জন্মদাতা

এক জোড়া চোখ নিয়ে সংসদ ভবনের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। আজ সকল আনন্দ, বেদনা, অনুশুচনা, রাগ, অনুরাগ, অভিমান আমার, সুধুই আমার। সবকিছু নিয়ে আমি একাই থাকবো। এই সময়, এই একা থাকা, এই নিঃশ্বাস, সবকিছু আমার। আজকের জন্য সময়টাকে আমি আমার করে রাখতে চাই। এই কয়েক ঘন্টার বসে থাকার অর্থ আমার জানা নেই। শুধু এটাই জানি যে আমি বসে আছি। পাশের আম গাছটির ছায়া আমাকে একা থাকতে দিচ্ছেনা। পৃথিবীটাই এমন বোধয়। সাহায্যের জন্য পাগল। আমার অজান্তে, আমার অনুমুতি ছাড়াই এমন অনেক কিছুই দেবে যা আমার প্রয়োজন। প্রকৃতি আমার প্রয়োজন বোঝে, খুব ভালো করে। আবার এমন অনেক কিছুই নিয়ে যায় যা আমার প্রয়োজন।

এক জোড়া চোখ নিয়ে সংসদ ভবনের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। আজ সকল আনন্দ, বেদনা, অনুশুচনা, রাগ, অনুরাগ, অভিমান আমার, সুধুই আমার। সবকিছু নিয়ে আমি একাই থাকবো। এই সময়, এই একা থাকা, এই নিঃশ্বাস, সবকিছু আমার। আজকের জন্য সময়টাকে আমি আমার করে রাখতে চাই। এই কয়েক ঘন্টার বসে থাকার অর্থ আমার জানা নেই। শুধু এটাই জানি যে আমি বসে আছি। পাশের আম গাছটির ছায়া আমাকে একা থাকতে দিচ্ছেনা। পৃথিবীটাই এমন বোধয়। সাহায্যের জন্য পাগল। আমার অজান্তে, আমার অনুমুতি ছাড়াই এমন অনেক কিছুই দেবে যা আমার প্রয়োজন। প্রকৃতি আমার প্রয়োজন বোঝে, খুব ভালো করে। আবার এমন অনেক কিছুই নিয়ে যায় যা আমার প্রয়োজন।
কয়েকটা পিঁপড়ে আমার পায়ের উপর হাঁটাহাঁটি করছে। অনুভব হচ্ছে। অনেক্ষন ধরেই হাঁটছে তারা। বিশ্বাস জিনিসটাই এমন। বিশ্বাস আমাদের ভালবাসাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। যেই পর্যায়কে অনেকেই ভয় পায়। এই বিশ্বাসের উপরে জন্ম নেয়া ভালোবাসার স্বাদ অতুলনীয়। আর যখন প্রকৃতি আমাদের এই ভালোবাসাকে আমাদের থেকে আলাদা করে দেয় তখন এর কষ্টটাও অতুলনীয়।

আমি কি আপনার পাশে একটু বসতে পারি ?

ভুল শুনলাম নাকি, একটা কন্ঠ ! ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতে ইচ্ছে করছেনা। আমার ইচ্ছেশক্তি আমাকে অন্যকিছু মনে করিয়ে দেয়। সেই অন্যকিছু নিয়েই আমি ভাবছি, যার অস্থিরতা, আকর্ষণ এবং চাওয়া-পাওয়া বিশাল রুপ ধারণ করে আছে। এর মাঝে অনুভব করলাম কেউ বোধয় আমার পাশে বসে পড়ল।

.আমি কি কিছুক্ষন গল্প করতে পারি আপনার সাথে?
.চুপচাপ কেন ?
.কি হল ! না, মানে, অনেক্ষন ধরে দেখছি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন তাই আসলাম।
.আচ্ছা বলেন না কি ভাবছেন !

কোন কথারই উত্তর দিতে ইচ্ছে করছে না। কারন এই সময়টুকু সুধুই আমার। কয়েকঘন্টার মাঝে এই প্রথমবারের মত আমি ঘার ঘুরালাম। সে আমার ডান পাশে বসে আছে। তার চোখের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে জীবন দিয়ে দেয়া যায়। চোখগুলো যেমন সুন্দর তেমন মায়াময় এবং কৌতূহল এ পরিপূর্ণ। তার কৌতূহল ভাঙ্গাতে ইচ্ছে করছেনা। ইচ্ছে মত যে সবকিছু হতে হবে তা কিন্তু না। আবার আগের অবস্থায় ফিরে এলাম। ইচ্ছে যদি সবসময় পূরণ হত, আমি আমার কষ্টগুলোকে মুছে ফেলতাম। কখনও আসতেই দিতাম না আমার কাছে। কারন যেই কষ্ট আমি আজকে লালন করছি তা আমার বাবাকে নিয়ে। বাবা শব্দটা আমার জন্য সবথেকে আনন্দদায়ক এবং বেদনাদায়ক। শব্দটার মূল্য সুধুই আমি বুঝি। খুব ছোটবেলায় বাবার আদর পেয়েছিলাম। বাবাকে মন ভরে ডেকেছিলাম।
এখন,
এক ফোঁটাও মনে নেই বাবার কথা। সুধুমাত্র কিছু সৃতি আমার শরীরে ঝাপসা হয়ে বসবাস করে। এই সৃতিগুলো বড়ই পাষাণ। আমাকে সবসময় কাঁদায়। আমি নাকি আমার বাবার মত দেখতে। প্রায় সময় আয়নায় নিজেকে দেখি আর বাবার কথা ভাবি। বাসার যে কয়েকটা ছবি আছে তা দিয়ে কতটুকু সৃতি আওড়ানো সম্ভব ! আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, তিনি কেমন করে হাঁটতেন, কি পছন্দ করতেন, কি অপছন্দ করতেন। কোন ধরণের মানুষ ছিলেন। কেউ যখন তার সাথে খারাপ ব্যাবহার করতো তখন তিনি কি করতেন। ভালো ব্যাবহারেই বা কি করতেন। কারো কষ্ট দেখে কি বসে থাকতেন ? নাকি ছুটে গিয়ে সাহায্য করতেন। কি খেতে পছন্দ করতেন। কোন খাবারটা দেখলে নাক কুচকাতেন। ইচ্ছের শেষ নেই। আরও আরও আরও অনেক কিছু জানতে ইচ্ছে করে। যখন থেকে বুঝতে শিখেছি আমি আম্মুকে জিজ্ঞেস করিনা বাবার কথা। কারন, আমি জানি আম্মুরও আমার মত অনেক কষ্ট হয়। আব্বুকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে, কেন কোনদিন কিছু আবদার করে পাবার আগেই তুমি চলে গেলে ? তোমার কাছ থেকে বিভিন্নরকম সারপ্রাইজ গুলো পাবার আগেই তুমি সবথেকে বড় সারপ্রাইজ দিয়ে চলে গেছো।
তোমাকে বলতে ইচ্ছে করে, খুব কষ্ট হয় যখন তোমার কথা মনে পড়ে। জানো বাবা, যখন কেউ তার বাবার সাথে থাকে খুব হিংসা হয় আমার। আমার তখন চিৎকার করতে ইচ্ছে করে, আমার বাবা নেই কেন। এতো তাড়াতাড়ি আমাকে ছেড়ে যাবার কি দরকার ছিল তোমার ? উপরে কি তোমার কাজ এতোই জরুরি ছিল? যে আমাকে ছেড়ে যেতে হল ! এখানে যে তোমাকে অনেক বেশী দরকার বাবা। আমাকে একা ফেলে তুমি যেতে পারলে বুঝি? আমি যে তোমাকে ভালবাসি বাবা , জানোনা ?

চোখ ঝাপসা হয়ে আছে, কিছু দেখা যাচ্ছেনা সামনে। পাশে কেউ নেই। নিচের দিকে তাকালাম। আমার চোখের দু ফোঁটা অস্রু পিপড়েমহলের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি করে দিল। তারা ছুটোছুটি করতে লাগলো…

৮ thoughts on “জন্মদাতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *