সর্বজ্ঞ’ সুশীল সমাজের হিসেব নিকেষ এবং বর্ধিত ফি’র শুভঙ্করের ফাঁকি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে সাধারন শিক্ষার্থীদের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহনে পরিচালিত বর্ধিত ফি বিরোধী আন্দোলন চলছিল প্রায় এক সপ্তাহ ধরে। এর আগে ২২ জানুয়ারি ১৬টি ক্যাটাগরিতে ফি বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী লক্ষ্যণীয় ছিল স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফি ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা। এ ছাড়া স্নাতকোত্তর বিভিন্ন ডিপ্লোমা কোর্সের ফি দেড় হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়। অন্য ১৪ ক্যাটাগরিতে ১০০ টাকার ফি ৫০০ টাকা, ৫০০ টাকার ফি ১০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এই ফি বৃদ্ধির প্রথম প্রতিবাদ করে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো। এরপর বাম সংগঠনগুলো যৌথভাবে আন্দোলন শুরু করলে সেখানে সাধারন শিক্ষার্থীরা বিপুল সংখ্যায় অংশ নেয়। এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে গত ২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগের বর্বর হামলার পর থেকে। ছাত্রলীগের হামলাকে ‘সুশীল মোড়কে থাকা সম্মানিত ব্যক্তিবর্গরা যথার্থ ভাষায় নিন্দা করছেন, একই সঙ্গে ‘সামান্য’ কয়েক টাকা ফি’ বৃদ্ধি নিয়ে আন্দোলন করার জন্য আন্দোলনকারীদের ভৎর্সনা করছেন নির্দয় ভাষায়।
সম্মানিত লেখকদের একজন অদিতি ফাল্গুনী ছাত্রলীগের হামলার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে একটা কলাম লিখলেন। সেখানে তিনি অসাধারন একটি প্রশ্ন তুলেছেন, এখনকার দিনের শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনে সারারাত গল্প করার টাকা যোগাড় করতে পারলে সামান্য কয়েক টাকা বর্ধিত ফি দিতে সমস্যা কোথায়? তিনি আরও কিছু উদ্ভট যুক্তি দিয়েছেন, যেগুলো তার পর্যায়ের একজন সংবেদনশীল মানুষের কাছে আশা করা যায় না। একই অনলাইন মাধ্যমে আমার সাবেক সহকর্মী, বন্ধু মেহবুব আলম বর্ণ আর একটি কলাম লিখেছেন। তার লেখার পরিসর আরও বিস্তৃত। তার লেখা থেকেই তুলে ধরছি “রাজশাহী বশ্বিবদ্যিালয়রে আজকরে বপ্লিবী সাধারণ শক্ষর্িাথীদরে বড় অংশকওে একসময় কাজরে সন্ধানে ঢাকায় আসতে হব। শ্রম বাজারে নিজেকে পন্য হসিবেইে বেচতে হবে। সেই প্রতযিোগতিার জন্য নিজেকে এখন প্রস্তত করাটাই বুদ্ধমিানরে কাজ হব। আজ যাঁরা সান্ধ্যকালীন র্কোসে বাধা দিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁরাই আগামীকে সংসার জীবনে গি নিজের সন্তানকে য়েএকটি ভালো স্কুলে ভর্তির জন্য মোটা অংকরে টাকা নিয়ে দৌড়াবনে। তখন নজিরে সন্তানটিকে সাধারণ সরকারি প্রাথমকি বদ্যিালয়ে পড়ানোর কথা মাথায় আনবনে না।”

বর্ণ’র যুক্তি আরও অসাধারন! আমাদের দুভার্গ্য হচ্ছে সুশীল সমাজ প্রতিনিধিত্ব করে উচ্চ মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত শ্রেনীর। যে কারনে এই সুশীল ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের যারা মধ্যবিত্ত অনুসারী আছেন তারা সবাই তাদের বিবেচনার মধ্যে সাধারন খেটে খাওয়া মানুষকে আনতে পারেন না। অদিতি ফাল্গুনীও তাই কখনই ভাবতে পারেন না, মাসে খুব বেশী হলে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা রোজগার করা একজন দিন মজুর, একজন গার্মেন্ট শমিক কিংবা একজন রিক্সাওয়ালার সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা থাকতে পারে এবং যোগ্যতা থাকলে সেটা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্রের প্রতিদিনের খাওয়া খরচ এবং মাসের শিক্ষা উপকরণ কেনার কাজেই সবচেয়ে বেশী ব্যয় হয়। বছরের শুরুতে বই কেনার টাকা, ভর্তি ফি, প্রতিবার পরীক্ষার সময় পরীক্ষা ফি’র জন্যও বেশ কিছু টাকা ব্যয় হয়। এখনও গড়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ খেটে খাওয়া, ছোট চাকরি করা কিংবা খুব কম বেতনের স্কুল শিক্ষকের সন্তান। এই শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে মাসের খরচের জন্য খুব বেশী হলে দুই হাজার থেকে সর্বোচ্চ চার হাজার টাকা পায়। এই টাকার ৮০শতাংশই প্রতিদিনেরে খাওয়ার জন্য ব্যয় হয়। বাকী টাকায় শিক্ষা উপকরণ খাতা, কলম, নোট ফটোকপি, প্রয়োজনীয় দু’একটা বই কেনা, এসবে ব্যয় হয়। যদি মাসের বেতন আর পরীক্ষার ফি দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা করা হয় তাহলে এই ব্যয় বেড়ে মাসে ছয়-সাত হাজার টাকা হবে। খুব সোজা হিসেব, তখন এই খেটে খাওয়া মানুষ আর দরিদ্র স্কুল শিক্ষকদের সন্তানেরা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবেন না। মাসে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা উপার্জন করা একজন অভিবাবক তার সন্তানকে খুক কষ্ট করে হলেও মাসে দুই হাজার টাকা দিতে পারেন, পাঁচ হাজার টাকা কিংবা তার বেশী তো নয়ই। হ্যাঁ এই দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেন, নিজেরা অনেক বেশী উপার্জন করবেন, তখন হয়ত তাদের সন্তানের জন্য তারা বেশী বেতনে নামী ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াতেই পারেন। কিন্তু তার জন্য কি আজকে যেসব দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে তাদের ওপর বর্ধিত ফি’র বোঝা চাপিয়ে লেখাপড়াই বন্ধ করে দিতে হবে? বন্ধু, সাংবাদিক মেহবুব আলম বর্ণ কি সেটাই চাচ্ছেন?
সুশীল সমাজের অনেকে মাথাপিছু আয়ের হিসেব দিয়ে উচ্চ শিক্ষাকে উচ্চমূল্যের করার প্রস্তাবও দিচ্ছেন। তারা নিশ্চয় সেই গড় অংকের গনিতজ্ঞের গল্পটা জানেন। এক গনিতজ্ঞ গড় অংকে বিশারদ। তিনি একদিন গরুর গাড়িতে করে দূর গাঁয়ে দাওয়াত খেতে যাচ্ছেন। যাওয়ার পথে পড়ল নদী। নদী কিভাবে পার হওয়া যায়, তা নিয়ে চলল গবেষণা। গড় অংক বিশারদ নদীর ওপার থেকে ওপারের মধ্যে পানির পরিমাড় নিয়ে আসার জন্য গরুর গাড়ির চালককে নির্দেশ দিলেন। গরুর গাড়ির চালক ঘাট থেকে একটা নৌকায় উঠে লম্বা লগি দিয়ে পানির মাপ নিয়ে এল। শুরুতে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত পানি, তারপর হাঁটু পানি, তারপর কোমর পানি, তারপর বুক পর্যন্ত পানি, তারপর অথৈ পানি, এরপর আবার বুক, কোমর, হাঁটু পর্যন্ত পানি। গড় অংক বিশারদ গড় অংক করলেন এবং ফল করলেন নদীতে গড়ে হাঁটুর যৎসামান্য উপর পর্যন্ত পানি রয়েছে। অতএব নো চিন্তা গরুর গাড়ি নিয়েই নদী পার হওয়া সম্ভব। তিনি নদীর ভেতর দিয়ে গরুর গাড়ি চালানোর নির্দেশ দিলেন। গরুর গাড়ি চালক আপত্তি করলেন। যেখানে অথৈ পানি সেখানে কি হবে. গরুর গাড়ি চালক এর বদলে নৌকায় করে নদী পার হয়ে অপর পার থেকে আর একটা গরুর গাড়ি ভাড়া করার পরামর্শ দিলেন। গড় অংক বিশারদ দিলেন ধমক। তার গড় অংক কোনদিন ভুল হয় না। আর এই গরুর গাড়ি চালকের এতবড় সাহস, এর ভুল ধরে? অতএব তার ধমকে গরুর গাড়ি নদীতে নামিয়ে দিলেন গরুর গাড়ি চালক। কিন্তু যেখানে অথৈ পানি, সেখানে গিয়ে গড় অংকের নিয়মে পানি কমল না। বরং গাড়ি ডুবে গেল।

আমরা জানি না, সেদিন গড় অংক বিশারদ নদীতে ডুবে যেতে যেতে তার গড় অংক পদ্ধতির প্রয়োগের ভুলটা বুঝতে পেরেছিলেন কি’না, কিন্তু আজকের সর্বজ্ঞ ‘সুশীল’সমাজ সেই ভুলটা আজও বুঝতে পারেননি কিংবা বুঝেও বোঝার চেষ্টা করেন না। একটা গার্মেন্ট কারখানায় শ্রমিকের বেতন ৫ হাজার টাকা আর মালিকের আয় মাসে পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে গড় করে যে মাথাপিছু আয়ের হিসেব বের করা হয় সেটা ওই গড় অংক বিশারদের নদীর পানির গড়ফল বের করার মতই। এই গড় অংকের হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বড়তে পারে, কিন্তু খেটে খাওয়া মানুষের আয় বাড়ে না। বরং দুমূর্ল্যরে বাজারে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়ে তার জীবন আরও মানবেতর হয়ে যায়, মাথা পিছু আয়, জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির শুভংকরের ফাঁকির হিসেবের দিকে চোখ রাখতে গিয়ে সুশীল সমাজের চোখে সেই মানবেতর জীবনটি ধরা পড়ে না। একজন রিক্সাওয়ালা আগে দিনে একশ’ টাকা উপার্জন করে প্রয়োজনীয় ব্যয় ৭০ টাকার মধ্যে শেষ করে ৩০ টাকা বাঁচাতে পারত। এখন দিনে পাঁচশ’ টাকা রোজগার করেও তার ব্যয় মাঝে মধ্যেই পাঁচশ’ টাকার বেশী হয়ে যায়। এই পরিবারের সন্তানদের জন্য সুশীল সমাজ উচ্চ শিক্ষা চায় না বলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে কম বেতন নিয়ে তাদের এত আক্ষেপ!

অদিতি ফাল্গুনী লিখেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ বেতনের কারনে না’কি শিক্ষার মান উন্নত হচ্ছে আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বেতন কম বা ভর্তুকি কম হওয়ার কারন শিক্ষার মান এত নি¤œগামী হচ্ছে যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও না’কি অভিভাবকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সন্তাদের ভর্তি করছেন! হায়রে, কতটা ভুল তথ্যের মধ্যে বাস করলে এমন একটা কথা লেখা যায়? এখন পর্যন্ত যতই বেশী চাকচিক্যময় হোক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সেরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির মানই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দূরের কথা জাহাঙ্গীরনগর কিংবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মানেই পৌঁছাতে পারেনি। এখন পর্যন্ত যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায় না(বি গ্রেডের ছাত্র) কিন্তু বাবা মায়ের অনেক টাকা আছে এমন পরিবারের সন্তানরাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে পরে অন্য কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে এর একটা উদাহরণও কি আছে? আমি ২০০৮ সালে একটা নিরিজ রিপোর্ট করেছিলাম প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি নিয়ে একুশে টেলিভিশনে। তখন অনেক নামী-দামী বিশ্বদ্যিালয়ের করুন চেহারা তুলে এনেছিলাম ক্যামেরায়। রয়েল ইউনিভার্সিটির ল্যাবরেটরি রুমে যখন সিকিউরিটি গার্ডের হাঁড়ি পাতিল আর কাঁথা বালিশ ছাড়া আর কিছুর ছবি পাওয়া গেল না তখন এখন মস্তান এসে হামলা করল। শান্তা মারিয়াম হাসপাতালে আউটার সেন্টারগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নামে প্রতারণার খবর সংগ্রহ করতে গেলে সেখানেও কর্তৃপক্ষের ভাড়া করা টোকাই মস্তান দিয়ে হামলা করা হল, প্রায় আধ ঘন্টা আটকে রাখা হল। পরে অবশ্য শান্তা মারিয়ামের তখনকার উপাচার্য তার পারিষদ বর্গ নিয়ে একুশে টিভিতে এসে ক্ষমাও চেয়ে গিয়েছিলেন। এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সার্টিফিকেট কেনা বেচার কথা রেজিস্ট্রারই স্বীকার করেছিলেন। আর পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপাচার্য ও গভর্নিং বডির সভার যে ফুটেজ পেয়েছিলাম তা দেখলে আঁতকে উঠতে হয়। অদিতি ফাল্গুনী সম্ভবত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাল হকিকত ভাল করে জানে না, এ কারনে তথাকথিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে ‘উন্মাদিনী কাল’ চলছে তার স্বরূপ তিনি উন্মোচন করার দায়িত্বও কখণও নেননি! শহর, মেগাশহরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কদর কম, কিন্তু দেশের বেশীর ভাগ উপজেলা , ইউনিয়ন এমনকি একাধিক জেলা শহরেও সবগুলো কিন্ডার গার্টেনের চেয়ে সেখানকার ‘দরিদ্র’ শিক্ষায়তন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতি বছর অনেক ভাল ফল করছে, সে খবরও সম্ভবত, অীদতি ফাল্গুনী রাখেন না!
এখনকার দিনে মোবাইল ফোন ফ্যাশন নয়। সন্তানের সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখার জন্য বাবা-মা কষ্ট করে হলেও মোবাইল ফোন কিনে দেন। মাসের খরচ থেকে একটা অংশ হয়ত মোবাইল ফোনের বিলের পেছনেও ব্যয় হয়। শহরে চাকচিক্যময় স্মার্ট ফোনের বিপুল সমাহারে বাস করে সুশীল সমাজ হয়ত ভাবতেও পারেন না, এই বাজারে সর্বনি¤œ ৯৯০ টাকায় হ্যান্ডসেট পাওয়া যায়, সর্বনি¤œ ২০ টাকায় বিল দিয়ে এক মাস সংযোগটি সচলও রাখা যায়। একশ’ টাকা ব্যয় করলে দিব্যি একমাস প্রেম করার মত কথাও বলা যায়। মোবাইল ফোনের এই সহজলভ্যতা রাষ্ট্রই তৈরি করেছে তথ্যভিত্তিক সমাজ নির্মাণে একেবারে খেটে খাওয়া সাধারন মানুষকেও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির নেটওয়ার্কে সংযুক্ত রাখার জন্য। আমাদের সুশীলরা নিজেদের কথা বলার অধিকারের বাইরে হয়ত তথ্য অধিকার বিষয়টি’র সম্প্রসারণ নিয়ে চিন্তা করতে পারেন না, কিংবা সমাজের বিন¤্র অবতার সাজতে তারাও হয়ত খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে তথ্য অধিকারের সম্প্রসারণই তারা চান না!

বন্ধু, সাংবাদিক মেহবুব আলম বর্ণ তার লেখায় দারুন একটা প্রসঙ্গ এনেছেন। বামপন্থীরা ক্যাম্পাসে ৫০-৬০ জন নিয়ে মিছিল করলেও তারা গুরুত্বপূর্ণ থেকেছে এবং তারা বার বার সাধারন শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে অসাধারন হয়েছে। অতএব সাধারন শিক্ষার্থীদের লাভ কি? বামপন্থীরা সাধারনদের নিয়ে এই আন্দোলনটা বার বার করে আসছেন বলেই নব্বই দশকের শুরু থেকে উচ্চ শিক্ষাকে উচ্চমূল্যের পণ্যে পরিণত করার চক্রান্ত সফল হয়নি, আর এ কারনে এখনও দরিদ্র পরিবারের ছেলে মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারছে, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারছে আত্ম মর্যাদা নিয়ে। যদি মাসে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা বাড়ি থেকে পাঠাতে হত, তা হলে স্কুল শিক্ষকের সন্তান আমি নিজেও উচ্চ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতাম। এই সত্যটা সাধারন শিক্ষার্থীদের বেশীরভাগই অনুভব করেন বলে তারা এ ধরনের আন্দোলনে বামপন্থীদের ডাকে সাড়া দেন, বর্ণ হয় সাধারন পরিবারের থেকে আসেননি, তাই সাধারন স্বার্থের এই বিষয়টিও তিনি অনুভব করতে পারেন না। সান্ধ্যকালীন কোর্স নিয়েও সাধারন শিক্ষার্থীদের সন্দেহের কারন আছে। যেহেতু সান্ধ্যকালীন কোর্স পুরোটাই বানিজ্যিক ভাবে পরিচালিত হয় এবং এটি নিয়মিত শিক্ষা কার্য়ক্রমকেও সেভাবে বানিজ্যিক রূপ দিতে ভবিষ্যতের উদাহরণ হবে, দেড় হাজার টাকার ফি এক লাফে ৫ হাজার টাকা করার পর এমন আশংকা উড়িয়ে দেওয়া যায়?

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলার পর এর জন্য একাত্তরের চিহ্নিত ঘাতকদের সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্র শিবিরেরর ইন্ধনের কথা বলা হচ্ছে, অনুপ্রবেশকারীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে বলা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ এই ঘটনার পেছনে শিবিরের ইন্ধন এবং অনুপ্রেবশকারী থাকেত পারে, এমন সন্দেহের কথা বলেছেন….বিশ্বজিত হত্যার পরও ছাত্রলীগে অনুপ্রেবশকারী ইস্যু জনপ্রিয় করেছিলেন আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব। দেখা যাচ্ছে, বিশ্বিজত হত্যা মামলায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ফাসীর রায় হওয়ার পরও সেই অনুপ্রবেশকারী ইস্যু রয়েই গেছ, তার মানে শর্ষের ভেতরে ভুত আছে!…শিবিরের ইন্ধন কিংবা অনুপ্রবেশ অমূলক বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না, কিন্তু আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব শর্ষের ভেতরে ভূত খোজার গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করছেন না….ছাত্রলীগ কিসের স্বার্থে, কারা নিয়ন্ত্রণ করছেন? কিভাবে ছাত্রলীগের জেলা পর্যায়ে কিংবা বিশ্বিবদ্যালয় পর্যায়ে কমিটি গঠন হচ্ছে, এসব কমিটি গঠন নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির বিরুদ্ধ বিপুল টাকার বানিজ্যের অভিযোগ কখনও খতিয়ে দেখেছেন কি আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব? বিশ্বিবদ্যালয় পর্যায়ে নোংরা শিক্ষক রাজনীতির গড ফাদাররা কিভাবে ছাত্রলীগকে নিজেদের হীন স্বার্থে ব্যবহার করছেন, কিভাবে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গড ফাদার শিক্ষকরা ছাত্রলীগকে চাদাবাজি, টেন্ডারবাজি সহ শিক্ষক রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্যবাদ সংহত করার কাজে ব্যবহার করছেন, তাও কি কখনও খতিয়ে দেখা হয়েছে?..না’কি লোম বাছতে গা উজাড় হওয়ার ভয়ে এসব বিষয়ে নিস্পৃহ থেকে শুধু একেকটা ঘটনার পর শিবিরের ইন্ধন আর অনুপ্রবেশকারী তত্ত্ব দিয়ে যাচ্ছেন..?…ছাত্রলীগ আচরণে, কর্মে, ভাষায়, বর্বরতায় যদি যুদ্ধাপরাধী-ঘাতকদের সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্র শিবিরের সমার্থক হয়ে যায়, তাহলে শুধু শুধু ‘ইন্ধন আর অনুপ্রবেশ’ তত্ত্বের কোন মূল্য আছে কি….?
রাশেদে মেহেদী
সাংবাদিক
https://www.facebook.com/rased.mehdi
rasedmehdi.blogspot.com

৩ thoughts on “সর্বজ্ঞ’ সুশীল সমাজের হিসেব নিকেষ এবং বর্ধিত ফি’র শুভঙ্করের ফাঁকি

  1. ছাত্রলীগ আচরণে, কর্মে, ভাষায়,

    ছাত্রলীগ আচরণে, কর্মে, ভাষায়, বর্বরতায় যদি যুদ্ধাপরাধী-ঘাতকদের সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্র শিবিরের সমার্থক হয়ে যায়, তাহলে শুধু শুধু ‘ইন্ধন আর অনুপ্রবেশ’ তত্ত্বের কোন মূল্য আছে কি….?

    ভাল লিখেছেন ভাল বলেছেন।।

  2. অদিতির মতো সুবিধাবাদী
    অদিতির মতো সুবিধাবাদী সুশীলদের দেখলে থুতু দিতে ইচ্ছা হয়। এই মহিলা ক্রমাগত বিতর্কিত কলাম লিখে নিজেকে কি প্রমাণ করতে চান বুঝিনা। এরা মনে করে দেশের সবাই এদের মতো সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছে। তাই কেউ ভাত খেতে পারছে না শুনলে এরা অতি দরদী হয়ে পোলাও খাওয়ার পরামর্শ দেন। আর আওয়ামী লীগের শিবির তত্ত্ব অধিক ব্যবহারে এখন ভোঁতা হয়ে গেছে।

    চমৎকার লিখেছেন রাশেদ ভাই।

  3. ভালো লিখেছেন রাশেদ ভাই…
    ভালো লিখেছেন রাশেদ ভাই… :থাম্বসআপ: অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার করতে হবে… :জলদিকর: এবং এই সরকারের কাছে অন্তত এইটুকু নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে যে, এই সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর… :ভাবতেছি: :অপেক্ষায়আছি:

Leave a Reply to ডাঃ আতিক Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *