ইস্টিশন’র প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে লেখা গল্প সংকলন

ইস্টিশন ব্লগটা আসলে কী রকম? অন্য ব্লগের সাথে এই ব্লগের পার্থক্যটা কী? কেউ কি ভেবে দেখেছেন? আমি মাঝে মাঝেই এই দুই প্রশ্নের উত্তর খুঁজি। উত্তর অবশ্য সাথে সাথে পেয়েও যাই। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, একেকবার আমি একেক রকম উত্তর পাই।

ইস্টিশন ব্লগটা আসলে কী রকম? অন্য ব্লগের সাথে এই ব্লগের পার্থক্যটা কী? কেউ কি ভেবে দেখেছেন? আমি মাঝে মাঝেই এই দুই প্রশ্নের উত্তর খুঁজি। উত্তর অবশ্য সাথে সাথে পেয়েও যাই। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, একেকবার আমি একেক রকম উত্তর পাই।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির যখন খুব গোলমেলে হয়ে ওঠে, ইস্টিশনের সচেতন ব্লগাররাও তখন বসে না থেকে চমৎকার সব গরম গরম পোষ্ট দিতে থাকেন। আমরাও খুব উত্তেজিত হয়ে সেসব লেখা পড়তে থাকি। অনেকে আছেন যারা ব্লগে লেখেন খুব কম, কিন্তু তারা বল্গের নিয়মিত পাঠক। তারাও সেসব পোষ্টে চমৎকার সব মন্তব্য করেন, চুলচেরা যুক্তিতে আমাদের চিন্তা ভাবনাকে শানিত করেন। একেক সময় দেখা যায় ব্লগ পোষ্টের চাইতে, পোষ্ট পড়ে সবাই কি কি মন্তব্য করছে সেটা পড়তেই বেশী ভালো লাগছে।
আমার চোখে ইস্টিশনকে তখন সত্যিকার একটা ইস্টিশনের চায়ের দোকানের মতো মনে হয়। যেখানে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে ওঠে তুমুল ঝড়, ঝানু ঝানু মানুষেরা সেখানে হাত পা নাড়িয়ে কঠিন কঠিন সব যুক্তিতে তর্ক করছে। সবার চোখে মুখে ফুটে উঠছে একটাই কথা – কিভাবে দেশটাকে আর একটু এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। যেদেশে ভাষার জন্য, যে দেশে স্বাধীনতার জন্য এতো বড় আত্মত্যাগের ইতিহাস আছে, তারা তো এমন হবেই। আমার কাছে মনে হয় ইস্টিশনে এসে আমি আমার দেশটাকে নতুন ভাবে ভালবাসতে শিখেছি।
ওদিকে ইস্টিশনের এক কোনায় বসেছে কবিতার মেলা। একেকজন ভাবুক কবি লাজুক ভঙ্গিতে তার কবিতা আবৃত্তি করে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইস্টিশনের ট্রেন কখন ছাড়বে সেই অপেক্ষাতে বসে আছে ভ্রমণ পিপাসী কিছু অস্থির মানুষ। তাদের কাছ থেকে যখন দেশ-বিদেশের অদ্ভুত আর রোমাঞ্চকর গল্প শুনি, তখন মনে হয় আমরাও তাদের সাথে এক চক্কর ঘুরে এলাম অচেনা কোন জায়গা থেকে। কেউ কেউ মাষ্টার মশাইয়ের মতো মনীষীদের জীবনী পড়িয়ে যাচ্ছে নিরলসভাবে। বড় বড় সেই মানুষগুলোর জীবনী তাদের লেখা চমৎকার সেই পোষ্টগুলোতে এমনভাবে ফুটে উঠছে যে পড়ার সময় মনে হয় গল্প পড়ছি।
শুধু তাই না। ইস্টিশনে কিছু সিনেমা পাগল লোকও আছেন। তাদের কল্যাণে অনেক না দেখা সিনেমা সম্পর্কে জানতে পারছি। এ যেন ইস্টিশনের হকারের বিক্রি করা ঝলমলে সিনে ম্যাগাজিন।
মাঝে মাঝে দু’এক জনের সাথে ঝামেলাও যে লেগে যায় না, তা না। তবে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই সহ ব্লগাররা বা ইস্টিশন মাষ্টারের স্বয়ং হস্তক্ষেপে দ্রুত সেই আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। মিলেমিশে থাকার এমন চমৎকার উদাহরণ আর কোন ব্লগে খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা জানি না।
সেই প্রানে প্রান মেলানো ব্লগের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমাদের প্রিয় “ইস্টিশন মাষ্টার” ধুম করে একটা ঘোষণা দিয়ে ফেললেন। ২১ তারিখে বর্ষপূর্তি, সেই উপলক্ষে ব্লগারদের লেখা কিছু গল্প নিয়ে একটা ই-বই ছাপানো হবে। কিন্তু গল্প লেখার জন্য সময় খুবই সংক্ষিপ্ত। তীব্র প্রতিবাদের মুখে সময় খানিকটা বাড়িয়ে ১৭ তারিখ রাত ১২ টা পর্যন্ত গল্প লিখে পোষ্ট করার সময় বেঁধে দেয়ে হল। বাছাই করা গল্পের লেখককে পুরস্কৃত করা হবে। মুচকি হেসে মাষ্টার সাহেব বললেন, এবার প্রাণে প্রাণ মেলাতে সমস্যা হওয়ার কথা না।
অস্থির একটা অবস্থা। এতো অল্প সময়ে গল্প পাই কোথায়? ব্লগের বাকি সবাই কিভাবে ম্যানেজ করেছেন জানি না। আমার মোটামুটি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
ইস্টিশন’র প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে গল্প লেখা প্রতিযোগিতা উপলক্ষে চমৎকার সব লেখা পেয়েছি আমরা। আতিক ভাই, বন্ধু তারিক লিংকন, ইকরাম ফরিদ ভাই সহ কিছু প্রিয় ব্লগারের লেখা খুব মিস করলাম। আমি এখনো সবগুলো পড়ে উঠতে পারিনি। আমার ধারণা অনেকের অবস্থাই আমার মতো। সেকারণে এই সংকলনটা দাঁড় করার চেষ্টা করলাম। সবগুলো লেখা এখানে এসেছে কিনা বুঝে উঠতে পারছি না। বাদ পড়লে জানাবেন। অ্যাড করে নেব। ব্যক্তিগত ভাবে আমি প্রতিযোগিতা জিনিষটা খুবই অপছন্দ করি। কেউ হেরে দুঃখ পাবে আর কেউ জয়ী হয়ে দাঁত বের করে হাসবে এটা আমি মেনে নিতে পারি না। আমার দৃষ্টিতে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া সবাই জয়ী। সবাইকে আমার তরফ থেকে অভিনন্দন।

১) স্বপ্নযাত্রা – লোকনাথ ধর
২) সমাজ, ভালবাসা, অতঃপর – দুরন্ত জয়
৩) অসমাপ্ত ভালোবাসা – সত্যান্বেষি সব্যসাচী
৪) নিখোঁজ সংবাদ – সাকিব
৫) সে নেই ! – ক্লান্ত কালবৈশাখি
৬) কঙ্কন দাসী – অর্ফিয়াস
৭) ২১ এবং সাধারণ স্বপ্ন – জাড্য
৮)“আমার বেলা যে যায়…” – রাজু রণরাজ
৯) অভিশপ্ত স্বপ্ন …… – একেলা পথের পথিক
১০) হায়রে তিমা, হায়রে সুরি ! – সোমেশ্বরী
১১) স্বপ্ন – অংকুর
১২) রমা – সফিক এহসান
১৩) কঠিন বাস্তব – নির্ঝর রুথ
১৪) প্রিয়দর্শনের গাঁজা এবং সেই কিশোর – রাফিউজ্জামান সিফাত
১৫) হেলে পড়া সূর্য; স্তিমিত আলো – অবাস্তব স্বপ্নচারী
১৬) আক্ষেপ – নাভিদ কায়সার রায়ান
১৭) জয় বাঙলা – ডন মাইকেল কর্লিওনি
১৮) সবুজ পাতার ক্রন্দন – ইউরিডাইস
১৯) শেষ রাতের ভালোবাসা – মুন্তাসির মামুন

৫৯ thoughts on “ইস্টিশন’র প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে লেখা গল্প সংকলন

  1. আরে, চমৎকার একটা কাজ করেছেন
    আরে, চমৎকার একটা কাজ করেছেন তো নাভিদ ভাই… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :তালিয়া: অশেষ কৃতজ্ঞতা রইল… :ফুল: :ফুল: :বুখেআয়বাবুল:

    1. ধান্দাবাজি ছাড়েন, বুঝলেন?
      ধান্দাবাজি ছাড়েন, বুঝলেন? পুরস্কার না, অংশগ্রহণই মূল কথা। আর এই যে ফ্রিতে প্রাণে প্রাণ মেলাতে পারছেন এটাও তো একটা পুরস্কার, তাই না?

  2. বাহ দারুণ তো। ভালো লাগলো। সব
    বাহ দারুণ তো। ভালো লাগলো। সব প্রতিযোগীর জন্য প্রাণঢালা অভিনন্দন রইল। প্রাণে প্রাণ মেলানোর চমৎকার এক পরিবেশ তৈরি করার জন্য ইস্টিশন মাস্টার সহ সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

  3. আমার একটা প্রস্তাবনা আছে , এ
    আমার একটা প্রস্তাবনা আছে , এ গল্প গুলোর মধ্যে সেরা দশটি গল্প প্রিন্ট আকারে বের হলে কেমন হয়?
    আমরা কারিগর.কম এর মাধ্যমে তা কিনে নেব…… এটা স্মৃতির পাতায় অক্ষত করে রাখার দারুন উপায় বলে মনে করি।
    অন্য দের মতামত কি?

    একটা বই এর দাম নিশ্চই আমাদের প্রানে প্রান মেলাবার ক্ষমতার চেয়ে বেশি নয়……

    হ্যাঁ না যেটাই হোক মতামত জানান

  4. ওয়াও দারুণ একটা কাজ করছেন
    ওয়াও দারুণ একটা কাজ করছেন রায়ান ভাই। আন্তরিক ধন্যবাদ। শুরুতেই ইস্টিশন সম্পর্কে যা লিখেছেন পড়ে আমার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেছে। এক আরেকজনকে না দেখেই কি এক মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে গেছি আমরা। অদ্ভুত না? সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ দারুণ দারুণ গল্প পোস্ট করার জন্য। আমার আপাতত লেখালেখির মুড কাজ করতেছে না। তাই পুরাতন লেখা পোস্ট দিয়েই কিছুদিন চালাব বলে মনস্থির করেছি। আশা করি সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

    1. কাজটা করেছি অবশ্য নিজের
      কাজটা করেছি অবশ্য নিজের জন্যই। পরে ভেবে দেখলাম, আরে! এটা তো সবার জন্যই কাজে লাগবে। তাহলে এটাকে একটা পোষ্ট হিসেবে ছেড়ে দিলেই তো হয়। পোষ্ট রেডি করার পর ভাবলাম, ধুর! ভূমিকা ছাড়া একটা পোষ্ট দিলে কেমন দেখা যায়! তারচেয়ে বরং হাবিজাবি কিছু লিখে দেই। লিখতে গিয়ে দেখলাম যেভাবে ইমোশনাল ভাষণ দেয়া শুরু করেছি তাতে এই লেখা আর শেষ করা যাবে না। শেষপর্যন্ত অবশ্য মনে হল সবার মনের কথাটাই কিভাবে যেন বলে ফেলেছি।
      আপনার লেখার মুড ফিরে আসুক। সেই দোয়া করি।

    1. গল্পগুলো আসলে সিরিয়াল অনুযায়ী
      গল্পগুলো আসলে সিরিয়াল অনুযায়ী দেয়ার চেষ্টা করেছি। আমি প্রায় শেষের দিকে লেখা জমা দিয়েছি বলে ওটা শেষের দিকে। ইন্টেনশনালি করা না।

    1. শঙ্খচিলের ডানা ভাই, আপনার
      শঙ্খচিলের ডানা ভাই, আপনার গল্প মিস করলাম আমরা। বড়ই আফসোসের কথা! আপনার অফিসকে ইস্টিশনের পক্ষ থেকে বদদোয়া দিলাম – ওই কুত্তার মতো অফিস ধ্বংস হয়ে যাক।

    1. নাসির ভাই, ভাবিরে একলা টাইম
      নাসির ভাই, ভাবিরে একলা টাইম দিলেই হবে? ব্লগের ছোট ছোট ভাইয়েরা যে অপেক্ষায় থাকি । মাঝে মধ্যে কি দু একটা গল্প দেয়া যায় না?

      নাকি পোস্ট না দিয়ে আমাদের সুযোগ করে দেন, যে বাচ্চা কাচ্চা একটু জিতুক 😉

      একুশে ফেব্রুয়ারি যেন মিস না হয়।

  5. দারুণ কাজ করে ফেলেছেন দেখছি!
    দারুণ কাজ করে ফেলেছেন দেখছি! :থাম্বসআপ:
    না পড়া গল্পগুলো পেইজে পেইজে খুঁজতে গিয়ে ভালো হাঙ্গামা হচ্ছিলো। বাঁচিয়ে দিলেন ভাই 😀

    1. রাহাত ভাই, আপনার লেখা পেলাম
      রাহাত ভাই, আপনার লেখা পেলাম না কেন? আগে একবার ডন সাহেবের রিভিউ এর কম্পিটিশনে লেখা দেবেন বলেও দেন নাই। ঘটনা কি ভাইজান?

    1. আমরা তো একটি পরিবার এখানে যে
      আমরা তো একটি পরিবার এখানে যে কোন একজনের বিজয়ই আমাদের সবার বিজয়……

      তবে আপনি তো মশাই অমবশ্যার চাঁদ দেখাই পাওয়া যায় না আপনাকে।

  6. পরীক্ষা চলছে না হলে একটা গল্প
    পরীক্ষা চলছে না হলে একটা গল্প দিয়েই দিতাম। ভাল একটা পোষ্ট করেছেন :থাম্বসআপ: আর জয়ের বই/ম্যাগাজিন বের করার আইডিয়াটাও ভালো লাগলো। নিজের লেখা ছাপার অক্ষরে দেখা এবং ই বুকের ভার্চুয়ার অক্ষরে দেখার মধ্যে বিরাট ফারাক রয়েছে।

  7. এই লোকটা “বাড়িওয়ালা”র বাড়িতে
    এই লোকটা “বাড়িওয়ালা”র বাড়িতে বসে বসে এই রকম একটা দুঃসাহসিক কাজ করে ফেলল!!!
    ইস্টিশন মাস্টারের পক্ষ থেকে এই লোকের জন্য কিছু একটা করার প্রস্তাব জানাই…
    :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

  8. যে দু’টি গল্প পুরষ্কার পায়নি,
    যে দু’টি গল্প পুরষ্কার পায়নি, কিন্তু দারুণ লেগেছে আমার, সে দু’টি হল; অবাস্তব স্বপ্নচারী’র হেলে পড়া সূর্য; স্তিমিত আলো এবং নাভিদ কায়সার রায়ানের আক্ষেপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *