হয়

আড়াই ঘন্টা যাবৎ ফাহিম টিএসসি চত্ত্বরে বসে আছে । দীপ্তির আসার নামগন্ধও নেই । সেই কখন থেকে ফাহিম দীপ্তির মোবাইলে টেক্স্ট পাঠিয়ে যাচ্ছে । এখনো একটা রিপ্লাইও দেয়নি সে । ফাহিমের টেনশন বেড়েই চলেছে । ফাহিমের জায়গায় অন্য কেউ হলে অবশ্যই টেনশন করতো না । কিছুক্ষন অপেক্ষা করে বিরক্ত হয়ে গিয়ে ফেসবুকে মুখ ডুবাত । তারপর অন্য কোনো এক মেয়ের সাথে চ্যাটিং করতে করতে একসময় ভুলেই যেতো যে সে কারো জন্যে অপেক্ষা করছিলো । আধুনিক প্রেম-ভালোবাসা অনেকটা এরকমই । আজকাল এটা একটা ফ্যাশনে রূপ নিয়েছে । কিন্তু ফাহিমের কাছে ভালোবাসা ব্যাপারটা সম্পূর্ণ অন্যরকম । আধুনিকতার ধরা ছোয়ার বাইরে । সত্যিকারের ভালোবাসা যেমনটা হওয়া উচিৎ ।

আড়াই ঘন্টা যাবৎ ফাহিম টিএসসি চত্ত্বরে বসে আছে । দীপ্তির আসার নামগন্ধও নেই । সেই কখন থেকে ফাহিম দীপ্তির মোবাইলে টেক্স্ট পাঠিয়ে যাচ্ছে । এখনো একটা রিপ্লাইও দেয়নি সে । ফাহিমের টেনশন বেড়েই চলেছে । ফাহিমের জায়গায় অন্য কেউ হলে অবশ্যই টেনশন করতো না । কিছুক্ষন অপেক্ষা করে বিরক্ত হয়ে গিয়ে ফেসবুকে মুখ ডুবাত । তারপর অন্য কোনো এক মেয়ের সাথে চ্যাটিং করতে করতে একসময় ভুলেই যেতো যে সে কারো জন্যে অপেক্ষা করছিলো । আধুনিক প্রেম-ভালোবাসা অনেকটা এরকমই । আজকাল এটা একটা ফ্যাশনে রূপ নিয়েছে । কিন্তু ফাহিমের কাছে ভালোবাসা ব্যাপারটা সম্পূর্ণ অন্যরকম । আধুনিকতার ধরা ছোয়ার বাইরে । সত্যিকারের ভালোবাসা যেমনটা হওয়া উচিৎ ।

ফাহিমের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করেছে । আরো আধা ঘন্টা পেরিয়ে গিয়েছে । দীপ্তি এখনো এসে পৌছায়নি । একটা রিপ্লাই পর্যন্ত দিচ্ছে না । ফোন করলেও রিসিভ করছে না । খারাপ কিছু হয়নি ত !
“খারাপ কিছু” চিন্তাটা মাথায় আসতেই ফাহিমের মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো । এসব আজেবাজে চিন্তা সে কেনো করছে ! হয়তো দীপ্তির বাসায় কোনো সমস্যা হয়েছে । আর ফোনটাও হয়তোবা সাইলেন্ট মোডে আছে ।
কিন্তু এরকম হলে ত দীপ্তির নিজে থেকেই অন্তত একটা মেসেজ পাঠানো উচিৎ । নিজের মনকে কিছুতেই শান্ত করতে পারছে না ফাহিম । সময় পেরিয়ে যাচ্ছে । সেই সাথে তার টেনশনও বেড়েই চলেছে ।
অপেক্ষার প্রহর চারঘন্টা পেরিয়ে গিয়েছে । এমন সময় দীপ্তির ফোনকল :

– সরি সরি সরি সরি সরি সরি সরি সরি

– আজব । এতবার সরি না বলে কী হয়েছে সেটা আগে বলো ?

– আরে জানো , বাসায় ছোট্ট খালামনি আসছে । খালামনির পিচ্চিটা না এত্তোওওওও কিউট । ইচ্ছে করে গালদুটো কামড়ে খেয়ে ফেলি ।

– তোমার খালামনি এসেছে তাই তুমি আজকে দেখা করতে পারবে না এটা আমাকে একবার বললেই হতো । আমি শুধুশুধু এত্তোগুলা টেনশন করতাম না ।

– আরে বাবা সরি বললাম ত । আর এতে টেনশন করার কী আছে

– তোমার জন্য আমি চারঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছি কিন্তু তোমার আসার কোনো নামগন্ধও নেই । আর তুমি বলছো টেনশন করবো না !

– এইসব তোমার আজাইরা ঢং । হুহ

– আচ্ছা ঠিক আছে । আজকে তাহলে আর দেখা হচ্ছে না ?

– কোন দুঃখে আজকে তোমার সাথে আমি দেখা করতে যাবো বলো ? খালামনির এই কিউট পিচ্চিটা যতদিন থাকবে ততদিন আমি ঘর থেকেই বের হব না । সারাদিন ঐটাকে কোলে নিয়ে বসে থাকবো । হিহিহি

– তোমাকে অনেকদিন দেখি না

– আমি ত আর তোমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি না ।

– আই নো ।

– এই এখন রাখি । আজকে দেখা করতে পারি নাই তাই রাগ করো না প্লিজ ।

– আচ্ছা করবো না

– তুমি অনেক অনেক অনেক অনেকগুলা ভালো । লাভ ইয়্যু । টাটা ।

ফাহিম এখন অনেকটাই স্বস্তিবোধ করছে । টেনশনের বিশাল বোঝাটা ঘাড় থেকে নেমে গিয়েছে । যাক , দীপ্তির কোনো বিপদ হয়নি । এটা ভেবেই ভালো লাগছে তার । তবে সামান্য একটু মন খারাপও । দীপ্তিকে আসলেই খুব দেখতে ইচ্ছে করছিলো ওর । কিন্তু দেখা হলো না শেষ পর্যন্ত ।

শেষ বিকেলের আলোতে হাঁটতে শুরু করলো ফাহিম । মনের ভিতর একটা গান গেয়ে চলেছে –
“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে
তবে একলা চলোরে…”

অনেকদিন কেটে গেছে । দীপ্তির সাথে ফাহিমের এখনো দেখা হয়নি । প্রতিবারই কোনো না কোনো কারনে দীপ্তি আসতে পারছে না । তাই বলে ফাহিমের কোনো রাগ নেই । কেবল মাঝে মাঝে একটু মন খারাপ হয় । এই ব্যাপারটা সে খুব স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিয়েছে । হয়তো সত্যিকারের ভালোবাসা এরকমই হয় । প্রেমিকার শত অবহেলাও গায়ে লাগে না যদি তা সত্যিকারের ভালোবাসা হয় ।

ফাহিম আজ দীপ্তিকে না জানিয়েই চলে এসেছে । ওকে সারপ্রাইজ দেবে বলে । বইমেলাও শুরু হয়ে গিয়েছে । একসাথে অনেকটা সময় কাটানো যাবে । রমনায় বসে বাদাম খেতে খেতে ফাহিম দীপ্তিকে মেসেজ পাঠালো –
“তুমি আসবে ? একসাথে বইমেলায় যাবো”

কিছুক্ষন পর দীপ্তির রিপ্লাই – “এই , বাবার আবার হার্ট এটাক হয়েছে বোধহয় । হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি । দোয়া করো :'( ”

“কখন ? কোন হাসপাতালে ?”

দীপ্তির আর কোনো রিপ্লাই আসেনি । ফাহিমের মনটা আবার খারাপ হয়ে গেলো । দীপ্তি রিপ্লাই দেয়নি তাই বলে নয় । দীপ্তির বাবার জন্য । মানুষটা খুব সহজ সরল । সামান্য অসুখ হলেই ভীষণ ভয় পেয়ে যান । আর আজ এখন কী অবস্থা কে জানে ! কোন হাসপাতালে তাকে নিয়ে গিয়েছে সেটাও জানে না ফাহিম । এই অবস্থায় দীপ্তিকে ফোন করাটাও ঠিক হবে না । তাই সে ভাবলো একটু বই মেলা থেকে ঘুরে আসবে । হয়তো বইগুলোই তাকে কিছুটা ‘নিজের’ থেকে দূরে রাখবে ।

হাটতে হাটতে বইমেলায় চলে এলো ফাহিম । অসংখ্য মানুষের ভীড় । সাথে লক্ষ বইয়ের ঘ্রাণ । হঠাৎ করেই সেই বিষন্নতা থেকে অনেকটা দূরে হারিয়ে গেলো ফাহিম । একের পর এক স্টল ঘুরে বেড়াচ্ছে , বইয়ের পাতা উল্টে যাচ্ছে । অন্যপ্রকাশের স্টলের সামনে এসে ফাহিম থমকে দাঁড়ালো । বুকের ভেতর কোথায় যেনো একটু ব্যাথা হচ্ছে বুঝতে পারছে না সে । একটা বই কেনার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকা সেই মানুষগুলো অনেক কমে গেছে এখন । আগের সেই প্রাণচাঞ্চল্য নেই । নেই সেই মানুষটিও !

হঠাৎ ফাহিমের চোখ পড়লো পাশের স্টলে । কিছুক্ষণের জন্য মনে হলো ওটা দীপ্তি । কিন্তু সে ত ওর বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে গেছে ! তাহলে ?

আরেকটু সামনে এগিয়ে গেলো ফাহিম । নাহ , এটাতো দীপ্তিই ! কিন্তু সে ত বলেছিলো ওর বাবার হার্ট এটাক ! আর ওর সাথে এই ছেলেটিইবা কে ? এতো ঘনিষ্ঠ হয়ে একজন আরেকজনের হাত জড়িয়ে ধরে রেখেছে ! দীপ্তির একহাতে একগুচ্ছ ফুল । একটু পরপরই সে খিলখিল করে হাসছে ।

কিছুক্ষনের জন্য ফাহিম মূর্তি হয়ে গেলো । পেছনে ফেলে আসা সেই দিনগুলোর কথা ; দীপ্তির সেইসব অযুহাতের কথা মনে পড়ছে । সেগুলো তাহলে মিথ্যে ছিলো !

মুচকি হেঁসে ফাহিম পা বাড়ালো উল্টোপথে । সে জানে…দীপ্তি তাকে দেখতে পায়নি

[গল্পের নামটা একটু অন্যরকম । কিন্তু সত্যিই ত এরকমটা হয়]

৯ thoughts on “হয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *