মুভি রিভিউঃ The Lunchbox

ইউনিভারসিটিতে চার বছর হই হুল্লোড় করে কাটানোর পর যখন চাকরিতে ঢুকলাম তখন হঠাৎ করেই কেউ যেন আমার চোখ থেকে রঙ্গিন চশমাটা অত্যন্ত নির্দয় ভাবে খুলে নিল। আমার সাধের বাউন্ডুলে জীবনের সেখানেই সমাপ্তি ঘটলো। শুধু তাই না, আমার নির্দোষ মনের গহীনে লুকানো একান্ত যে স্বপ্নগুলো এতদিন পর্যন্ত আমাকে পথ চলতে দিক নির্দেশনা দিয়েছিল – ধীরে ধীরে সেই স্বপ্নের ঘুড়িগুলো কেটে যেতে আল্গল এক এক করে। জীবনটা একটা জেলখানা বলে মনে হতে লাগলো এক সময় আর সেই কয়েদ খানায় আমিই একমাত্র আসামী – বিনা দোষে জেল খাটছি।

ইউনিভারসিটিতে চার বছর হই হুল্লোড় করে কাটানোর পর যখন চাকরিতে ঢুকলাম তখন হঠাৎ করেই কেউ যেন আমার চোখ থেকে রঙ্গিন চশমাটা অত্যন্ত নির্দয় ভাবে খুলে নিল। আমার সাধের বাউন্ডুলে জীবনের সেখানেই সমাপ্তি ঘটলো। শুধু তাই না, আমার নির্দোষ মনের গহীনে লুকানো একান্ত যে স্বপ্নগুলো এতদিন পর্যন্ত আমাকে পথ চলতে দিক নির্দেশনা দিয়েছিল – ধীরে ধীরে সেই স্বপ্নের ঘুড়িগুলো কেটে যেতে আল্গল এক এক করে। জীবনটা একটা জেলখানা বলে মনে হতে লাগলো এক সময় আর সেই কয়েদ খানায় আমিই একমাত্র আসামী – বিনা দোষে জেল খাটছি।
কাঠখোট্টা একাউন্ট্যান্ট ফার্নান্দেজ সাহেবের জীবনটাও এভাবেই কাটছিল। দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর চাকরি করার পর তিনি আগামী মাস থেকে রিটায়ারমেন্টে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সব কিছু ঠিকঠাক। ব্যাংক ম্যানেজার শ্রফ সাহেব একদিন তাঁর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন অফিসে নতুন জয়েন করা আসলাম শেখের সাথে। শেখ তাঁর রিটায়ারমেন্টের পর ওই একই পদে দায়িত্ব পালন করবে। সবকিছু চলছিল স্বাভাবিক ভাবেই।
আটপৌরে রুটিন মাফিক জীবনে অভ্যস্ত ফার্নান্ডেজ সাহেবের সাথে হঠাৎ করেই অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটে যায়। স্বামীকে খুশী করার জন্য ইলার রান্না করা স্পেশাল মেন্যুর লাঞ্চ বক্স ভুলক্রমে চলে যায় ফার্নান্ডেস সাহেবের কাছে।
এরপর প্রতিমিনিটে The Lunchbox এর গল্প আপনাকে নিয়ে যাবে মানব মনের সেইসব সূক্ষ্ম অনুভূতির কাছে যার আমেজ আপনার মনকে বিমোহিত করে রাখবে সিনেমার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত, এমনকি সিনেমা শেষ হওয়ার পরও।
The Lunchbox সিনেমায় ফার্নান্ডেজের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সাবলীল অভিনেতা ইরফান খান (Irrfan Khan )। বলতেই হবে, চমৎকার অভিনয় করেছেন ভদ্রলোক। আসলাম শেখের চরিত্রে ছিলেন নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি (Nawazuddin Siddiqui )। আমার দেখা নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকির প্রথম সিনেমার নাম “Kahaani”। সেখানে তাঁর অভিনয় দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। এবারো হলাম। আরো জানতে পারলাম এই সিনেমায় অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি Filmfare Award পেয়েছেন “সেরা পার্শ্ব অভিনেতা” হিসেবে। ইলা চরিত্রে রূপদান করেছেন নিমরাত কউর (Nimrat Kaur )। আমার কাছে তাঁর অভিনয়ও অসাধারণ লেগেছে। মন ছুঁয়ে গেছে তাঁর প্রতিটি এক্সপ্রেশন।
চলচ্চিত্রটি সর্বমোট ১১ টি পুরস্কার জিতে নিয়েছে। আর ৯ টি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। যার মধ্য সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে এটি জিতে নিয়েছে সম্মান জনক Filmfare Award.
সিনেমাটির লেখক-পরিচালক ছিলেন রিতেশ বাটরা (Ritesh Batra )। চমৎকার কাজ করেছেন বলাই বাহুল্য। আমার অবশ্য পিত্তি জ্বলে গেল। কারণ সিনেমাটা দেখার পর আমার মনে হয়েছে – আমরা কেন এরকম সহজ সরল অথচ দুর্দান্ত স্ক্রিপ্টের সিনেমা বানাতে পারি না?
উইকি থেকে রিতেশ বাটরার সম্পর্কে যা জানতে পারলাম সেটা তুলে ধরলাম –
রিতেশ বাটরা মুম্বাইতে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ফিল্ম নিয়ে পড়ালেখা শুরু করেছিলেন, শেষ করতে পারেন নি। ইকোনমিক্সের মতো খটোমটো সাবজেক্টে আন্ডারগ্রেড করে তিন বছর কন্সাল্ট্যান্ট হিসেবে চাকরিও করেছেন। কিন্তু তারপর আবার ফিরে গেছেন ফিল্ম লাইনে। The Lunchbox পরিচালনার আগেও তিনি Care regular Cairo, Gareeb Newaz’s Taxi আর The morning Rituals নামে তিনটি শরত ফিল্ম পরিচালনা করেছেন। তবে The Lunchbox –ই তাঁর এখন পর্যন্ত সেরা কাজ। মধ্যবিত্ত জীবনের সাধারণ গল্পগুলোই তাঁর সিনেমায় ফিটে উঠেছে অসাধারণ স্বকীয়তায়। এর জন্য অবশ্য তিনি যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছেন। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে মোটা দাগের ঘটনা আর চিরাচরিত জীবনযাপনের আড়ালে যে অসাধারণত্ব আছে – সেটা তিনি সারথকভাবেই তাঁর সিনেমায় তুলে ধরতে পেরেছেন। আর তাঁর সে কাজে তাঁকে নিশ্চিতভাবে সহায়তা করেছে সিনেমার প্রতি তাঁর অগাধ আর অকৃত্তিম ভালবাসা। And none the less – dedication.
আমার দেশেও এমন জীবনমুখী চলচ্চিত্র তৈরি হোক। আমাদের দেশের চলচ্চিত্রও ছড়িয়ে পরুক দেশে দেশে – সেই আশায় রইলাম।

আর জানতেঃ
IMDB

ভিডিও অ্যাড করতে পারলাম না।

ট্রেইলারঃ The Lunchbox Movie Preview

২৬ thoughts on “মুভি রিভিউঃ The Lunchbox

  1. দেখা হয়েছিল । ভালো লেগেছে ।
    দেখা হয়েছিল । ভালো লেগেছে । সাধারণ ভাবে সুন্দর একটা গল্প বলা হয়েছে । আর ইরফান খান নিয়ে তো বলার কিছু নেই । অভিনয় উনার কাছে পানি ভাত

  2. কিছুদিন আগেই দেখেছি মুভিটি।
    কিছুদিন আগেই দেখেছি মুভিটি। কি চমৎকার ভাবে খুব ছোট কিন্তু কি গভীর দুটি জীবনের গল্পের বর্ণনা।
    তিনজনেরই অভিনয় অসাধারণ।
    আর নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকির অভিনয় নাকি অন্যকিছু!!!! এমন ভাবে ক্যামনে মানুষ অভিনয় করে! কীভাবে এমন পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। পুরো আস্ত একটা ক্যারেক্টার !!

  3. আমিও কয়দিন আগে দেখলাম মুভিটি।
    আমিও কয়দিন আগে দেখলাম মুভিটি। কিন্তু ভাইয়া, আরেকটু বর্ণনা দিলে মনের খায়েশ মিটিয়ে পড়তে পারতাম। রিভিউ হিসেবে খুব কম হয়ে গেছে 🙁

    1. আমি রিভিউতে সিনেমার গল্প যতটা
      আমি রিভিউতে সিনেমার গল্প যতটা পারি কম বলার চেস্টা করি। এখানে আর কিছু বললেই অনেক খানি বলা হয়ে যেত। আমার লেখার মাধ্যমে গল্পটা জেনে ফেলার চাইতে সিনেমা দেখাটাই ভাল বুদ্ধি না? তারচাইতে আপনি বলে ফেলেন সিনেমার কোন পার্টটা আপনার সবচেয়ে ভাল লেগেছে।
      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  4. আমার অবশ্য পিত্তি জ্বলে গেল।

    আমার অবশ্য পিত্তি জ্বলে গেল। কারণ সিনেমাটা দেখার পর আমার মনে হয়েছে – আমরা কেন এরকম সহজ সরল অথচ দুর্দান্ত স্ক্রিপ্টের সিনেমা বানাতে পারি না?

    উইকি থেকে রিতেশ বাটরার সম্পর্কে যা জানতে পারলাম সেটা তুলে ধরলাম –
    রিতেশ বাটরা মুম্বাইতে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ফিল্ম নিয়ে পড়ালেখা শুরু করেছিলেন, শেষ করতে পারেন নি। ইকোনমিক্সের মতো খটোমটো সাবজেক্টে আন্ডারগ্রেড করে তিন বছর কন্সাল্ট্যান্ট হিসেবে চাকরিও করেছেন। কিন্তু তারপর আবার ফিরে গেছেন ফিল্ম লাইনে। The Lunchbox পরিচালনার আগেও তিনি Care regular Cairo, Gareeb Newaz’s Taxi আর The morning Rituals নামে তিনটি শরত ফিল্ম পরিচালনা করেছেন। তবে The Lunchbox –ই তাঁর এখন পর্যন্ত সেরা কাজ। মধ্যবিত্ত জীবনের সাধারণ গল্পগুলোই তাঁর সিনেমায় ফিটে উঠেছে অসাধারণ স্বকীয়তায়। এর জন্য অবশ্য তিনি যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছেন। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে মোটা দাগের ঘটনা আর চিরাচরিত জীবনযাপনের আড়ালে যে অসাধারণত্ব আছে – সেটা তিনি সারথকভাবেই তাঁর সিনেমায় তুলে ধরতে পেরেছেন। আর তাঁর সে কাজে তাঁকে নিশ্চিতভাবে সহায়তা করেছে সিনেমার প্রতি তাঁর অগাধ আর অকৃত্তিম ভালবাসা। And none the less – dedication.

    আমার দেশেও এমন জীবনমুখী চলচ্চিত্র তৈরি হোক। আমাদের দেশের চলচ্চিত্রও ছড়িয়ে পরুক দেশে দেশে – সেই আশায় রইলাম।

    রিভিউটা ভাল লাগলো, বিশেষ করে রিভিউকারের আক্ষেপ-

    “আমার অবশ্য পিত্তি জ্বলে গেল। কারণ সিনেমাটা দেখার পর আমার মনে হয়েছে – আমরা কেন এরকম সহজ সরল অথচ দুর্দান্ত স্ক্রিপ্টের সিনেমা বানাতে পারি না? আমার দেশেও এমন জীবনমুখী চলচ্চিত্র তৈরি হোক। আমাদের দেশের চলচ্চিত্রও ছড়িয়ে পরুক দেশে দেশে – সেই আশায় রইলাম” এর সাথে ১০০% একমত পোষণ করছি আমি ।

    অনেকেই আমাদের ফিল্মের খুব প্রশংসা করে, অস্কারে যায় এজন্য গদগদ ভাব! কিন্তু অনেক খুঁজেও একটা ব্লাক, তারে জমিন পার, জীবনধারা, এমনকি ৩-ইডিয়টস কিংবা ট্যাক্স নম্বর ৯২১১ টাইপের ফিল্মও খুঁজে পাইনা পুরো রাজনৈতিক বাংলাদেশ। হায়!! ধন্যবাদ

    1. ব্ল্যাক তারে জামিন পার টাইপ
      ব্ল্যাক তারে জামিন পার টাইপ মুভি বানানোর জন্য আরও ১০০ বছর অপেক্ষা করতে হবে আমাদের :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

        1. ম্যাক্সিমাম আর ২-১ বছর
          ম্যাক্সিমাম আর ২-১ বছর :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে:

          1. এটা আমার বিশ্বাস। এই
            এটা আমার বিশ্বাস। এই বিশ্বাসের কিছুটা ভিত্তি আছে। আমার মনে হয় সেটা নিয়ে একটা পোষ্ট দিতে পারলে সবারই কাজে লাগবে। এতো অবাক হওয়ার কিছু নাই

          2. আমি নাভিদ ভাইয়ের সাথে সহমত…
            আমি নাভিদ ভাইয়ের সাথে সহমত… :বুখেআয়বাবুল: আর বেশি হলে দুই থেকে তিন বছর লাগবে… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :অপেক্ষায়আছি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *