ডিম পারে হাঁসে, খায় বাঘডাশে

“এক গ্রামের গরীব চাষি কালা মিয়া নাম
সবার প্যাডে ভাত জোগাইতে ক্ষ্যাতে ঝরায় ঘাম ;
তার ছাওয়াল কান্দে ক্ষুদার জ্বালায়,
আর মহাজনে হাসে…
ডিম পারে হাঁসে, খায় বাঘডাশে … ”

ব্রিটিশ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের সময়কার বিখ্যাত একটি গান। যতদূর মনে পড়ে গানটির রচয়িতা চারণকবি মুকুন্দ দাস।

কথা সেইটা না কথা হইলো আজ বাজারে গিয়ে দেখলাম আলু বিক্রি হচ্ছে ১০টাকা কেজি হারে।

ওইদিকে দিনাজপুরের রাস্তায় বস্তা বস্তা আলু গড়াগড়ি খাচ্ছে……

কাহিনী কি??


“এক গ্রামের গরীব চাষি কালা মিয়া নাম
সবার প্যাডে ভাত জোগাইতে ক্ষ্যাতে ঝরায় ঘাম ;
তার ছাওয়াল কান্দে ক্ষুদার জ্বালায়,
আর মহাজনে হাসে…
ডিম পারে হাঁসে, খায় বাঘডাশে … ”

ব্রিটিশ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের সময়কার বিখ্যাত একটি গান। যতদূর মনে পড়ে গানটির রচয়িতা চারণকবি মুকুন্দ দাস।

কথা সেইটা না কথা হইলো আজ বাজারে গিয়ে দেখলাম আলু বিক্রি হচ্ছে ১০টাকা কেজি হারে।

ওইদিকে দিনাজপুরের রাস্তায় বস্তা বস্তা আলু গড়াগড়ি খাচ্ছে……

কাহিনী কি??

বাজারে ন্যায্য দাম না থাকায় আলু চাষীরা পড়েছে মহা বিপদে । উৎপাদিত ১৮ কেজি আলু বিক্রি করে মাত্র ১ কেজি মোটা চালের ভাত খাওয়া যাচ্ছে । এক কাপ চায়ের দামে বিক্রি হচ্ছে ৩ কেজি আলু ।

আলুর ন্যায্য মূল্য আর ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষীদের ব্যাঙ্কের ঋণ মওকুফের দাবী জানিয়ে আলু চাষীদের শ্লোগান
দিতে হয়েছে । কারণ তাদের প্রত্যেকেই সমিতি আর এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করে এক একর জমিতে ৮ হাজার টাকার চুক্তিতে আলু চাষ করেছিলেন । সেই এক একর জমিতে সার , বীজ , কীটনাশক ও কৃষি শ্রমিকের মজুরীসহ খরচ হয়েছে ৫৫হাজার ২০০ টাকা । জমি চুক্তি ও কৃষি উপকরণ এবং শ্রমিকের মজুরীসহ সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ৬৩ হাজার ২০০ টাকা । এক একর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে ৮হাজার কেজি ।
১টাকা ৮০ পয়সা কেজি দরে ৮ হাজার কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ১৪ হাজার ৪০০ টাকায় । জমির মালিককে ৮ হাজার টাকা পরিশোধ করে অবশিষ্ট আছে মাত্র ৬ হাজার ৪০০ টাকা ।

গত কয়েক মাস যাবত সারা দেশব্যাপী রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের কারণে উৎপাদিত আলুর রপ্তানী হয়না । রপ্তানী হলেও সিন্ডিকেট গোত্র অবশ্যই সারা দেশে আলুর চাহিদার অভাব দেখিয়ে কম দামে চাষীদের উৎপাদিত আলু
বিক্রি করাতে বাধ্য করছে বলে ধরেই নেওয়া যায় । তারপর সেই আলু নিয়ে মধ্যসত্ত্বভোগী ছড়িয়ে যায় । সে মোবাইল ফোনে আগে থেকেই জেনে যায় কতোতে চাষীর কাছ থেকে আলু কিনলে তার কাছে কতো থাকতে পারে । কারণ রাস্তায় আলু নিয়ে যেতে যেতে তাকে অনেকের কাছেই বখরার
লস গুণতে হবে । পুলিশ থেকে শুরু করে মাস্তান এমনকি খোদ সরকারের একাংশের কাছেও সেই লাভের বখরা পৌঁছে যাবে । এই দৃশ্য অবধারিত কারণ এমনটা হয়ে আসছে বরাবর। এই পদ্ধতি ছাড়া এই দেশে কারো পক্ষেই বিত্তবৈভব মারানো সম্ভব নয় ।

এবার শুনি কৃষক আনোয়ার হোসেন ফার্মার ভাই কি বলেন—

“আলু চাষীরা দেড় টাকায় কেজিও বেচতে পারছেনা সাত
টাকায় কেজি উৎপাদিত আলু। রাস্তা-
ঘাটে ফেলে রেখে যাচ্ছে চড়া সুদে নেওয়া ঋণের টাকায়
উৎপাদিত ফসল। সরকার চুপ, প্রসাশন চুপ,
কৃষিমন্ত্রী চুপ, পেট মোটা বুদ্ধিজীবীরা চুপ, নাদান
বাঙালিও চুপ।
উপরন্তু কৃষি মন্ত্রী ব্যাস্ত মনসান্টোর দালালিতে,
বিটি বেগুনের বীজ বেচতে, বিটির ফজিলত বুঝাতে।
ত্যানা ব্যাবসায়িদের সংগঠন বিজিএমইয়ে বলে ডলারের
দাম কমেছে, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো! সরকার বলে, নেন
আব্বারা- পাঁচ হাজার কোটি টাকা নেন!
বুদ্ধিজীবী রাতে কলাম লিখে ফেলে, শিল্প বাঁচলে দেশ
বাঁচবে! পত্রিকায় খবর ছাপে, শিল্প রক্ষায় পাঁচ হাজার
কোটি টাকার প্রণোদনা!
এদিকে বছর শেষে অর্থনীতিবিদরা বলেন, জাতিয়
অর্থনীতির আশিভাগ যোগান আসে এখনও কৃষি থেকে!
কৃষি আছে বলে দেশ আছে, নইলে ‘নাই’ হয়ে যেতো।
মালিকরা নিয়মিত শ্রমিকদের বেতন দিতে পারেনা!
কারসাজি করে বেতন কমায়, সরকার নির্ধারিত বেতন
দিতে তাদের কারখানা দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি!
তাহলে শিল্পের অর্থ কি দাঁড়ালো, ভর্তুকি কোথায় যায়?
শিল্পে নাকি লুটেরাদের পেটে? সরকার কি? শিল্প
কোনটি, যেটি শ্রমিক মারে-শ্রমিক শোষন
করা শেষে আবার গনমানুষের টাকা লুটে নেয় সিন্ডিকেট
করে?”

২ thoughts on “ডিম পারে হাঁসে, খায় বাঘডাশে

  1. ভাল একটি বিষয়ে লিখেছেন ।আপনি
    ভাল একটি বিষয়ে লিখেছেন ।আপনি বেশ কিছু বিষয় একসাথে গুলিয়ে ফেলেছেন ।শিল্প এবং কৃষি দুটি বিষয়ে আলাদা আলাদা বক্তব্য রাখলে ভাল হত ।

    কৃষির ভর্তুকি কোথায় যায়, কে পায়, কার লাভ, কার ক্ষতি হয় এই অধম আজ পর্যন্ত জানতেও পারলাম না ।তবে একটা জিনিস পরিস্কার ভাবেই দেখেছি, উৎপাদন কম হলেও কৃষক বিপদে পড়ে, বেশ হলেও কৃষক বিপদে পড়ে ।কৃষকের জন্য বিপদই যেন একমাত্র বীজ, একমাত্র ফসল ।

  2. সরকারি উদ্যোগে প্রত্যেক
    সরকারি উদ্যোগে প্রত্যেক জেলা/উপজেলা/ঢাকায় সরাসরি কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে। ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *