২১ শে ফেব্রুয়ারি এবং ফুল প্রসঙ্গে কিছু কথা

২০১৪ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি … বাংলায় ৯ই ফাল্গুন,১৪২০ … প্রথমেই ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা সাথে স্মরণ করছি …

বেশ কয়েকদিন ধরেই লক্ষ্য করছি , শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার প্রসঙ্গে অনেকে অনেক কথাই বলছে … সবচেয়ে বেশি যে কথাটি উচ্চারিত হচ্ছে তা হল এটা হচ্ছে ,মূর্তি পুজার সামিল … এখানে আমার কিছু কথা আছে …

প্রথা বা রীতি নামটির সাথে সবাই কম বেশি পরিচিত … পুরো পৃথিবীতে অনেক গুলো জাতি আছে … সব জাতির আছে নিজ নিজ রীতি নীতি এবং সত্ত্বা … এইসব রীতি নীতি পালন সাধারণত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে পালন করা হয় … যেমন হ্যান্ডশেক এর নীতি …


২০১৪ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি … বাংলায় ৯ই ফাল্গুন,১৪২০ … প্রথমেই ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা সাথে স্মরণ করছি …

বেশ কয়েকদিন ধরেই লক্ষ্য করছি , শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার প্রসঙ্গে অনেকে অনেক কথাই বলছে … সবচেয়ে বেশি যে কথাটি উচ্চারিত হচ্ছে তা হল এটা হচ্ছে ,মূর্তি পুজার সামিল … এখানে আমার কিছু কথা আছে …

প্রথা বা রীতি নামটির সাথে সবাই কম বেশি পরিচিত … পুরো পৃথিবীতে অনেক গুলো জাতি আছে … সব জাতির আছে নিজ নিজ রীতি নীতি এবং সত্ত্বা … এইসব রীতি নীতি পালন সাধারণত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে পালন করা হয় … যেমন হ্যান্ডশেক এর নীতি …

হ্যান্ডশেক প্রথমে কবে শুরু হয় তা নেট ঘেঁটে পেলাম না … তবে উইকিপেডিয়া এ ব্যাপারে সাহায্য করল … ৪০০ শতাব্দীর দিকে গ্রীসে দুই যোদ্ধার লড়াইয়ের পূর্বে তারা হাত ধরে ঝাকি দিত … পরবর্তীতে ৫০০ শতাব্দীর দিকে জার্মানিতে এটা একটা সৌজন্য প্রথা হিসেবে চালু হয় যা বর্তমানে পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পরেছে … লিঙ্ক দিলাম …

এবার আসি আসল কথায় … ফুল প্রদান … কাউকে শুভেচ্ছা বা সম্মান প্রদান বা শ্রদ্ধা সহকারে স্মরণ করা বা ভালবাসার সিম্বল হিসেবে ফুল প্রদান করা হয় … হিন্দুরা মূর্তি পুজাতে ফুল কেন ব্যাবহার করে ?? তাদের দেব দেবীর প্রুতি তাদের ভালবাসার নিদর্শন হিসেবে , তাদের ভক্তি হিসেবে … বাইরের দেশ গুলোতে দেখবেন কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি মারা গেলে তাকে সম্মান জানাতে কাল পোশাক পরে হাতে ফুল নিয়ে ছুটে আসে … ইহা একটি প্রথা … আর অন্য কিছু না … ২১ শে ফেব্রুয়ারি , ২৬ শে মার্চ , ১৬ই ডিসেম্বর এ ফুল দিয়ে আমরা আমাদের শহীদদের শ্রদ্ধা ভরে সম্মান করি … এখানে ধর্মের কোন বিষয় নেই … হাত মিলানর মতন আমরাঅ এই প্রথাটি পালন করি মাত্র …

এবার আমার মতামতের পালা … ব্যাক্তিগত ভাবে আমি এই ফুল দেয়াটা পছন্দ করি না …
কারন এই দিনগুলোতে আমরা ফুল কিনতে প্রায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করি … হুম , আমরা জাতি হিসেবে আবেগতারিত … বাংলাদেশের খেলা দেখতে ৩ রাত জেগে টিকেট সংগ্রহ করতে পারি আর এত গেল টাকার হিসেব … ভাষা শহীদদের প্রুতি সম্মান জানাতে আমাদের টাকা গেলে যেতেই পারে …

কিন্তু আমরা অনেকেই কিন্তু জানি না ভাষা শহীদ সফিউর এর মা চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন … ভাষা শহীদ সালামের স্বজনেরা রিক্সা চালিয়ে বেচে আছেন !!!! ভেবে দেখেছি এগুলা ??? আমরা কি তাদের আসলেই সম্মান জানাচ্ছি ???

এখন অনেকে বলবেন ভাষার জন্য তারা জীবন দিছে তো তাদের আত্মীয়দের দেখভাল কেন করতে যাব ??? তাহলে আমি বলব যুদ্ধ তো করছে মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের নাতি পুতিরা এত সুযোগ সুবিধা পায় কেন???

কোনটাকেই খাটো করে দেখার উপায় নাই … ভাষা সৈনিক দের অনেকের নামেই আমরা জানি না … এমনকি ভাষা সৈনিক আর ভাষা শহীদদের পার্থক্য পর্যন্ত আমরা বুঝি না … অথচ মুক্তিযুদ্ধের অনেক কিছুই কিন্তু আমরা জানি … অবশ্যই এটা গর্বের কথা , ‘৭১ এর ইতিহাস সবাই কম বেশি ৮০-৯০% জানি … কিন্তু আমি বাজি লাগিয়ে বলতে পারি ‘৫২ এর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আমরা ১০% ও জানি না … শুধুমাত্র মাতৃভাষা উর্দু হবে ঘোষণা হওয়াতে এই আন্দোলনের উৎপত্তি না … অনেক ঘটনা আছে ভাই …

এই ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস না জানার পিছনে কিন্তু আমরা দায়ী না , এর চর্চা বাংলাদেশে সঠিক ভাবে করা হয় না … কারণটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক … কারন তৎকালীন সময়ে আওয়ামীলীগ বা বিনপি কেউ এটার কোন ক্রেডিট নিতে পারবে না … বিনপির তো জন্মই হয় নাই … অপরদিকে ‘৭১ এ দেশ স্বাধীন হইছে … বিনপির জিয়াউর রহমান সরাসরি এবং একেইসাথে পরোক্ষ ভাবে স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতার ঘোষণার সাথে জড়িত … আর হাসিনার পিতা বঙ্গবন্ধু না থাকলে তো এই স্বাধীন দেশ আমরা এত তারাতারি পেতামেই না … তাই তাদে যত মাথা ব্যাথা ওই ‘৭১ নিয়ে …… ‘৫২ নিয়ে তারা এত মাথা ঘামায় না … যে ভাষার জন্য তারা এত কিছু করল , স্বাধীনতার বীজ বপন হল যে আন্দোলনের মাধ্যমে সেই ২১ শে ফেব্রুয়ারির যোদ্ধাদের স্বজনদের কোন খোজ আমরা রাখি না ,পস্য কোটা থাকলেও তাদের জন্য কোটা রাখার প্রয়োজন বোধ করি না, বরং তাদের আমরা সম্মানের বদলে অপমান করি কোটি টাকার ফুল প্রদানের মাধ্যমে …

৭ thoughts on “২১ শে ফেব্রুয়ারি এবং ফুল প্রসঙ্গে কিছু কথা

  1. সহমত। তবে মূল কথা হচ্ছে
    সহমত। তবে মূল কথা হচ্ছে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। আর সেটা আসে মন থেকে। ফুল দেয়া না দেয়া মুখ্য নয়।

    কিছু বানান ভুল আছে। যেমনঃ বিনপি নয় বিএনপি।

  2. এই ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস

    এই ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস না জানার পিছনে কিন্তু আমরা দায়ী না , এর চর্চা বাংলাদেশে সঠিক ভাবে করা হয় না … কারণটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক …

    সহমত পোষণ করতে পারলাম না । ভাষা আন্দোলন নিয়ে চর্চা করা যায়, চাইলেই করা যায় । চেষ্টাটা থাকতে হয় । সাধারণ পাঠক হিসেবে আমাদের একটা বড় দুর্বল দিক হল, আমরা চাই যারা বিখ্যাত আছেন, তারাই লিখুক, আমরা বসে বসে কেবল জানি আর গিলি । এটা একটা বড় সমস্যা । নীলক্ষেতে সময় আর এক হাজারের মত টাকা নিয়ে গেলে এমন সব বই পাওয়া যায়, যেগুলো ভাষা আন্দোলন নিয়ে জানার ক্ষেত্রে, জানানোর ক্ষেত্রে অনেক কাজে লাগে ।

    মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে হাজার হাজার বই লিখেছেন অনেকে, তাতে নানা কন্ট্রোভার্সি, প্রোপাগাণ্ডা দেখা যায় । সেই তুলনায় ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখাপড়া অনেক সহজ বলেই মনে হয় । আপনিই শুরু করে দিন না! চেষ্টা করে দেখুন, ঠিক পারবেন । বিম্পি, আম্লীগ আপনার লেখায় নাক গলাতে পারবে না

    1. চমৎকার বলেছেন ভাই … কিন্তু
      চমৎকার বলেছেন ভাই … কিন্তু বই পড়ার অভ্যাস ভাই কয়জনের আছে ??? এর জন্য দরকার মিডিয়ার সাহায্য … কারন টেলিভিশন কম বেশী সবাই দেখে … সেই “”আলোর মিছিল”” এর পর ভাষা আন্দোলন নিয়ে কোন মুভি বা নাটক তৈরি হতে দেখলাম না … ইতিহাস নির্ভর চলচিত্র বা প্রামাণ্য অনুষ্ঠান তৈরি করতে পারলে সবাই মোটামুটি জানতে পারত বিষয় গুলো … কারন আপনার সাথে আমিও একমত , এই বিষয়ে পড়াশুনা করা মুক্তিযুদ্ধের তুলনায় সহজ এবং ননকনফিউসনাল

  3. ছাগুদের কাজই হচ্ছে ল্যাদানো।
    ছাগুদের কাজই হচ্ছে ল্যাদানো। এদের কথায় পাত্তা না দিয়ে লাত্থির উপরে রাখা উচিৎ। পাত্তা দিলে এরা গুরুত্ব পায়। কোন ছাগু ফুল দেওয়া নিয়ে কি বলল তাতে বাঙালির কিছু যায় আসে না। ছাগুদের এসব কথায় বিভ্রান্ত হবে শুধু ছাগুরাই।

    আর আপনার যুক্তির সাথেও একমত হতে পারছি না। শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুল দেওয়া এবং তাঁদের স্বজনদের সাহায্য করা দুটোই একসাথে করা সম্ভব। একটার জন্য আরেকটি বাদ দেওয়ার তো দরকার নেই। প্রয়োজন স্বদিচ্ছা।

    1. কিন্তু তা কি আমরা করছি ????
      কিন্তু তা কি আমরা করছি ???? আমরা করছি না … বিশ্বাস করেন আর নাই করেন , এই ফুল দেয়াটা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই লোক দেখানো … Nelson Mandela আফ্রিকার সবচেয়ে সম্মানিত ব্যাক্তি … তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে তাদের মানুষেরা মাত্র একটি গোলাপের মাধ্যমে … আর আমাদেরটা দেখেন … ১০০০ টাকার ফুল দিতে পারি … যাতে সবাই দেখে আমার কত শ্রদ্ধাবোধ তাদের প্রুতি … কিন্তু ৭ টাকার একটা রুটি কিনে দেই না কোন রাস্তার পিচ্চিদের :মাথাঠুকি: … আমার সমস্যা টা এই যায়গায় রে ভাই … আর ছাগুদের কথায় অনেকেই বিভ্রান্ত হয় … তাদের বিভ্রান্তি দূর করাটাই আমার লেখার প্রথম দিকের কথাগুলোর উদ্দেশ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *