দৃষ্টি‬ [part 1]

–এই নাও ভাড়া। ৫ টাকা ফেরত দাও।
–স্যার ভাড়া ১০ টাকা।
–কি? তুমি আমারে ভাড়া শিখাও? শহর থেকে ক্যান্টমেন্টে ভাড়া ৫ টাকা দিয়া সবসময় আসা যাওয়া করি।
–ভাই সব সময়ের সাথে এখন মিলাইয়া লাভ আছে?
–কেন? এখন আবার কি?
–ভাই এখন ভালোবাসার সময় না। ভালোবাসা দিবসে তো গালফ্রেন্ড নিয়া কত কিছু খাইবেন। খাওয়াইবেন! আমাগোওতো ভালোবাসার মানুষ আছে। তাগোর লগে সময় কাটামু নাহ।
–এই টাকা দিয়া প্রেম করবা না গান্জা খাইবা তা তুমিই জানো।
–না না ভাই বিশ্বাস করেন আমি একদম………………
–আচ্ছা যাও।

–এই নাও ভাড়া। ৫ টাকা ফেরত দাও।
–স্যার ভাড়া ১০ টাকা।
–কি? তুমি আমারে ভাড়া শিখাও? শহর থেকে ক্যান্টমেন্টে ভাড়া ৫ টাকা দিয়া সবসময় আসা যাওয়া করি।
–ভাই সব সময়ের সাথে এখন মিলাইয়া লাভ আছে?
–কেন? এখন আবার কি?
–ভাই এখন ভালোবাসার সময় না। ভালোবাসা দিবসে তো গালফ্রেন্ড নিয়া কত কিছু খাইবেন। খাওয়াইবেন! আমাগোওতো ভালোবাসার মানুষ আছে। তাগোর লগে সময় কাটামু নাহ।
–এই টাকা দিয়া প্রেম করবা না গান্জা খাইবা তা তুমিই জানো।
–না না ভাই বিশ্বাস করেন আমি একদম………………
–আচ্ছা যাও।
আর কথা বলার সুযোগ দিলাম না। এদের কথা বলতে দিলে শুধু কথা বড়বেই। এত কথা শুনতে মন চাইছে না। কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনছি, শিরোনামহীনের খাচার ভীতর অচিন পাখি। কি বুঝে গানটা লিখেছিল জানি না।
গান শুনছি আর জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছি। কর্পোরেট বিল্ডিং এ ডেকে গেছে জায়গাটা। রাস্তাটা বড় করার কাজ চলছে। বাট বড় করার জায়গা পাচ্ছে না। কারন রাস্তার পাশেই তৈরি হয়ে গেছে বিশাল বিশাল বিল্ডিং।
কুমিল্লা শহরে এসে পৌছালাম মাত্র। শাশনগাছায় নেমেই আবিষ্কার করলাম নতুন চিন্তা। শহরে কেন এলাম? কি কারনে এলাম? শুধু এতটুকুই মনে আছে, বাসে উঠেছিলাম শহরে আসার উদ্দ্যেশ্যেই। রাস্তা দিয়ে হাটা ছাড়া আপাতত কাজ নেই। তাই হাটা শুরু করলাম।
রাস্তা
বিল্ডিং
দোকান
স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রী
কর্ম ব্যস্ত ময় মানুষ
কিছু কালো কাক
রিক্সা বাস সি এন জি
এগুলো না হলে যেন জায়গাটিকে শহর বলা যায় না। শহরের অলিতে গলিতে ঘুরার এই একটাই সমস্যা। এই জিনিষগুলো ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। এখানে দেখা যায় না পাখিদের দলবেধে উড়ে যেতে, শোনা যায় না বাতাসের শব্দ। শহরের মানুষদের এই সব জিনিষের জন্য অক্ষেপও থাকে না। শহরের মানুষগুলো দিনে চিন্তা করে রাতের কথা, আর রাতে চিন্তা করে দিনের কথা।
একটা বড় গলির সামনে এসে দাড়ালাম। কেন জানি গলিটা আমাকে খুব ডাকছে। যতটুকু জানি, এটা শুধুই আমার কল্পনা। গলিটার ভিতরে ঢুকলাম। গলিটা বেশি বড় নয়। একটু সামনে যেতেই থেমে গেলাম। একটা রংহীন দোতালা বাড়ি। মাঝে মাঝে মানুষদের অদ্ভুদ লাগে। কত নিখুত কত দক্ষতা কত কষ্ট কত অর্থ ব্যায়ে মানুষ বাসা বাড়ি বানায়। অথচ সর্বশেষ বাড়ির সোন্দর্যের কথাই চিন্তা করে না। যাই হোক রং হীন বাড়িটা হয়ত দেখতে ভালো লাগছে না। কিন্তু রং হীন বাড়িটা আলো করে দাড়িয়ে আছে একটি মেয়ে। দোতালার এক বারিন্দায় দাড়িয়ে আছে। নীল শাড়ি পরে আছে। মাত্র গোসল করে আসছে তা দেখতেই বুঝা যায়। খোলাচুলে গামছা দিয়ে পানি মুচছে। সৃষ্টিকর্তা এই মেয়েদের তৈরি করার সময় একটি অতিরিক্ত জিনিষ দিয়ে তৈরি করেছেন। তা হচ্ছে মায়া। একটি মেয়ে যতই কালো হোক আর সুন্দর হোক, বোকা হোক আর চালাক হোক, তাদের মধ্যে মায়া জিনিষটা থাকবেই। এটা না থাকলে যেন কোন মেয়েই হয় না। মেয়েটার বয়স অনুমান করার চেষ্টা করলাম। তার বয়স ১৮ থেকে ২০। এর বেশি কম হওয়ার কথা নয়। তার সৌন্দর্য যেন প্রকৃতির সৌন্দর্যকে হার মানায়। যদিও সব সব মেয়েদেরই এমন মনে হয়।
একটি দোকানের সামনে দাড়িয়েই এতক্ষন রংহীন বাড়ির মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ দোকান থেকে কয়েকজন বেরিয়ে বলল
–ভাই আপনি কে?? আগে তো কখনো এই এলাকায় দেখি নাই।
–আমি এমনি হাটছিলাম। হাটতে হাটতেই এখানে এসে পড়লাম।
–তো ভাই নিপার দিকে তাকিয়ে আছেন কেন?
ভাগ্য কিভাবে সহায় হয় তা কেউ বলতে পারে না। মেয়েটার নাম জানা হয়ে গেল। নিপা। অধিকাংশ সুন্দরী মেয়েদের নামই কেন দুই ওয়ার্ডে হয় জানি না।
–কি ভাই নিপার দিকে তাকিয়ে আছেন কেন?
–না ভাই। আপনারা অন্য জিনিষ চিন্তা করছেন। আমি আসলে তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েই তাকিয়ে ছিলাম। অন্য কোন উদ্দ্যেশ্য ছিল না।
–ফাজলামি করস? মেয়ের সৌন্দর্য দেখস? জানস সে কে? আমার বোন। তুই আমার বোনের দিকে তাকাইছোস? মার কুত্তার বাচ্ছারে।
কিছু বলিনি। শুধু শেষ সময়ও মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। মেয়েটাও তাকিয়ে ছিল। ৪ পাচ জন ছেলে একটি ছেলেকে মারবে আর কোন মেয়ে এই ঘটনা উপভোগ করবে না সেটা হয় না। সিনেমায় মারামারি দেখতে দেখনে মানুষ বিরক্ত। যার জন্য এরুপ টিকেট ছাড়া সো দেখা কেউ মিস করে না।
চারপাশে ভীড় বাড়ছে। একটি বয়স্ক লোক এসে ছেলেগুলোর কাছ থেকে আমাকে উদ্ধার করল। তিনি আমাকে নিয়ে ছোট্ট একটা ঔষুধের দোকানে গেলেন। চোখের কিনারাটা কেটে রক্ত বেরুচ্ছে। পা দিয়ে তারা অতিরিক্ত লাথি মারছিল আমার মুখে। শরীরের এত অংশ থাকতে এই ছেলেদের মুখ মাথাটাই কেন এত প্রিয় জানি না।
–আংকেল সব ঠিকাছে। ব্যান্ডেজ কইরা দিছে। ডাক্তারকে ২০০ টাকা দিয়া দাও।
–আংকেল আমার কাছে তো টাকা নাই।
–আচ্ছা আমি টাকা দিয়ে দিচ্ছি। তুমি আহত। সাবধানে বাড়ি যেও।
–আচ্ছা আংকেল।
রিক্সায় উঠার টাকা নাই। তাই হেটে হেটেই শাশনগাছা পর্যন্ত আসছি। এখান থেকেই ক্যান্টমেন্টের বাসে উঠবো। হাটুতে খুব ব্যাথা লাগছে। তারপরও হাটতে হবে। হাটতে হবে গন্তব্যের পথে।

১ thought on “দৃষ্টি‬ [part 1]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *