হরেক রকম সরস্বতী

ঋগ্বেদের অধিকাংশ স্থলেই সরস্বতী শব্দ সিন্ধু নদ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে| আবার কোনও কোনও স্থলে মধ্যদেশস্থ দেবনদী অর্থেও এর প্রয়োগ আমরা দেখতে পাই| ষোড়শ ঋকের দ্বিতীয় মণ্ডলের ৪১তম সূক্তে সরস্বতী মাতৃগণের, নদীগণের ও দেব গণের শ্রেষ্ঠা বলে বর্ণিত হয়েছেন| ইনি ব্রাহ্মাবর্তের একতর সীমা এবং কুরুক্ষেত্রে অন্তড়িত হয়ে গঙ্গা যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়েছেন| তবে পরবর্তী বৈদিক যুগে নদীদেবতা হিসাবে মাহাত্ম্য হারিয়ে ইনি সাহিত্য, শিল্প ও সঙ্গীতকলার দেবী হিসাবে পরিচিতা হন| শাস্ত্রে আমরা অনেকরকম সরস্বতীর পরিচয় পাই, যেমন-


ঋগ্বেদের অধিকাংশ স্থলেই সরস্বতী শব্দ সিন্ধু নদ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে| আবার কোনও কোনও স্থলে মধ্যদেশস্থ দেবনদী অর্থেও এর প্রয়োগ আমরা দেখতে পাই| ষোড়শ ঋকের দ্বিতীয় মণ্ডলের ৪১তম সূক্তে সরস্বতী মাতৃগণের, নদীগণের ও দেব গণের শ্রেষ্ঠা বলে বর্ণিত হয়েছেন| ইনি ব্রাহ্মাবর্তের একতর সীমা এবং কুরুক্ষেত্রে অন্তড়িত হয়ে গঙ্গা যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়েছেন| তবে পরবর্তী বৈদিক যুগে নদীদেবতা হিসাবে মাহাত্ম্য হারিয়ে ইনি সাহিত্য, শিল্প ও সঙ্গীতকলার দেবী হিসাবে পরিচিতা হন| শাস্ত্রে আমরা অনেকরকম সরস্বতীর পরিচয় পাই, যেমন-

মহা সরস্বতীঃ দেবী মাহাত্ম্য অনুসারে ইনি মহাকালী, মহালক্ষ্মী ও মহাসরস্বতীর মিলিত রূপ| অষ্টভুজা এই দেবী শ্বেতপদ্মাসনা ও বীণাবাদনরতা| ঘন্টা, ত্রিশূল, লাঙ্গলের ফলা, শাঁখ, মুষল, চাকতি, ধনুক ও তীর তাঁর হাতে ধরা| শারদ পূর্ণিমার চন্দ্র মতো তাঁর দীপ্তি| গৌরীর শরীর থেকে তাঁর জন্ম এবং তিনি শুম্ভ ইত্যাদি অসুরদের বধকারিণী|

নীল সরস্বতীঃ ইনি মহাবিদ্যা তারার আর এক রূপ| তন্ত্রসারে তাঁর ধ্যানমন্ত্র পাওয়া যায়| কথিত আছে – বিদ্যাবতীর কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বনের মধ্যে এক জলাশয়ে কালিদাস যখন প্রাণ বিসর্জন দিতে যান তখন নীল সরস্বতী আবির্ভূত হয়ে তাঁকে আত্মহত্যায় নিরস্ত্র করেন| এরপর কালিদাসের প্রার্থনায় তুষ্ট হয়ে তিনি কালিদাসের জিহ্বার অগ্রভাগে সদা বিরাজ করতে থাকেন| এরই ফলে মূর্খ কালিদাস হয়ে ওঠেন মহাপন্ডিত|

আর আমরা সাধারণত যে দেবী সরস্বতীকে জানি তিনি চতুর্ভুজা, শ্বেত বস্ত্রাবৃত, শ্বেত পদ্মাসনা সরস্বতী| ইনি ব্রহ্মার মুখ থেকে জন্মান| কিন্তু অনন্যসাধারণ সৌন্দর্যের অধিকারিণী এই দেবীকে দর্শনমাত্রই ব্রহ্মা তাঁর রূপে মোহিত হন, পরবর্তীতে পিতা ব্রহ্মা কন্যা সরস্বতীর সাথে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হন এবং তাঁকে বিবাহ করেন| পূজার শেষ দিকে সকলে হাতে চন্দনমিশ্রিত পুষ্প ও বিল্বপত্র নিয়ে একসঙ্গে উচ্চারণ করে যে পুষ্পাঞ্জলি দেয় তার মধ্যেও ব্রহ্মা ও সরস্বতীর সম্পর্ক বুঝা যায়।

(ব্লা ব্লা ব্লা)
সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে |
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষি বিদ্যাং দেহি নমোহস্তুতে
(ব্লা ব্লা ব্লা)
যথা ন দেবো ভগবান ব্রহ্মা লোক-পিতামহঃ |
ত্বাং পরিত্যজ্য সন্ডিষ্ঠেৎ তথা ভব বরপ্রদা.
বেদাঃ শাস্ত্রাণি সর্বাণি নৃত্যগীতাদিকঞ্চ যৎ |
ন বিহীনং ত্বয়া দেবে তথা মে সন্তু সিদ্ধয়ঃ.
লক্ষ্মীমেধা ধরা পুষ্টি গৌরী তুষ্টিঃ প্রভা ধৃতিঃ |
এতাভিঃ পাহি তনুভিরন্টাভিমাং সরস্বতী
(ব্লা ব্লা ব্লা)
ওঁ ভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ |
বেদ-বেদান্ত-বেদাঙ্গ-বিদ্যাস্থানেভ্য এব চ।

বাংলা অর্থঃ হে অতুল ঐশ্বর্যশালিনী, বিদ্যাস্বরূপে, কমললোচনে, বিশ্বরূপে, বিশালনয়নে সরস্বতী আমাকে বিদ্যা দাও | তোমাকে প্রণাম করি |
(ব্লা ব্লা ব্লা)
অর্থাৎ যেমন ভগবান (স্বামী) ও পিতামহ ব্রহ্মা তোমাকে পরিত্যাগ করে যেমন থাকতে পারেন না ( তুমিও যেমন কখনও তাঁকে ছেড়ে থাক না) আমার প্রতি সেরূপ বরদাত্রী হও | চার বেদ, সকল শাস্ত্র এবং নৃত্যগীতাদি যা কিছু আছে, তা তোমা ছাড়া নয় | হে দেবী, সেই সকল বিষয়ে আমার সিদ্ধি হোক | হে সরস্বতী, লক্ষ্মী, মেধা, ধরা, পুষ্টি,গৌরী, তুষ্টি,প্রভা ও ধৃতি – এই আট মূর্তিতে আমাকে রক্ষা কর |
(ব্লা ব্লা ব্লা)
সরস্বতীকে বার বার প্রণাম করি | যিনি ভদ্রকালী অর্থাৎ মঙ্গলাবিধায়িনী, তাঁহাকে সর্বদা প্রণাম করি | বেদ, বেদান্ত, বেদাঙ্গাদি চতুর্দশ বিদ্যাস্থানকেও প্রণাম করি |

আর কতো আমরা অর্থ না জেনে আরবি/সংস্কৃত ধর্মগ্রন্থ তোতাপাখির মতো আওড়াবো?

২ thoughts on “হরেক রকম সরস্বতী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *