Turtles Can Fly: চুরি হয়ে যাওয়া শৈশবের গল্প।

মুভিটা যখন দেখছি পৃথিবীর অন্য প্রান্তে মানুষেরই ছুঁড়ে মারা অস্ত্রে ছিন্নভিন্ন হচ্ছে মানুষ। ঘরে, রাস্তায় নিথর পড়ে আছে শিশুদের লাশ। যাদের শৈশব চুরি নয়, বরং হারিয়ে গেছে চিরতরে। যুগযুগ ধরে মানুষের নৃশংসতায় এভাবেই নিথর হয়েছে মানুষের কণ্ঠ বারবার। যুদ্ধ- ছোট্ট একটা শব্দ হলেও এর ভয়াবহতা কতখানি হয় সেটা আমরা আমাদের একাত্তরের স্মৃতি থেকে জানি। একটা যুদ্ধ পাল্টে দেয় একটা জনপদের ইতিহাস- জীবন। যারা মারা যান, তারা তাদের মৃত্যুর মুহুর্তে কেমন অনুভব করেন আমার জানা নেই। তবে আমার ধারনা, তারা তাদের বুকের মাঝে মানুষের জন্য তীব্র ঘৃনার অনুভুতি নিয়ে চিরতরে হারিয়ে যান। আর যারা বেঁচে থাকে, তারা সারা জীবন বহন করে এক অসহ্য বেদনার স্মৃতি। যে শিশুটি জীবন কি সেটা বোঝার আগেই বুলেটের আঘাতে নিশ্চুপ হয়ে যায়, সে আজীবন একটা শিশু হয়েই বেঁচে থাকে স্বজনদের স্মৃতিতে। আর যে শিশুটি যুদ্ধের ভয়াল সময় পার করে বেঁচে থাকে, সে যেন হঠাৎ করেই অনেক বড় হয়ে যায়, অন্তত মানসিকভাবে।

“Turtles can fly” আমার কাছে নিছকই একটা যুদ্ধের সিনেমা নয়। এ যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, একটা যুদ্ধ কিভাবে একদল শিশুকে জীবনের চরম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে নিমিষেই শিশু থেকে পরিনত বয়স্ক মানুষ করে দেয়। সাধারনত মুভি রিভিউ টাইপ কিছু লিখলে আমি মুভির কাহিনী খুব একটা বর্ননা করিনা। দর্শকের জন্য রেখে দেই। কিন্তু এই মুভির কাহিনী বলে দিলেও কিছু যায় আসেনা। কারন কাহিনী কি, এবং পরিনতি কি হবে সেটা আমদের সবারই জানা। সাম্প্রতিক সময়ে এতগুলো যুদ্ধ আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যে এর অজানা কিছুই নেই। তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে, এরকম জানাশোনা কাহিনীর চলচ্চিত্র নিয়ে লিখতে বসলাম কেন? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে অনেকবার ভাবলাম। ভেবে সিদ্ধান্তে এলাম, না দেখলে এটা ঠিক ব্যাখ্যার অতীত।

“Turtles can fly” ইরাকের কুর্দি অধ্যুষিত এক গ্রামের কাহিনী, ঠিক যেই মুহুর্তে ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের বাহিনী শেষ নিঃশ্বাস ফেলার অবস্থায় পৌঁছে গেছে। কাহিনীর শুরুতেই দেখি ১২-১৩ বছর বয়সী একটা মেয়ে পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে নীচে ঝাঁপ দেওয়ার অপেক্ষায়।

এতো ছোট্ট একটি মেয়ে, (আসলে সত্যি বলতে মেয়ে না বলে শিশু বললেও ভুল হয় না) কেন আত্মহত্যার মতন একটা সাহসী এবং মরিয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে সেটা কাহিনীর ভেতরে না ঢুকলে প্রথমে যে কোন দর্শককেই একটা ধাক্কার মতন দেবে।

মুভির মূল চরিত্রের একজন একটি কিশোর, টিভি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি বিষয়ে গ্রামের বড়দের চেয়েও জ্ঞ্যান বেশী রাখে বলে যাকে সবাই স্যাটেলাইট বলে ডাকে। যে এলাকার কাহিনী দেখানো হয়েছে সেখানে আশ্রয় নিয়েছে একদল কুর্দি রিফিউজি। যাদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশী। স্যাটেলাইট এদের সবাইকে নেতৃত্ব দেয় বিভিন্ন বিষয়ে। রিফিউজি পরিবার গুলোর মাঝে আশ্রয় নিয়েছে দুই ভাইবোন, এবং সাথে যুদ্ধে ধর্ষনের স্বীকার বোনটির গর্ভে জন্ম নেওয়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বছর দেড়েকের শিশু। ভাইটিও যুদ্ধে তার দুটো হাতই হারিয়েছে। ভাবতে পারেন ১৩ বছরের এক কন্যাশিশুর কোলে এরকম একটা শিশুর দৃশ্য কতটা অমানবিক এবং ভয়াবহ হতে পারে? মেয়েটির নাম আরগি।

গ্রামের সবাই অপেক্ষায় আছে কবে শেষ হবে এই যুদ্ধ। আমি কাহিনীর বিস্তারিত বর্ননায় যেতে চাচ্ছিনা, লেখা অনেক বড় হয়ে যাবে। শুরুতেই দেখা যায় গ্রামের সবাই ব্যস্ত টিভির এন্টেনা ঠিক করা নিয়ে। সবাই যুদ্ধের নিউজ জানতে আগ্রহী। এরপর স্যাটেলাইটের পরামর্শে সবাই মিলে শহর থেকে ডিশ এন্টেনা কিনে আনে। স্যাটেলাইটের কাজ হয় বিবিসি, সিএনএনের খবর তর্জমা করে শোনানো। সবচে অবাক হবেন একটা দৃশ্যে গিয়ে।

যেখানে দেখানো হয় গ্রামের শিশু এবং রিফিউজি ক্যাম্পের শিশুদের জীবিকা দেখে। গ্রামের জমিতে পুঁতে রাখা অবিস্ফোরিত মাইন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তুলে এনে এরা স্যাটেলাইটের সাহায্য নিয়ে ক্রেতার কাছে বিক্রি করে। সেই মাইন হাত ঘুরে আবার চলে যায় অস্ত্রবাজারে। স্যাটেলাইট আরগি মেয়েটার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিভিন্নভাবে সে সাহায্য করতে চায় তাদের।

আরগি তার সন্তান নিয়ে সবসময় একটা অপরাধবোধে ভোগে। শিশুটিকে সহ্য করতে পারেনা সে। কারন শিশুটির পিতা যেই হোক, সে আরগির বাবা-মা’কে তার সামনেই হত্যা করেছিল। আর ধর্ষনের অসহ্য স্মৃতি তাকে তাড়া করে ফেরে সারাক্ষন। শিশুটিকে ফেলে রেখে সে তার ভাইকে নিয়ে অন্য কোথাও চলে যেতে চায়। এমনকি আত্মহত্যার চেষ্টাও করে কয়েকবার।

আরগি, মাত্র ১৩ বছর বয়সেই সে দেখে ফেলেছে জীবনের সবচে নিষ্ঠুরতম দিক। তাই এই শিশু বয়সেই তার চোখেমুখে যে কাঠিন্য ফুটে থাকতে দেখা যায় তা দর্শক মনে নাড়া দিতে বাধ্য। আরগির ভাই চেষ্টা করে যায় শিশুটিকে দেখভাল করে রাখতে। কারন জন্মের জন্য শিশুটিকে সে কোন দোষ দিতে পারেনা।

শিশুটির বয়স বছর দেড়-দুই হলেও সে বুঝতে পারে তার প্রতি তার মায়ের অবহেলা এবং বিরাগের মনোভাব। একটা দৃশ্য দেখে আবেগ ধরে রাখা সত্যিই কঠিন। যেখানে দেখা যায়, শিশুটি ফেলে রাখা বোমার খোসার স্তুপের মাঝে তার কল্পিত বাবাকে খুঁজতে থাকে।

অবশেসে পতন হয় সাদ্দাম হোসেনের। কিন্তু এর আগেই শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণের স্বীকার হয়ে আহত হয় স্যাটেলাইট। তার সঙ্গি ছোট ছোট শিশুরা তার জন্য উপহার হিসেবে নিয়ে আসে সাদ্দাম হোসেনের ভেঙে ফেলা মূর্তির বিচ্ছিন্ন হাত। সবশেষে মুভির সমাপ্তি হয় আরগির পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মাহুতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে। তার আগে সে তার বাচ্চাটিকে মেরে ফেলে পানিতে ডুবিয়ে।

মুভিটির যেই দিকটি সবচে অবাক করে তা হল, এতো ছোট ছোট বাচ্চাদের দারুণ-অসাধারন অভিনয় প্রতিভা দেখে। উইকি ঘেঁটে জানা গেলো এরা কেউই প্রফেশনাল শিল্পী নয়। সবাইই যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতার ঘাটে জর্জরির। আর এইজন্যই হয়ত তাদের অভিনয়কে ঠিক অভিনয় মনে হয় না। এক্ষেত্রে পরিচালক বিশাল বাহবার দাবীদার নিঃসন্দেহে। মুভিটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় একটা যুদ্ধ মানে শুধুই হানাহানি নয়। যুদ্ধের পড়তে পড়তে লুকিয়ে থাকে এরকম হাজারো নিষ্ঠুরতার কাহিনী। যে বয়সে একটা শিশুর হেসে খেলে বেড়ানোর কথা, স্কুলে পড়তে যাওয়ার কথা, সেই বয়সের এক একটা শিশুর খেলার ফিল্ড পরিবর্তিত হয়ে রূপ নেয় মাইন ফিল্ডে। এবং সবচে করুন লাগে যখন দেখা যায় এই ঘটনাকে ঐ শিশুগুলো কি নিদারুনভাবে খেলা হিসেবেই নিয়েছে। শিশুগুলো যেন আমাদের বড়দের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়- খেলার মাঠই শিশুদের স্থান, হোক সেটা যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা মাইনে ভরা জমি।

মুভিটির অনেক কিছু নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়ে গেলেও, সিমপ্লি যদি এভাবে দেখেন যে, এক একটা যুদ্ধ আমাদের মানুষের ইতিহাসকে কলঙ্কের কোন সীমায় নিয়ে দাঁড় করাচ্ছে? সিনেমার ওইসব শিশুদের সাথে আজকের প্যালেস্টাইনের এই শিশুগুলোর মাঝে কোন পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছেন আপনি? আমি পাচ্ছি না।

(পূর্বে অন্যত্র প্রকাশিত। লেখাটি যখন লিখি তখন প্যালেস্টাইনে ইজরায়েলি আগ্রাসন চলছিল)

১৭ thoughts on “Turtles Can Fly: চুরি হয়ে যাওয়া শৈশবের গল্প।

  1. বরাবরের মত সুলিখিত| মুভিটা
    বরাবরের মত সুলিখিত| মুভিটা দেখার চরম আগ্রহ বোধ করছি| কিন্তু সমস্যা হচ্ছে popular main-stream movie ছাড়া এসব মুভি দোকানে পাওয়া যায় না| খোঁজ করে দেখব|

    1. শাহবাগে আজিজের ডিভিডির দোকান
      শাহবাগে আজিজের ডিভিডির দোকান গুলোতে ইরানি মুভি পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। আপনাকে তো টরেন্ট লিংক দিয়ে লাভ নাই। 😀

  2. অসম্ভব চমৎকার একটি মুভি।
    অসম্ভব চমৎকার একটি মুভি। নিষ্ঠুর বাস্তবতার নগ্নচিত্র যেন তুলে ধরা হয়েছে চোখ বুজে থাকা আমাদের সামনে। এবং যতবারই দেখি মনটাকে অসম্ভব রকম খারাপ করে দিয়ে যায় এই মুভি। অনেক ধন্যবাদ ভাই শেয়ারের জন্য। কারো দেখা বাকি থাকলে অবশ্যই দেখে নিবেন।

  3. চমৎকার একটি মুভির সাথে পরিচয়
    চমৎকার একটি মুভির সাথে পরিচয় করানোর জন্য ডাক্তার আতিককে সাধুবাদ। অনেক ধন্যবাদ ভাই শেয়ারের জন্য। অবশ্যই দেখবো ছবিট

    :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

  4. একটা যুদ্ধ পাল্টে দেয় একটা

    একটা যুদ্ধ পাল্টে দেয় একটা জনপদের ইতিহাস- জীবন। যারা মারা যান, তারা তাদের মৃত্যুর মুহুর্তে কেমন অনুভব করেন আমার জানা নেই। তবে আমার ধারনা, তারা তাদের বুকের মাঝে মানুষের জন্য তীব্র ঘৃনার অনুভুতি নিয়ে চিরতরে হারিয়ে যান। আর যারা বেঁচে থাকে, তারা সারা জীবন বহন করে এক অসহ্য বেদনার স্মৃতি। যে শিশুটি জীবন কি সেটা বোঝার আগেই বুলেটের আঘাতে নিশ্চুপ হয়ে যায়, সে আজীবন একটা শিশু হয়েই বেঁচে থাকে স্বজনদের স্মৃতিতে। আর যে শিশুটি যুদ্ধের ভয়াল সময় পার করে বেঁচে থাকে, সে যেন হঠাৎ করেই অনেক বড় হয়ে যায়, অন্তত মানসিকভাবে।

    :bow: :bow: :bow: :bow:

  5. মুভিটা দেখার ইচ্ছে তো হচ্ছেই,
    মুভিটা দেখার ইচ্ছে তো হচ্ছেই, সেই সাথে মুগ্ধ হয়ে গেলাম আপনার লেখা পড়ে, চমৎকার উপস্থাপনা… :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  6. বাহমান ঘোবাদি এক সাক্ষাৎকারে
    বাহমান ঘোবাদি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমার চলচ্চিত্রে যাদের আপনারা শিশু হিসেবে দেখেন তারা ইউরোপ, আমেরিকার শিশুদের মত নয়। কুর্দিদের শৈশব বলে কিছু থাকে না, তারা জন্ম গ্রহণ করে এবং হঠাৎ ২০ বছর হয়ে উঠে। আমার চলচ্চিত্রের শিশুরা ইউরোপ আমেরিকার ৩০/৪০ বছর বয়সীদের মতই দুর্ভোগ পোহায়। আমি বলতে পারি আমার চলচ্চিত্র শিশুদের নিয়ে নয়, এগুলো তাদের নিয়ে যাদের আছে ছোট শারীরিক গড়ন কিন্তু বড় আত্মিক শক্তি।’
    ঘোবাদির হাফ মুন, অ্যা টাইম ফর ডার্কেন হর্সেস এসবও অসাধারণ।

  7. Turtles Can Fly (2004) মুভিটি
    Turtles Can Fly (2004) মুভিটি সংগ্রহেও নেই এবং দেখা হয় নাই!!
    আপনার পোস্ট পড়া শুরু করতেই মাথায় একটা গান বাজতেছিল!!

    “Under The Same Sun”

    I saw the morning
    It was shattered by a gun
    Heard a scream, saw him fall, no one cried
    I saw a mother
    She was praying for her son
    Bring him back, let him live, don’t let him die

    Do you ever ask yourself
    Is there a Heaven in the sky
    Why can’t we get it right

    ’cause we all live under the same sun
    We all walk under the same moon
    Then why, why can’t we live as one

    I saw the evening
    Fading shadows one by one
    We watch the lamb, lay down to the sacrifice
    I saw the children
    The children of the sun
    How they wept, how they bled, how they died

    Do you ever ask yourself
    Is there a Heaven in the sky
    Why can’t we stop the fight

    ’cause we all live under the same sun
    We all walk under the same moon
    Then why, why can’t we live as one

    Sometimes I think I’m going mad
    We’re loosing all we had and no one seems to care
    But in my heart it doesn’t change
    We’ve got to rearrange and bring our world some love

    And does it really matter
    If there’s a heaven up above
    We sure could use some love

    ’cause we all live under the same sun
    We all walk under the same moon
    Then why, why can’t we live as one
    ’cause we all live under the same sky
    We all look up at the same stars
    Then why, tell me why can’t we live as one…

    Album: “Face The Heat” (1993) by SCORPIONS

    অনেক দিন এমন দুর্দান্ত মানবিক ওয়ার ফিল্ম দেখা হয় নাই। দেখার তীব্র ইচ্ছা আছে…
    দারুণ লিখেছেন আতিক ভাই!! গানটা আপনার জন্যে… যুদ্ধ বিরোধী মুভি’র সাথে এই গান সবচে চমৎকার ভাবেই যায়! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :salute:

  8. মন্তব্যে নতুন কিছুই বলার নাই।
    মন্তব্যে নতুন কিছুই বলার নাই। সিনেমাটি নিয়ে যা যা বলার ছিল তার সবটাই সুন্দর গুছিয়ে বলেছেন।
    আমি সিনেমাটা দেখার সময় একেবারে ডুবে গিয়েছিলাম। এখানে দেখানো অনেক কিছুই মেনে নিতে পারিনি। অবশ্য সেটা আমার দুর্বলতা। এরকম নিদারুণ বাস্তবতার ছবি দেখতে খুব কষ্ট হয়। তারপরও দেখেছি। বেশ কয়বারই দেখেছি। আস্তে আস্তে একটা জিনিষ উপলব্ধি করলাম। যুদ্ধ নিয়ে নির্মিত এরকম হৃদয় স্পর্শী অনেক সিনেমা হবে। সেসব দেখে আমরা দুঃখে ভারাক্রান্ত হবো। কিন্তু এই যুদ্ধ বিগ্রহ কোন দিন থামবে না। কেন? এটাই মনে হয় জীবনের নিয়ম। ভাঙ্গা আর গড়া।
    আরগি, তার সন্তানের জন্য আমার যতই খারাপ লাগুক, তাতে আরগি আর তার সন্তানের কিছুই আসবে যাবে না। কারণ অন্তর্নিহিতভাবে আমি ঠিকই জানি – আমি ওদের চাইতে অনেক ভাগ্যবান। সেদিক দিয়ে দেখলে কিন্তু ওদের জন্য যে সমবেদনা আমার মনে ফুটে উঠছে তাতে কিন্তু একটা ফাঁকিও আছে, তাই না?
    তারচেয়ে আমি বরং স্যাটেলাইটের মতো হতে চাই। যেখানে যেমন আছি সেখানে মানুষের জন্য কিছু করে যেতে চাই। মানুষের ভাগ্য পালটাবার সাধ্য আমার নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *