‘গানের রাজা’

একবার এক রাজা খাজনা বাবদ দশ হাজার টাকা পেলেন। সেই আমলে ১০ টাকার মূল্য অনেক ছিল। সে টাকা তিনি টেবিলের উপর রেখে সে টেবিলের চারপাশে ঘুরতে লাগলেন। হঠাৎ করেই তিনি বলে উঠলেন, আল্লাহ আমারে এই দশ হাজার টাকা দিয়ে ভুলাতে চায়? বলেই টেবিল থেকে টাকাগুলো নিয়ে মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিলেন।


একবার এক রাজা খাজনা বাবদ দশ হাজার টাকা পেলেন। সেই আমলে ১০ টাকার মূল্য অনেক ছিল। সে টাকা তিনি টেবিলের উপর রেখে সে টেবিলের চারপাশে ঘুরতে লাগলেন। হঠাৎ করেই তিনি বলে উঠলেন, আল্লাহ আমারে এই দশ হাজার টাকা দিয়ে ভুলাতে চায়? বলেই টেবিল থেকে টাকাগুলো নিয়ে মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিলেন।

একবার সেই রাজা একজায়গায় যাবার পথে পানি খেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেউ তাকে এলাকায় পুকুরের অভাবে ভালো পানি দিতে পারছিল না। রাজা সেখানেই ঘোড়া থেকে নেমে গেলেন। লোকবল আনিয়ে সেখানে দীঘি খুঁড়লেন। তারপর সেই দীঘির পানি পান করে সেখান থেকে গেলেন। ততদিনে পেরিয়ে গেছে তিন মাস সময়! অনেক সময় তিনি যখন খুব উদাস হয়ে যেতেন তখন তিনি থলে ভর্তি কাঁচা পয়সা নিয়ে স্কুলঘরে ছেলেমেয়ের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। তার সাহায্য চেয়ে কেউ কোনদিন ফেরত আসেনি।

এই রাজা তার মৃত্যুর পর তাকে কিভাবে কবর দেয়া হবে তা আগেই ঠিক করে নিজের কবরস্থান বানিয়ে নিয়েছিলেন। জীবনের শেষ দিকে তিনি তসবিহ নিয়েই নাড়াচাড়া করতেন এবং কবরের পাশে বসে থাকতেন। তিনি বলতেন এটাই তার বাড়ী। তার মৃত্যুর পর তাকে পূর্ব নির্ধারিত কবরেই শায়িত করা হয়। কবরের দেয়ালে সফেদ পাথরে খোদাই করে লেখা রয়েছে ‘লোকে বলে বলেরে-ঘর বাড়ি ভালা নায় আমার, কি ঘর বানাইমু আমি-শূন্যেরও মাজার’।

২২ অগ্রহায়ণ,১৩২৯ সালে সেকালের সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী সুরমা নদীর তীরে লক্ষণছিরি (লক্ষণশ্রী) পরগণার তেঘরিয়া গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহন করেন এই রাজা। সিলেটে তখন আরবী-ফার্সির চর্চা খুব প্রবল ছিল। সিলেটে ডেপুটি কমিশনার অফিসের নাজির আবদুল্লা বলে এক বিখ্যাত ফার্সি ভাষাভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ মতে তাঁর নামকরণ করা হয়- হাসন রাজা। বহু দলিল দস্তাবেজে হাসন রাজা আরবি অক্ষরে নাম দস্তখত করেছেন- হাসান রাজা।

জি, এই রাজার কথাই বলছিলাম। ”
কানাই তুমি খেইড় খেলাও ক্যানে, রঙ্গে রঙ্গিলা কানাই কানাই তুমি খেইড় খেলাও ক্যানে এই কথাটা হাসন রাজা রুধে মনে মনে। স্বর্গপুরী ছাইড়া কানাই আইলাই এই ভুবনে হাসন রাজায় জিজ্ঞাস করুইন আইলায় কি কারনে।। কানাই যে করুইন রঙ্গ রাধিকা হইল ঢং উড়িয়া যাইবো কুমড়ার পতঙ্গ খেলা হইব ভঙ্গ।” এই গানের রচয়িতা হাসন রাজা। যে রাজা এককালে ‘চন্ড হাসন’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন।

হাছন রাজা ছিলেন জমিদার বংশের সন্তান। তার পূর্বপুরুষ ছিল হিন্দু রাজবংশের উত্তরাধিকারী। তাঁদেরই একজন বীরেন্দ্রচন্দ্র সিংহদেব মতান্তরে বাবু রায় চৌধুরী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।হাসন রাজার পুর্বপুরুষের অধিবাস ছিল অয্যোধ্যায়। সিলেটে আসার আগে তাঁরা দক্ষিণবঙ্গের যশোর জেলার অধিবাসী ছিলেন। সিলেটের রামপাশা ও ভাটি অঞ্চল নামে খ্যাত সুনামগঞ্জের লক্ষ্মণশ্রী বিস্তৃত ছিল তাদের রাজত্বকাল।
উত্তারিধাকার সূত্রে তিনি বিশাল ভূসম্পত্তির মালিক ছিলেন। ১২৭৬ বাংলা (১৮৬৯ খ্রিঃ) ১৫ বছর বয়সে তিনি জমিদারিতে বসেন। প্রথম যৌবনে তিনি ছিলেন ভোগবিলাসী এবং সৌখিন। এসময় তিনি নারীদের প্রতি খুব আকৃষ্ট হয়ে পরেন। তাঁর এক গানে নিজেই উল্লেখ করেছেন-
“সর্বলোকে বলে হাসন রাজা লম্পটিয়া”
প্রতিবছর বিশেষ করে বর্ষাকালে নৃত্য-গীতের ব্যবস্থাসহ তিনি নৌকায় চলে যেতেন এবং বেশ কিছুকাল ভোগ-বিলাসের মধ্যে নিজেকে নিমজ্জিত করে দিতেন।
হাসন রাজা দাপটের সঙ্গে জমিদারী চালাতে লাগলেন। কিন্তু এক আধ্যাত্নিক স্বপ্ন-দর্শন হাসন রাজার জীবন দর্শন আমূল পরিবর্তন করে দিল। হাসন রাজার মনের দুয়ার খুলে যেতে লাগলো। তাঁর চরিত্রে এলো এক সৌম্যভাব। বিলাস প্রিয় জীবন তিনি ছেড়ে দিলেন। ভুল ত্রুটিগুলো শুধরাতে শুরু করলেন। জমকালো পোশাক পড়া ছেড়ে দিলেন। শুধু বর্হিজগত নয়, তার অন্তর্জগতেও এলো বিরাট পরিবর্তন। বিষয়-আশয়ের প্রতি তিনি নিরাসক্ত হয়ে উঠলেন। তাঁর মনের মধ্যে এলো এক ধরনের উদাসীনতা। এক ধরনের বৈরাগ্য। সাধারণ মানুষের খোঁজ-খবর নেয়া হয়ে উঠলো তাঁর প্রতিদিনের কাজ। আর সকল কাজের উপর ছিল গান রচনা। তিনি আল্লাহ্‌র প্রেমে মগ্ন হলেন। তাঁর সকল ধ্যান ধারণা গান হয়ে প্রকাশ পেতে লাগলো।
হাসন রাজা কোন পন্থার সাধক ছিলেন তা স্পষ্ট জানা যায় না। তাঁর পদাবলীতে কোন গুরুর নামোল্লেখ নেই। কেউ কেউ বলেন তিনি চিশ্‌তিয়া তরিকার সাধক ছিলেন। সূফীতত্ত্বের প্রেরণা ও প্রভাব তাঁর সঙ্গীতে ও দর্শনে থাকলেও, তিনি পুরোপুরি এই মতের সাধক হয়তো ছিলেন না। নিজেকে তিনি ‘বাউলা’ বা ‘বাউল’ বলে কখনো কখনো উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি বাউলদের সমগোত্রীয় হলেও নিজে আনুষ্ঠানিক বাউল ছিলেন না। সূফীমতের সঙ্গে দেশীয় লোকায়ত মরমীধারা ও নিজস্ব চিন্তা-দর্শনের সমন্বয়ে তাঁর সাধনার পথ নির্মিত হয় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। তাঁর সঙ্গীতরচনার পশ্চাতে একটি সাধন-দর্শনের প্রভাব বলা যায়।

তিনি তেমন কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করতে পারে নি। তবে তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিত। বংশের নিয়মানুসারে তিনি প্রথমে আরবী এবং পরে বাংলা ভাষায় পাঠ শুরু করেন। হাসন রাজা পাখি ভালোবাসতেন। ‘কুড়া’ ছিল তার প্রিয় পাখি। তিনি ঘোড়া পুষতেন। তাঁর প্রিয় দুটি ঘোড়ার নাম ছিল জং বাহাদুর এবং চান্দমুশকি।

হাসন রাজা ছিলেন প্রকৃতই একজন ‘লোকের রাজা’। আবার ‘লোকসাহিত্যেরও রাজা’।
প্রভাব চন্দ্রগুপ্ত তাঁকে অভিহিত করেছেন ‘গানের রাজা’ বলে। কলকাতার লেখক প্রভাত চন্দ্রগুপ্ত যাঁর ৮ বছর বয়সে হাসন রাজাকে দেখার সুযোগ হয়েছিল, তাঁরও আগে রাধারমণও ‘গানের রাজা হাসন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

হাসন রাজা প্রথম জীবনে জমিদার থাকলেও মানসিক অবস্থার পরিবর্তনের ফলে হয়ে উঠেন একজন মরমী কবি এবং বাউল শিল্পী ,হয়ে উঠেন ভাবের জগতের বাসিন্দা । বাংলাদেশে দর্শনচেতনার সাথে সঙ্গীতের এক অসামান্য সংযোগ ঘটিয়েছেন হাসন রাজা যা বলার অপেক্ষা রাখেনা । তার গাওয়া গানে ফুটে উঠে নিছক এই ভব রঙ্গ বাজার , নিজের দোষ গুন , স্রষ্টার সানিগ্ধ কামনা , অনুতাপ ইত্যাদি । তার সকল গান নিয়ে হয়েছে গবেষণা, চলছে গভীর ভাবের ইন্দ্রজাল থেকে মূল ভাব বের করার চেষ্টা। তার গানগুলো আজো মানুষের হৃদয়ে রয়েছে।

কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ ‘আগুনের পরশমনি’ চলচ্চিত্রে শাম্মি আখতারের কণ্ঠে ‘নিশা লাগিলরে, বাঁকা দু নয়নে নিশা…..গানটি বিপাশা হায়াতের অভিনয়ে চিত্রায়িত করেন। এই গানের মাধ্যমে আমাদের প্রজন্মের কাছে হাছন রাজার গান ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে।
হাছন রাজার গানকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করার নেপথ্যে প্রথম ভূমিকা রাখেন প্রয়াত প্রভাত কুমার শর্মা। ১৯২৪ সালে ছাত্রাবস্থায় তিনি এম সি কলেজের পত্রিকায় ‘মরমী কবি হাছন রাজা’ শীর্ষক প্রবন্ধ লেখেন। এটি পাঠক প্রিয়তা লাভ করে। পরবর্তিতে প্রভাত কুমার শর্মা হাছন রাজার আটটি গান নিয়ে শান্তি নিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে যান। কবি গুরু গানগুলো পড়ে আরো গান পড়ার আগ্রহ দেখালে প্রভাত কুমার শর্মা ডাকযোগে আরো পঁচাত্তরটি গান পাঠান।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯ ডিসেম্বর ১৯২৫ Indian Philosophical Congress-এর প্রথম অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতির অভিভাষণে তিনি প্রসঙ্গক্রমে হাসন রাজার দুটি গানের অংশবিশেষ উদ্ধৃত করে তাঁর দর্শন চিন্তার পরিচয় দেন। ভাষণটি ‘Modern Review’ ( January 1926) পত্রিকায় ‘The philosophy of Our People’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। এর অনুবাদ প্রকাশিত হয় ‘প্রবাসী’ ( মাঘ ১৩২২) পত্রিকায়। ১৯৩০ সালে ম্যানচেষ্টার কলেজ অক্সফোর্ড এ অনুষ্ঠিত হিবার্ট লেকচারে প্রথম বাঙ্গালী হিসেবে রবীন্দ্রনাথ আমন্ত্রিত হন। সেখানে মরমী কবি হাছন রাজার দুটি গান উল্লেখ করে তাঁকে বিশ্ব সভায় উপস্থাপন করেন। গান দু’টি হলো- (১) মম আঁখি হইতে পয়দা আসমান জমীন..।(২) রূপ দেখিলামরে নয়নে আপনার রূপ দেখিলামরে..।

তার রচিত গানের সংখ্যা অনেকের মতে হাজারের ও বেশি কিন্তু আমরা মাত্র ৫৫৩টি গানের হদিস পেয়েছি বাকি গুলো আর পাওয়া যায় নি। হাসন রাজা মুখে মুখে গান রচনা করতেন, আর তাঁর সহচরবৃন্দ কী নায়েব-গোমস্তা সে সব লিখে রাখতেন। তাঁর স্বভাবকবিত্ব এসব গানে জন্ম নিত, পরিমার্জনের সুযোগ খুব একটা মিলতনা। তাই কখনো কখনো তাঁর গানে অসংলগ্নতা, গ্রাম্যতা, ছন্দপতন ও শব্দপ্রয়োগে অসতর্কতা লক্ষ করা যায়।

সম্প্রতি সফল নির্মাতা বিবেশ রায় হাসন রাজাকে নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণের জন্য অনুদান পেয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে বিবেশ রায় এই অনুমোদন পান।
হাসন রাজার স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য সিলেট নগরীর প্রানকেন্দ্র জিন্দাবাজারে গড়ে তোলা হয়েছে একটি যাদুঘর। এর নাম দেওয়া হয়েছে মিউজিয়াম অব রাজাস’।

আজ ৬ ডিসেম্বর সিলেটি মরমী গানের সাধক ও প্রভাবশালী জমিদার হাছন রাজার মৃত্যু বার্ষিকী। ১৯২২ সালের এ দিনে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

এক নজরে হাসন রাজাঃ

নামঃ দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরী
ডাক নামঃ হাসন রাজা
জন্ম তারিখঃ ৭ পৌষ ১২৬১ বাংলা (২১ ডিসেম্বর ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দ)
উচ্চতাঃ ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার)
জন্মস্থানঃ তেঘরিয়া (লক্ষণশ্রী), সুনামগঞ্জ (বৃহত্তর সিলেট)
পিতাঃ দেওয়ান আলী রাজা চৌধুরী (১২০৭-১২৭৬ বঙ্গাব্দ) (১৮০০-১৮৬৯ খ্রিঃ)
মাতাঃ মোসাম্মত হুরমত জান বিবি (১২৩৫-১৩১০ বঙ্গাব্দ) (১৯২৮-১৯০৩ খ্রিঃ)
ভাইঃ দেওয়ান ওবায়দুর রাজা চৌধুরী (১৮৩২-১৮৬৯), দেওয়ান মোজাফ্ফর রাজা চৌধুরী (১৮৫২-১৮৭৯)
বোনঃ সহিফা বানু (১৮৫০-১৯১৭)
স্ত্রীঃ আজিজা বানু, বোরজান বিবি, সাজেদা বানু, জোবেদা খাতুন, লবজান চৌধুরী
পুত্রঃ খান বাহাদুর দেওয়ান গণিউর রাজা চৌধুরী (১২৮৩-১৩৩৯ বাংলা), দেওয়ান হাসিনুর রাজা চৌধুরী (১২৮৫-১৩৫১ বাংলা), খান বাহাদুর দেওয়ান একলিমুর রাজা চৌধুরী (১২৯৬-১৩৭১ বাংলা) দেওয়ান আফতাবুর রাজা চৌধুরী (১৩০৩-১৩৬২ বাংলা)
কন্যাঃ রওশন হুসেইন বানু, রওসন হাসান বানু, আলী হুসেইন বানু, রওশন আখতার বানু।
মৃত্যুঃ ২২ অগ্রহায়ণ,১৩২৯ বাংলা (৬ ডিসেম্বর, ১৯২২)

১৪ thoughts on “‘গানের রাজা’

  1. চমৎকার … দারুণ তথ্যবহুল!!
    চমৎকার … দারুণ তথ্যবহুল!! তবে ছবি মিস করলাম…
    :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow:

  2. দারুণ। হাসন রাজাকে নিয়ে খুব
    দারুণ। হাসন রাজাকে নিয়ে খুব কমই লেখালেখি হয়। আপনাকে ধন্যবাদ লেখাটার জন্য। কিছু ছবি এড করে দিলেই পারতেন। লেখাটা আরও সমৃদ্ধ হতো।

    1. রাজা সাহেব আপনার এলাকার নাকি
      রাজা সাহেব আপনার এলাকার নাকি আপনি রাজা সাহেবের এলাকার :চশমুদ্দিন: :চশমুদ্দিন:

      যাই হোক, রাজা সাহেব আর আপনি একই এলাকার মানুষ। তাই শুভেচ্ছা নিন :গোলাপ:

Leave a Reply to ডাঃ আতিক Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *