মুভি রিভিউঃ Victory A.K.A. Escape to Victory (1981) — যুদ্ধ, খেলা, মুক্তি।



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে করা অনেক মুভিই এর মাঝে দেখেছি। তবে আজকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কেন্দ্রিকই তবে একটু অন্যরকম কাহিনির চমৎকার একটি মুভি দেখলাম।


জার্মানির একটি যুদ্ধ বন্দী ক্যাম্প… আর যে কোন বন্দী ক্যাম্পেই বন্দীদের চিন্তা ভাবনাই থাকে বন্দীত্বের শিকল হতে মুক্ত হওয়ার এখানেও এর ব্যতিক্রম ছিল না… কিন্তু জার্মানদের ক্যাম্প হতে পালাতে ব্যর্থ হলে পরিণতি কিন্তু নিশ্চিত মৃত্যু… যাই হোক ঘটনা ক্রমে আমাদের এই ক্যাম্পের বন্দিরা পেয়ে যায় জার্মান জাতীয় দলের সাথে ফুটবল খেলার এক সুযোগ… তারপর শুরু হয় সেই প্রস্তুতি এবং খেলাকে কেন্দ্র করে নানান উত্তেজনা…

এক অর্থে অতি সাধারন কাহিনির গল্প… কিন্তু মুভিটির মুল চমক কিন্তু অন্য জায়গায়… এই মুভিতে আছেন ইতিহাসের অন্যতম দুই অভিনেতা মাইকেল কেইন আর সিলভেসটার স্টালিওন। কোন চমক পাচ্ছেন না… তাহলে এবার শুনুন এই মুভিতে আরও অভিনয় করেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী ফুটবলার পেলে, ইংল্যান্ডের ববি মোর, মাইক সামারবি, রাসেল ওসমান, আর্জেন্টিনার অসভালদো আরদিলেস সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আরও ডজনখানেক প্রফেশনাল ফুটবলার… এত ফুটবলার একসাথে আর কোন মুভিতে অভিনয় করেছে বলে আমার জানা নেই।

এবং সবচেয়ে মজার ব্যাপার ছিল এখানে অনেকে ফুটবলারেরই যেমন অভিনয় শিখতে হয়েছে ঠিক তেমনি ভাবে অভিনেতাদেরও ফুটবল খেলা শিখতে হয়েছিল। আর বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল স্টালিওনকে গোল কিপিং এর জন্য ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার গর্ডন ব্যাঙ্কস এর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছিল এবং সবচেয়ে বেশি খড়গও পড়েছিল স্টালিওনের উপরই… বেচারাকে ওজন কমানো,পাজর আর আঙ্গুল ভাঙ্গা ছাড়াও আরও বেশ কিছু ছোটখাট ইনজুরি মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল।

পুরো মুভি জুড়ে ফুটবল বা খেলাধুলার স্পিরিট মুভিটির অনেক বড় একটি ব্যাপার ছিল… তাই কোন ফুটবল প্রেমী বা স্পোর্টম্যানেরই উচিত হবে না মুভিটি মিস করার…

মুভিটির উল্লেখযোগ্য দিক গুলোর মাঝে ছিল চমৎকার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক… ১৯৮১ সালের প্রযুক্তিতে ফুটবল খেলার সুন্দর দৃশ্যায়ন… আর ছিল খেলাধুলার স্পিরিটই যে সবচেয়ে বড় ম্যাডনেস বা পাগলামি তার এক সুনিপুণ প্রদর্শন… এবং দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের আর সব মুভিগুলো থেকে অনেকটা আলাদা স্বাদও ছিল যথেষ্ট উপভোগ্য…

মুভিটি মূলত ১৯৬২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হাঙ্গেরিয়ান মুভি “টু হাফ টাইমস ইন হেল” এর উপর ভিত্তি করে নির্মিত। আর মুল মুভিটির কাহিনি ইতিহাসে “ডেথ ম্যাচ” হিসেবে আখ্যায়িত একটি সত্যিকার ফুটবল খেলা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে বানান। ডেথ ম্যাচ ছিল ১৯৪২ সালে হওয়া ইউক্রেনিয়ান একটি ফুটবল ক্লাবের সাথে জার্মান সৈন্যদের হওয়া ফুটবল ম্যাচ। যে ম্যাচটি জার্মানরা হেরেছিল। এবং সোভিয়েত প্রেস রিলিজ অনুযায়ী ম্যাচটি আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল আরিয়ান জাতির শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা এবং এর জন্য ওই ইউক্রেনিয়ান ক্লাবের সকলকে বাধ্য করে খেলানো হয়েছিল এবং শর্ত ছিল তারা যদি ম্যাচটি হারে তবে তাদেরকে মুক্ত করে দেয়া হবে অন্যথায় তাদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা ম্যাচটি জিতে যায় এবং পরবর্তীতে তাদের সবাইকে মেরে ফেলা হয়।
এই ব্যাপারে আরও জানতে চাইলে নিচের লিঙ্ক গুলো ভিসিট করতে পারেন
http://en.wikipedia.org/wiki/Escape_to_Victory
http://en.wikipedia.org/wiki/The_Death_Match
http://en.wikipedia.org/wiki/FC_Dynamo_Kyiv
http://www.imdb.com/title/tt0083284/trivia

পরিশেষে বলব মুভি হিসেবে এটি সত্যিই অসাধারন লাগতে বাধ্য। সত্যিকারের প্রিয় ফুটবলারদের প্রতিকূল এক পরিবেশে খেলতে দেখা সত্যিই বিশেষ কিছুই মনে হবে। আর কাহিনির ভিন্নতাও আপনাদেরকে মুগ্ধ করবে… তাই আমার মতে সকল পাগলেরই মুভিটি দেখা উচিত… এবং দেখার পর অবশ্যই কেমন লাগলো জানান উচিত যাতে বাকিরাও এই রকম একটি মুভি মিস না করে ফেলে…

http://www.imdb.com/title/tt0083284/

টরেন্ট ডাউনলোড লিঙ্কঃ
http://thepiratebay.se/torrent/5767292/_Victory_%5B1981%5D_John_Huston
ডিরেক্ট ডাউনলোডঃ
http://www.putlocker.com/file/CF3E08F65E5DB986

ধন্যবাদ। 🙂

১৩ thoughts on “মুভি রিভিউঃ Victory A.K.A. Escape to Victory (1981) — যুদ্ধ, খেলা, মুক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *