দৃষ্টি‬ [part 2]

এই শহরে আবার ফিরে এলাম। সেদিনের ঘটনায় হাটুতে এখনও ব্যাথা করছে। ভেবেছিলাম এই শহরে আর পা রাখবোনা। কিন্তু মানুষ যা চায় না তাই হয়। ক্লোজ ফ্রেন্ডের বোনের বিয়ে। তাই যেতেই হল। এক প্রকার আমাকে জোর করেই নিয়ে যাওয়া হল। কমিউনিটি সেন্টারের ভীতর গাড়ি থেকে নামলাম। একটা জিনিষ খুব খেয়াল করি, অধিকাংশ কমিউনিটি সেন্টারই সাদা রং করা হয়। সাদা শান্তির প্রতিক হতে পারে। কিন্তু সাদা সৌন্দর্যের প্রতিক হতে পারে না। সৌন্দর্যের প্রতিক হইয়া উচিত নীল। সাগরের পানি নীল, আকাশের রং নীল। প্রকৃতি যেখানে নিজ থেকে নীলকে স্বীকৃতি দিচ্ছে সেখানে আমাদের নাক না গলানোই উচিত।

এই শহরে আবার ফিরে এলাম। সেদিনের ঘটনায় হাটুতে এখনও ব্যাথা করছে। ভেবেছিলাম এই শহরে আর পা রাখবোনা। কিন্তু মানুষ যা চায় না তাই হয়। ক্লোজ ফ্রেন্ডের বোনের বিয়ে। তাই যেতেই হল। এক প্রকার আমাকে জোর করেই নিয়ে যাওয়া হল। কমিউনিটি সেন্টারের ভীতর গাড়ি থেকে নামলাম। একটা জিনিষ খুব খেয়াল করি, অধিকাংশ কমিউনিটি সেন্টারই সাদা রং করা হয়। সাদা শান্তির প্রতিক হতে পারে। কিন্তু সাদা সৌন্দর্যের প্রতিক হতে পারে না। সৌন্দর্যের প্রতিক হইয়া উচিত নীল। সাগরের পানি নীল, আকাশের রং নীল। প্রকৃতি যেখানে নিজ থেকে নীলকে স্বীকৃতি দিচ্ছে সেখানে আমাদের নাক না গলানোই উচিত।
খাওয়া শেষ করে আমি আর নিয়েল গেলাম দোকানে। সিগারেটের জন্য। নিয়েল বলে খাওয়ার পর নাকি সিগারেট না ধরালে, তার খাওয়া হজম হয় না। ২ বন্ধু একসাথে দোকানে বসে মজা কর সিগারেট খাচ্ছিলাম হঠাৎ নিয়েল বলল
–দেখ রুবি একটা মেয়ে সিগারেট খাওয়া শিখছে।
–তাই নাকি? তো কার কাছ থেকে শিখছে?
–আরে আমাদের কাছ থেকে?
–মানে?
–দেখ মেয়েটা কিভাবে তাকিয়ে আছে।
মেয়েটার দিকে তাকাতেই শক খেলাম। নিপা। নিপা তাকিয়ে আছে। নিপা কোথা থেকে এবং কেন আসছে বুঝলাম না। হয়ত কারো দাওয়াত খেতেই এসেছে। আমাদের দিকে তকেন তাকিয়ে আছে তা আচ করতে পারছি। সেদিন আমাকে মার খেতে দেখেছে, আজ আমি কি সেই তাই মিলাতে চাচ্ছে। আজ তাকে সেদিন থেকেও খুব সুন্দর লাগছে। কমলা রংয়ের একটি শাড়ি, ফ্ল্যাট জুতা, মাথার চুল খোপা করা। মনে হচ্ছে যেন প্রকৃতির সাথে একাকার। হঠাৎ একটা নতুন জিনিস খেয়াল করলাম, কারও সৌন্দর্যের সাথে কেন জানি আমি প্রকৃতিকে খুব মিলাই। প্রকৃতির সাথে মিল খোজার কারন আছে, কারন প্রকৃতি সুন্দর, প্রকৃতির মাঝে বেড়ে ওঠা জিনিস গুলো সুন্দর।
বারবার আশপাশে তাকাচ্ছি। নিপার ভাইকে দেখা যাচ্ছে না। যত্তসব সমস্যা তাকে নিয়ে। পরে না আবার কি না কি বলে আমাকে মারা শুরু করে। এমনিতেও হাটুর ব্যাথাটা এখনো ভালো হয়নি। তবে সেদিনের সাথে আজকের কিছুটা তফাত আছে। সেদিন ছিলাম আমি একা, আর আজ আমার সাথে আমার বন্ধুরাও আছে। তারা কেউ কেউ ভার্সিটি শর্টগান নিয়ে চলে আর কেউ শর্টগানের ব্যাবস্যা করে।
–কিরে রুবি। বিড়িতো শেষ।
–সমস্যা না। তুই কি এখন ভীতরে যাবি?
–হু। কেন?
–আচ্ছা যা। আমি আছি কিছুক্ষন।
–কেন? কি করবি?
–না একটা কাজ আছে। তুই যা।
অনেকটা জোর পূর্বক নিয়েলকে ভীতরে পাঠালাম। আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি নিপার সাথে কথা বলার। নিয়েলকে সাথে নেয়া যেত, তবে কিছু সমস্যা বাড়া ছাড়া আর কিছুই হত না। যেমন
এক. একবার আমাকে মেয়েটার সাথে কথা বলতে শুনলে পুরো ভার্সিটিতে কথাটা বলে বেড়াবে।
দুই. মেয়ে দেখলে তার কথার বোম ফুটে। পরে দেখা যাবে, আমিই আসল কথা বলতে পারবো না।
বুকে সাহস নিয়ে নিপার সামনে গেলাম।
–হ্যায়
নিপা আমার দিকে মুখ করে দাড়াল। আমার গায়ের সবগুলো লোম যেন দাড়িয়ে গেল। হঠাৎ খেয়াল করলাম আমার মনের মধ্যে কেউ যেন ১০০ টন ওজনের ভয় ঢুকিয়ে দিল। অনুভব করলাম আমি নিপার সাথে কথা বলতে পারছি না।
–কে?? কে আপনি?
কোমল গলায় বলে উঠলো নিপা। কেন জানি মনে হচ্ছে অনেক আগে শুনেছি এমন শব্দ। একটু খস খসে গলা বাট সমস্যা না।
–আমাকে চিন্তে পারছেন না?? সেদিন আপনার বাসার সামনেই তো মার খেলাম।
–আপনি মার খেয়েছিলেন? হা হা। শুনেছিলাম।
–হাসছেন কেন?? আর শুনেছিলেন ও বা কেমনে?
–আমাদের কাজের মেয়েটা বলেছিল!
–মানে? আপনি কি অন্ধ নাকি? আপনি বারান্ধায় দাড়িয়ে ছিলেন! আর আমি রাস্তায় মার খাচ্ছিলাম।
বলেই বুজেছি “অন্ধ” কথাটা বলা উচিত হয়নি। সেদিন হুমায়ুন আহমেদের বহুব্রীহিতে পড়েছি কথা এমন একটি জিনিস যা বলার পর ফিরিয়ে নেয়া যায় না। মূহুর্তের মধ্যে নিপার মধ্যে ফুটে ওঠা আনন্দ কেমন জানি বদলে গেল। আর তার বদলে যাওয়া রুপ দেখে আমি সত্যি আমার হতভম্ভ হয়ে গেছি।
–শুনুন। আপনি মনে হয় আমাকে চিনেন না। আমি নিপা। থাকি শাশনগাছা। পড়ালেখা ইন্টারপরীক্ষা পর্যন্ত। তারপর আমাকে আর পড়তে হয়নি। এক প্রকার পড়তে দেয়া হয়নি।
–কেন?? কে দেয় নি?
–নিয়তি। একটা এক্সিডেন্টে আমি আমার চোখ নষ্ট করতে বাধ্য হই।
–আপনি চোখে দেখেন না??
–না। আমি ব্লাইন্ড।
–আপনি আপনার চোখ নষ্ট করেন কেন?
–সে অনেক কথা। আপনাকে বলে লাভ নেই। পারলে আমাকে একটু ভিতরে দিয়ে আসবেন প্লিজ। আমি কাউকে পাচ্ছিলাম না এতক্ষন।
নিপাকে ভেতরে তার বান্ধবীদের কাছে দিয়ে আসলাম। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। এত সুন্দর একটা মেয়ে ব্লাইন্ড তা যেন বিশ্বাস করতে পারছি না। অবশ্য বলে লাভ নেই। সবই বিধাতার লীলাখেলা। বিধাতা সবাইকে সবকিছু দেন, কিন্তু কিছুই দেন না। ছোটবেলা থেকে আমাদের বাড়ি গাড়ি টাকাপয়সার অভাব ছিল না। এখনো নেই। কিন্তু যার সবচেয়ে বেশি অভাব ছিল তা হল সুখ মায়া মমতা। বাবা শিল্পপতি আর মা ডাক্তার। তাই তাদের কর্ম ব্যাস্ততার জন্য আমি আর আমার বোন কখনোই বাবা মায়ের আদর পাই নাই। তাইতো আজও কোন মাকে তার সন্তানকে খাওয়াতে দেখলে চোখে পানি এসে যায়।
ক্যান্টমেন্টের প্রশস্থ রাস্তার সবটুকু জুড়ে আছে নিয়নের হলুদ আলো। সেই নিয়নের আলোতে মাখামাখি হচ্ছে আমার শরীর। আমার চিন্তার সবটুকুই শুধু নিপা। কেন জানি তার প্রতি একটি অতিরিক্ত আকর্ষন বোধ করছি। একে ভালোবাসা বলে কিনা জানা নেই।
আমার সাথে কি আর কখনো তার দেখা হবে?? সবই নিয়তির উপর ছেড়ে দিলাম। তবে যদি কখনো তার সাথে দেখা হয় তাহলে তাকে প্রস্তাব করব মায়ের সাথে দেখা করার। পরামর্শ দেব আমার মায়ের হসপিটালে ভর্তী হতে। আর সর্বশেষ আমার হয়ে থাকতে।

১ thought on “দৃষ্টি‬ [part 2]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *