চোরাবালি

চোরাবালি

চোরাবালি, না না সিনামার কথা বলছি না। বলছি পৃথিবীর প্রকৃতির একটি রহস্যময় ও বিস্ময়কর খেলার কথা।চোরাবালির কথা আমরা হরহামেশায় শুনে থাকি। কিন্তু চোরাবালি আসলে কি?


চোরাবালি

চোরাবালি, না না সিনামার কথা বলছি না। বলছি পৃথিবীর প্রকৃতির একটি রহস্যময় ও বিস্ময়কর খেলার কথা।চোরাবালির কথা আমরা হরহামেশায় শুনে থাকি। কিন্তু চোরাবালি আসলে কি?

>>কিঃ সাধারণভাবে আমরা চোরাবালি বলতে বুঝি- যখন বালি, কাদা বা নুড়ি গর্ভস্থ পানির প্রবাহের সান্নিধ্যে আসে, সেই বালি বা নুড়ির দানাগুলোর মধ্যে যে ঘর্ষণ শক্তি থাকে তা কম হয়ে যায়, আর সেই বালি বা মাটি ভার সহ্য করতে পারে না- একেই চোরাবালি বলে।চোরাবালি (ইংরেজি: Quicksand) হলো বালি বা পলিজাতীয় দানাদার পদার্থ, মাটি ও লোনাজলের কলয়েডীয় মিশ্রণ যা আপাতদৃষ্টিতে কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু মৃদু আলোড়ন সৃষ্টি করলে বা এর উপর চাপ ১%-এর বেশি বৃদ্ধি করলে (যেমন এর উপর দিয়ে হাঁটা শরু করলে) প্রথমে হঠাৎ সান্দ্রতা কমে তরলীকরণ ঘটে, কিন্তু তারপর এর মধ্যে আলোড়নকারী বস্তুর (যেমন চলমান পা) চারদিকে কলয়েডের দানা অংশের ঘনীভবন ঘটে ও স্থানীয় সান্দ্রতা খুব বৃদ্ধি পায় ও ছাড়িয়ে নেওয়া খুব মুশকিল হয়। চোরাবালি নদীতে, চরে কিংবা সমুদ্রের সৈকতের বালুতে প্রায়ই দেখা যায়।

চলচ্চিত্র ইত্যাদিতে নাটকীয়ভাবে দেখালেও চোরাবালিতে কেউ পুরো ডোবেনা- মানুষের আপেক্ষিক গুরুত্বে চোরাবালিতে ভেসে থাকা উচিৎ।সাধারণত চোরাবালিতে কেউ আটকে গেলে স্বীয় চেষ্টায় তা থেকে উঠে আসতে পারে না মানুষ, তখন সহায়তাকারীর দরকার হয়। এজন্য বিভিন্ন সমুদ্র সৈকতে লাইফগার্ডদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এজাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য, তাছাড়া কোস্ট গার্ডের এসকল দুর্যোগে উদ্ধার তৎপরতায় বিশেষ প্রশিক্ষণ থাকে।
এ ধরনের ব্যাপার আমরা সমুদ্র সৈকতে বা নদীর ধারে বা বিলের ধারে বা কাদাময় জায়গায় বা জলাভূমিতে দেখতে পাই।

>> কেন এটি বিপদজনকঃ সমুদ্রধারের বালিতে যদি কেও দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে খানিকক্ষণ পর দেখা যাবে যে ধীরে ধীরে তার পা বালির ভেতর বসে যাচ্ছে। এটাও এক ধরনের ছোটখাটো চোরাবালি। তবে এ ধরনের চোরাবালির গভীরতা মাত্র কয়েক ইঞ্চি হয়। তাই সেসব স্থানে শুধু আমাদের পায়ের পাতা ডোবে। তবে যে সব স্থানে এর গভীরতা বেশি সেসব স্থান খুবই ভয়ংকর।চোরাবালি পানি ও তরল কাদা মিশ্রিত এমনই একটি গর্ত, এর ফাঁদে একবার পা দিলে আর নিস্তার নেই। আস্তে আস্তে ডুবে যেতে হয় বালির ভেতর। যত নড়া যায় ততই ডুবে যেতে থাকে শরীর। সাধারণত নদী বা সমুদ্রতীরে কাদা মিশ্রিত বালির ভেতরে লুকানো অবস্থায় থাকে চোরাবালি। কোনও মানুষ যদি সেই গর্তের ধারে-কাছে যায়, তাহলে শরীরের চাপে ওই বালি ক্রমে সরে যেতে থাকে। ফলে মানুষ শত চেষ্টা করেও আর ওপরে উঠে আসতে পারে না। চোরাবালিতে পড়ার পর সেখান থেকে উঠে আসার জন্য চেষ্টা করলে শরীরের চাপে আরও দ্রুত ডুবে যেতে হয়। সময়মতো কেও এগিয়ে না এলে ওই মানুষ নিশ্চিত মৃত্যুকোলে ঢলে পড়ে। তবে অধিকাংশ চোরাবালি সাধারণত মারাত্মক নয়। তবে এটি প্রকৃতির একটি অদ্ভুত বিস্ময়।যেসব জায়গায় পানি বেশি, সেসব জায়গায় চোরাবালি থাকার সম্ভাবনাও বেশি। যেমন জলা, নদী, খাল, সমুদ্রতীর এবং জলাভূমি। যেসব জায়গায় ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ থাকে সেখানে চোরাবালি থাকতে পারে বা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।চোরাবালিতে আটকে গেলে একদমই অধৈর্য হওয়া যাবে না। অধৈর্য হয়ে হাত-পা ছোড়াছুড়ি করলে আরও বেশি আটকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

@@যা মনে রাখা প্রয়োজনঃ সবার মনে রাখা উচিত, চোরাবালি কিন্তু পানির চেয়ে অনেক বেশি ঘন। তাই চোরাবালিতে ভেসে থাকা পানির চেয়ে অনেক বেশি সহজ। যদি সঙ্গে কোনও ভারি বস্তু থাকে তাহলে তা ছেড়ে ফেলতে হবে। কারণ ভারি বস্তু আরও বেশি দ্রুত নিচে টেনে নিতে পারে।বেশিরভাগ চোরাবালির গভীরতা কম হয়। খানিকটা ডোবার পর হয়তো পা তলায় আটকে যেতে পারে। যদি তা না হয়, মানে যদি চোরাবালি খুব গভীর হয় তাহলে পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে যেমন পানিতে আমরা যেভাবে সাঁতার কাটি, ঠিক সেভাবে নিজের শরীরকে যতটা সম্ভব অনুভূমিক করে ফেলতে হবে। তারপর খুব ধীরে ধীরে সাঁতরে চোরাবালির বাইরে আসার চেষ্টা করতে হবে। সাথে যদি অন্য কোনও ব্যক্তি থাকে তাহলে তাকে বলতে হবে নিরাপদ দূরত্ব থেকে রশি ফেলতে এবং এই রশি ধরে ধীরে ধীরে চোরাবালি থেকে উঠে আসা যাবে।


@@অবদানঃ
চোরাবালি ভূবিদ্যায় অনেক অবদান রেখেছে। প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকেই পৃথিবীতে চোরাবালি আছে। সেই সময় যেসব জীবজন্তু চোরাবালিতে আটকা পড়ে মারা গিয়েছিল তাদের দেহবাশেষ মাটিতে পচে ফসিলে পরিণত হয়েছে। হলিউডের বিখ্যাত ‘জুরাসিক পার্ক’ বা ‘কিং কং’ সিনেমায় ডাইনোসরদের দেখানো হয়েছে। এসব ডাইনোসর বা অন্য জন্তুজানোয়ারদের কথা আমরা বর্তমান সময়ে এসে জানতে পেরেছি তাদের জীবাশ্ম থেকে। আর এসব জীবাশ্ম আমরা পেয়েছি সেই সময়কার পাথর থেকে। আসলে চোরাবালিতে আটকে গিয়ে এসব জীবজন্তু মাটির তলায় তলিয়ে গিয়েছিল। মাটির ভেতরে আটকে যাওয়ার দরুন, তাদের দেহবাশেষ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়ে যায়। এই চোরাবালি কয়েক লক্ষ বছর পরে ধীরে ধীরে পাথরে পরিণত হয়।

@@ আমরা বাংলাদেশে অনেক সময় নদীতে, ঝরনায় বা সমুদ্রে মানুষ ডুবে মারা যাবার ঘটনা শুনে থাকি। কে যানে হয়তো এই সব হতভাগা মানুষ গুলি চোরাবালির ফাঁদে পড়ে ডুবে মরেছে। তাই সাবধান এই চোরাবালি হতে।

৫ thoughts on “চোরাবালি

  1. তখন বিটিভিতে হা করে একটা ছবি
    তখন বিটিভিতে হা করে একটা ছবি দেখেছিলাম টারজান। সেখানেই প্রথম চোরাবালি দেখি।সর্বশেষ চোরাবালি দেখি বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে।আকর্ষণ ছিলো জয়া আহসান।যদিও দুই চোরাবালিতে পার্থক্য ব্যাপক।ধরন একই।তথ্যপূর্ণ পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ।

  2. বেশ দরকারি টপিক নিয়ে অনেক
    বেশ দরকারি টপিক নিয়ে অনেক তথ্য সমৃদ্ধ লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ। :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :থাম্বসআপ: কে জানে কবে কিভাবে আবার চোরা বালির ফাঁদে পরে যাই। তখন আশা করছি কাজে লাগবে। :খুশি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *