পরমানু গল্প ১

উপরে সাদা
নিচে সাদা
ডানে বামে সামনে পেছনে সবই সাদা
এ যেন এক সাদার দুনিয়ায় এসে পড়ল নিলয়। তার মাথা কাজ করছে না। এ কি করে সম্ভব? তার নিচে শুধু সাদা কি যেন দেখা যাচ্ছে। তা কি মাটি নাকি ফ্লোর বুঝতে পারলো না। উপরে কি আকাশ?? আকাশ কি কখনো দুধের মত সাদা হতে পারে??
১ ঘন্টা ২ ঘন্টা ৪ ঘন্টা করে পুরো একটা দিন কেটে গেল। আশ্চার্য হলেও সত্য ঘুম ছাড়া এতক্ষন সে দাড়িয়ে আছে অথচ তার কোন
ক্লান্তি নেই,
পা ব্যাথা নেই,
খাবারের ক্ষুদা নেই,
সে চিন্তা করতে পারছে না এটা কোন জায়গা,
তবে সে খেয়াল করছে তার মস্তিষ্কের নিউরন সেল কম্পিত হচ্ছে না। তার মানে তার মগজ কাজ করছে না। সে এতটা নিশ্চিত যে সে খুব ধাধার মধ্যে আছে।

উপরে সাদা
নিচে সাদা
ডানে বামে সামনে পেছনে সবই সাদা
এ যেন এক সাদার দুনিয়ায় এসে পড়ল নিলয়। তার মাথা কাজ করছে না। এ কি করে সম্ভব? তার নিচে শুধু সাদা কি যেন দেখা যাচ্ছে। তা কি মাটি নাকি ফ্লোর বুঝতে পারলো না। উপরে কি আকাশ?? আকাশ কি কখনো দুধের মত সাদা হতে পারে??
১ ঘন্টা ২ ঘন্টা ৪ ঘন্টা করে পুরো একটা দিন কেটে গেল। আশ্চার্য হলেও সত্য ঘুম ছাড়া এতক্ষন সে দাড়িয়ে আছে অথচ তার কোন
ক্লান্তি নেই,
পা ব্যাথা নেই,
খাবারের ক্ষুদা নেই,
সে চিন্তা করতে পারছে না এটা কোন জায়গা,
তবে সে খেয়াল করছে তার মস্তিষ্কের নিউরন সেল কম্পিত হচ্ছে না। তার মানে তার মগজ কাজ করছে না। সে এতটা নিশ্চিত যে সে খুব ধাধার মধ্যে আছে।
আরো প্রায় ২ দিন পর আজ একজনকে দেখা যাচ্ছে। নীল জামার পেটের অংশের উপর লাল ফোটা ফোটা ব্লক করা, সাদা পায়জামায়ও লাল লাল রং দেখা যাচ্ছে। আর ওরনাটাতো পুরোই লাল রং হয়ে গেছে যেন। মনে হচ্ছে যেন কেউ গায়ে লাল রঙের পানি ঢেলে দিয়েছে। মানুষটির দিকে তাকিয়ে নিলয়ের মনে হচ্ছে যেন কতদিনকার পরিচিত, কত সময়ের আপন, তবে আর কিছুই সে আন্দাজ করতে পারলো না। শুধু আন্দাজ করতে পারল মানুষটি একটি মেয়ে।
–আপনার আমাকে দেখে অনেকদিন কার আপন মনে হল কেন? আপনি কি আমাকে চিনেন?
নিলয় মেয়েটির কথা শুনে একটু অবাক হল। সে মেয়েটিকে কিছু বলেনি। তারপরও মেয়েটি জানলো কিভাবে?
–আরে আপনি আমাকে কিছু বলেন নি মানে? এই তো আপনি বললেন কথাটা।
মেয়টির আবার কথা শুনে নিলয় কিছু আন্দাজ করল। জিনিষটা শিওর হওয়ার জন্য সে মুখে কিছু বলল না। শুধু মনে মনে চিন্তা করল
“জানি না তোমাকে কিভাবে চিনি। তুমিই বল তুমি কে?”
মেয়েটিও কিছু বলল না। নিলয় শুধু অনুভব করল মেয়েটি বলছে
–আমি কিভাবে জানবো?
–আমার মনে হয় আমরা কেউই কাউকে চিনিনা। আসুন পরিচিত হই। কি নাম তোমার?
— সর নাহ।
নিলয় একটু সরে গিয়ে বলল
–সরলাম। এবার বল তোমার নাম কি?
–আরে আমি তোমাকে সরতে বলিনিতো?? বলেছি আমার নাম স্বর্না।
–ওহ তাই বল।
–আশ্চার্য তো?
–জি?
–আমি আমার নাম বলেছি, এবার তো তোমার কি নাম তা বলবে।
— আমার নাম নিলয়।
মেয়েটি কিছু বলল না। আমি শুধু অনুভব করলাম আমার ভুল দেখে মেয়েটি হাসছে।
কি এক ধাধার জগৎ এ এলাম যেখানে মানুষের মনের কথা অন্য মানুষ বুঝতে পারে।
–আমিও তাই চিন্তা করছি। কিভাবে যেন আমরা আমাদের মনের কথা যেনে যাচ্ছি।
নিলয় অনুভব করছে স্বর্নার কথার মাঝে চাপা একটা ব্যাথা। তাই সে জিজ্ঞেস করল
–তোমার কি কষ্ট হচ্ছে??
–ঠিক বুঝতে পারছি না। পেটের একটা অংশে খুব ব্যাথা করছে।
–কেন? কি হইছে এখানে?
সেটা তো ঠিক……………
আআআআ
আহ
আহ
ডাক্তারদের মাঝ থেকে সরে গেল বিষন্নতার ছাপ। প্রধান ডাক্তার আমিনুল হক বললেন
–অপারেশন সাকসেস ফুল।
তিনি OT থেকে বেরিয়ে নিলয়ের বাবা মাকে বললেন
–অপারেশন সাকসেস ফুল। নিলয়কে হিট দেয়া হয়েছে। এবং তার হার্টবিট হচ্ছে। তবে সুস্থ হতে আরো ২ দিন লাগবে।
নিলয়ের বাবা মা যেন হারানো চাদ ফিরে পেল। সৃষ্টিকর্তার কাছে তাদের কৃতজ্ঞতার সীমা থাকলো না।
প্রায় ২ দিন পর,
নিলয়ের বন্ধু সাজিদ নিলয়কে দেখতে আসল
–নিলয় শরীরের এখন কি অবস্থা তোর?
–এইতো আছি ভালো এখন। পিঠে একটু বেশি ব্যাথা করছে আরকি।
প্রায় ঘন্টাখানেক কথা বলার পর নিলয় জিজ্ঞেস করল,
–সাজিদ, স্বর্না কই? ও কেমন আছে? ও কি জানে আমার এক্সিডেন্টের কথা?
সাজিদ চুপ। তার মুখ দেখে মনে হচ্ছে কয়েকটন পাথরের বোঝা তার উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।
–সাজিদ? চুপ করে আছিস কেন?
–তোকে একটা কথা বলতে চাচ্ছি না।
–কোন কথা?
–স্বর্নার কথা।
–কি হয়েছে ওর??
চুপকরে আছিস কেন?
–তোর রোড এক্সিডেন্টের পর যখন তুই বাচার জন্য লড়াই করছিস, তখন অনেকে বলাবলি করছিল তুই মরে গেছিস। আর সে কথাটা সহ্য করতে পারেনি। তাই হাতের কাছে আর কিছু না পেয়ে কেচি তার পেটে ঢুকিয়ে দেয়। প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ছটফট করতে করতে তার মৃত্যু হয়।
–তুই এ কি কথা শুনালি আমায়?? আমি আর বেচে থাকার মানে কি???
–সরি দোস্ত। আমি তোকে কথাটা এখন বলতে চাইনি।
নিলয়ের প্রশ্ন অসংখ্য অথচ উত্তর দেয়ার কেউ নেই। হয়ত কারো সেই উত্তর দেয়ার ক্ষমতা নেই।
বাচা মরার ক্ষুদ্রপথে নিলয় আর স্বর্নার শেষদেখাটা নিলয়ের মস্তিষ্কে এখন নেই। সৃষ্টিকর্তা এমনি, কখনো কখনো তিনি কাউকে কিছু না দিতে না দিতে দিয়ে দেন। আবার কখনো দিতে দিতেও দেন না!!!

৬ thoughts on “পরমানু গল্প ১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *