লিফটের ঘুটঘুটিতে চাইছি-তোমার-বন্ধুতা এবং মিডিয়ার ‘বয়স্ক ‘তরুণেরা’

তেজ কমতে শুরু করলে অনেক পুরুষেরই তরুণ হয়ে ওঠার ইচ্ছে হয়। চামড়ায় ভাঁজ, চুলে রুপোলি ঝিলিক ছাপিয়ে বেরনো নিজেদের পদের জোর আর ক্ষমতার আতিশয্যে নিজেদের বড় ‘তেজস্বী’ ভাবতে থাকেন।

মিডিয়ার বসবাস করে তাদের খোমার প্রচার প্রসারও বেশ জাকজমক। তবে সেই তুলনায় তাদের অপরাধও তেমন নয়! হয়তো চেয়েছিলেন লিফটের ঘুটঘুটিতে চাইছি-তোমার-বন্ধুতা গোছের আদর-অভ্যর্থনা। মিডিয়ায় কাজ করতে আসা নারী কিংবা নাতি নাতনির বয়েসি মেয়েদের সাথে এরা যা করে তাকে স্ট্যান্ডার্ড কনসেপশনে ধর্ষণ বলা চলে না, তবে আধুনিককালে ধর্ষণ সম্পর্কিত যে-বয়ান তৈরি হয়েছে, আইনি ভাষায় এটিও ধর্ষণের সমার্থক।


তেজ কমতে শুরু করলে অনেক পুরুষেরই তরুণ হয়ে ওঠার ইচ্ছে হয়। চামড়ায় ভাঁজ, চুলে রুপোলি ঝিলিক ছাপিয়ে বেরনো নিজেদের পদের জোর আর ক্ষমতার আতিশয্যে নিজেদের বড় ‘তেজস্বী’ ভাবতে থাকেন।

মিডিয়ার বসবাস করে তাদের খোমার প্রচার প্রসারও বেশ জাকজমক। তবে সেই তুলনায় তাদের অপরাধও তেমন নয়! হয়তো চেয়েছিলেন লিফটের ঘুটঘুটিতে চাইছি-তোমার-বন্ধুতা গোছের আদর-অভ্যর্থনা। মিডিয়ায় কাজ করতে আসা নারী কিংবা নাতি নাতনির বয়েসি মেয়েদের সাথে এরা যা করে তাকে স্ট্যান্ডার্ড কনসেপশনে ধর্ষণ বলা চলে না, তবে আধুনিককালে ধর্ষণ সম্পর্কিত যে-বয়ান তৈরি হয়েছে, আইনি ভাষায় এটিও ধর্ষণের সমার্থক।

বসের মেয়ের বান্ধবী ছিল মেয়েটি। তবু লিফটের সিসিটিভি না থাকার সুযোগ নিতে ছাড়েননি ভদ্রলোক। বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথনের মধ্যেই সেই মেয়েকে বলেছিলেন,খুব বেশি কিছু তো চাইনি, এই তোমার-বন্ধুতা গোছের একটু আদর-অভ্যর্থনা! যদি চাকরি টিকিয়ে রাখতে চাও, এর চেয়ে ভাল পদ্ধতি আর কিছু নেই..

এই মন্দার বাজারে, এর চেয়ে বড় সাংঘাতিক কথা কিছু হয়? বিশ্বমন্দা এমন দ্রুততায় গ্রাস করছে আমাদের যে, কখন চাকরি থাকে, কখন যায় তার হিসেব নেই। কত কৌশল করে চেয়ার বাঁচাতে হয়! চেয়ার ছেড়ে উঠলেই বুকদুরদুর করে না যে কাল থেকে ওই চেয়ারে বসতে না-ও দিতে পারে? নারী হোক বা পুরুষ, আমরা সবাই বেতনভুক। মাস শেষে মাইনেই একমাত্র স্বীকৃতি।

চাকরি এমনই এক বন্দুক, যার ঘোড়ায় কোনও প্রভাবশালী পুরুষের আঙুল থাকলে যে-কোনও চাকরিজীবী নারীই ভোগ্য ও ধর্ষণযোগ্য। উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি নিয়ে যে মেয়েটি চাকরির সন্ধানে আসে, নিজেকে উচ্চপ্রতিষ্ঠিত দেখতে চায়, উচ্চাশা পোষণ করে, এই ক্ষমতার চক্রব্যূহ তাকেও অভিমন্যু করে। উল্টোদিকের চেয়ারে বসা সুটেড-বুটেড লোকটির আকারে ইঙ্গিত কমবেশি বুঝিয়ে দেয় যে, উঁচুতে উঠতে গেলে তাকে ততটাই খাদে নামতে হবে। ব্যাপারটাকে অভ্যেস করে নিলে সিঁড়ির মতোই সোজা মনে হবে। নয়ত দুর্গম পর্বত।

আমার পরিচিত নারী জীবনের প্রথম ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিল একটা চ্যানেলে। বিপরীতের টেবিলে ছিলেন এরকমই এক বয়স্ক এবং তরুণ-মনস্ক ভদ্রলোক। ইন্টারভিউ চলতে চলতেই জিজ্ঞেস করলেন, বিয়ে করনি কেন? তুমি কি লেসবিয়ান? প্রথমটা ঘাবড়ে গিয়ে চুপ করে বসেছিল সে। ওদিকে বৃদ্ধ তরুণের মুখের হাসি। আরেকটা প্রশ্ন, তোমার জীবনের যে কোনো একটা রসালো গল্প শেয়ার করো……।

মেয়েটি তখন লজ্জায় লাল। এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো ভেবে চলেছে…সম্মানের চেয়েও চাকরিটা তার কত বেশি প্রয়োজন। আর ঠিক সময়ে কেন একটাও রসালো গল্প মাথায় আসছে না।

ইতিমধ্যেই হাসিহাসি মুখে সেই তরুণ বৃদ্ধ আরও একটি প্রশ্ন ছুড়েছেন, তোমার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার মুহূর্তটা কেমন ছিল? আমি জানতে চাই…হতাশ হয়ে উঠে পড়েছিল মেয়েটি। সোজা মুখের ওপর বলেছিল, যদি সেটা অন্ধকার মুহূর্তই হয়, তবে আলোতে বলব কেন আপনাকে। অন্ধকারে আসুন, বুঝিয়ে দিচ্ছি.

অফিস থেকে সেই ইন্টারভিউয়ের কল আর পাওয়া হয়নি মেয়েটির। অফিস থেকে বেরনোর সময়ে কমেন্ট বুকে অনেকগুলো ভাষা উগরে দিয়ে এসেছিল, এই পর্যন্তই।

কম বা বেশি, স্বল্প কিংবা বিস্তর, মিডিয়ায় কাজ করা শতকরা ৯৯ ভাগ নারীকেই,কেরিয়ারের কোনও-না-কোনও ধাপে এইসব তরুণ-মনস্ক বৃদ্ধের খপ্পরে পড়তে হয়! অনেক সময় তরুণ-মনস্ক এইসব গণ্যমান্যরাও ব্যবহারযোগ্য হন, বুদ্ধি খাটিয়ে অনেক মেয়েই এদের সিঁড়ি করেছেন। কেউ কেউ আবার সেটা না করে স্বস্তির সন্ধানে অন্যত্র চাকরি নিয়ে চলে গিয়েছেন, সম্মুখীন হয়েছেন আরও কঠিন কোনও বাস্তবের।

তবে এখানেই শেষ নয়। আজকের পৃথিবীতে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অসাম্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিরন্তর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নারীরা কর্মযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে পুরুষের পাশাপাশি। দেশে দেশে কর্মমুখী এই নারীরা নিজের ও পরিবারের অস্তিত্ব বাঁচানোর সংগ্রামে একটি শক্তিশালী ইউনিট। আর এই ইউনিটির সামনেই একদিন এইসব বয়স্ক তরুণদের তেজ কমতে থাকবে। সেইসাথে ভেঙ্গে গুড়িয়ে যাবে ক্ষমতার ইমারতও।

৯ thoughts on “লিফটের ঘুটঘুটিতে চাইছি-তোমার-বন্ধুতা এবং মিডিয়ার ‘বয়স্ক ‘তরুণেরা’

  1. প্রতমে মনে হচ্ছিলো লেখাটি
    প্রতমে মনে হচ্ছিলো লেখাটি একটু হতাশামূলক।কিন্তু শেষের দিকের লাইনগুলো প্রতিরোধের।

    আজকের পৃথিবীতে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অসাম্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিরন্তর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নারীরা কর্মযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে পুরুষের পাশাপাশি। দেশে দেশে কর্মমুখী এই নারীরা নিজের ও পরিবারের অস্তিত্ব বাঁচানোর সংগ্রামে একটি শক্তিশালী ইউনিট। আর এই ইউনিটির সামনেই একদিন এইসব বয়স্ক তরুণদের তেজ কমতে থাকবে। সেইসাথে ভেঙ্গে গুড়িয়ে যাবে ক্ষমতার ইমারতও।

  2. পুরো লেখাটা পড়ে রাগে আর ঘৃনায়
    পুরো লেখাটা পড়ে রাগে আর ঘৃনায় গা রিরি করছে। ইচ্ছা করে এইসব বুড়া ভামদের মেশিন কেটে কপালে লটকে দেই। :ক্ষেপছি:

  3. মানুষের ভেতরের রূপটা যদি পশুর
    মানুষের ভেতরের রূপটা যদি পশুর মত হয়, তবে এরকম ঘটনা ঘটাই স্বাভাবিক… :মাথাঠুকি: ওইসব বৃদ্ধ পশুগুলোকে যদি পুতে ফেলতে পারতাম মাটির একশ হাত নিচে… :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি:

    সেটা যেহেতু সম্ভব না, সুতরাং প্রতিবাদ আসতে হবে সমাজের সকল স্তর থেকে… নারীপুরুষ নির্বিশেষে সবার কাছ থেকে… :জলদিকর: :অপেক্ষায়আছি:

  4. পুরনো বিভিন্ন রকম লুচ্চা
    পুরনো বিভিন্ন রকম লুচ্চা লাফাঙ্গার সাথে এখন যোগ হয়েছে নতুন কিসিমের হারামি – কর্পোরেট লুচ্চা। এদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার।
    আর শামিমা আপু যেরকম বলেছেন “দেশে দেশে কর্মমুখী এই নারীরা নিজের ও পরিবারের অস্তিত্ব বাঁচানোর সংগ্রামে একটি শক্তিশালী ইউনিট।” এটা একটা চমৎকার স্লোগান। তবে এই স্লোগানে অংশ নিতে হবে নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে। একমাত্র তাহলেই অর্জিত হবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *