সায়েন্সননফিকশন- ঘৃনা এবং ভালবাসা

ঘুম ভাঙল কমিউনিকেটরে ক্ষুদে বার্তা আসার শব্দে। সেন্ট্রাল তথ্যাগারের নতুন যোগ দেওয়া ছেলেটি জানাচ্ছে নায়ীরার জন্য একটা নতুন প্রাচীন বই সে পেয়েছে পুরান বই পত্রের আর্কাইভ থেকে। আগ্রহে চোখ চকচক করে ওঠে নায়ীরার। প্রাচীন মানব সভ্যতা নিয়ে এই গবেষণাটা সে দারুন উপভোগ করছে। দ্রুত বিছানা থেকে উঠে মুখ হাত ধুয়ে রেডি হয়ে নেয় সেন্ট্রাল তথ্যাগারে যাবার জন্য। সারাদিন ভালো পরিশ্রম যাবে ভেবে সে বেশ ভারী একটা ব্রেকফাস্ট খেয়ে নেয়।
তথ্যাগারে পৌছুতেই নতুন ছেলেটি হাসিমুখে এগিয়ে আসে তার দিকে।
-প্রায় ৪৫ হাজার বছরের পুরনো একটা বই পেয়েছি তোমার জন্য। ভাবলাম তোমার কাজে লাগবে।
বিস্ময়ে শিশ দিয়ে ওঠে নায়িরা।

ঘুম ভাঙল কমিউনিকেটরে ক্ষুদে বার্তা আসার শব্দে। সেন্ট্রাল তথ্যাগারের নতুন যোগ দেওয়া ছেলেটি জানাচ্ছে নায়ীরার জন্য একটা নতুন প্রাচীন বই সে পেয়েছে পুরান বই পত্রের আর্কাইভ থেকে। আগ্রহে চোখ চকচক করে ওঠে নায়ীরার। প্রাচীন মানব সভ্যতা নিয়ে এই গবেষণাটা সে দারুন উপভোগ করছে। দ্রুত বিছানা থেকে উঠে মুখ হাত ধুয়ে রেডি হয়ে নেয় সেন্ট্রাল তথ্যাগারে যাবার জন্য। সারাদিন ভালো পরিশ্রম যাবে ভেবে সে বেশ ভারী একটা ব্রেকফাস্ট খেয়ে নেয়।
তথ্যাগারে পৌছুতেই নতুন ছেলেটি হাসিমুখে এগিয়ে আসে তার দিকে।
-প্রায় ৪৫ হাজার বছরের পুরনো একটা বই পেয়েছি তোমার জন্য। ভাবলাম তোমার কাজে লাগবে।
বিস্ময়ে শিশ দিয়ে ওঠে নায়িরা।
-৪৫ হাজার বছর? কি বলে যে ধন্যবাদ দেব তোমাকে। ইয়ে মানে…
আশ্চর্য প্রায় মাসখানেক হল ছেলেটা তাকে দারুন সাহায্য করছে প্রাচীন বই-পত্র খুঁজে দিয়ে, অথচ তার নামটাই জানা হয়নি।
-আমি ক্রাফকা।
নায়িরার চোখের ভাষা বুঝতে পেরে নিজের নাম বলে মুখে হাসি ফুটিয়ে এগিয়ে যায় ক্রাফকা।
-এই যে, এইটা।
বইটা হাতে নিয়ে নায়ীরা একটু হতাশই হয়। এতো ছোট্ট? যাক তারপরও ৪৫ হাজার বছরের পুরানো ভাবতেই গা শিরিশির করে ওঠে নায়িরার। বইটা নিয়ে দ্রুত সে তার টেবিলে গিয়ে বসে। কিন্তু বইটা খুলতেই কেমন একটা অজানা অস্বস্তি হয়। কারণটা প্রথমে সে ঠিক বুঝতে পারেনা। কিছুক্ষন বইটা নিয়ে নাড়াচাড়া করতেই হুট করে সে কারণটা ধরতে পারে। কেমন একটা বিশ্রি দম বন্ধ করা গন্ধ আসছে বইটা থেকে। এমনিতে পুরনো বইয়ের গন্ধ নায়ীরার দারুন লাগে। কিন্তু আজকে ঠিক কি হচ্ছে সে বুঝতে পারছে না। পাতা উল্টাতেই বইয়ের ভেতর থেকে কি যেন একটা নিচে পড়ে গেল। ঝুকে সাবধানে জিনিসটা উঠিয়ে নেড়েচেড়ে দেখে। দেখতে একটা গাছের পাতার মত মনে হচ্ছে, আধখাওয়া। শুকিয়ে প্রায় ভঙ্গুর হয়ে এসেছে। প্রাচীন বই পত্র নিয়ে নাড়াচাড়ার অভিজ্ঞতা থেকে সে জানে, প্রাচীনকালে মানুষ বই পড়তে পড়তে ইন্ডিকেটর বা চিহ্ন দিয়ে রাখার জন্য এরকম অনেক কিছু ব্যবহার করত।
দ্রুত স্ক্যান করে বইটা ট্রান্সলেটরে অনুবাদ করতে দেয়। বইটা প্রাচীন একটা ভাষা বাংলায় লেখা। অনুবাদ শেষ হতেই এক নিশ্বাসে পড়া শুরু করে বইটা এবং কিছুটা হতাশ হয়। কোন একটা সংগঠনের প্রয়াচারপত্র এটা। ইনিয়ে বিনিয়ে নিজেদের সংগঠনে তরুণ সম্প্রদায়কে যোগদানের আহবান জানানো হয়েছে। সংগঠনটি সম্পর্কে জানার জন্য তথ্যাগারের সুপার কম্পিউটারে সার্চ দিয়ে সে বইয়ের বিশ্রি বোটকা গন্ধ এবং আধখাওয়া পাতাটার দিকে মনোযোগ দেয়। ডি এন এ এনালাইজারে পাতাটার নমুনা দিয়ে সে বইটা স্মেল এনালাইজারে ঢুকিয়ে দেয়। কিছুক্ষনের মধ্যেই বিশ্লেষণের ফল বের হয়ে আসে। ফল দেখে সে কিছুটা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যায়। ডি এন এ এনালাইজার বলছে পাতাটা একটা প্রাচীন বিলুপ্ত প্রজাতির ফলের গাছের। নাম জ্যাকফ্রুট বা কাঁঠাল। পাতার আধখাওয়া প্রান্তে মানুষ এবং ছাগলের ডি এন এর সংমিশ্রনে তৈরি এক অদ্ভুত প্রজাতির ডি এন এর নমুনা পাওয়া গেছে। স্মেল এনালাইজার বলছে, গন্ধটা বিলুপ্ত একটা প্রাণী ছাগলের গায়ের গন্ধ, যার প্রধান এবং প্রিয় খাদ্য কাঁঠাল পাতা। সে ঠিক বুঝতে পারছে না এরকম অদ্ভুত মিথস্ক্রিয়ার কারন কি হতে পারে?
এবার সুপার কম্পিউটারে প্রাপ্ত তথ্যের দিকে মনোযোগ দেয় সে। সংগঠনটির পুরো ইতিহাস পড়ে সে কিছুক্ষন হতভম্ভ হয়ে বসে থাকে। প্রায় ৪৫ হাজার বছর আগের বাংলাদেশ নামক ছোট্ট একটা দেশে এই সংগঠন এবং তাদের ইন্ধনদাতা মাদার সংগঠনের কার্যকলাপ জেনে তার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় সে নিজেই একজন মানুষ! কম্পিউটারে প্রাপ্ত তথ্যে সে একটা লিংক ধরে বিভিন্ন লেখা পড়তে শুরু করে সে। কিছুটা পড়েই সগঠনটির হিংস্রতা দেখে তার পেটের নাড়িভুঁড়ি উল্টে প্রচণ্ড বমি আসে। ছিটকে সে ওয়াশ রুমের দিকে দৌড় দেয়। বেসিনে সকালের ব্রেকফাস্টের সবটুকু উগড়ে দিয়েও শান্তি হয়না তার। গা ঘিনঘিন করতে থাকে। প্রচণ্ড ঘৃনা নিয়ে সে তার হাতের দিকে তাকিয়ে থাকে। এন্টিসেপটিক হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে বারবার হাত ধুয়েও স্বস্তি পায়না।
তার মুখের দিকে তাকিয়ে ক্রাফকা জিজ্ঞেসে করে- ” কোন সমস্যা? তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে? ডাক্তার ডাকব?”
-না কিছুনা। আমি ঠিক আছি।
১৯৭১ সালে ৭ কোটি মানুষের উপর ঘটে যাওয়া অবিশ্বাস্য ঘটনা এবং তাদের স্বজাতির তাদেরই প্রতি হিংস্রতার পরিমান তার মনে মানব জাতির উপরেই অসম্ভব ঘৃনার জন্ম দেয়। আবার সেই একই সময়ে একটা নিরস্ত্র জাতির আত্মত্যাগ আর সাহসিকতা তাকে মানুষ হিসেবে বাঁচতে নতুনভাবে অনুপ্রেরনা যোগায়। অদ্ভুত মিশ্র একটা অনুভুতি নিয়ে পেছনে হতভম্ভ ক্রাফকাকে রেখে সে বের হয়ে আসে তথ্যাগার থেকে খোলা আকাশের নিচে।

(পূর্বে অন্যত্র প্রকাশিত)

৩৭ thoughts on “সায়েন্সননফিকশন- ঘৃনা এবং ভালবাসা

  1. অস্থির ! আতিক ভাই , আমি আগেও
    অস্থির ! আতিক ভাই , আমি আগেও আপনাকে বলছি – গল্প লিখে যান নিয়মিত । আপনি তো আমার কথার পাত্তায় দিলেন না !

    ছোট্ট গল্পে অসাধারণ ভাবে মুল্ভাব ফুটিয়ে তোলা চাট্টিখানি কথা না । এই জন্যই আমি ছোট গল্প পছন্দ করি । একটা চ্যালেঞ্জ থাকে । আপনি বেশ ভালমতো তা অতিক্রম করেছেন । :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

  2. সত্যি বলতেকি আতিক ভাই আপনি
    সত্যি বলতেকি আতিক ভাই আপনি বিশ্বাস করতে বাধ্য করিয়েছেন এটা কোনো গল্প নয়। এটাই বাস্তবতা। বহু বছর পর এরকমটাই ঘটবে।চমৎকার একটি ভবিষ্যৎ বার্তা। :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

  3. চমৎকার… অসাধারন…
    চমৎকার… অসাধারন… :salute: :salute: :salute: :salute: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

  4. আপনারে মিয়া জেলে ঢুকামু!! এত
    আপনারে মিয়া জেলে ঢুকামু!! এত সুন্দর লেখা থেকে আমাদের বঞ্চিত রাখেন!!
    পড়া আমাদের অধিকার, আরও বেশি বেশি গল্প চাই মাস্টার মশাই……

      1. আরে বাংলা ১ম পরিক্ষায় শঙ্খনীল
        আরে বাংলা ১ম পরিক্ষায় শঙ্খনীল ভাই এর মাইকেল মধুসুদন এর পোস্ট হেল্প করছে ওখান থেকে লিখেছি, ২য় পত্রে তালি ভাই এর এক পোস্টে বাংলাদেশের সমস্যা নিয়ে যে পোস্ট ওটার পয়েন্ট লিখেছি।

        ব্লগ ইজ গ্রেট

  5. ইহা কি প্রসব করিলেন বাহে???
    ইহা কি প্রসব করিলেন বাহে??? আপনে ডাক্তারি ফাক্তারি এইসব বাদ দেন ভাই। ওই লাইন আপনার সমস্ত রস কষ যদু মধু শুষিয়া লইবে। আপনের কাজ হবে খালি লিখে যাওয়া, ননস্টপ। খাওয়া-ঘুম-লেখা-খাওয়া-ঘুম-লেখা…চলতেই থাকবে।
    সামনের বইমেলায় আপনার লেখা বই চাই। কাগজের বই। সিরিয়াসলি বলছি কিন্তু।

      1. পাম না আতিক ভাই!!! সত্যিকার
        পাম না আতিক ভাই!!! সত্যিকার অর্থেই আপনার লেখালেখি টা একটু সিরিয়াস ভাবে নেওয়া উচিত।সবার প্রতিভা থাকে না, কিন্তু আপনার প্রতিভা আছে।সেটাকে হেলায় নষ্ট করা উচিত হবে না আতিক ভাই।

        আশা করি কোন একদিন আপনার লেখা বই আমার আলমারি-তে জায়গা করে নেবে।অনেক শুভকামনা আতিক ভাই।ভাল থাকবেন।

        1. অনেক ধন্যবাদ ভাই। আপনারা
          অনেক ধন্যবাদ ভাই। আপনারা উৎসাহ দেন বলেই কিছুমিছু লিখে ফেলার সাহস করি। কিন্তু এইভাবে বললে তো ডর লাগে। জীবনে অনেক কিছুই করতে ইচ্ছা হইছে। চিত্রকর, গায়ক, আবৃত্তিকার ইত্যাদি… কিন্তু কখনও লেখক হবো সেটা দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি। :চিন্তায়আছি:

  6. সাঁই-ফাই, থ্রিল, মুক্তিযুদ্ধ,
    সাঁই-ফাই, থ্রিল, মুক্তিযুদ্ধ, ভালবাসা কি নাই এতে?
    চমৎকার আতিক ভাই!! দারুণ লিখেছেন :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *