Man Of Steel – আমার চোখে…

দেরীতে হলেও দেখে নিলাম “ম্যান অফ স্টীল – ২০১৩” মুভিটি। আইএমডিবি রেটিংসে এটির অবস্থান ৭.৪ হলেও এটিকে আমি ১০ দিতে কার্পণ্য বোধ করবো না। সম্ভবত এটিই প্রথম মুভি যেটি দেখা শেষে তালি দিয়েছি। ক্যাটাগরির দিক থেকে আইএমডিবি এটিকে একশন, এডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি রাখলেও এটি আরো কিছু ক্যাটাগরিতে পড়ে যায় এই অধমের দৃষ্টিতে। পারিবারিক ভালোবাসা, সাই-ফাই এসবও আসতে পারে, হ্যাঁ এটা ঠিক যে অল্প সময় ধরে এসব দেখানো হয়েছে, তবুও ঐ অল্প সময়টা যেন অনেক গভীর।


দেরীতে হলেও দেখে নিলাম “ম্যান অফ স্টীল – ২০১৩” মুভিটি। আইএমডিবি রেটিংসে এটির অবস্থান ৭.৪ হলেও এটিকে আমি ১০ দিতে কার্পণ্য বোধ করবো না। সম্ভবত এটিই প্রথম মুভি যেটি দেখা শেষে তালি দিয়েছি। ক্যাটাগরির দিক থেকে আইএমডিবি এটিকে একশন, এডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি রাখলেও এটি আরো কিছু ক্যাটাগরিতে পড়ে যায় এই অধমের দৃষ্টিতে। পারিবারিক ভালোবাসা, সাই-ফাই এসবও আসতে পারে, হ্যাঁ এটা ঠিক যে অল্প সময় ধরে এসব দেখানো হয়েছে, তবুও ঐ অল্প সময়টা যেন অনেক গভীর।

আগে কখনো মুভি নিয়ে লেখা হয়ে ওঠেনি, আজ দুঃসাহস করে ফেললাম কিছুটা। শুধুমাত্র অনেক বেশী ভালো লাগা থেকেই সাহস পেয়ে লিখতে শুরু করে দিলাম। যাই হোক এসব প্রাক কথা বাদ দিয়ে মূল আলোচনায় চলে যাই। সাধারণভাবে রিভিউ লেখকেরা যেভাবে লিখে থাকেন ঠিক সেই আদলে লিখতে পারবো না। পুরো মুভিটি যেভাবে দেখেছি ঠিক সেভাবেই তুলে ধরার চেষ্টা করব। এটির সত্যিকার রিভিউ পড়তে চাইলে এখানে সময় ব্যয় না করে ডন মাইকেল কর্লিওনি ভাইয়ের লেখা Man Of Steel– এক চিরচেনা নায়কের গল্প… পড়ে দেখাটাই শ্রেয় হবে। আমিও এটি লেখার আগে উনার লেখাটি পড়ে নিয়েছি ফলে বেশ কিছু ভুল ধারণা শুধরে নিতে পারলাম। যেহেতু শিক্ষা-দীক্ষার হার কম তাই ইংলিশ ভাষাটি বুঝতে ব্যাপক কষ্ট হয়ে যায়।

[হাতে প্রচুর অলস সময় থাকলে অগ্রসর হতে পারেন]

মুভির শুরুতেই নারীর অস্ফুট বেদনাদায়ক শব্দে পাপী মন ভাবতে থাকে, “যাহ তেরিকা হলিউড বলে শুরুতেই …..” কিন্তু না ধারণা পালটে দিতে দেরী না করে নিমিষেই বুঝিয়ে দেয়া হয়, প্রসব বেদনায় কাতর; মায়ের আর্তনাদ সেটি। মায়ের গর্ভে সন্তানটি কেমন তা দেখা গেলো আশ্চর্য এই যন্ত্রে।

ডন ভাইয়ের পোস্ট পড়ে বুঝলাম জনাব জর-এল একজন বিজ্ঞানী, সুতরাং সাইয়েন্স ফিকশনের ক্যাটাগরীতে এটি কেন পড়ে নাই সেটিও প্রশ্ন জাগায় মনে। সন্তান জন্ম নেওয়ার পর জর-এল যখন প্রধানদের বোঝাতে লাগল তখন সেখানে হামলা করে বসল সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল জড। সকলের প্রতি ক্রুদ্ধ আচরণ করলেও বিজ্ঞানী জর-এলের প্রতি সমীহ প্রকাশ করে তাকে তার সাথে কাজ করার অনুরোধ জানাল। কিন্তু সদ্য জন্ম নেয়া সন্তানের মায়া ছাড়তে পারে কোন পিতা? শুধুই কি সন্তান, সেখানে তো জড়িত আছে সন্তানতূল্য নতুন আবিষ্কার। তাই জর-এল ক্লাস-বি অপরাধ হচ্ছে জানা স্বত্ত্বেও জেনেসিস চেম্বারে প্রবেশ করে সেখান থেকে কর্ডেক্স নিয়ে তার বাহন হোরাকের সহায়তায় নিজ বাসভবনে পৌঁছে যান। ডন ভাই উনার পোস্টে লিখেছেন যে জর-এল তার সন্তান্তকে অজানা মহাকাশে পাঠিয়ে দেন কিন্তু আমার মনে হচ্ছে তারা জেনে শুনেই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তাদের সন্তান কাল-এল’কে।

যেহেতু বাসভবনে প্রবেশ মাত্রই তিনি তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন ‘You found the world?’ উত্তরে তার স্ত্রী লারা বললেন ‘We have’। যাই হোক, এরপরে সেই কর্ডেক্সটি জর-এল তার আবিষ্কৃত যন্ত্র দ্বারা ছড়িয়ে দেন তাদের সন্তানের দেহের ভেতর।

এরপর প্রস্তুতি নেয়া হয় একটি স্পেসশীপে করে সেটিকে পৃথিবীতে পাঠানোর জন্যে, স্পেসশীপের চাবি হিসেবে ‘S’ চিহ্ন সম্বলিত একটি ধাতব দন্ডও তৈরী হয়ে যায়।

এবার উপভোগ্য দৃশ্য হলো জর-এলের বস্ত্রধারণ, এটি কিছুটা ‘Iron Man’-এর বস্ত্র ধারণের মত লেগেছে। এরপর সেখানে হামলা করলো জেনারেল জড কিন্তু ঐদিকে স্পেসশীপ প্রস্তুত ছুটে যাওয়ার জন্য। কিছুক্ষণ কথাবার্তা, পরক্ষণেই ধস্তাধ্বস্তি চললো। এখানে মজার ব্যাপার হলো ডন ভাইয়ের পোস্ট পড়ার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত ধারণা ছিলো তারা দেবদেবী কিন্তু পোস্ট পড়ার পরে মনে হলো জেনেসিস চেম্বারে বিজ্ঞানী হিসেবে জন্ম নেয়া জর-এল এতো ভালো কুস্তাকুস্তি কেমনে শিখলো? আর জেনেসিস চেম্বারে যোদ্ধা হিসেবে জন্ম নেয়া জড কিভাবে হেরে গেলো? এরই ফাঁকে স্পেসশীপ উড্ডয়ন করলো আর সেদিকে তাকিয়ে রইলো সকলে, সেই সুযোগে জর-এলকে ভরে দিলো জড। জড ছুটে এলো বাইরে, স্পেসশীপটি থামানোর নির্দেশ দিলো কিন্তু স্পেসশীপটিকে থামাতে যেটি ছুটে গেলো সেটিকেই ধ্বংস করে দিলো আরেকটি স্পেসশীপ। সেই স্পেসশীপ থেকে জেনারেল জড এবং তার অনুসারীদের আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেয়া হলো। বন্দী জড এবং তার অনুসারীদের মার্ডার এবং ট্রাইট্রিজমের অপরাধে থ্রি হান্ড্রেড সাইকেল জমাটিকের শাস্তি দেয়া হলো। যদিও এই থ্রি হান্ড্রেড সাইকেল জমাটিকের আসল অর্থ বুঝি নাই তবুও ধরে নিলাম ৩০০ সাইকেল সময় পর্যন্ত বরফে জমাইয়া রাখার নির্দেশ দিয়েছে, জমাটিক আর জমাইয়া রাখা এই দুইয়ের শব্দগত মিল থেকেই আইডিয়াটা করলাম। তো জমে যাওয়ার কালে জড সাহেব বারবার গলা ফাটিয়ে বলছিলো ‘I’ll find him” আহহহ ব্যাপক কষ্ট লাগছিলো সেইসময়ে। এইখানে একটা প্রশ্ন, বুড়া কাক্কু আঙ্গুলের ইশারায় যেভাবে জমাট বাঁধা সেনাদের উপরে তুলে দিলো সেই শক্তি কই ছিলো যখন এই সেনারা হামলা করেছিলো?

এবার ধ্বংস হয়ে যাবে ক্রিপটিক গ্রহটি….

গ্রহটি ফাটার এই আওয়াজটি কিন্তু কাঁপিয়ে তুলতে পারে….

এরপরের দৃশ্যে উত্তাল সমুদ্রের মাঝে ছুটে যাচ্ছে একটি জাহাজ, সেখানে এক যুবক কাজ করছে। কাজের ধ্যানে থাকা সেই যুবকের উপর আস্ত একটা খাঁচা পড়ছে সেই মুহুর্তে আরেকজন ছুটে এসে ধাক্কা দিয়ে তারে বাঁচালো। না এইটা সুপারম্যান না এটা আমজনতা আর তাই ধাক্কা দিয়ে নিজে দাঁড়াইয়া থাকে নাই। সুপারম্যান হইলে সম্ভবত দাঁড়িয়ে থেকে খাঁচাটির মাধ্যমে নিজের শক্তি প্রদর্শন করত। আশাহত হবার কিছু নেই, সুপারম্যান এর চাইতেও বড় কিছুতে শক্তি প্রদর্শন করতে যাচ্ছে। অদূরে দেখা যাচ্ছে একটি খনিজ সম্পদ উত্তোলনকারী কিছু একটাতে ভয়াবহ আগুন লেগেছে, সেখানের কর্মীদের উদ্ধারে রেসকিউ হেলিকপ্টার ছুটে গেলেও তার আগে সেখানে পৌঁছে গেলো সুপারম্যান। আগুন সমেত দেহ নিয়ে দরজা ভেঙে বের হতে সহায়তা করলো কর্মীদের। কর্মীরা যখন হেলিকপ্টারে উঠতে যাবে সেই মুহুর্তে বিশালাকার লৌহ স্তম্ভ পড়তে থাকলে সেটিকে ঠেকিয়ে ধরে সুপারম্যান, এরপর সেটি সমের সমুদ্রে পতিত হয়। সমুদ্রের পানিতে ভাসতে ভাসতে ফ্ল্যাশব্যাকে চলে যায় ক্লার্ক। স্কুলজীবনের ফ্ল্যাশব্যাক, এই ফ্ল্যাশব্যাক চলাকালীন সময়ে ভেবেছিলাম সুপারম্যান সেখানে সবাইকে ভয়াবহ কোন অগ্নিকান্ড হতে বাঁচাবে কিন্তু না যখন দেখলাম সুপারম্যানের পালিত মা এসে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ছেলেকে বের করে আনলো তখন বুঝলাম এটি তার সমস্যা। এবার আরেকটি স্পর্শী দৃশ্য হলো করে সমুদ্রের জলে সুপারম্যান যখন তার মা’কে নিয়ে ভাবছে তখন সেখানে বিকট আওয়াজ তিমি আর তিমির বাচ্চার দৃশ্য, অসাধারণ লেগেছে এই দৃশ্যটি। সমুদ্রের জল থেকে উঠে যখন রাস্তায় এলো তখন আবারো ফ্ল্যাশব্যাক স্কুল বাস দেখে। ফ্ল্যাশব্যাকে কৈশোর বয়সে স্কুল বাসে করে যাওয়ার সময় বাসটি ব্রিজ থেকে পানিতে পড়ে গেলে তা ঠেলে ডাঙ্গায় তোলে সুপারম্যান আর তাতেই বিপত্তি। যেইছেলের সাথে বাসে কিছুটা ফাজলামো হয়েছিলো সেই ছেলেটির মা এসে বিচার দিলো! এরপর ক্লার্কের বাবা তাকে আসল ঘটনা খুলে বলে, কিভাবে পেয়েছিলো তাকে আর সেই সাথে বের করে দেয় সেই “S” অক্ষরের ধাতব চাবিটি।

এবারের দৃশ্য হলো একটি বার, সেখানেই ক্লার্ক জানতে পারে একটি আইসবার্গ স্থানে অনেক পুরোনো কিছু একটা পাওয়া গিয়েছে। এরপরেই দেখলাম বারের পরিবেশিকাকে উত্যক্ত করছে লরি চালক আর তাকে থামাতে ক্লার্ক এগিয়ে গেলে যাচ্ছে তাই ব্যবহার করে। ক্লার্ক উত্যক্ত হলে পরিবেশিকা তাকে শান্ত করে, বের হয়ে যায় ক্লার্ক। বিভিন্ন মুভিতে এসব ধরণের দৃশ্য দেখলে সভ্য আমেরিকানদের অবস্থা দেখে বড়ই টেনশিত হয়ে যাই। এবার আরো উপভোগ্য দৃশ্য হলো সেই লরি ড্রাইভার যখন বার থেকে বেরিয়ে আসলো তখন তার লরির অস্থির অবস্থা দেখে…

এবারের দৃশ্যে নায়িকার আগমন ঘটে, যদিও আগে ভেবেছিলাম ঐ স্কুল বাসের মেয়েটি কিনবা বারের পরিবেশিকা নায়িকা তবে সেই ধারণা ভেঙ্গেছে আরেকটূ পরে। ক্লার্ক বারের কাজ ছেড়ে কাজ নেয় এই আইসফিল্ডে, যেটি সে শুনেছিল বারে। নায়িকা যখন হেলিকপ্টার থেকে ক্লার্কের সহায়তায় যখন অবতরন করলো তারপরেই বলে উঠলো তার জিনিসপাতি অনেকভারী। এটি শুনে হেসে উঠলাম।

কিছু দৃশ্য পরে রাতের আঁধারে নায়িকা নাইকন ব্রান্ডের ডিএসএলআর ক্যামেরা নিয়ে সেই আইসবার্গের ছবি তুলতে থাকে। ছবি তোলার সময় সে দেখতে পায় কেউ একজন সেখানে আছে, তোলা ছবি জুম করে দেখে।

এবার নায়িকার গন্তব্য সেখানেই, এদিকে নায়ক তার চোখের কড়া রশ্মির সহায়তায় দূর্ভেদ্য আইস গলিয়ে প্রবেশ করে ভেতরে। সুন্দর শৈল্পিকভাবে গলে যায় বরফগুলো। সেখানে ক্লার্ক দেখতে পায় এমন একটি বস্তু যেখানে সেট হবে তার সেই ধাতব দন্ডটি যেটি তার বাবা তাকে দিয়েছিলো ছোটকালে। সেটি সে গলা থেকে ছিঁড়ে নিয়ে বস্তুটির মুখে ধরতেই সেটি খপ করে নিয়ে নিলো কিন্তু পেছন থেকে আক্রমণ করলো সিকিউরিটি। কোনমতে সিকিউরিটিকে ছাড়িয়ে ধাতব চাবিটি চাপ দিতেই ক্লার্ক দেখতে পেলো ক্রিপটিক গ্রহের বিজ্ঞানী জর-এলকে। অনুসরন করতে লাগলো তাকে ক্লার্ক, কথা শুরু করতে যাবে এমন মুহুর্তে পেছনে অনুসরন করতে করতে আসা নায়িকার আর্ত-চিৎকার শুনে দৌঁড় লাগালো নায়ক। সিকিউরিটিকে দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙ্গে নায়িকাকে বাঁচালো নায়ক, এবার তার অতিমানবিক শক্তি বলে নায়িকাকে সারিয়ে তুলল। ততক্ষণে স্পেসশীপ নিয়ে অন্যত্র সরে গিয়েছে জর-এল এবং ক্লার্ক। এবার ক্লার্ককে পুরো ইতিবৃত্ত খুলে বলেন জর-এল। এইখানে সবচেয়ে দেখার দৃশ্য হলো ক্রিপটিক গ্রহের ঘটনাগুলো বর্ণণার চমৎকার ভিজ্যুয়ালাইজেশন পদ্ধতিটি। অসাধারণ লেগেছে সেটি, একদম নতুন এই কাদা-মাটি রঙের ভিজ্যুয়ালাইজেশন। এখানেই তাকে ক্রিপটিক গ্রহের জেনেসিস চেম্বার দেখানো হলো যেটির সন্ধান করছে জড। তো এসব শেষে যখন কাল-এল বা ক্লার্ক কিনবা নায়ককে তার বস্ত্র দেওয়া হয় তখন “S” এর আসল অর্থ বুঝতে পারি, ওহ এটা মানে “আশা”। এবার পিতা তার পুত্রকে এই পৃথিবীর মানুষ আর তার মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে দিয়ে বলে “Keep testing your limits”.
এবার শক্তি পরীক্ষায় নেমে পড়ে কাল-এল, দূর্দান্ত গতিতে ছুটতে থাকে কাল। এইখানে একটা জিনিস বুঝলাম এইসকল অতিমানবদের “Gravity” শক্তি বেশি থাকার দরুন উড়তে পারে, তবে এটা পরিষ্কার নয় সুপারম্যান কেনো হাত মুঠো করে রাখে উড়ার সময়ে!

এবারের দৃশ্য আবার নায়িকা। নায়িকা খুঁজতে থাকে নায়ককে, এখানে সেখানে কতখানে খুঁজতে থাকে। কথায় আছে না খুঁজলে পরে কেষ্টর দেখা মিলে, সেখানে এটাতো সুপারম্যান, তো খুব একটা বেগ পেতে হলো না খুঁজে পেতে। নায়ক নায়িকাকে এবার খুলে বলে কেন সে সবার সামনে এখনই আসতে পারবে না। ঘটনা বর্ণনার সময় পিতৃ স্নেহ আসলেই আবেগাপ্লুত করে ফেলতে পারে।

তবে সেই সময়ে যদি মনে পড়ে যায় ক্লার্কের ভুমিকায় সাকিব কিনবা অনন্ত হলে কি করত তাহলে আবেগাপ্লুত না হয়ে বরং হাসি আসতে পারে। ঘটনা শুনে নায়িকা বুঝতে পারে এবং সে চেপে যায়।

পরের দৃশ্যে যখন আমেরিকান সেনাবাহিনী একটি স্পেসশীপের অবস্থান ধরতে পারে তখন এই “ALERT” দৃশ্যটি আরেকবার টাস্কি খাওয়াতে কসুর করবে না।

যদিও এল্যার্মটি ইতোমধ্যে তার অবস্থান শক্ত করেছে, জড তার স্পেসশীপ নিয়ে পৃথিবীতে এসে গ্যারান্টি সহকারে হুমকি দিতে থাকে, যদি ক্লার্ককে ধরিয়ে না দেয় তাহলে সে গুঁড়িয়ে দেবে এই পৃথিবী। এখন কথা হলো ক্লার্ককে ধরবে কি করে? সমস্যা নেই, মেয়েরা পেটে কথা রাখতে পারে না এমন প্রচলিত কথাটি এখানে প্রমাণ করেছে পরিচালক। নায়িকা তার সহকর্মীকে ঐ আইসফিল্ডের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলে দিয়েছিলো ক্লার্কের কথা আর এটিকেই পুঁজি করে মিডিয়াতে ছুট লাগালো নায়িকার বন্ধুটি। সেখানে বিবৃতি দেয়া বাকি ততক্ষণে এফবিআই পৌঁছে গেছে নায়িকার আবাসস্থলে।

টিভিতে নিউজ দেখে মানবজাতিকে উদ্ধার করতেই আত্মসমর্পন করে কাল-এল। জডের প্রতিনিধি যখন কালকে নিতে আসে তখন সে কালের সাথে নায়িকাকেও দাবী করে। নায়িকাও রাজি হয়ে যায় এবং তাদের নিয়ে মূল স্পেসশীপে চলে যায়। সেখানে জডের সাথে সাক্ষাত হয় তাদের, জড বোঝাতে থাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে। এবার যখন কাল মানতে নারাজ তখন কালকে এবং নায়িকাকে আলাদা করে আলাদাভাবে বন্দী করা হয়। স্পেসশীপে ওঠার সময়েই কাল নায়িকার হাতে সেই হোপ কী বা আশার চাবিটি তুলে দেয়। সেই চাবিটি আরেকটি খাপে প্রবেশ করালে সেখানে দৃশ্যমান হয় নায়িকার হবু শ্বশুর, ক্রিপটিক গ্রহের বিজ্ঞানী জর-এল। হবু পুত্র বধুর সামনে দাঁড়ালে যেকোন পিতার মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠতে বাধ্য এবং এখানেও সেটির ব্যতিক্রম হয় নি। যাই হোক কিছুটা কথাবার্তা শেষে লুইস লেইন রাজি হয় শ্বশুরের প্রশিক্ষনের জন্য। কি প্রশিক্ষন দিলো তা বুঝলাম না, শুধু দেখলাম মারামারির সুচনা পর্ব শেষে নায়িকা একটি ছোট্ট স্পেসশীপে করে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়ল। এবার জর-এল ছুটে গেলো পুত্রের কাছে, কাল-এলকে নির্দেশ দেয়া মাত্র ভেঙ্গে দিলো স্পেসশীপের একটি দেয়ালের ক্ষুদ্র অংশ, সেটি দিয়ে দেখলো নায়িকা নেমে গেছে। কাল-এল দেরী না করেই ঝাঁপ দিলো লুইসকে বাঁচাতে। লুইসকে নিরাপদে অবতরণ করিয়ে একটু প্রেম করতে যাবে সম্ভবত তখনই নায়কের সিক্সথ সেন্সে আওয়াজ এলো তার পালিত মায়ের বিপদ ঘটতে যাচ্ছে। আসলেই তাই, জড তার অনুসারীদের নিয়ে সেই কডেক্সের খোঁজে চলে গিয়েছে সেখানে। অস্থির লাগলো সেখানে কাল-এলের একশন, হার মেনেছে বলিউড বা ঢালিউড। আশা করি জলিল ভাই নেক্সট ফিল্মে কলিজা ছিঁড়ে গুলি না করে এরকমই কিছু করে দেখাবে।

ইতোমধ্যেই মারামারির সুচনা পর্ব পেরিয়ে মধ্য পর্বে চলে এসেছি, এখন কিন্তু বিরতিহীনভাবে মারামারি চলবে একদম শেষ পর্যন্ত। এই মারামারির ফাঁকে যেই জিনিসটি যন্ত্রণা দিয়েছে সেটি হলো ইউ.এস এয়ার ফোর্সের হুদাই বাড়াবাড়ি। যাই হোক জড-এল এবার মরনাঘাত হানতে “ওয়ার্ল্ড ইঞ্জিন” লঞ্চ করতে নির্দেশ দেয়। সেই ওয়ার্ল্ড ইঞ্জিনের শক্তি দেখে অবাক হতেই হয়। সুপারম্যান সেই ওয়ার্ল্ড ইঞ্জিন থামাতে অনেকক্ষন বৃথা চেষ্টা করে, পরবর্তীতে তার মনে পড়ে সে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিপরীতে যেতে পারে আর সেটিই কাজে লাগালো সে। ভেঙ্গে দিলো একটি ওয়ার্ল্ড ইঞ্জিন আর তাতেই অকার্যকর হপ্যে গেলো আরেকটি। এদিকে যেই স্পেসশীপে করে শিশু কাল-এলকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল সেই স্পেসশীপ চালনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো নায়িকা কিন্তু ডুপ্লিকেট চাবি জেনেসিস চেম্বারে ব্যবহার হওয়াতে মূল চাবিটি কাজ করছিলো না। এরই ফাঁকে সেখানে চলে আসে জডের মূল প্রতিনিধি। সেখানে ধ্বস্তাধ্বস্তি করতে করতে মূল বিমান পৌঁছে গিয়েছিলো মূল স্পেসশীপের কাছাকাছে আর সেখানে হামলা চালানোর আগে সেই চমৎকার ডায়ালগটি ফেরত দেয় এয়ার ফোর্স প্রধান; জডের মূল প্রতিনিধিকে। এখানেই শেষ নয়, জড এখনো জীবিত আছে। এতোক্ষন ধরে এতোগুলো সুউচ্চ ভবন ভেঙ্গে যেখানে খেলার মাঠ বানানো হলো সেখানে এসে উপস্থিত হলো জড ফাইনাল মারামারির জন্য। সেই মাপের আরেক দফা মারামারি করে মারামারির উপসংহার টানা হলো। এখানে জডের একটি ডায়ালগ সেইরাম লেগেছে,

I was bred to be a warrior, Kal. Trained my entire life to master my senses. Where did you train? On a farm?

এরপরের দৃশ্যে আবারো দেখা যায় ছোট বেলায় সুপারম্যান খেলার সময় কোথা থেকে জানি তার পেছনে একটি লাল পর্দা এসে জুটে যায়। অনেকক্ষণ ছাড়ানোর চেষ্টা করেও না পারলে সে এটিকে নিয়েই খেলায় মেতে ওঠে। অথচ এইসব দেখে চিন্তিত হয়ে পড়ে তার পালিত বাবা।

পুরো মুভিটি দেখে পরিবারের প্রতি প্রেম, ভালোবাসা, মায়া, মমতা ইত্যাদির যে একটি সুদৃঢ় অবস্থান দেখা যায় তা অল্প সময়ের জন্যে হলেও খুবই স্পর্শী। জেনারেল জডের দিকটি যদি দেখি তাহলে সে তার দায়িত্ব পালনে অনঢ় ছিলো, ক্রিপটিক ল্যান্ড বাচানোই তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিলো আর সেটি করতে তার মুখের ভাষাতেই বলতে হয়ঃ

Look at this. We could have rebuilt Krypton on this planet, but you chose the humans over us. I exist only to protect Krypton. That is the soul purpose for which I was born. And every action I take, no matter how violent or how cruel, is for the greater good of my people. And now, I have no people. My soul, that is what you have taken from me!

যদি এইরকম একটা জিনিস আমারো থাকতো….

জর-এল সাহেবের এই স্টাইলটা কিন্তু মারাত্মক….

ডাক্তারি বিদ্যা সম্পর্কে জানা নাই, তবুও কেন জানি মনে হইল তাই প্রশ্নটা করে বসলাম। সন্তান প্রসবের পরে কি মাতৃগর্ভ ফুলে থাকে? আবার এমনও হতে পারে যেহেতু ক্রিপটিক ল্যান্ডের প্রথম ন্যাচারাল বেবী তাই একটু তফাৎ থাকতেও পারে…

পরিশেষে, আরো অনেক কিছু লেখার ইচ্ছা থাকলেও লেখা হলো না। ইতোমধ্যে দুঃসাহসটির আকার অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। আর এই লেখাটি ডন মাইকেল কর্লিওনি ভাইকে উতসর্গ করলাম। কেননা উনিই এই জাতীয় লেখার জন্য খুব চেপে ধরেছিলেন। তাই কৃতজ্ঞতা এবং শ্রদ্ধা জানাতেই….

১৩ thoughts on “Man Of Steel – আমার চোখে…

  1. আপনার যদিও অনেক ভাল লেগেছে
    আপনার যদিও অনেক ভাল লেগেছে তবে সত্যি বলতে আমার কাছে সুপারম্যান সিরিজের সবগুলো মুভির মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে এটা।

  2. মাটি ভেদ করে নিচে চলে যেতে
    মাটি ভেদ করে নিচে চলে যেতে পারলে অথবা দড়ি বেয়ে উপরে উঠে যেতে পারলে ভালো হত… বিশাল লজ্জা পাইলাম… :লইজ্জালাগে: :দেখুমনা: :আমারকুনোদোষনাই:

    লেখার ব্যাপারে মুগ্ধতা রেখে গেলাম… আপনি কেন নিয়মিত লেখেন না??? মুভি নিয়ে আপনার লেখার হাত খুবই ভালো :মাথানষ্ট: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: , শুধু এর পর থেকে মুভির ঘটনা প্রবাহ বলার ব্যাপারে একটু সতর্কতা অবলম্বন করবেন । কাহিনি পুরোটা বলবার দরকার নেই, দর্শকের আগ্রহ জাগিয়ে তুলবার জন্য যতটুকু বলা প্রয়োজন ততটুকু বললেই চলবে… আপনি বরং মুভিটা দেখে আপনার কেমন লাগলো, সেইটা বিস্তারিত বলতে পারেন।নিয়মিত লেখার অপেক্ষায় রইলাম… :জলদিকর: :অপেক্ষায়আছি:

    যদিও আপনি প্রথমেই বলে দিয়েছেন যে, এইটা গতানুগতিক রিভিউ নয়, তবুও আপনার লেখা ভালো লেগেছে দেখে আপনাকে আমার পর্যবেক্ষণগুলো বলবার সাহস করলাম… :ভাবতেছি: কষ্ট দিয়ে থাকলে দুঃখিত… :আমারকুনোদোষনাই:

    হ্যাপি মুভি ওয়াচিং… :ফুল: :ফুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

    1. বিশাল লজ্জা পাইলাম…
      কেনু

      বিশাল লজ্জা পাইলাম…

      কেনু কেনু কেনু :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:
      উস্তাদের জ্ঞানে কষ্ট পেতে নেই, এসব আর্শীবাদ :ভালাপাইছি: :ভালাপাইছি: :ভালাপাইছি:
      সময় দিয়ে পড়ার জন্য :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  3. হুর, ফাউল মুভি। একদমই
    হুর, ফাউল মুভি। একদমই ভাল্লাগে নাই। যদিও এইবারের সুপার ম্যানের স্পেশাল ইফেক্টগুল আগের চাইতে ভালো ছিল।

      1. ফাউল মুভি দেখে কিছু মানুষের
        ফাউল মুভি দেখে কিছু মানুষের সময় নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে আমার তো মনে হয় আমি একটা বিশাল উপকার করলাম। হা হা হা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *