এক আজন্ম দুর্ভাগ্যের অযথা কিছু কথা…


বাসা থেকে চারটার আগে বেরবার পরেও জ্যামের কারনে আনন্দ ভাইয়ের বাসায় ঢুকতে ঢুকতে পাঁচ ওভার শেষ। তার চেয়েও ভয়ংকর কথা হইল কুশাল পেরেরা নামের পোলাটা তখনও কুপায়া যাইতেছে। মাত্র সাড়ে পাঁচ ওভারে রান পঞ্চাশ ছাড়ায়া গেছে। ঘরে ঢুকার সাথে সাথে শুনি আমার চরম অপছন্দের প্লেয়ার দীনেশ চাডডিমাল আউট হয়ে গেছে সাকিবের প্রথম ওভারেই। আর বলতে না বলতেই কিছুক্ষনের মধ্যে সাঙ্গা হঠাৎ ওর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় সাকিবের বলটা গ্যাপে জাস্ট তুলে দিল। হয়তোবা ওর কল্পনায়ও ছিল না যে, টাইগার নাসির এভাবে দশ -পনের পা দৌড়ে গিয়ে বাঘের গর্জনে ঝাপিয়ে পড়ে বলটা লুফে নেবে… অবাক হয়ে শুধু আমি দেখছিলাম একটা প্লেয়ার দেশের প্রতি ঠিক কতটুকু ডেডিকেট হলে ইভেন নিজের ট্রাউজারের পরোয়া না করে(ওর ট্রাউজার হাঁটুর উপরে উঠে চলে এসেছিল) এভাবে ঝাঁপ দিতে পারে… ব্রাভো ম্যান… ব্রাভো টাইগার… তার ঠিক কিছুক্ষন পরেই কুশাল পেরেরা যেভাবে হাঁকিয়েছিল তাতে হয়তো সবাই ধরে নিয়েছিল ওটার ভাগ্যে ছয় ছাড়া আর কিছুই লেখা নেই। শুধু একজন ছাড়া। মাথার কয়েকফুট উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া বলটা ধরতে আনামুল যে লাফটা দিল, একটা ঈগলকেও এই লাফ দিতে হলে তপস্যা করতে হবে… এখানেই শেষ না। সেই বলটা এক হাতে ধরে দড়ির এক ইঞ্চি ভেতরে জাস্ট একটা পায়ে ব্যাল্যান্সটা ধরে রেখে আনানুল শুধু সবাইকে চোখ কচলে তাকাতেই বাধ্য করল না, সকল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চুতিয়াদের মুখে লাগিয়ে দিল স্বচ্ছ নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ আলকাতরা… ২০০ পার করবার স্বপ্নে বিভোর শ্রীলংকাকে থামতে হল ১৬৮ রানে…। ( যদিও আরও ২০টা রান কম হতে পারত )

১০ মিনিটের ব্রেক নিতে গিয়া বরাবরের মতই আমরা আবারো লেট। সিআরটি মনিটরের সামনে বসতে না বসতে দেখি টাইগার তামিম আর টাইগার শামসু কুপানি শুরু করে দিছে। তামিমকে একটু দেখেশুনে খেলতে দেখলেও শামসু বরাবরের মতই উরাধুরা স্টার্ট দিল। পাওয়ারপ্লে শেষ হবার পর হঠাৎ শামসুর আউট হয়ে গেলেও তামিমকে খুবই কনফিডেনট মনে হচ্ছিল। কিন্তু কপাল যদি হয় ফাটা, তাহলে কিছুই ঠিক মত হয় না। টপএজ হয়ে তামিম বিদায় নেবার পর সাকিব আসল, কিছুক্ষন রানের চাকা চমৎকার ঘুরল ,তারপর হঠাৎ করেই ষ্ট্যাম্পের বল মিস করে বোল্ড… যদিও আনামুল যদি ওঁই প্রান্তে আরেকটু সিঙ্গেল বের করে খেলবার চেষ্টা করত, তাহলে হয়তো সাকিব ষ্ট্যাম্পের বল এতটা ডেসপারেট হয়ে খেলতে যেত না.

ধুর, কি লিখছি এইসব… শুধু এতটুকু বুঝতে পারছি যে, লাস্ট দুইটা ঘণ্টা ধরে কিছু একটা লেখার চেষ্টা করছি। কিন্তু যেই মুহূর্তে মনে হচ্ছে কোমরের উপর সেই বিমার, সেই লাস্ট বলটা, আনামুলের সেই শট, ব্যাটের কানায় লেগে আকাশের দিকে উঠে যাওয়া সেই ক্যাচ, আর লঙ্কান প্লেয়ারদের সেই উল্লাশ, মনে হচ্ছে ধ্বংস করে ফেলি সবকিছু… জ্বালিয়ে দেই যতদূর চোখ যায়… আর পৃথিবীর সেরা আবালচোদা আকাটা বালপায়ার দুইটার পিছনে একের পর এক চকচকে বাঁশ ভরি। সাঙ্গাকে খুব সম্মান করতাম, ভালো লাগত ওর খেলা , ওর ব্যক্তিত্ব… আজ বুঝলাম ১ নম্বরে কোন দল চলে গেলে সব ধরনের চোদনামী করার লাইসেন্স তারা পেয়ে যায় এবং তাতে নেতৃত্ব দেয় দলের সবচেয়ে সিনিওর প্লেয়ারগুলো, সবচেয়ে সম্মানিত মুখগুলো… তামিমের লেগসাইড দিয়ে বল যাচ্ছে, এইটা যে আউট হবার কোন সম্ভাবনা নাই, সেইটা একট শিশুও বলতে পারবে। সাঙ্গা এইটার জন্য আবেদন করতেই থাকল এবং আকাটা রেনডিয়ান বিরাট কুলির মত তামিমরে এমন কিছু বলল এবং এমন এটিচুড দেখাল যেন, তামিম আউট হবার পরেও মাঠ থেকে বের হচ্ছে না। হোয়াট আ চুতিয়ামি… আর লাস্ট বলটায় পেরেরা এতো স্পষ্ট একটা বিমার ছোড়ার পরেও সেইটারে নোবল না দিয়ে বরং শ্রীলঙ্কান প্লেয়ারদের সাথে হাত মিলিয়ে চমৎকার মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং দেখায়ে বাংলাদেশের মাননীয় দুইটা বালপায়ার তাদের উদ্ভট আবালীয় চোদনামীর পরিচয় দিল। জিকো ভাইয়ের ভাষায় বলতে হয়, নোবল বুঝতে হলে আসলে কোমরের নিচে দুইটা বল থাকতে হয়। তবে এই দুইটা বাল্পায়ার আবারো প্রমান করল, দেশ বা বিদেশ কোন ব্যাপার না, আম্পায়ার আবাল বালছাল হলে গোয়া মারা মাস্ট…

আসলে কি বলছি জানি না। কিভাবে বলছি তাও বলতে পারব না। গত কয়েকটা ঘণ্টা নিজের উপর কোন নিয়ন্ত্রন নেই। হয়তো আগামী দুইটা দিন থাকবে না… যদি কাওকে কষ্ট দিয়ে থাকি, আন্তরিক দুঃখিত। আউট হবার পর বিজয়ের মুখটা দেখে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। সেই যে এশিয়া কাপ থেকে ছেলেটার এই যন্ত্রণার অভিব্যক্তি দেখতে হচ্ছে, এটা আর কতকাল চলবে কে জানে? বালের চোখ আবার ঝাপসা হয়ে গেল… লেখাটা মনে হয় আর শেষ করতে পারব না… থাক, শেষ হবার দরকার নাই… কি হবে শেষ করে… কি অকল্পনীয় দুর্ভাগ্য নিয়ে আসছি আমরা.. কি আশ্চর্য দুর্ভাগ্য।।

কিছু বলার নাই, বলার ছিল না কখনও…

But Dear God, You Owe an Explanation… Why Always Us?? At the end of day, Why We are the only people crying for having a distorted fucked up luck !!!?? Why you have to choose only us for this fucked up drama???!!! why… why… why…

১২ thoughts on “এক আজন্ম দুর্ভাগ্যের অযথা কিছু কথা…

  1. (No subject)
    :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ:

  2. দুঃখের কিছু নাই। ওরা যে কঠিন
    দুঃখের কিছু নাই। ওরা যে কঠিন খেলা উপহার দিয়েছে সেটাও অনেক।

    নিজেকে অনেক সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছি। শালার মাত্র দুই রান …
    :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি:

  3. ফেসবুকে অনেকেই লিখেছেন দেখলাম
    ফেসবুকে অনেকেই লিখেছেন দেখলাম বাংলাদেশের খেলা নাকি আর দেখবেন না ওদের কাছে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারলে ভাল হত ।। প্রশ্নগুলো হল ………

    ১। যখন বাংলাদেশ প্রথম পাকিস্তানকে হারিয়ে ছিলো তখন আপনি কার জন্য কান্না করেছিলেন ??
    ২। যখন সাকিব আল হাসান ছক্কা মেরে স্টেডিয়াম পার করে ছিলেন এবং আপনি আপনার পির‍্য মানুষকে জড়িয়ে ধরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন আমার বাংলাদেশ আমার অহংকার কেনো বলেছিলেন ??
    ৩। যেদিন বাংলাদেশের হয়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুল প্রথম বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে ইংরেজিতে বলেছিলো ” we hope we do better in future ” সেদিন কেনো চোখে জল এনে বলেছিলেন আমার সোনার বাংলার ছেলেরা একদিন পারবে এই বিশ্বাস আমার আছে ।।

    বলতে গেলে অনেক কিছু বলা যায় কিন্তু যারা একটি হতাশা দিয়ে লাখ প্রাপ্তি অস্বীকার করে তাদেরকে কিছু বলে লাভ নেই কারণ ওরা জেগে জেগে ঘুমিয়ে থাকার ভান করে ।। ওরা না হয় জেগে জেগে ঘুমাক আমরা না হয় পাহারা দিই আমার সণার দেশের সোনার ছেলেদের আমরা বিশ্বাস করি এরাই একদিন পূরণ করবে আমাদের সোনাঝরা সেই স্বপ্ন……… আমরা বিশ্বকাপ চায়না আমরা বিশ্বের বুএ মাথা উঁচু করে বলতে চাই ” আমরা বাঙ্গালী আমরা বাংলাদেশী মাঠে আছে ১১ জন্ন বাঘ আর সাথে আছে ১৬ কোটি বাঘের হুঙ্কার ।। এক সাথে এই হুঙ্কার দিয়ে দেখিয়ে দিতে চায় আমরা পারি আমরা পারবো “………

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *