সেদিন ছিল পয়লা ফাগুন। আমরা কি ভুলে যাব সেই রক্তাক্ত দিন?

সেদিন ছিল ১ ফাল্গুন। ১৯৮৩ সালের চৌদ্দ ফেব্রুয়ারী। রাষ্ট্র ক্ষমতায় সামরিক স্বৈরাচার হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এক রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি সাত্তারের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারকে উৎখাত করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে তৎকালিন সেনা প্রধান এরশাদ।

সেদিন ছিল ১ ফাল্গুন। ১৯৮৩ সালের চৌদ্দ ফেব্রুয়ারী। রাষ্ট্র ক্ষমতায় সামরিক স্বৈরাচার হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এক রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি সাত্তারের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারকে উৎখাত করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে তৎকালিন সেনা প্রধান এরশাদ।
ক্ষমতা দখল করে এরশাদ ঘোষণা করে বাঙালীর শৌর্য্য, বীর্য্য, অহংকারের প্রতীক শহীদ মিনারে ২১শে ফেব্রম্নয়ারী আলপনা আঁকা যাবেনা, যাবেনা পুষ্প স্তবক অর্পন করা। শুধু তাই নয় অত্যন্ত দক্ষিণপন্থি, পশ্চাদপদ একটি শিক্ষানীতি ঘোষণা করল (যা মজিদ খান শিক্ষানীতি নামে চিহ্নিত). দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার ছাত্র সমাজ প্রতিবাদে ফুঁসে উঠল। তারা সামরিক স্বৈরাচারের অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদের প্রস্ত্ততি গ্রহণ করল। ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে পোস্টার সাঁটাতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতা শিবলী কাইয়ুম, আবদুল আলী, আবদুল আহাদ গ্রেফতার হন। মাত্র ৭ মিনিটের সামরিক ট্রাইব্যুনালে এই তিন ছাত্রনেতাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়।

দেশের সংগ্রামী ছাত্র সমাজ সামরিক আদালতে দন্ডিত তিন ছাত্র নেতার মুক্তিসহ একটি গণমুখি বৈজ্ঞানিক শিক্ষা নীতির দাবীতে ঘোষণা করল দশ দফা কর্মসূচী। সিদ্ধান্ত হলো ১১ জানুয়ারী ১৯৮৩ সালে দাবী নামা শিক্ষা মন্ত্রীর নিকট পেশ করা হবে। ছাত্র নেতৃত্বের সুবিধাবাদিতার কারনে ১১ জানুয়ারী গৃহিত কর্মসূচী পালিত হয়নি। সিদ্ধান্ত হয় ১৪ ফেব্রম্নয়ারী শিক্ষামন্ত্রী সমীপে পেশ করা হবে স্মারকলিপি।

চৌদ্দ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সমাজ সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করতেই হায়েনার মত ঝাপিয়ে পড়ে সামরিক স্বৈরাচার এরশাদরে লেলিয়ে দেয়া খুনী বাহিনী। এরশাদের খুনী বাহিনীর ১৪ ফেব্রুয়ারির বর্বর অত্যাচার, হত্যাকান্ড ভিয়েতনামের মাইলাই, ১৯৭৪ সালের তানোর, ১৯৭১ সালের পাক বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানায়। যাদের মরদেহ পাওয়া যায় তাদের মধ্যে ছিল জয়নাল, জাফর, মোজাম্মেল, কাঞ্চন ও দিপালী সাহার লাশ। অসংখ্য লাশ সামরিক স্বৈরাচারে পেটুয়া বাহিনী পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে ফেলে।

সামরিক জান্তার বর্বরতা ও ছাত্রসমাজের রক্ত ও বীরত্ব গাঁথার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে ১৫ দল, ৭ দল ও ৫ দলীয় জোট। প্রণীত হয় তিন জোটের রূপ রেখা। রূপরেখায় ঘোষণা করা হয় স্বৈরাচার মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে যে জোট ক্ষমতাসীন হবে তারা ছাত্র সমাজের দশ দফা ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ৫ দফা দাবীর বাস্তবায়ন করবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। দেশের আপামর জনতার আন্দোলনে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদ শাসনের অবসান ঘটে। অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় নির্বাচন। ক্ষমতাসীন হয় বিএনপি। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি বাতিল করে প্রবর্তিত হয় সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা। কিন্তু বিএনপি ছাত্রসমাজের দশ দফার প্রতি করল চরম বিশ্বাসঘাতকতা। উপরন্তু সাম্রাজ্যবাদের বিশ্বস্থ দালাল তথাকথিত বুদ্ধিজীবী শফিক রেহমান কে দিয়ে আমদানী করল মৃত প্রায় ভেলেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবস। ১৪ ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত স্মৃতিকে চাঁপা দিতে ওদের এই আয়োজন। শাসক শ্রেণীর সব অংশই চায় বা চাচ্ছে মধ্য ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত স্মৃতিকে চাপা দিতে। কারণ ওরা বুঝে নূতন প্রজন্মের কাছে মধ্য ফেব্রুয়ারি পৌঁছালে শাসক শ্রেণীর অগণতান্ত্রিক শাসন শোষন নিপীড়ন রক্তে কেনা বাংলাদেশে চলবেনা। শেষ হয়ে যাবে গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে স্বৈরাচারী শাসন। প্রতিষ্ঠিত হবে জনগনের গণতান্ত্রিক শাসন। জনতা অধিষ্ঠিত হবে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আর বাংলাদেশ হবে একটি সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ, সামন্তবাদ, আমলা মুৎসুদ্দী পুজির শোষন মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।

আজ দেশের প্রতিটি দেশ প্রেমিক নাগরিক তথা যুব ছাত্রদের দায়িত্ব হলো সাম্রাজ্যবাদের দালাল ভাড়াটে তথা কথিত বুদ্ধিজীবী শফিক রেহমানের আমদানীকৃত ও দেশীয় শাসক শ্রেণীর লালিত ভালবাসা দিবসকে প্রত্যাখ্যান করে রক্তাক্ত চৌদ্দ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস পালন করা ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে এগিয়ে নেয়া। জয় বাংলা।

৪ thoughts on “সেদিন ছিল পয়লা ফাগুন। আমরা কি ভুলে যাব সেই রক্তাক্ত দিন?

    1. আপনার ধন্যবাদ সাদরে গ্রহণ
      আপনার ধন্যবাদ সাদরে গ্রহণ করলাম।

      —————————————————
      বন্ধু শক্ত হাতে ধর হাল,
      পাড়ি দিতে হবে অনন্ত পথ দূর পারাবার।…….
      http://www.facebook.com/sbuchchhwas

  1. ঘটনাটা ঐতিহাসিক বিধায় সেটাই
    ঘটনাটা ঐতিহাসিক বিধায় সেটাই স্বাভাবিক। ধন্যবাদ।

    —————————————————
    বন্ধু শক্ত হাতে ধর হাল,
    পাড়ি দিতে হবে অনন্ত পথ দূর পারাবার।…….
    http://www.facebook.com/sbuchchhwas

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *