অভিশপ্ত স্বপ্ন …… ((বর্ষপূর্তি গল্প প্রতিযোগিতা ))

সকালে নাস্তার টেবিলে বসে খবরের কাগজ পড়ার অভ্যাস রাজার অনেক দিনের পুরোনো ।। তারপর এক কাপ খালি কফি খেয়ে নিশির কপালে একটা চুমু দিয়ে বের হয়ে যায় অফিসের উদ্দেশ্য ।। নিশি রাজার স্ত্রী ৫ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে ওরা গত ১২-১২-১২ তারিখে ।। অনেকদিন থেকেই দুজনের মনের মাঝে সুপ্ত বাসনাকে রূপ দিয়েছে চিরস্মরণীয় একটি দিনে ।। প্রথমে দুই পরিবারের অমত থাকলেও পরবর্তীতে রাজা ও নিশির ভালোবাসার কাছে পরাজিত হয় দুই পরিবারের মতবিরোধ ।। সেই থেকে তাদের সুখের জীবন শুরু হয়েছে আর সেই থেকে প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার আগে রাজা নিশির কপালে ভালোবাসার চুম্বন একে যায় ।। আজ সকালে অফিসে যাওয়ার আগে নিশি রাজাকে তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের খবরটা শুনালো তাদের ঘর আলো করে আসছে এক ফুটফুটে রাজকন্যা ।। রাজা আনন্দে আত্নহারা হয়ে নিশিকে জড়িয়ে ধরল রাজার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে তারপর প্রতিদিনের মত নিশির কপালে ভালোবাসার ললাট চুম্বন একে অফিসের উদ্দেশ্য বের হয়ে গেলো ।।

রাতে বাসায় আসার সময় একটা একটা বেবি কার্ড নিয়ে আসল সেখানে খুব সুন্দর করে লিখা আছে “Many People Have Many Dreams But I Have Only One Dream I Want To See Your Smile Until My Death”.নিশি আর রাজার জীবনে সুখের হাওয়া এখন দ্বিগুণ রাজার বাবা রফিক সাহেব দান খয়রাত করছেন দু হাত মেলে প্রতিদিন কাঙাল ভোজের আয়োজন চলছে রাজার মা সারাদিন নিশির সেবা যত্ন নিয়ে ব্যস্ত এই বুড়ো বয়সে নাতনীর জন্য নিজেই গিয়ে কাপড় কিনে নিয়ে এসেছেন আর নিজের হাতে বুনে যাচ্ছেন উলের কাপড় যদিও এখন গরমকাল তারপরও মানুষ অত্যাধিক খুশিতে পাগলের মত আচরন করে নাজমা বেগমকে দেখলে বোঝা যায় ।। বাড়িতে একটা উৎসব উৎসব ভাব রাজা প্রতিদিন অফিস থেকে ফেরার সময় একটা কার্ড নিয়ে আসে আর তাতে লিখা থাকে একি কথা ।। নিশি খুব যত্ন করে কার্ডগুলো সাজিয়ে রাখে ।। রাজা এর ভেতর মেয়ের নাম ঠিক করে ফেলেছে রাজার মেয়ে হবে রাজকন্যা ।।

আজ ২০১৩ ফেব্রুয়ারী মাসের ১৩ তারিখ রাত ৯.৩০ মিনিট নিশি হাসপাতালে ভর্তি আছে ডাক্তার বলেছে যেকোন সময় বাচ্চার জন্ম হতে পারে ।। রাজা এবং নিশির পরিবারের সবাই হাসপাতালে শুধু রাজা বাসায় গিয়েছে তার রাজকন্যার জন্য কার্ডগুলো নিয়ে আসার জন্য আর রাজকন্যাকে একটা চিঠি লিখতে হবে ।। যে করেই হোক তার জীবনের সবচেয়ে সুখের সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখার ক্ষেত্রে কোনরূপ কার্পণ্য করা যাবেনা ।। রাজা চিঠি লিখতে বসে গেলো ……

প্রিয় রাজকন্যা,

তুমি জানোনা আমি তোনাকে কতটা ভালবাসি কিন্তু একদিন জানবে যেদিন তুমি বড় হবে হাটতে শিখবে কথা বলতে শিখবে আর আমাকে বাবা বলে আমার গলা জড়িয়ে ধরে বলবে বাবা আমাকে একটা চকলেট কিনে দাও বাবা আমাকে একটা পুতুল কিনে দাও কথা দিচ্ছি রাজকন্যা তোমার কোন আবদার কোনদিন অপূর্ণ রাখবোনা ।। কথা দিলাম পৃথিবীর কোন বাবা তার মেয়েকে এতটা ভালবাসতে পারবেনা যতটা আমি তোমাকে ভালবাসবো আমার জীবনের শ্রেষ্ট সম্পদ তুমি আর তোমাকে আমি কোনদিন আমার কাছ থেকে আলাদা হতে দেবোনা ।। তোমার আম্মু যদি কোনদিন তোমাকে বকে দেয় আমাকে বলবে তোমার আম্মুকে আমি ইচ্ছে মত বকে দেবো ।। আমার জীবনের প্রতিটা ক্ষন আমি তোমার জন্য উৎসর্গ করলাম তোমাকে অনেক অনেক বেশি ভালবাসবো আমার রাজকন্যা তোমাকে কথা দিলাম ।।

ইতি তোমার আব্বু

রাজা খুব তাড়াতাড়ি চিঠিটা লিখে বের হয়ে গেলো রাস্তায় প্রচুর জ্যাম এদিকে হাসপাতাল থেকে ফোন এসেছে নিশিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তার প্রচন্ড ব্যাথা উঠেছে ।। রাত ১১.৫০ সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে রাজকন্যাকে দেখার জন্য রাজা অপারেশন থিয়েটারের সামনে দাড়িয়ে আছে এক মুহূর্তের জন্য অপারেশন রুমের দরজার সামনে থেকে চোখ ফেরাচ্ছে না ।। অপারেশন থিয়েটারের লুকিং গ্লাসের ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে আছে তার রাজকন্যার মুখ দেখার জন্য সময় যেনো কাটছে না কিছুতেই ঠিক ১২.০১ মিনিটে ডাক্তার অপারেশন থিয়েটারের দরজা খুলে মাথা নিচু করে বাইরে রাজা ডাক্তারের দিকে উদ্ভ্রান্তের মত তাকিয়ে আছে রাজার মা ছুটে এসে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলেন ওরা কেমন আছেন ডাক্তার কিছুই বলতে পারলো না শুধু একটা শুব্দ “সরি” বলে দ্রুত পাশ কাটিয়ে চলে গেলো ।। অন্য একজন ডাক্তার এসে বলল অতিরিক্ত ব্লিডিং এর কারণে মা মেয়ে কাউকে বাঁচানো গেলনা ।। কিছুক্ষণের জন্য পুরো হাসপাতাল স্তব্ধ হয়ে গেলো ডাক্তার চোখে আঙ্গুল চেপে চলে গেলো সবাই ভেতরে গেলো কিন্তু রাজা স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে আছে অপারেশন থিয়েটারের সামনে তার ভেতরে যাওয়ার সাহস নেই সে রাজকন্যাকে কথা দিয়েছে তার জীবনের প্রতিটা ক্ষন সে রাজকন্যাকে উপহার দিবে কিন্তু রাজকন্যা এভাবে চলে যাবে সে রকম তো কথা ছিলনা ।।

রাজা সাহস করে ভেতরে গেল সবাই বের হয়ে আসল তার হাতে রাজকন্যার জন্যা কার্ড এবং শার্টের ডান পকেটে রাজকন্যাকে লেখা চিঠি ।। রাজা আস্তে আস্তে তার ঘুমন্ত রাজকন্যার কানে কানে বলল আমি আসবো মা তোমার কাছে খুব তাড়াতাড়ি তুমি ঘুমাও তোমার ঘুম আমি এসে ভাঙাবো এরপর নিশির কপালে সেই ভালোবাসার চুমু একে রাজা চিৎকার করে কাঁদতে থাকে হটাৎ রাজার ঘুম ভেঙে যায় সাথে স্বপ্নটাও ।। তাড়াতাড়ি উঠে বসে বুক পকেটে হাত দিয়ে চিঠিটা দেখে নেয় তার পর হাতের কাছে কার্ডগুলো দেখে নেয় তার পাশেই রাখা ইঞ্জিকশনের সিরিঞ্জ নিয়ে হাতে পুশ করে পাশেই রাখা হেরোইনের প্যাকেট খুলে আগুনে পুড়ে তার নেশায় দুঃখ ভোলার ব্যর্থ চেষ্টা করে আসছে আজ এক বছর ধরে ।। কাল ১৪ ফেব্রুয়ারী রাজার অনেক কাজ তার রাজকন্যার জন্য কার্ড কিনতে হবে তার রাজকন্যাকে চিঠি লিখতে হবে নিশির কপালে ভালোবাসার চুমু একে দিতে হবে ভালোবাসার দিন বলে কথা রাজাকে যে তার রাজকন্যার কাছে যেতে হবে সময় তো বেশি নেই……

১১ thoughts on “অভিশপ্ত স্বপ্ন …… ((বর্ষপূর্তি গল্প প্রতিযোগিতা ))

  1. ড়াতাড়ি উঠে বসে বুক পকেটে হাত
    ড়াতাড়ি উঠে বসে বুক পকেটে হাত দিয়ে চিঠিটা দেখে নেয় তার পর হাতের কাছে কার্ডগুলো দেখে নেয় তার পাশেই রাখা ইঞ্জিকশনের সিরিঞ্জ নিয়ে হাতে পুশ করে পাশেই রাখা হেরোইনের প্যাকেট খুলে আগুনে পুড়ে তার নেশায় দুঃখ ভোলার ব্যর্থ চেষ্টা করে আসছে আজ এক বছর ধরে ।। – এতো বড় লাইন করার কি দরকার ছিল! ভেঙে ভেঙে লিখতেন। তাড়াহুড়োয় দাড়ি কমা দিতে ভুলে গেলেন নাকি!

    1. আসলে আমি বুঝাতে চেয়েছি একটা
      আসলে আমি বুঝাতে চেয়েছি একটা মানুষ অধিক শোঁকে উদ্ভ্রান্তের মত আচরণ করে তখন তার হুস থাকেনা কি করবে না কি করবে রাজার অবস্থা ঠিক সেই রকম বলা যায় বদ্ধ উন্মাদ তাই তার আচরণ এই রকম ।। পাঠক যাতে এক নিঃশ্বাসে পড়ে বুঝতে পারে তাই বাক্যটা বড় করে লিখলাম ……

  2. যতি চিহ্নের ব্যবহার সম্পর্কে
    যতি চিহ্নের ব্যবহার সম্পর্কে একটু সতর্ক হতে হবে। উপরে অবাস্তব ভাই একটা লাইন কোট করে দেখিয়ে দিয়েছেন। আমি আরেকটা দিচ্ছি।

    নিশি আর রাজার জীবনে সুখের হাওয়া এখন দ্বিগুণ রাজার বাবা রফিক সাহেব দান খয়রাত করছেন দু হাত মেলে প্রতিদিন কাঙাল ভোজের আয়োজন চলছে রাজার মা সারাদিন নিশির সেবা যত্ন নিয়ে ব্যস্ত এই বুড়ো বয়সে নাতনীর জন্য নিজেই গিয়ে কাপড় কিনে নিয়ে এসেছেন আর নিজের হাতে বুনে যাচ্ছেন উলের কাপড় যদিও এখন গরমকাল তারপরও মানুষ অত্যাধিক খুশিতে পাগলের মত আচরন করে নাজমা বেগমকে দেখলে বোঝা যায় ।

    জটিল বা যৌগিক বাক্য লেখারও কিছু নিয়ম আছে। এমনভাবে লিখতে হবে যেন বাক্যের অর্থ বুঝতে পাঠক খেই না হারিয়ে ফেলে।
    অনেক জ্ঞ্যান দিলাম। স্যরি। :ভেংচি:

    1. আতিক ভাই সরির কিছু নাই ভুল
      আতিক ভাই সরির কিছু নাই ভুল হলে অবশ্যই বলবেন কিন্তু তার জন্য সরি বলে আমাকে লইজ্জা দিবেন না ।। সতি্য বলতে তাড়াহুড়োর মাঝে লিখলাম গল্পটি তাই হয়তো যেথেষ্ট পরিপক্কতার অভাব আছে ।। আশা করছি ভবিষ্যতে ভাল কিছু নিয়ে আসতে পারবো …… দোয়া রাইখেন

  3. আপাতাতো সবাইকে অনুরোধ করছি
    আপাতাতো সবাইকে অনুরোধ করছি গল্পটি পড়ে দেখার জন্ন সবার উত্তর এবং আমার ভুল ভ্রান্তি কাল কম্পিউটার থেকে ঠিক করে দেবো …….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *