বাংলাদেশের রাজনীতি: বর্তমান ও তৃতীয় শক্তি ধারণা

জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। নিরক্ষরতা, যৌতুক প্রথা. কুসংস্কার, অপুষ্টি, দুর্নীতি, দারিদ্র্যতা, নারী নির্যাতন সহ নানাবিধ সমস্যাতো এদেশের জন্মের আগে থেকেই ছিলো। আর উত্তরাধীকার সুত্রে প্রাপ্ত এইসব সমস্যার পাশাপাশি এদেশ পেয়েছে নতুন কিছু সমস্যা। আর তা হলো রাজনৈতিক সমস্যা। আর এর থেকেই শুরু হাজারো নতুন নতুন সমস্যার্। জন্মের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ পেরিয়ে এসেছে অনেকটি পথ। স্বাধীনতা লাভের পর সদ্যজাত শিশু বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়েছে এমন অনেক ঘটনার যা কোন শিশুরই দেখা উচিত নয়। জন্মের পরপরই এদেশ হারিয়েছে জাতির পিতা সর্বকালের শ্রেষ্ট বাঙালি হিমালয়সম বঙ্গবন্ধুকে। রাতের অন্ধকারে জেলখানার ভেতরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এ জাতির



জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। নিরক্ষরতা, যৌতুক প্রথা. কুসংস্কার, অপুষ্টি, দুর্নীতি, দারিদ্র্যতা, নারী নির্যাতন সহ নানাবিধ সমস্যাতো এদেশের জন্মের আগে থেকেই ছিলো। আর উত্তরাধীকার সুত্রে প্রাপ্ত এইসব সমস্যার পাশাপাশি এদেশ পেয়েছে নতুন কিছু সমস্যা। আর তা হলো রাজনৈতিক সমস্যা। আর এর থেকেই শুরু হাজারো নতুন নতুন সমস্যার্। জন্মের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ পেরিয়ে এসেছে অনেকটি পথ। স্বাধীনতা লাভের পর সদ্যজাত শিশু বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়েছে এমন অনেক ঘটনার যা কোন শিশুরই দেখা উচিত নয়। জন্মের পরপরই এদেশ হারিয়েছে জাতির পিতা সর্বকালের শ্রেষ্ট বাঙালি হিমালয়সম বঙ্গবন্ধুকে। রাতের অন্ধকারে জেলখানার ভেতরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এ জাতির শ্রেষ্ট সন্তান জাতীয় চার নেতাদের, যাঁরা সদ্যজন্ম নেওয়া শিশু বাংলাদেশকে দিতে পারতো সঠিক পথের নির্দেশনা। সদ্য পিতার মত নেতাদের হারানো বাংলাদেশ এর পর প্রত্যক্ষ করেছে আরো অনেক দু:স্বপ্ন। এদেশের ক্ষমতা গিয়েছে স্বৈরাচারী শাসকের হাতে, এদেশে পুন:বাসিত হয়েছে ৭১ এর ঘাতক দালাল রাজাকারেরা। শুধু তাই না, দিনে দিনে বিস্তৃত হয়েছে তাদের কালো হাত। উত্থান হয়েছে উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর, বপন হয়েছে সাম্প্রদায়ীকতার বীজ। তারপর একসময় এদেশ যখন ধীরে ধীরে কৈশোরে পা দিয়েছে তখন এদেশের কিছু সুর্যসন্তানদের জীবনের বিনিময়ে দেশ মুক্ত হলো স্বৈরশাষকের কবল থেকে। এদেশে প্রতিষ্ঠিত হলো গণতন্ত্র। জাতি স্বপ্ন দেখতে লাগলো সুন্দর ভবিষ্যতের।
কিন্তু তারপর কি চলতে লাগলো?
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভের পরেও এদেশের মানুষের আশার প্রতিফলন তেমন একটা হয়নি বললেই চলে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে পারষ্পরিক অবিশ্বাস, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মাঝে বেশির ভাগেরই সীমাহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রবণতার কাছে বারবার হোঁচট খেয়েছে এদেশের স্বপ্ন যাত্রা। রাজনৈতিক দলগুলোর অতি ক্ষমতার লোভ ও পারষ্পরিক আস্থার অভাব থেকে জন্ম নিয়েছিলো তত্বাবধায়ক সরকার নামক ত্রুটিপুর্ণ এক নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা। যারা আবার জনগণের ভোটের দ্বারা নির্বাচিত নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর পছন্দের উপর নির্ভর করে তাদেরই দ্বারা সিলেক্ট করা। আর এই ত্রুটিপুর্ণ সরকার ব্যবস্থায় তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতির মাঝে ত্রুটিপুর্ণ ভাবে ক্ষমতার বন্টনের ফলে স্বৈরশাসকের হাত হতে মুক্তির অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই ১৯৯৬ সালে এদেশ প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছিলো আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানের। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস কর্তৃক সেসময়ের সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিমকে বিতর্কিত ভাবে অপসারণ ও ফলস্রুতিতে জেনারেল নাসিম কর্তৃক অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে এদেশ নি:সন্দেহে বেঁচে যায় আরেকটি সামরিক শাসনের দু:স্বপ্ন থেকে। সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও তা থেকে শিক্ষা না নিয়ে আবারো চলতে লাগলো ক্ষমতার সীমাহীন অপব্যবহার, লাগামহীন দুর্নীতি। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে শত প্রতিকূলতার মাঝেও এদেশ ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে, শিল্প-কারখানা স্থাপিত হয়েছে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধিত হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। তথ্য ও প্রযুক্তি খাতেও দেশ এগিয়েছে অনেক। অতি সম্প্রতি বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মিশন হিসেবে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পরছে গ্রামেগঞ্জে। স্বাক্ষরতার হার বেড়েছে, বাল্যবিবাহ ও শিশু মৃত্যুর হার কমেছে, যৌতুক প্রথা সহ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতাও বেড়েছে। যদিও নারী নির্যাতন পুরোপুরি রোধ ও অপুষ্টির হাত থেকে মুক্তির লক্ষ্য মাত্রা এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের হাত থেকেও মুক্তি লাভ এখনো সম্ভব হয়নি। আর ধীরে ধীরে এদেশ এগিয়ে গেলেও একথা মানতে হবে যে যতটুকু সম্ভাবনা রয়েছে তার সবটুকু কাজে লাগিয়ে উন্নতির কাঙ্খিত লক্ষ্যের দিকে এদেশ পুরোপুরি এগিয়ে যেতে পারছে না। এবং এর জন্য শুধুমাত্র দায়ী এদেশের ত্রুটিপুর্ণ অস্থির রাজনৈতিক অবস্থা।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভের পরেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তেমন একটা পরিবর্তন আসে নি। গণতন্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ভিন্ন মতের উপস্থিতি থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বারবারই মনে হয়েছে এদেশে রাজনৈতিক দল একটাই। আর তা হল সরকারী দল। আর এই ব্যপারটা বাংলাদেশের জন্য বিপদজনক বলেই আমি মনে করি। একটি দেশে অন্তত দুটো রাজনৈতিক দল থাকা উচিত। কিন্তু আফসোসের ব্যপার হচ্ছে এদেশে যখন যে দলই ক্ষমতায় থাকে তারাই দেশের উন্নয়নের চেষ্টার পাশপাশি তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। ক্ষেত্রবিশেষে এই চেষ্টাকেই সরকারের মূল লক্ষ্য বলেই মনে হয়। সম্ভবত তারা বিরোধীদলকে দমনের মাধ্যমেই নিজেদের ক্ষমতাকে সুসংহত রাখার উপায় খোঁজার চেষ্টা করে। প্রসঙ্গত বলতেই হয় বিগত জোট সরকারের আমলের কথা। যখন তৎকালীন বিরোধীদলের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়েছিলো। বোমা হামলায় নিহত হয়েছিলো আহসান উল্লাহ মাস্টার, শাহ এম এস কিবরিয়া, আইভি রহমানের মত সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। অবশ্য বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টার ইতিহাস এদেশে নতুন নয়। ৭৫’এর পর থেকেই আওয়ামী লীগ নানা বাধার সম্মুখিন হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ছড়ানো হয়েছে নানা অপপ্রচার্। সম্ভবত সুদীর্ঘ ও সম্মৃদ্ধ আন্দোলনের ইতিহাস এবং দীর্ঘ সময় প্রতিকূল পরিবেশের মাঝে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করতে করতে একটি দৃঢ় আদর্শ জনগণের সামনে উপস্থাপন করায় তারা সফলতার সাথে এখনো শত প্রতিকূলতাকে জয় করতে পেরেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে একটা সময় এদেশে মাথাচারা দিয়ে উঠেছিলো জেএমবি, হরকাতুল জিহাদের মত জঙ্গি সংগঠন। সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার মত ঘটনা ঘটেছিলো। (যদিও জোট সরকারের আমলের শেষের দিকে এই সকল জঙ্গি দমন করা হয় সফলতার সাথে।) আর রাজনৈতিক দলগুলোর অতি ক্ষমতার লোভ এবং বিরোধীদলকে নিপীরন চেষ্টার কারণে এদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মাঝে অবিশ্বাসের বিষবাষ্প ছড়িয়েছে আরো। এরই ফলে একপর্যায়ে ২০০৭ সালে এদেশে আবারো এসেছিলো সেনা সমর্থিত তত্বাবধায় সরকার। যারা প্রায় দুই বছর দেশ পরিচালনা করেছিলো। যদিও তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কাজ ছিলো তিন মাসের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন করে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। কিন্তু সেই সময় মাইনাস টু সহ বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির উদ্ভট ফর্মুলাও শুনেছিলো দেশবাসী। যাই হউক পরবর্তীতে এই সকল ফর্মুলার কোনটিই বাস্তবায়িত হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত একটি অবাধ,সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। যদিও তাদের ক্ষমতা গ্রহণের অল্প কিছুদিনের মাথায় বিডিয়ার বিদ্রোহের মত ঘটনা ঘটলেও তা দ্রুত সফলতার সাথে নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম হয় তারা। এবং তাদের শাসন আমলের প্রথম দিকে মোটামুটি সফলভাবে দেশ পরিচালনা করলেও মাঝামাঝি ও শেষ দিকে এসে শেয়ার বাজার কেলেংকারী, পদ্মা সেতু কেলেংকারী, রেলের কালোবিড়াল,হলমার্ক কেলেংকারী, সাগর-রুনী হত্যাকান্ড, বিশ্বজিত হত্যাকান্ড সহ নানা কারণে বিব্রতকর অবস্থায় পরে আওয়ামী লীগ। তবে তারা তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেওয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার (যার জন্য তারা তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে টানতে সক্ষম হয়েছিলো) দেশি-বিদেশি নানা বাঁধার পরেও সফলতার সাথে পরিচালনা করে।
একটা কথা বলতেই হয় যে, বিরোধীদল হিসেবে বিএনপি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের শেয়ার বাজার, পদ্মা সেতু কেলেংকারী সহ বিভিন্ন অদক্ষতা ও দুর্নীতিকে কাজে লাগিয়ে জনগণের কাছে যেতে পারেনি। উল্টো শেষ দিকে জামাত শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ করে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে সমর্থন না দিয়ে এবং লাগাতার হরতাল অবরোধ কর্মসূচী দিয়ে জনগণের ভোগান্তি বাড়ায় এবং ফলস্রুতিতে জনগণকে তাদের দিকে টানতে ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ প্রধান বিরোধীদল বিএনপিকে বাদ দিয়েই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করে নিজেদের ক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখে। এবং এই নির্বাচনকে প্রতিহত করার জন্য বিএনপি নেতৃবৃন্দ ব্যপক চেষ্টা করলেও বস্তুত জনগণকে কাছে টানতে না পারায় তাদের প্রচেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। এবং বর্তমান সময়ে তারা একটি সংকটময় পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। একটি দৃঢ় আদর্শ থাকায় ৭৫’ এর পরে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় না থেকেও হাজারো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে ছিলো আওয়ামী লীগ। এখন দেখার বিষয় বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বিএনপি কিভাবে উত্তোরণ করে। তবে তাদেরকে অবশ্যই জাতীয়তাবাদী আদর্শের মোড়কের আড়ালে কেবলমাত্র আওয়ামী বিরোধীতার নীতি থেকে সরে এসে তাদের নেতা-কর্মী ও জনগণের মাঝে প্রকৃত জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রচার করতে হবে।
এদিকে দিল্লীতে আমআদমী পার্টির মত নতুন এক শক্তির আবির্ভাব হওয়ায় এদেশে অনেকেই আবারো ফকরুদ্দীন -মঈন-উ আহমেদদের দেখানো তৃতীয় শক্তির আবির্ভাবের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। তবে একটা কথা বলতেই হয় যে, রাজনীতর মাঠে তৃতীয় শক্তি ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ, স্প্যানিস লীগ কিংবা বিপিএল, আইপিএলের কোন টীম নয় যে টাকা দিয়ে বা অন্যকোন ভাবে সেরা খেলোয়ারদের সংগ্রহ করে মাঠে নামিয়ে দিলাম এবং চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলাম। এর জন্য সময়ের প্রয়োজন। ধীরে ধীরে একটি সঠিক আদর্শ প্রচার করতে হবে এবং জনগণকে প্রস্তুত করতে হবে। এবং সময় নিয়েই প্রস্তুতি নিতে হবে। নাহলে দিল্লীর আমআদমী পার্টির মতই তা সম্ভাবনা জাগিয়ে হারিয়ে যাবে। সম্ভবত এই কারণেই ড.ইউনুসের নাগরিক শক্তি নামক নতুন এক রাজনৈতিক দল তথা তৃতীয় শক্তি গঠনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এবং একই কারণে জাতীয় পার্টি আজ কয়েকভাগে বিভক্ত। আচ্ছা ধরুন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির উদ্ভব হলো এবং তারা ক্ষমতা গ্রহণ করলো। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে আমরা তৃতীয় শক্তির কথা বলছি সেই উদ্দেশ্য সাধিত না হয়ে পূর্বের মত চলতে লাগলো ক্ষমতার অপব্যবহার, দূর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা। তখন কি হবে?
আমি মনে করি তৃতীয় শক্তি নয়, আমাদের প্রয়োজন তৃতীয় প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের। যারা হবে সৎ ও দেশপ্রেমিক। ন্যায়ের আদর্শে বলিয়ান হয়ে যারা কাজ করে যাবে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। আর এই নেতৃবৃন্দ আসতে পারে আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির মাঝে থেকেও অথবা নতুন কোন রাজনৈতিক শক্তি রুপে। প্রসঙ্গত বলতেই হয় বর্তমান কৃষিমন্ত্রি মতিয়া চৌধুরী, যোগাযোগ মন্ত্রি ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রি নুরুল ইসলাম নাহিদের কথা। যাঁদের বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং তাঁরা সফলতার সাথেই তাঁদের কাজ করে যাচ্ছেন।
পরিশেষে বলবো তৃতীয় শক্তি নয়, আমি তৃতীয় প্রজন্মের নেতৃবৃন্দের অপেক্ষায় আছি। যারা দক্ষতার সাথে সফলভাবে দেশ পরিচালনা করবে, দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করবে। এবং যারা দিন শেষে আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা অন্যকোন দলের নেতা হিসেবে নয় বরং জনগণের নেতা হিসেবেই মূল্যায়িত হবে।

৪ thoughts on “বাংলাদেশের রাজনীতি: বর্তমান ও তৃতীয় শক্তি ধারণা

Leave a Reply to ব্রহ্মপুত্র Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *