তারা— যারা দস্যু হয়েও দস্যু না! – ১ম অংশ

দস্যু আভিধানিক ডাকাত, লুটেরা।
দস্যু শব্দটি মনে পরতেই চোখের সামনে ভেসে উঠে রক্তবর্ণ চক্ষু, কাধ ছাড়িয়ে যাওয়া রুক্ষ চুল, শক্তপোক্ত তামাটে বর্ণের কঠিন নিষ্ঠুর খুনির চেহারাওয়ালা , হাতে ঢাউস এক বন্দুক, ঘোড়ায় চড়া এমন একজন মানুষের ছবি। যার কথা শুনতেই রক্ত হিম হয়ে যায় আতঙ্কে। জনমনে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ ত্রাসের।

দস্যু আভিধানিক ডাকাত, লুটেরা।
দস্যু শব্দটি মনে পরতেই চোখের সামনে ভেসে উঠে রক্তবর্ণ চক্ষু, কাধ ছাড়িয়ে যাওয়া রুক্ষ চুল, শক্তপোক্ত তামাটে বর্ণের কঠিন নিষ্ঠুর খুনির চেহারাওয়ালা , হাতে ঢাউস এক বন্দুক, ঘোড়ায় চড়া এমন একজন মানুষের ছবি। যার কথা শুনতেই রক্ত হিম হয়ে যায় আতঙ্কে। জনমনে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ ত্রাসের।
ডাকাত বা দস্যুর ভুমিকা এমনই। যাদের কাজ হচ্ছে লুট করা, খুন করা। সবার জন্য এর হল সমাজের অত্যন্ত ঘৃণিত মানুষ। মানুষরূপী পশু এরা। কিন্তু সব সাধারন চিন্তা-কল্পনা আর ছবির বাহিরে গিয়ে কিছু বেতিক্রম দস্যু রয়েছে। গল্পের সেই রবিনহুডের মত এরা সেই সব বিখ্যাত দস্যু যারা ইতিহাসের পাতায় ঠাই নিয়েছে অন্যরকমভাবে। আজকের এই গল্প ইতিহাসের সেইসব দস্যুদের নিয়ে যারা দস্যু হয়েও মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছে নায়ক হিসেবে।

ফুলন দেবী- দস্যুরানী The Bandit Queen

ফুলন দেবী ছিলেন তৎকালীন ভারতের আলোচিত এক ডাকাত। তার পরিচিতি দস্যুরানী হিসেবে। তবে অনেকে তাকে মায়ারানী বলেও ডাকতো। কেননা দরিদ্র আর শোষিত মানুষদের প্রতি ছিল তার অগাধ মায়া। প্রতিশোধের নেশায় একের পর এক মানুষ হত্যা দস্যুরানী ফুলন দেবীকে ইতিহাসের অন্যতম খুনি হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। তবুও একজন ফুলন দেবী “দেবীর” মর্যাদায়ই আসীন রবে সকল নির্যাতিতার বিদ্রোহের মূলে।

ফুলনদেবীর জন্ম ১৯৬৩ সালে ভারতের এক নিচু জাতের এক মাল্লার ঘরে। মাত্র ১১ বছর বয়সে নিজের চেয়ে তিনগুণ বয়সী ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়, যে ফুলন দেবীকে ছেড়ে যায়। ফুলনের গ্রাম এবং আশপাশের একাধিক গ্রামে ঠাকুর বংশের জমিদারী ছিল। আর জমিদারের লোকেরা প্রায়ই গ্রামের দরিদ্র গ্রামবাসীর কাছ থেকে ফসল নিয়ে নিত এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালাত। ফুলন এসবের প্রতিবাদ জানিয়ে দখলকারীদের নেতা মায়াদীনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। আদালতে ফুলনের রুদ্রমূর্তি আর স্বভাবগত ক্রোধন্মত্ত আচরণের কারণে কেস খারিজ হয়ে যায়। এ অপমানের প্রতিশোধ নিতে ঠাকুরেরা তাকে ধরে নিয়ে যায় বেমাই নামে প্রত্যন্ত এক গ্রামে। এরপর তার ওপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতে ঠাকুর ও তার লোকেরা ফুলনকে গণধর্ষণ করে। প্রতি রাতেই ফুলন জ্ঞান না হারানো পর্যন্ত চলত এ পাশবিকতা। ১৬ দিনের মাথায় এক রাতে নির্যাতন শেষে তারা ফুলনকে মৃত মনে করে ফেলে রাখে। আর প্রায় মৃত্যুপথযাত্রী ফুলন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তখন ফুলনের বয়স ছিল মাত্র ১৭।

পালিয়েও রক্ষা হয়নি। ফুলন ধরা পরে এক দস্যুদলের হাতে। দস্যুদের নেতা বাবুর নজর পড়ে ফুলনের ওপর। কিন্তু আরেক দস্যু বিক্রম এতে বাধা হয়ে দাঁড়াল। বাবুকে খুন করে ফুলনকে রক্ষা করে সে। এরপর ফুলনের সঙ্গে বিক্রমের বিয়ে হয় এবং শুরু হয় ফুলনের নতুন জীবন। রাইফেল চালানো শিখে পুরোদস্তুর দস্যু হয়ে ওঠে। ফুলন তার আলাদা বাহিনী নিয়ে প্রথম হামলা চালায় তার প্রাক্তন স্বামীর গ্রামে। নিজ হাতে ছুরিকাঘাতে তার স্বামীকে খুন করে সে রাস্তায় ফেলে রাখে এবং গ্রামবাসীকে বলে এরপর থেকে বাল্যবিবাহকারীদের অবস্থা এমনি হবে।
ফুলন তার সংগঠিত দস্যুদল নিয়ে ক্রমাগত ধনী গ্রাম এবং জমিদারবাড়িগুলোতে আক্রমণ চালাতে থাকে। মাঝে মাঝে তারা ধনী জমিদারদের মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করে নিয়ে আসতো। প্রতিটা ডাকাতির আগেই ফুলন দুর্গা দেবীর পুজো দিতো।

দু’বছর পরে একদিন ধনী ঠাকুর বংশের ছেলের বিয়েতে সদলবলে ডাকাতি করতে যায় ফুলন। সেখানে ফুলন খুঁজে পান এমন দুজন মানুষকে, যারা তাকে ধর্ষণ করেছিল। ক্রোধে উন্মত্ত ফুলনদেবী আদেশ করে বাকি ধর্ষণকারীদেরও ধরে আনার। কিন্তু বাকিদের পাওয়া না যাওয়ায় লাইন ধরে ঠাকুর বংশের ৩০ জনকে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ-ফায়ার করেন, যাদের মধ্যে ২২ জন নিহত হন। বেমাইয়ের এই গণহত্যা ভারতবর্ষে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সরকার ফুলনকে ধরার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু ততদিনে দস্যুরাণীর নাম দাবানলের মতো ছড়িয়েং পড়েছে ভারতবর্ষে। গণমানুষের এই নেত্রীর পক্ষেও আন্দোলন শুরু হয়। আর পুজোর সময় দূর্গার মূর্তির চেহারা তৈরী হতে থাকে ফুলনের মুখের আদলে।

প্রায় দু বছর চলে যায়, ফুলনের দস্যুদলের অনেকে ধরা পড়ে অনেকে মারা যায় পুলিশের এনকাউন্টারে। কিন্তু তার অসাধারণ কৌশল এবং লোকপ্রিয়তার কারণে পুলিশের কাছে ফুলনদেবী অদরাই রয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকার হার মেনে নিয়ে ফুলনের সাথে সন্ধিপ্রস্তাব করলে ফুলন অনেকগুলো শর্ত দেন। সরকার সেই শর্ত মেনে নিলে ১০,০০০ মানুষ আর ৩০০ পুলিশের সামনে ফুলনদেবী অস্ত্র জমা দেন গান্ধী আর দুর্গার ছবির সামনে। ১১ বছর কারাভোগের পর ফুলন সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দেন এবং ১৯৯৬ এবং ‘৯৯-তে পরপর দুইবার লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০১ সালের ২৫ জুলাই ঠাকুর বংশের তিন ছেলে- শের সিং রানা, ধীরাজ রানা এবং রাজবীর এর এলোপাতাড়ি গুলিতে ফুলন দেবী নিহত হন।

পাঞ্চো ভিলা- দস্যু থেকে গেরিলা যোদ্ধা

ফ্রান্সিস্কো ভিলা যে সবার কাছে অধিক পরিচিত পাঞ্চো ভিলা নামে। পুর নাম José Doroteo Arango Arámbula। তিনি তরবারির আঘাতে শিরচ্ছেদ করেছেন অনেকের, দস্যুতা দিয়ে দখল করেছিলেন অন্যের সম্পত্তি, তবুও পাঞ্চো ভিলা মেক্সিকোর একজন জাতীয় বীর। মৃত্যুর ২০ বছর পর তাকে মেক্সিকোর “the ‘panteón’ of national heroes” হিসেবে সম্মাননা দেয়া হয়।

একজন হত্যাকারী, ডাকাত হওয়া সত্ত্বেও বিপ্লবী নেতা হিসেবে ইতিহাসের পাতায় পাঞ্চো ভিলা একজন নায়ক হিসেবেই স্থান দখল করে আছেন। তিনি একজন মেক্সিকান বিপ্লবী নেতা যিনি দরিদ্র কৃষকের অধিকার ও কৃষি সংস্কার চেয়েছিলেন। মেক্সিকোর অনেক রাস্তায় এবং পার্শ্ববর্তী স্থান তাঁর সম্মানে নামকরণ করা হয়েছে। ১৯১৬ সালে তিনি নিউ মেক্সিকোর কলম্বাস আক্রমন করেন যা ছিল ১৮১২ সালের পর মার্কিন মাটিতে প্রথম আক্রমণ।

মেক্সিকোর সান জুয়ান ডেল রিও-র ডুরাঙ্গোতে জন্ম নেয়া বর্গাচাষির সন্তান পাঞ্চো জন্মের পর থেকে দেখেছিলেন কৃষকদের করুণ জীবন। তার বয়স যখন ১৫, তখন তার বাবা মারা যান, পরিবারকে সহায়তা জন্য তিনি কাজ শুরু করেন। কৈশোরে সে যে ক্ষেতে কাজ করত তার মালিকের হাতে নিজের ১২ বছরের বোনকে ধর্ষিত হতে দেখেন। এরপর মাত্র ১৬ বছর বয়সে সে বন্দুক হাতে তুলে নেয় এবং সেই মালিককে হত্যা করে পাহাড় থেকে ফেলে দেয়।
১৮৯৪ থেকে ১৯১০ সাল ভিলা আইনের হাত বাঁচার জন্য পাহাড়ে পাহাড়ে পালিয়ে বেড়ায়। এরপর প্রথমে সে নিজেকে বাচানর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে কিন্তু ১৮৯৬ সালে সে একটি ডাকাতদলে যোগ দেয় এবং তাদের সর্দার হয়ে উঠে। পাঞ্চো ও তার ডাকাত দল জমিদারদের ধন-দৌলত, গোয়ালের গরু, স্বর্ণালংকার চুরি করত কিন্তু তার অধিকাংশই বিলিয়ে দিত গরিবদের। আর এই কাজই তাকে এনে দেয় আধুনিক রবিনহুডের খ্যাতি।

এসকল কাজের জন্য পাঞ্চো এমন একজন ব্যাক্তির নজরে পরে যে কিনা তখন একটি বিপ্লবের পরিকল্পনা করছিল। তিনি পাঞ্চোর দক্ষতা দেখে তাকে বিপ্লবে যোগদানের অনুরধ করলে পাঞ্চো বিপ্লবী সেনাবাহিনী Madero’s cause যোগদান করে এবং সেই বাহিনির নেতা হতে রাজি হন। ১৯১০ এর অক্টোবর থেকে ১৯১১ এর মে মাস পর্যন্ত তিনি এ পদে ছিলেন। ১৯১২ সালের বসন্তে একটি নতুন বিদ্রোহের শুরু হলে তিনি জেনারেল Victoriano Huerta সঙ্গে কাজ করেন। কিন্তু ১৯১২ সালের জুন মাসে Huerta একটি ঘোড়া চুরির অভিযোগে ভিলাকে অভিযুক্ত করেন এবং মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। পাঞ্চো ভিলা ১৯১২এর জুন থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত কারাগারে থাকেন এরপর সেখান থেকে পালিয়ে যান। জেলে থাকা অবস্থায় Gildardo Magaña Cerda নামের একজন লোক তাকে পড়তে ও লিখতে শেখায় যা পরে তাকে চিহুয়াহুয়া রাজ্যের প্রভিশনাল গভর্নর হিসাবে কাজ করতে সাহায্য করে।

১৯১৩ সাল থেকে ভিলা অনেক যুদ্ধে অংশ নিয়ে জয়ী হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল ১৯১৬ সালের কলম্বাসের যুদ্ধ।

১৯২০ সালে ভিলা তার বিপ্লবী জীবন থেকে অবসর নেন এবং ১৯২৩ সালের ২০ জুলাই তার গাড়িতে গুলিবর্ষণে তিনি মারা যান।

ল্যাম্পিয়াও(Lampião)- শত্রুর চোখ তুলে নেয়া এক দস্যু

Lampião (পর্তুগিজ ভাষা যার অর্থ “তেলের কুপি”) ছিল ১৯২০-১৯৩০ সালে উত্তর ব্রাজিলের ত্রাস সৃষ্টি করা সবচেয়ে বিখ্যাত নেতার ডাক নাম। তার ভাল নাম ছিল Virgulino Ferreira da Silva। তিনি বিখ্যাত দস্যুদল ‘Cangaço’ এর নেতা ছিলেন। এই জন্য তাকে “Captain” Virgulino Ferreira da Silva-ও বলা হয়। কথিত আছে, ভিরগুলিনো ৯০ বছরের রোগশয্যাশায়ী এক মহিলার সর্বস্ব চুরি করে তার কর্মজীবনের শুরু করেছিল।

ব্রাজিলের Pernambuco রাষ্ট্রের উত্তর পূর্বে অবস্থিত সবচেয়ে অনুন্নত একটি এলাকায় ১৮৯৭ সালে ভিরগুলিনো জন্মগ্রহণ করে। ছোটবেলায় পুলিশ ভুল করে তাদের বাড়ি রেইড করে তার বাবাকে হত্যা করে। এর প্রতিশোধ নেয়ার জন্যই মাত্র ২৫ বছর বয়সে ভিরগুলিনো হয়ে ওঠে “ল্যাম্পিয়াও” পুলিশ এবং সৈন্যদের হত্যাকারী। এর পরবর্তী ১৫ বছর পর্যন্ত সে ছিল সকল ব্রাজিলিয় পত্রিকার শিরোনাম। ভিরগুলিনো ছিল একটি জটিল এবং নিষ্ঠুর মানুষ। তিনি ছিলেন কিছুটা সাইকো টাইপের, যেখানেই সম্ভব ছিল সেখানেই তিনি তার ছবি প্রকাশ করতেন এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সাক্ষাতকার দিতেন।

তার দলে মোট ৪০ জন দস্যু ছিল, এরমধ্যে মেয়ে সদস্যও ছিল। কিন্তু তিনি ২০০ জনের সেনাদল বা স্পেশাল ফোর্সের বিরুদ্ধে পর্যন্ত যুদ্ধ করতে ভয় পেতেন না। পুলিশের প্রতি তার ঘৃনা ছিল অসীম। একটা ঘটনা এমন ছিল যে সে ও তার দলের ২০ জন দস্য মিলে এক পুলিশের বৌ কে গ্যাং-রেপ করে এবং সেই পুলিশকে তা দেখতে বাধ্য করে। এছাড়া পুলিশের দালাল দের চোখ সে চাকু দিয়ে খুচিয়ে তুলে ফেলতো আর মেয়ে হলে জিভ কেটে ফেলতো।

১৯৩৮ সালে তার একজন স্থানীয় সমর্থক তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে পুলিশের কাছে তাদের অবস্থান বলে দিলে তারা ধরা পরে যায়। ৫০ জন সশস্ত্র সৈন্য মেশিনগান সঙ্গে তার ঢেরায় আতর্কিত আক্রমন করে। ভীরগুলিনো এবং তার সঙ্গিনী মারিয়া নিহত হয়। ভীরগুলিনো যে সত্যিই মারা গেছে এ খবর বিশ্বাস করানোর জন্য সৈন্যরা ভীরগুলিনো ও তার দলের লোকদের মাথা কেটে নিয়ে যায়, প্রায় ৩০ বছর সে মাথাগুলো প্রদর্শনের জন্য রাখাছিল।

৫ thoughts on “তারা— যারা দস্যু হয়েও দস্যু না! – ১ম অংশ

    1. ধন্যবাদ!
      সাধারন বিষয়গুলোর

      ধন্যবাদ!
      সাধারন বিষয়গুলোর বাহিরের কিছু নিয়ে লিখতে বরাবরই ভালো লাগে। এর প্রধান কারন এ বিষয়গুলো আমার নিজেরই জানা নয়। তাই লিখতে লিখতে নিজেরও অনেক কিছু জানা হয়ে যায়।

  1. বাহ, বেশ ব্যতিক্রমী বিষয় নিয়ে
    বাহ, বেশ ব্যতিক্রমী বিষয় নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। খুবই ভালো লাগলো। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *