আর কোন পিছুটান নেই

শিবিরের এলাকা নামে খ্যাত আমার জন্মস্থান । ছোটবেলা থেকেই “রগ কাটা ” শব্দটার সাথে পরিচিত আমি ,তবে এতো ছোট বয়স থেকে শব্দটা শুনেছি যে তখন কথাটার মানে বুঝতাম না ,বুঝলে হয়ত তখন থেকেই জোরাল ভাষায় লিখে যেতাম । তবে এখন যখন বুঝি তখন নির্ভয়েই লিখে যায়। কি আর হবে ? বড়জোর মারা যাবো ,আপত্তি নেই। ” Structure তো তৈরিই হয় ভাঙ্গার জন্য”। অনেকদিন তো বাঁচলাম ,আর খুব বেশি দিন না বাঁচলেও তেমন কোন ক্ষতি হবেনা তবে আমার মত জায়গায় যারা অবস্থান করছেন তারা সবাই যদি চুপ থাকে তাহলে ক্ষতি হবে বৈকি। হুম,আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা অধ্যয়নরত ,তাদেরকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এক বাক্যেই মেধাবী বলে মানে। কিন্তু দুঃখজনক সত্য ঘতনা হচ্ছে আমরা আমাদের নিজেদের জীবন সাজাতে আর নিজেকে সুখে রাখতে গিয়ে ভুলে যায় যে আমাদের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে দেশের সাধারণ মানুষের টাকা ,রিকশাচালক ,দিন মজুর থেকে শুরু করে এমন সব সাধারণ মানুষের ঘামে ভেজা টাকা যারা হয়ত সারাজীবনে প্রকৌশল বিদ্যার ন্যুনতম সুখটুকুও কল্পনা করতে পারেনা । আমরা পাশ করি তাদের টাকায় ,দেশের বাইরে পাড়ি জমাতে না পারলে আমাদের মানসম্মানে আঘাত লাগে।তো এতো বড় স্বপ্ন নিয়ে দেশের এসব সমসাময়িক ঝামেলায় আমরা সাধারনত নিজেকে নিরাপদ রাখি ,কৌশলে এড়িয়ে চলি ।
আমি এদেরই মধ্য থেকে একজন জোর গলায় বলছি ,এটা অন্যায়।যত ধরনের Blackmail আছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হচ্ছে Emotional Blackmail ,আমার মতে এর শাস্তিও হওয়া উচিত ছিল ভয়ঙ্কর ,কিন্তু আমাদের দেশে এটা খুব সহজেই আমরা মেনে নেই ।আমরা দেশের সাধারণ মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে ভাল থাকি ,কিন্তু ভাল থাকার সময় এমন একটা ভাব প্রকাশ করি যেন তাদের প্রাপ্য গুলো ভুলে গেছি ।তাদের Blackmail করেই যাচ্ছি ।
প্রকৌশলীরা যথেষ্ট কৌশলী হয় সবক্ষেত্রেই ,অস্বীকার করবোনা। দেশের এই পরিস্থিতিতে যদি এতগুলো মেধাবী মস্তিষ্ক ,অর্থাৎ হবু প্রকৌশলীরা প্রত্যেকে জোর কণ্ঠে আওয়াজ তুলত তাহলে নিশ্চয় আরও নতুন কোন মহাবিপ্লব হতেও পারত ,কারণ তাদের টেকনিক্যাল পাওয়ার বেশি থাকে ,কিন্তু নাহ……অল্প কিছু ছাত্র ছাড়া বাকি সকলেই বিষয়টা টেকনিক্যালি ইগ্নর করে গেল ।এতো গেল ছাত্রদের কথা ,এবার ছাত্রীদের প্রসঙ্গে আসা যাক ।
এই কাদের নামক আবর্জনার রায় জার হাসি মাখা মুখে আমার কানে পৌঁছল সে একজন জামাত কর্মী ,কিন্তু আমি তাকে চিনলাম সেদিন ,তার সেই নোংরা হাসিতে যখন জামাত শিবির প্রেম ফুটে উঠেছিল ঠিক তখনি । তারপর আরও কতগুলো মেয়েকে এই নোংরামির সাথে জড়িত আবিষ্কার করলাম ,প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছিলাম সেদিন, এ রায় আমি মানিনা ,ওখানে আমাকে আস্তে কথা বলতে বলা হয়েছিল ,সবার সামনে এভাবে বলতে discourage করা হয়েছিল,কারণ আমার নিরাপত্তা ।
আরে বাবা ,যেইখানে আমি আমার নিজস্ব মতামত জোরগলায় সবার সামনে বলতেই পারবনা সেখানে আমি আর কিসের জন্য নিরাপত্তা চাইবো??? কি লাভ এভাবে বেঁচে থেকে ???
দুঃখজনক সত্য হচ্ছে আজও এদেশের কিছু মানুষ জামাত ইসলামের নেতাদের জন্য দুঃখে কাতর।ইসলামী ছাত্রী সংস্থার মেয়েরা তাদের গুনে মুগ্ধ।তারা অমুসলিম বিবর্জিত দেশ চায় ।তাদের জন্য বলি,নিজেদের ঐসব ধর্ষিতার জায়গায় চিন্তা কর,যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজ স্বাধীন ভাবে আপনারা শিবিরের বিশেষ বই গুলো রুমে এসে দিতে পারেন ,যেই শিবিরের রগ কেটে মানুষকে শহীদ করে দেওয়ার স্বাধীনতা আপনাদের চেয়েও অনেক নিরীহ মেয়ের সম্ভ্রমের বিনিময়ে পাওয়া।
৭১ এ কেন বলা হয়নি হিন্দুদের রক্ত ,নাস্তিকদের রক্ত আমরা তথাকথিত মুসলিমরা আমাদের স্বাধীনতার সাথে মিশতে দিবনা ????তাহলে তো ওরা সেদিনই বুঝে যাই যে একদিন তথাকথিত ইসলামী দল গুলোর অন্ধ ভক্তরা বলবে যে তাদের দেশে নন মুসলিমদের জায়গা দিবেনা।

আমার কিছু কিছু লেখার জন্য রাজনীতিতে জড়ানোর সূক্ষ্ম আমন্ত্রন ও জীবনে বেশ কয়েকবার নাকোচ করেছি ,নিজ দক্ষতায় । কিসের রাজনীতি করব?এদেশে বর্তমানে কোনো “সুস্থ” রাজনৈতিক দল বা পরিবেশ কোনটাই আমার জানা মতে নেই। এই যখন আমার স্বাধীন দেশের অবস্থা ,তখন আবার ১৬ ডিসেম্বর,২১ ফেব্রুয়ারী কোথায় ঘুরতে যাব ,এই প্রশ্নের সম্মুখীনও হতে হয় ,দিবস বিশেষে নির্দিষ্ট রঙের পোশাক বানানো হলো কিনা সেটাও কিছু বিবেকহীন স্বাধীন মানুষের কৌতুহল।বিবেক কেমন হলে মানুষ দেশের এই অবস্থায়,এই বিশেষ দিন উপলক্ষ্যে ,বিশেষ পোশাকে “ঘুরতে” বের হয় ,যেখানে এখনো অনেক মানুষ স্বাধীনতার সাধ থেকে বঞ্চিত।দেশের এই অবস্থায় আমি অন্তত আমার বিবেকের কাছে অনুমতি পায়নি এই ধরনের Celebration এর জন্য।

পরিশেষে আবারও বলি,আমার আর কোন পিছুটান নেই ,মরে গেলে কান্নার মানুষ নেই বললেই চলে ,মৃত্যুর ভয় আমার কাছে হাস্যকর ব্যাপার,আমার রক্তে যদি রক্তাক্ত হয় শিবিরের আখড়া খ্যাত কোন এলাকার রাস্তা ,তবে আমার রক্ত মাখা সে রাস্তা আমি মৃত্যুর আগে টলমলে চোখে কোন অষ্টাদশীর হাতের পবিত্র মেহেদী ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যাবো ,না দিল আমার দেশের পশুরা আমাকে আমার রাস্তায় নির্ভয়ে পথ চলার সুখ ,দুঃখ নেই কোন ।

১ thought on “আর কোন পিছুটান নেই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *