মুভি রিভিউঃ Annie Hall (1977) একটি সম্পর্কের ময়নাতদন্ত…

আমার কাছে আমাদের মানুষদের বেশ কিছু ব্যাপার-স্যাপার অনেক বেশি আজব লাগে। আমার কাছে প্রায়ই মনে হয় আমরা যে ব্যাপারটা যত কম বুঝি সেইটা নিয়ে ততবেশি লাফালাফি করি। না অবশ্যই বুঝার জন্য নয়। সব বুঝে ফেলেছি মার্কা ভাব প্রদর্শনের জন্য। যাই হোক সামনেই আসছে ভালোবাসা দিবস। এই দিন নিয়ে আমাদের লাফালাফির তো কোন সীমারেখাই নেই।


আমার কাছে আমাদের মানুষদের বেশ কিছু ব্যাপার-স্যাপার অনেক বেশি আজব লাগে। আমার কাছে প্রায়ই মনে হয় আমরা যে ব্যাপারটা যত কম বুঝি সেইটা নিয়ে ততবেশি লাফালাফি করি। না অবশ্যই বুঝার জন্য নয়। সব বুঝে ফেলেছি মার্কা ভাব প্রদর্শনের জন্য। যাই হোক সামনেই আসছে ভালোবাসা দিবস। এই দিন নিয়ে আমাদের লাফালাফির তো কোন সীমারেখাই নেই।

আমি যদিও কোন কিছুকেই নির্দিষ্ট দিবসের গণ্ডিতে বেঁধে ফেলার ঘোর বিরোধী। তবু বলব কোন কিছুর জন্য একটা দিনকে হয়ত আমরা উৎযাপন করতেই পারি সেই দিনের গণ্ডিতে জিনিসটাকে বেঁধে না ফেলে বরং সেই জিনিসটার তাৎপর্য তুলে ধরে সেই জিনিসটার মহত্ত্ব ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে। সেটা হতে পারে ভালবাসা, বন্ধুত্ব, স্বাধীনতা, কিংবা এরকমই কোন কিছু।

আজকের মুভিটি ভালবাসা নিয়েই…

ভালবাসা বা দুটো মানুষের সম্পর্কের মাঝে কত কিছুই তো হয়। অনেক চড়াই উৎরাই পেরোতে হয় অনেক সময় কেবলমাত্র সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য আবার অনেক সময়ই অনেক কিছুর পরও সব ভেঙ্গে যায়। আসলে এই সম্পর্ক জিনিসটা কি??? আর এই ভালবাসার সংজ্ঞাও হয়ত অনেকটাই আপেক্ষিক। তারপরও হয়ত কিছু কিছু ব্যাপার আছে যা চিরন্তন সত্যের মত এই সম্পর্কের ক্ষেত্রেও চির বাস্তব। মানুষের মনের অনেক কিছুই অনেক বেশি পরিমানে বাস্তবতা বর্জিত হয়। হয়ত এই কারনেই ভালবাসার সম্পর্কেও অনেক কিছুই অবাস্তব থেকে যায় যা কিনা সময়ের আবর্তে ধীরে ধীরে প্রস্ফুটিত হয়।

Annie Hall ১৯৭৭ সালে মুক্তি প্রাপ্ত বিখ্যাত পরিচালক উডি অ্যালান এর পরিচালিত ও অভিনীত মুভি। ৫০তম একাডেমী এওয়ার্ডে এটি শ্রেষ্ঠ চলচিত্র, শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ স্ক্রীনপ্লে ও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রাপ্ত মুভি।

মুভির কাহিনি অতি সাধারন তবে কাহিনী বর্ণনার রীতি অনেকটাই আলাদা ও উপভোগ্য। বেশ কিছু জিনিশ একেবারেই আলাদা। কিছু কিছু দৃশ্যে দর্শকদের সাথে সরাসরি কথা বলা, আবার কিছু কিছু ব্যাপার দর্শকদের জন্য একেবারে এনালাইসিস করে বলা কিংবা একেবারে অতীতের ঘটনায় চলে গিয়ে সেটা দেখিয়ে শুনিয়ে বুজিয়ে দেওয়া ৭০ এর দশকের মুভিতে তো বটেই এমনকি আজকালকার মুভি গুলোতেও এরকম সচরাচর দেখা যায় না। মুভির প্রতি সংলাপ উদ্ধৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করার মত।


মুভিটি মূলত এলভি সিঙ্গার নামক এক নিউইয়র্কের কমেডিয়ানের সম্পর্কের গল্প। যে কিনা মেয়েদের সাথে সম্পর্কে অতি কাচা। মুভির শুরুতেই দেখবেন ২ দুটো ডিভর্স আর অসংখ্য সম্পর্কের ইতি টেনে ফেলা এক আজিব রকমের মানুষ এই এলভি সিঙ্গার। এবং মুভির গল্প এই লোকের অ্যানি নামক এক মেয়ের সাথে পরিচয়, প্রেম ও প্রেমের পরের নানান রকম ঘটনা নিয়ে। মুভি জুড়ে পাবেন ভালবাসার সম্পর্কের নানান রকম ব্যাখ্যা। সম্পর্কের অতীব সাধারন ও গতানুগতিক ব্যাপার গুলো তুলে ধরে সাথে তৎকালীন জীবনের নানান অসঙ্গতি নিয়ে খুব সূক্ষ্ম কমেডিতে পরিপূর্ণ অসাধারন এক মুভি।

মুভিটিতে উডি অ্যালেনের পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়ও ছিল উল্লেখ করার মত। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে অস্কারে মনোনয়নও পেয়েছিলেন। সাথে সহ অভিনেত্রী ডায়ানা কিটনের কথা আর কি বলব উনি তো আরও এক ধাপ এগিয়ে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবেই অস্কারই পেয়ে বসে ছিলেন।


ভালবাসার সম্পর্ক নিয়ে কোন ব্যাখ্যা ধর্মী কিছু দেখতে চাইলে দেখতে পারেন।

“A relationship, I think, is like a shark. You know? It has to constantly move forward or it dies. And I think what we got on our hands is a dead shark. ”

http://www.imdb.com/title/tt0075686/

টরেন্ট ডাউনলোডঃ
http://kickass.to/annie-hall-1977-720p-hdtv-x264-600mb-yify-t5805904.html

ধন্যবাদ 🙂

১৬ thoughts on “মুভি রিভিউঃ Annie Hall (1977) একটি সম্পর্কের ময়নাতদন্ত…

  1. “A relationship, I think, is

    “A relationship, I think, is like a shark. You know? It has to constantly move forward or it dies. And I think what we got on our hands is a dead shark.

    :ফুল: :ফুল: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :থাম্বসআপ:
    মুভিটা দেখবো… আগ্রহজাগানিয়া রিভিউর জন্য অশেষ :ফুল:

  2. চমৎকার একটা সিনেমা। দেখতে
    চমৎকার একটা সিনেমা। দেখতে দেখতে একদম ডুবে গিয়েছিলাম। পারলে উডি অ্যালেনের Match Point, Midnight in Paris সিনেমা দু’টা দেখবেন। ভালো লাগার কথা।
    রিভিউটা বেশী ভালো লাগে নাই। একটু এলোমেলো আর তাড়াহুড়া করে লেখা বলে মনে হচ্ছে। আর ভালো রিভিউ চাই।

    1. ধন্যবাদ। আসলে আপনি যেরকম
      ধন্যবাদ। আসলে আপনি যেরকম রিভিউয়ের কথা বলছেন অইরকম করে কখনই আমি রিভিউ লিখতে পারি না। মুভি দেখার পর বেশি ভাল লেগে যাওয়া মুভি নিয়ে ২-৪ লাইন লিখা পর্যন্তই আমার দৌড়… আর Match point আর Midnight in Paris দেখা হয়েছে। 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *