তখন সংগ্রাম চলবে, তুমি শুধু তাকিয়ে থেক

‘থাবা বাবা’ নামটা শুনলেই একটা নাস্তিক মুরতাদের কথা মনে হয়, তাই না ? হঠাৎ করেই আপনার কর্ণকুহরে মনে হয় একটা অপবিত্র শব্দ ধাক্কা খেয়ে যায়। আর শোনা মাত্রই ওযু করে নিজেকে আরেকটি বারের জন্য পবিত্র করে ফেলতে ইচ্ছে করে। প্রচণ্ড ঘৃণায় মুখ দিয়ে থুতু বের হয়ে আসে, তাই তো? কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে- কথাটা শুনে কি খুব শান্তি লাগে? নাকি সেটাকে অযৌক্তিক বিচার বলে চালিয়ে দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?


‘থাবা বাবা’ নামটা শুনলেই একটা নাস্তিক মুরতাদের কথা মনে হয়, তাই না ? হঠাৎ করেই আপনার কর্ণকুহরে মনে হয় একটা অপবিত্র শব্দ ধাক্কা খেয়ে যায়। আর শোনা মাত্রই ওযু করে নিজেকে আরেকটি বারের জন্য পবিত্র করে ফেলতে ইচ্ছে করে। প্রচণ্ড ঘৃণায় মুখ দিয়ে থুতু বের হয়ে আসে, তাই তো? কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে- কথাটা শুনে কি খুব শান্তি লাগে? নাকি সেটাকে অযৌক্তিক বিচার বলে চালিয়ে দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

কথা দুইটি শুনে যদি আপনার কিরূপ ভাবান্তর ঘটে, তা বলা মুশকিল। আর যদি কোন ভাবান্তর নাও ঘটে, তাহলে কিছু বলার নেই আমার। বিপরীতে আপনি বলতেই পারেন, আমার নিজস্ব মতামতের এত দরকার কিসের? আমি সাধারণ মানুষ। পেট-নীতিতেই পড়ে থাকতে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। ওসব রাজনীতি আর ধর্মীয় বাগ-বিতণ্ডায় যাবার কোন ইচ্ছে আমার নেই।

আপনার উত্তরটা যদি ঠিক এরকমই হয়, তাহলে সত্যিই আপনাকে আমার বলার অনেক কিছু আছে।।

একটু আগে আপনিই তো বললেন, আপনি সাধারণ মানুষ। আপনি যদি সাধারণ মানুষই হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার একটা হাত কেটে দিই কি বলেন? অবাক হচ্ছেন? এটা আবার কোন ধরনের উগ্রপন্থী নিয়ম ! গণতান্ত্রিক দেশে সাধারণ মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে হলে কি হাত হারিয়ে বাঁচতে হবে নাকি? নাকি এটা স্বাধীনভাবে থাকবার আরেকটি শর্ত! আমি বলব, হ্যা তাই করতে হবে। আবারো অবাক হচ্ছেন? অবাক হবার কিছু তো নেই। একজন সাধারণ মানুষ হয়ে অবশ্যই আপনার অধিকার আছে স্বাধীনভাবে বাঁচার, সব কিছু জানবার, বোঝবার। এবং আর দশটি সাধারণ অধিকারের মতন আপনারও অধিকার আছে মুক্তমনে কথা বলার। কিন্তু আপনার এই স্বাধীনতায় কেউ যখন রক্তচক্ষুর ভয়ানক ছাপ ফেলে, তখন সেটা কি আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়? নাকি আর দশটা সাধারণ প্রতিবাদের মতন আপনি সেটারও প্রতিবাদ করতে মাঠে নামেন? সমস্যাটা যখন আপনার, তখন আপনি নিজেকেই প্রশ্ন করুন। বিবেকবোধ আর সেন্সিটিভিটি থাকলে আশা করি যুতসই একটা উত্তর পাবেন নিজের ভেতর থেকেই। তবে দুঃখের বিষয়, আপনার সাধারণ ভাবে বাঁচতে হলে কিনা হাতটা হারিয়েই বাঁচতে হবে ! অন্তত: এই দেশে। প্রমাণ চান? তাহলে আসুন-

২০১৩ সাল, ৫ ফেব্রুয়ারি। কসাই কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবীতে ঢাকার শাহবাগ চত্বরে এসে জড়ো হয় কয়েক তরুণ প্রাণ। দাবী তাদের একটাই- “রাজাকারের ফাঁসী চাই।” গুটি কয়েক প্রাণ থেকে লাখো প্রাণের মিলনমেলা এই শাহবাগ চত্বর, পরিণত হয় প্রজন্ম চত্বরে। সে কথা আপনাদের সকলেরই জানা, তাই ঘটা করে বলবার মতন তেমন কিছু নেই। কসাই কাদেরের বিরুদ্ধে প্রায় সবগুলো মামলাই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হবার পরও আদালত ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে, আর তখনই নেমে আসে বিপত্তি। বলাই বাহুল্য, কসাই কাদেরের বিরুদ্ধে মামলাগুলোর এক একটার শাস্তিস্বরূপ কমপক্ষে ১০ বার করে ফাঁসি দেয়া যেতে পারে। কিন্তু তা না করে যাবজ্জীবন নামক একটি স্বান্তনাবাণী হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় আমাদের। আর তখনই এদেশের গুটি কয়েক সচেতন প্রাণ-তরুণের মাঝে নেমে আসে অশান্তির দাবানল। আবারো জ্বলে উঠে ৭১ এর আগুন। সেই আগুনকে বুকে নিয়ে তারা রাজপথে নেমে আসে। কাঁপিয়ে দেয় বাংলার রাজপথ। অযৌক্তিক রায়কে মেনে না নিয়ে কণ্ঠে তোলে প্রতিবাদ। প্রতিবাদের অগ্নিকন্ঠ দেখেছিল সেদিন পুরো বিশ্ব। বিশ্বকে জানান দিয়েছিল- বাংলার মানুষ আজো সচেতন তাদের অধিকার আদায়ে। দেশের একজন সাধারণ মানুষ হয়ে দেশকে রাজাকার মুক্ত করাতো একটা সাধারণ নাগরিক অধিকার। তাই আপনি যদি একজন সাধারণ মানুষ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি বাদ যাবেন কেন আপনার এই অধিকার আদায় থেকে? বরঞ্চ এই অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করাটা একটু বেশিই স্বাভাবিক আপনার জন্য। দুঃখের বিষয়, সেটা করতে গেলেই আপনাকে হাত হারাতে হবে। এক একটা প্রতিবাদী কণ্ঠ হচ্ছে, এক একটা প্রতিবাদী হাত। এক একটা প্রতিবাদী কণ্ঠ, এক একটা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। আগুন কোন বাঁধা মানেনা। বাঁধাধরা গণ্ডিকে পুড়িয়ে বাধাহীন নতুন রাজত্বই তার ঠিকানা।

দেশের মাটিকে রাজাকার মুক্ত করতে যারা সেদিন রাজপথে নেমেছিল, তাদেরই একজন আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন ওরফে থাবা বাবা। পেশায় একজন স্থপতি। যার মেধার স্বাক্ষর হয়ে থাকবে ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধের নকশা’, যা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন ব্লগার এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট। শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম একজন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। দেশের মাটির প্রতি অনুভব করা ভালোবাসার টানে যিনি সেদিন ছুটে গিয়েছিলেন শাহবাগ চত্বরে। কণ্ঠে মেলেছিলেন অধিকার আদায়ের স্বাভাবিক প্রতিবাদ। সেটাই তার কাল হয়ে দাঁড়ায় শেষ পর্যন্ত। অচিরেই নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে যেতে হয় শত্রুর অতর্কিত হামলায়।
শত্রুর শক্ত জবানবন্দি- “ঈমানী দায়িত্ব পালনে তারা রাজীবকে হত্যা করে”

বিশ্লেষণ করলে এর পিছনে তাদের যুক্তি মূলত দুইটি।

১। রাজীব হায়দার ছিলেন একজন নাস্তিক। আল্লাহর প্রতি তার কোন বিশ্বাস নেই। তিনি বিশ্বাস করেন না আল্লাহ আর তার রাসুল বলতে কেউ আছে।
২। ব্লগে, ফেসবুকে তিনি ইসলাম বিদ্বেষী লেখা চালিয়ে যেতেন।

এবার আসুন কিছুটা আলোচনা করি কারণ দুইটির উপরে।

একজন মানুষের প্রধান পরিচয় তিনি মানুষ। একটি মানুষ দেখতে কালো না ফর্সা, বেটে না লম্বা তা মোটেই মাথা ঘামানোর বিষয় নয়। একটি লোক মাংস দিয়ে ভাত খাবে, নাকি আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খাবে, সেটা বোধ করি একান্তই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। ঠিক তেমনি একজন লোক স্রষ্টায় বিশ্বাস করবেন কি করবেন না, নবী-রাসুলে বিশ্বাস করবেন কি করবেন না, সেটাও তার একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। সে বিষয়ে স্রষ্টার মাথা ঘামানোটাও আমি অযৌক্তিক বলে মনে করি। এবং এটাও মনে করি যে, তার এই নাস্তিক্য বিশ্বাসের কারণে নিশ্চয়ই কারো পেটের ভাত হজমে অসুবিধা ঘটার কথা নয়। রাজীব হায়দার স্রষ্টায় বিশ্বাস করতেন না, সেটা সে স্পষ্টভাবেই বলেছে। তো তাতে কি হয়েছে? তিনি স্রষ্টায় বিশ্বাস করতেন না, ভালো কথা। তাই বলে আপনাদের স্রষ্টা কি পঁচে গেছে? নাকি গো ধরে বসে ছিল যে, ঐ ব্যাটাকে কুপিয়ে না হত্যা করলে তার অভিমান কিছুতেই ভাঙ্গবে না? ব্যাপারটা যদি ঠিক এরকমই কিছু একটা হয়, তাহলে চোখ বন্ধ করেই বলে দেওয়া যায়, আপনাদের স্রষ্টার অস্তিত্ব বড়ই অসুবিধাজনক। কাউকে কুপিয়ে হত্যা না করলে তার অভিমান ভাঙ্গে না !

তাহলে, সমস্যাটা কার? আপনাদের স্রষ্টার, নাকি আপনাদের? নাকি থাবা বাবার ?

মানুষ হিসেবে জন্ম নিলে মানুষ হিসেবে সাধারণ অধিকার তো থাকবেই। কারো অধিকার খর্ব করবার মতন কোন অধিকার কারোরই নেই, সে আমি –আপনি যে-ই হই না কেন। আগেই বলেছি, একজন সাধারণ মানুষ হয়ে অবশ্যই আপনার অধিকার আছে স্বাধীনভাবে বাঁচার, সব কিছু জানবার, বোঝবার। এবং আর দশটি সাধারণ অধিকারের মতন আপনারও অধিকার আছে মুক্তমনে কথা বলার। স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ আপনার জন্মগত অধিকার। একজন সচেতন নাগরিক হয়ে আপনি সেই সুযোগ অবশ্যই গ্রহণ করবেন। ফেসবুক, ব্লগ কিংবা অনলাইন পত্রিকা কিংবা সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন সাইটে আজ আমার-আপনার মতন সাধারণ মানুষই কথা বলে। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, যুক্তি আর মতামত তুলে ধরেন। এগুলোকে সবার মতের একটা মিলনমেলা বলা যায়। গণতান্ত্রিক দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা তো থাকবেই। তাই এসব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে আপনার মতামত তুলে ধরবার অধিকার আছে। দেশের যে কোন বড় পরিবর্তন আনতে হলে সবার আগে তার তরুণ সমাজকে পরিবর্তন করতে হয়। প্রযুক্তির এই যুগে ফেসবুক এবং ব্লগই হয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগের একটি বড় প্ল্যাটফরম। তাই দেশের যে কোন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আজকাল সবার আগে ফেসবুকই এবং ব্লগই বড় ধরনের অবদান রাখে। কাদের মোল্লার ফাঁসির পরিবর্তে যখন যাবজ্জীবনের আদেশ দেয় আদালত, তখন স্বভাবতই সবার আগে ঝড় শুরু হয়ে যায় ফেসবুক এবং ব্লগগুলিতে। আন্দোলনের ডাক ওঠে কিছু চিহ্নিত এবং ঘৃণিত যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবার জন্য। এবং এসব চিহ্নিত অপরাধীরা একটি রাজনৈতিক দলের গুরুস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। যারা ৭১ এর পর মুখোশ পালটে লেবাস ধারণ করেছিল ধর্মীয় নেতার। আর ঝামেলাটা ঘটে সেখানেই। একে তো তারা যুদ্ধাপরাধী, তার উপর আবার ধর্মীয় নেতার লেবাস পড়ে আছে। আর তাই ৭১ এর চেতনা ধারণ করা এদেশের যুবসমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়ে এই রায়ের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদী কণ্ঠে মাতিয়ে তোলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। দেশের সীমানা পার হয়ে আন্দোলনের ডাক চলে যায় পুরোবিশ্বে। আর তখনই সুযোগ সন্ধানী একটি মৌলবাদী গোষ্ঠী মাঠে নামে গা-ঢাকা দিয়ে। টার্গেট করে আন্দোলনের ডাক দেওয়া ব্লগারদের। আর এসব ব্লগারদের মধ্য থেকে বাছাই করে আহমেদ রাজীব হায়দার শোভনকে। কারণ রাজীব হায়দার অনলাইনে এসব চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই লিখে আসছিলেন।

এত মানুষ থাকতে শোভনকে কেন বাছাই করা হয়, প্রশ্ন উঠতেই পারে? সম্ভাব্য কারণ দুইটির এতক্ষণ ব্যাখ্যা করেছি। এখন শুধু যুক্তি দুইটির সঙ্গে সামঞ্জস্যতা দেখাবো বাস্তবতার । রাজীব হায়দারকে হত্যা করে এবং হত্যা পরবর্তী ‘সে যে একজন নাস্তিক ছিলেন’ -সেটা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারলেই সাধারণ মানুষের আর কিছু বলার থাকবেনা- ঠিক এমন ধারনা থেকেই রাজীবকে বাছাই করা হয় খুনের জন্য।
আর এই হত্যার জন্য বিভিন্ন পরোয়ানা কিংবা উস্কানিমূলক বক্তব্য হত্যার আগেই পাওয়া যায় ইন্টারনেটে । তার একটি প্রমাণ নিচে দেওয়া হল। আরো অনেক প্রমাণই ছিল। কিন্তু সেগুলো কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে মুছে দিয়েছেন।

এখানে দেখতেই পাচ্ছেন, কিভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে রাজীব হায়দারকে। এই ব্লগটিতে অনেকদিন ধরেই ঢুকতে চেয়েছি, কিন্তু পারিনি। কারন ব্লগারটি নাকি তার একাউন্ট নিজেই মুছে নিয়ে চলে গেছেন । তারিখটা ভালো করে খেয়াল করুন। ১১, ফেব্রুয়ারী, ২০১৩। অর্থাৎ, রাজীব খুনের মাত্র ৪ দিন আগে। ব্লগটির পরবর্তী অংশ দেখাতে পারলে ভালো হত। কিন্তু ব্লগটি মুছে দেবার কারনে আপাতত তা পারছি না। তবে, আরেকটি তথ্য দিচ্ছি। আশা করি, দুধের জল ঘোলে মেটাবেন।
জনকন্ঠের এই রিপোর্টটিতে পরিষ্কার ভাবেই এই ঘটনা সম্পর্কিত অনেক তথ্য এবং উপাত্ত দেওয়া হয়েছে। যা হয়ত আপনার অনেক প্রশ্নেরই উত্তর চোখের সামনে এনে দেবে।
শাহবাগ আন্দোলন একদিনের ফসল নয়। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চলতে থাকা ব্লগার এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই শাহবাগ আন্দোলন। তার প্রমান এখানেই পাবেন। বাংলাদেশের অন্যতম খ্যাতিমান ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনের দেওয়া সাক্ষাৎকার এটি। এখানে স্পষ্ট করেই বলা আছে, শাহবাগ আন্দোলনটা একদিনের ফসল নয়। সাক্ষাতকারের লিংকটি এখানে।

আজ রাজীব হত্যার এক বছর। আজ একবছর তোমাকে হারিয়েছি আমরা। কিন্তু, আজো তোমার খুনের বিচার করতে পারিনি। এ ব্যর্থতা আমাদের।
তোমাকে ছুঁয়ে যখন আজীবন সংগ্রামের শপথ নিয়েছিই, তখন সংগ্রাম চলবে। তুমি শুধু তাকিয়ে থেক।

একটি আন্দোলন গড়ে তোলা এত সহজ কাজ নয়। একটি মানুষকে জ্ঞানের আলো দেখানো, সত্যের পথে বজ্রকন্ঠ তুলতে শেখানো নেহায়তে স্বাভাবিক কাজ নয়। অনেকটা দুঃসাধ্য। আর এই দুঃসাধ্য কাজটিকেই সাধ্য করেছে দেশের কয়েক তরুণ প্রাণ। একটি দেশের স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা নিস্বার্থ কাজ করে যাচ্ছেন, আজ থেকে হাজার বছর পরেও ইতিহাসের বুকে জ্বলজ্বল করে এই প্রাণগুলো বেঁচে থাকবে। প্রতিবাদ করতে রাজপথে নামবে। অধিকার আদায়ের জন্য প্রয়োজনে মরতে প্রস্তুত থাকবে। একটি সোনার বাংলাদেশ উপহার দেবে- এটাই তো স্বার্থকতা।

১৪ thoughts on “তখন সংগ্রাম চলবে, তুমি শুধু তাকিয়ে থেক

  1. একটা তাজা প্রাণের এভাবে ঝরে
    একটা তাজা প্রাণের এভাবে ঝরে যাওয়া কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না।

    যারা এই ঘৃণ্য কাজ করেছে, তারা ইসলামের ধৈর্য, ত্যাগ আর দাওয়াতের মত কিছু মূলনীতি থেকে অনেক দুরের। তারা বুঝতে চায়না যে উগ্রতা আর হত্যা কোনকিছুর সমাধান নয়।

    তবে, তার মৃত্যুর পর গণজাগরন মঞ্চ তাকে যেভাবে শহীদ বানিয়ে দিয়েছে, সেটাও হাস্যকর একটা জিনিস হয়ে গেছে। চারুকলার সামনে কয়েকদিন আগে গনজাগরন মঞ্চের প্রদর্শনী দেখলাম। সেখানে তার ছবি দিয়ে উপরে লেখা হয়েছে ‘শহীদ রাজিব হায়দার শোভন’। রাজিব ভাই যদি এখন কথা বলতে পারতেন, তাহলে তিনি নিজেও মনে হয় বিষয়টা মেনে নিতে পারতেন না এবং সবকিছুকে এভাবে ধর্মীয় লেবাস দেয়ার বিপক্ষেই কথা বলতেন।

  2. শাহবাগ আন্দোলন একদিনের ফসল

    শাহবাগ আন্দোলন একদিনের ফসল নয়। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চলতে থাকা ব্লগার এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই শাহবাগ আন্দোলন।

    ভালো লিখেছেন … :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :তালিয়া: :তালিয়া:

  3. কাদের মোল্লার ফাসি ,
    কাদের মোল্লার ফাসি , স্বাধীনভাবে বাঁচবার অধিকার, মুক্তমনে কথা বলবার অধিকার নিয়ে আপনার সঙ্গে কোন দ্বিমত পোষন করবো না ।কিন্তু আপনি যে বিষয়টি ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গেছেন সেইটা হলো আমরা যেমন ধর্মীয় উগ্রতার বিপক্ষে তেমনি আমরা উগ্র নাস্তিক্যবাদের ও বিপক্ষে । আপনি মুক্তমনার নামে কারো বিশ্বাস বা চেতনাতে আঘাত করতে পারেন না । আর গনজাগরন কারো একার তৈরী ছিলো না ।দেশের বেশীরভাগ মানুষের জাগরনেই তৈরী হয়েছিলো গনজাগরন ।বরং কিছু অযোগ্য ও সুযোগসন্ধানী দলীয় নেতৃত্ব রাজীবের মত উগ্র ও অসুস্থ মনমানসিকতার একজনকে খুব বেশী টানাটানি করে শহীদ উপাধি দিয়ে সুকৌশলে ধর্মীয় বিশ্বাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুখোমুখি দাড় করিয়েছে ।যার পরিনতি অনেক ভয়ংকর হতে পারতো । আর ভবিষ্যতেও যে ভয়ংকর কিছু হবে না তাও এক্ষুনি বলা যায় না।তাই রাজীব যেমন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করতো বলে একজন গর্বিত বাঙালী আবার উগ্র নাস্তিক্যবাদ এবং সংখ্যাগুরু মানুষের বিশ্বাসে আঘাত হানার জন্য একজন অপরাধী ও বটে । বেঁচে থাকলে প্রচলিত আইনে তার শাস্তি হতো ।আমি অন্তত তার শাস্তির দাবিতে রাজপথে নামতাম।

    1. আপনার কথাই মেনে নিচ্ছি।
      আপনার কথাই মেনে নিচ্ছি। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। ধরে নিলাম রাজীব উগ্র নাস্তিক্যবাদ ধারনা পোষন করত। সে হয়ত ধর্মপ্রান মানুষের মনে আঘাত দিয়ে কথা বলেছে।
      কিন্তু দেশে তো আইন আছে। সেই আইনের তত্বাবধায়নে এনে কি রাজীবের বিচার করার কোন সুযোগ ছিল না? অবশ্যই ছিল। কিন্তু তা না করে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কি একটা প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই আসছে না, ইসলাম কি তাহলে নাস্তিকদের কুপিয়ে হত্যা করবার বিধান জারি করে দিয়েছে? যদিও বলা হয় – ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। তাহলে শান্তিপুর্ণ বিচারের পথে না গিয়ে কেন চাপাতি হাতে নেওয়া হল? নাকি, আমরা নিজেরাই ধর্মের বিধান ভুলে গিয়ে নিজেদের ইচ্ছে মতন স্বার্থসিদ্ধি করে চলেছি?

  4. আপনি আমার কথাগুলো মেনে
    আপনি আমার কথাগুলো মেনে নিচ্ছেন না বরং আমার মনে হয় কথাগুলো মানতে আপনি বাধ্য হচ্ছেন।আর আমি আপনাকে জোড় করে কিছু মানাতেও চাই না।আপনি দ্বিমত করতেই পারেন। সে অধিকার আপনার আছে।আমি কিন্তু বলিনি যে তাকে কুপিয়ে মেরে ফেলায় আমি খুশি হয়েছি।আমি অনেক বেশী খুশি হতাম তাকে বিচারকের কাঠগড়ায় দাড় করাতে পারলে । আর ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মুসলমানরা কাউকে দায়িত্ব দেয়নি যে কারো অসুস্থতা বা উগ্রতার দায় তারা মাথা পেতে নেবে । অন্যায়কারী বা সন্ত্রাসীদের কোন ধর্মীয় পরিচয় থাকেনা শুধু বাপের দেয়া নামটা ছাড়া ।

    1. আর ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করার

      আর ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মুসলমানরা কাউকে দায়িত্ব দেয়নি যে কারো অসুস্থতা বা উগ্রতার দায় তারা মাথা পেতে নেবে ।

      তার মানে আপনি বলতে চাইছেন, মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানলে নিয়মকে উপেক্ষা করে যে কেউ চাপাতির আঘাত করবার অধিকার রাখে?
      অথচ আপনিই বলেছেন,

      আমি অনেক বেশী খুশি হতাম তাকে বিচারকের কাঠগড়ায় দাড় করাতে পারলে

      তাহলে কেন হত্যার বিরুদ্ধে কথা বলছেন না? নাকি এতে আপনার ধর্মানুভুতি ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা আছে?

  5. আপনি আমার কথা বোঝেন নি । যারা
    আপনি আমার কথা বোঝেন নি । যারা খুন করেছে তারাও উগ্র এবং অসুস্থ ।তাই এর দায় কোনভাবেই ধর্মের ঘাড়ে চাপানো যাবে না । আশা করি এবার বুঝতে পেরেছেন।

    1. আপনার কথা মনে হয় আগেই
      আপনার কথা মনে হয় আগেই বুঝেছিলাম। যাই হোক, আর একটা কথা বলতে চাই দেখেই আবার লিখছি। বিরক্ত হবেন না।

      বেঁচে থাকলে প্রচলিত আইনে তার শাস্তি হতো ।আমি অন্তত তার শাস্তির দাবিতে রাজপথে নামতাম।

      কথাটার অন্যপিঠ নিয়েও তো ভাবতে হবে। যাদের উষ্কানীতে এই খুনটি করা হয়েছে, ঠিক তাদের বিরুদ্ধেও রাজপথে নামার কথা মাথায় রাখবেন আশা করি।

      ধন্যবাদ।

  6. রাজনীতি নিয়ে কিছু বলিনা আর
    রাজনীতি নিয়ে কিছু বলিনা আর তাই ভাল খারাপ কিচ্ছু বলবো না অনেক বলেছি আর না ।। অনেকেই আছেন এখানে উনারা হয়তো বলবেন কিছু …… লিখতে থাকুন ……

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *