ঐসকল পত্রপত্রিকা ও সাংস্কৃতিক মাধ্যমগুলির বদৌলতেই এখানে করা সম্ভব হয়েছে।

১৬ জুলাই ‘ইতিহাস কথা বলে’ সম্পাদকীয়তে তারা লেখে : আইউব খানের গভর্নর আজম খান ছাত্রদের খুশী করার জন্য যে শহীদ মিনার তৈরি করলেন তাকে পুজা মন্ডপ বলা যেতে পারে কিন্তু মিনার কিছুতেই না। যাহোক সেনাবাহিনী সেই কুখ্যাত মিনারটি ধ্বংস করে সেখানে মসজিদ গড়ে শহীদদের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শনের চেষ্টা করেছেন জেনে দেশবাসী খুশী হয়েছে।

ফেইসবুকের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল পেইজের এডমিন ডেভিড আব্রাহামঃ
-আপনারা যারা দুর্গাপূজোর মণ্ডপে গিয়েছেন বা টিভি-পত্রিকায় দেখেছেন,তারা অবশ্যই জানেন যে দুর্গামুর্তির একপাশে থাকে লক্ষী আর কার্তিকের মুর্তি এবং অন্যপাশে থাকে গণেশ আর স্বরস্বতীর মুর্তি…মাঝখানে দুর্গার মুর্তির আকার থাকে বড় এবং দুপাশে অন্য চারটি মুর্তির আকার থাকে ছোট।
শহীদ মিনারেও থাকে মোট ৫ টি মিনার,মাঝখানে একটি বড় মিনার ও দুপাশে দুটো করে মোট আরো চারটি ছোট মিনার,কেন?

-হিন্দুরা পূজো শুরু করে নির্দিষ্ট মুহুর্তে,যাকে বলা হয় লগ্ন…পুজোর লগ্ন বিলম্বিত হলে অমঙ্গল বয়ে আসে…একুশে ফেব্রুয়ারীতেও বরাবর রাত ১২টায় শহীদ মিনারে ফুল দেয়া হয়,যতোই কনকনে শীতের রাত হোক না কেন।

-প্রতিমা স্থাপন করা হয় যে উঁচু স্থানে,তার নামই বেদী…’বেদী’ শব্দের আভিধানিক অর্থই হলো ”যজ্ঞ বা পূজোর জন্য প্রস্তুতকৃত উচ্চভূমি”…অপরপক্ষে শহীদ মিনারের বেদীতে মাথা ঝুঁকিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়ে থাকে।

– পূজোর জন্য গাওয়া হয় নির্দিষ্ট স্তুতি বা পাঁচালী…আমি আজ পর্যন্ত শনীদ মিনারে ফুল দেবার সময় ”আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো” ছাড়া অন্য গান গাইতে শুনিনি।

-পূজোর বেদীতে অর্ঘ্য নিবেদন করার সময় জুতো খুলতে হয়,শহীদ মিনারে ফুল দেবার সময়েও খালি পায়ে যেতে হয়।

-আপনারা বিভিন্ন পূজো উপলক্ষে হিন্দুদেরকে ঘরের মেঝে ও দেয়ালে আল্পনা আঁকতে দেখে থাকবেন,এসব আল্পনা আঁকা হয় মঙ্গলসূচক চিণ্হ হিসেবে…পক্ষান্তরে একুশে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষেও কয়েকদিন ধরে সময় নিয়ে পুরো বেদীতে আল্পনা আঁকা হয়…

(শহীদ মিনার,খোলা চোখে পর্যবেক্ষণঃ)

১৬ thoughts on “ভাষা আন্দোলন… শহীদ মিনার… একাল ও সেকাল

    1. আপনি ঠিক বলেছেন; এদের দেখে আর
      আপনি ঠিক বলেছেন; এদের দেখে আর অবাক লাগে না। কিন্তু অবাক হবার বিষয়টা হল যে, কিছু সুশীল শিক্ষিত মানুষ এদের কথায় বিশ্বাস করে, এদের সাহায্য করে, এদের ভোট দেয়।
      নরকেরকীটের আচরন পরিচত হয়ে গিয়েছে কিন্তু এই সব মুখোশধারী মানুষদের কি হবে??

  1. হিন্দুস্তানী সংস্কৃতি মুসলমান

    হিন্দুস্তানী সংস্কৃতি মুসলমান সংস্কৃতিতে প্রবেশ করে পূর্ব পাকিস্তানের সংস্কৃতি ক্ষেত্রের প্রচণ্ড ক্ষতিসাধন করেছে। যার ফলে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় শ্লোগানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ আল্লাহু আকবর ও পাকিস্তান জিন্দাবাদ বাক্যগুলি বাদ পড়ে এগুলোর জায়গা নিয়েছিলো জয় বাংলা। মুসলমানী ভাবধারার জাতীয় সঙ্গীতের স্থান দখল করেছিলো মুসলিম বিদ্বেষী হিন্দু কবির রচিত গান।…

    উপর্যুক্ত চেতনায় ওরা এখনো ১০০% স্নাত!

      1. জি ঘৃণা আর প্রতিরোধ + সচেতনতা
        জি ঘৃণা আর প্রতিরোধ + সচেতনতা একদিন আমাদের হয়তো জাগাবে, কিন্তু কবে জানিনা। কবে জানেন কি?
        :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

    1. এগুলো ঐ সময়ও শহীদমিনার
      এগুলো ঐ সময়ও শহীদমিনার ভেঙ্গেছে এখনো ভাঙ্গে। ডারউইনের বিবর্তনবাদ অনুযায়ী, বাঁদর মানুষ হলেও বেজন্মা এসব নরকেরকীটের কোন বিবর্তন হয়নি।

  2. যাদের জন্মই অবৈধ তাদের কাছ
    যাদের জন্মই অবৈধ তাদের কাছ থেকে এমন কথাই শুনতে হবে! বৈধ অবৈধর মধ্যে কিছু তো পার্থক্য থাকতে হবে!। তারা পার্থক্য দেখিয়ে দিয়েছে।

  3. বেজন্মরা শুধু ক্যাচালই করে
    বেজন্মরা শুধু ক্যাচালই করে যাবে। শহীদ মিনারের স্থপতি হামিদুর রহমান কেন এরকম নকশার মিনার তৈরি করেছেন এটা তাদের জ্ঞানের বাহিরে। মাঝখানের বড় মিনার দ্বারা ‘মা’ কে বোঝানো হয়েছে এবং তার দুপাশের মিনারগুলো দ্বারা মায়ের সূর্যসন্তানদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

    এসব ইতিহাস তাদের কাছে মূল্যহীন। কেননা তাদের কাছে নিজের মায়ের প্রতিই শ্রদ্ধাবোধ নেই, জন্ম থেকেই এরা মূর্খ্য, পাষান্ড, নরপশু।

  4. এই বেজন্মারা মানুষের জাত না।
    এই বেজন্মারা মানুষের জাত না। সে কি জানে তার বাবা তার মাকে কোন রীতিতে বিয়ে করেছিল? বা সে নিজেই কোন রীতিতে বিয়ে করেছে বা করবেন? আমরা বাঙালী হাজার বছর ধরে আর মুসলমান হইছি সেই দিন!!

    এদেরকে এইসব কে বুঝাবে? আপনার লিখাটা ভাল লেগেছে! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *