ভাষার মাসে ভাষা বিতর্ক # ২ : আমরা জানি কি : বাংলাদেশে ব্যবহৃত ভাষাটি আমাদের ‘মাতৃভাষা’ বা ‘বাংলাদেশি’ নয়?


ভাষা নিয়ে আমাদের গর্বের অন্ত নেই। যেহেতু বিশ্বে সম্ভবত আমরাই একমাত্র (?) ভাষার জন্যে লড়াই করেছি এবং এর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে রক্ত দিয়েছি, তাই অন্য বহুবিধ বিষয়ে গর্ব করতে না পারলেও, ‘বাংলা ভাষা’র জন্যে গর্ব করতে কিন্তু আমরা কখনোই পিছনা হইনা। এর কারণও অবোধ্য নয়! যারা সারা বছর কষ্টে-সৃষ্টে জীবন কাটান, তাদের জীবনে ‘ঈদ’ মহা খুশি নিয়ে আসলেও, সারা বছর ‘ঈদ পালনকারি’ বিলাসি মানুষের কাছে ঈদ বা এই জাতিয় বাৎসরিক উৎসবের আনন্দময়তা ঠিক অতটা থাকেনা। তবুও এটা আমাদের ‘শ্লাঘা’র বিষয় যে, দৈন্যতাপূর্ণ আমাদের জীবনে ভাষা আন্দোলন ও ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা একটি মাইল ফলক কিন্তু!

কিন্তু আমরা জানি কি, যে ভাষার জন্যে আমরা (কোলকাতাবাসি নয়) জিবন দিয়েছি (এবং এ লেখাটি যে ভাষায় লিখছি), সে ভাষাটি কিন্তু ‘আমাদের নয়’? আমরা পূর্ববঙ্গিয় তথা বাংলাদেশের ৬৪-টি জেলার কোন মানুষই কখনো এ ভাষা বলা বা লেখায় ব্যবহার করতাম না, এমনকি জানতামও না। বঙ্গ বিভাগের সময় পূর্ববঙ্গে তথা বাংলাদেশ অংশে পুরণো জেলা ছিল ১৭টি, যা বর্তমানে ৬৪টি। এই ৬৪টি জেলার কোন জেলার মানুষই কথা বলার জন্যে বর্তমান বাংলা ‘সাধু’ বা আধুনিক ‘চলিত’ ভাষা ব্যবহার করেনি। উদাহরণ টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া। টেকনাফের লোকেরা কি ‘সাধু’ বা ‘চলিত’ বা আধুনিক ‘কথ্য’ বাংলা ভাষায় কথা বলে? আসলে বলে না। তারা ‘চট্টগ্রাম’ ও ‘আরাকানি মিশ্র’ ভাষা ব্যবহার করে। তেতুলিয়ার লোকের উত্তরবঙ্গিয় ঢংয়ে তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করে। পশ্চিম-দক্ষিণের খুলনা? সেখানের মানুষের ভাষাও আলাদা খুলনা কেন্দ্রিক একটি আলাদা ভাষা। আর আমরা সবাই জানি সিলেট, নোয়াখালী, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকাইয়া, রাজশাহী, রংপুর প্রভৃতি জেলার ভাষাগুলোর মধ্যে রূপমূলগত ও ব্যবহারিক পার্থক্য কত! এমনকি চট্টগ্রামের ভাষা ও ফেনীর ভাষা আলাদা হলেও চট্টগ্রামের ‘মিরেশ্বরাই’ উপজেলার ভাষা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। বরিশালের ভাষার সঙ্গে নোয়াখালীর ভাষার পার্থক্য প্রকট হলেও, ‘ভোলা’র ভাষাটি আবার না-বরিশালি না-নোয়াখালি অর্থাৎ মিশ্র প্রকৃতির। এমনকি ভোলা ও বরিশালের মধ্যবর্তি স্থানে অবস্থিত বরিশালভুক্ত ‘মেহেন্দিগঞ্জ’ উপজেলার মানুষের কথা শুনে কেউ বুঝতে পারবে না বক্তার বাড়ি বরিশাল, মাদারীপুর বা শরিয়তপুর। যেমন ‘আমি বাজার থেকে এসেছি’ বাক্যটি বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় ‘মুই আডে গোনে আইছি’ হলেও, মেহেন্দিগঞ্জের উপভাষায় এটি ‘আমি বাজারের তোন আইছি’’ হয়। এটি হয়েছে ‘ভাষা জাংশন’-এর সূত্রানুসারে। এমনকি মেহেন্দিগঞ্জের ‘জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন’ ও ‘কাজিরচর’ গ্রাম খালের এপার ওপার হলেও ব্যবহৃত ভাষার রূপগত পার্থক্য সুষ্পষ্ট, যা ভাষা বিশ্লেষকদের গভিরভাবে চিস্তাশিল করবে।

মোদ্দা কথা বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনিক বিভাজন ৬৪-টি জেলার মধ্যে কমপক্ষে ৬৪-প্রজাতির (উপজেলা হিসেবে আরো বেশি হতে পারে) ভাষা ব্যবহৃত হলেও, যে ভাষাটিকে আমরা বর্তমানে ‘সাধু’ বা আধুনিক ‘চলিত’ ভাষা হিসেবে ব্যবহার করছি, তা কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের কোন অঞ্চল বা জেলার ভাষাই নয়। এ ভাষাটি হচ্ছে ‘কোলকাতা’ শহর তথা সুতোনটি গ্রামের (এখন সেটা মধ্য কোলকাতার একটা মেট্রো ট্রেন স্টেশন) ও তার পার্শ্ববর্তি ‘ভাগিরথি নদি তীরবর্তি’ মানুষের মুখের ভাষা। যা বৃটিশ ভারতে প্রথমে কোলকাতা অঞ্চলে বিদ্যাসাগরের মাধ্যমে সাহিত্যের ভাষা তথা ‘সাধু’ ভাষা হিসেবে প্রবেশ করে। পূর্ববঙ্গে তখনো ঐ ভাষাটির প্রবেশ ঘটেনি। এর পর যশোর থেকে ‘মাইগ্রেটেড’ কোলকাতার আরেক বনেদি অধিবাসি প্রমথ চৌধুরীর মাধ্যমে কোলকাতা ও ভাগিরথি অঞ্চলের ‘কথ্য ভাষা’টি ‘আধুনিক বাংলা’ ভাষা হিসেবে সাহিত্যে স্থান করে নেয়। বৃটিশ ভারতে কোলকাতা যেহেতু ভারতবর্ষের রাজধানি ছিল, তাই রাজধানির প্রভাবশালি ভাষাটি কালক্রমে বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা, অফিস-আদালত, দলিল দস্তাবেজ, চিঠিপত্র ইত্যাদির মাধ্যমে ‘শুদ্ধ’ ভাষা হিসেবে উভয় বাংলার (পূর্ব ও পশ্চিম) মধ্যে বিস্তার লাভ করে। ‘উঁচু জাতে ওঠা’র সুপ্ত বাসনা লালনকারি ‘অকোলকাতা’-বাসি সাধারণ বাঙালিরা ‘গড্ডলিকা’র মত কোলকাতার ভাষাকে গ্রহণ করে এবং বাংলার সর্বত্র তা সাহিত্যের তথা ‘সাধু’ বা ‘শুদ্ধ’ বাংলা হিসেবে লালিত হয়। ‘অকোলকাতা’র আঞ্চলিক বাংলা প্রায় সকল স্থানে এখনো মুখে মুখে রক্ষিত হলেও, পূর্ব ও পশ্চিম বাংলার প্রায় সকল মানুষ কোলকাতার ভাষাটিকে ‘নিজস্ব বাংলা’ বলে গ্রহণ করে নিয়েছেন। ‘কোলকাতার বাংলা’ ভাষাটি সকল বাঙালি কর্তৃক গ্রহণের নেপথ্যে কাজ করেছিল প্রথমত রাজধানি কোলকাতার আধিপত্য ও বনেদিপনা। তা ছাড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, পত্র-পত্রিকা ইত্যাদির কেন্দ্রবিন্দুও কোলকাতা কেন্দ্রিক হওয়া। অপর দিকে রবীন্দ্রনাথ, প্রমথ চৌধুরীর মত প্রভাবশালি শিক্ষিত জমিদার ব্যক্তিদ্বয়ের বসবাস কোলকাতা হওয়াতে, তারাও তাদের মুখের ভাষাটিকে বাংলার সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে প্রভাব ফেলেছে দারুণভাবে। এ ক্ষেত্রে যদি ভারতবর্ষের রাজধানি ‘কোলকাতা’ না হয়ে ‘বরিশাল’ বা ‘সিলেট’ হতো এবং রবীন্দ্রনাথ বা এই শ্রেণির সাহিত্যিকের জন্ম কোলকাতা না হয়ে বরিশাল বা সিলেট হতো, তবে হয়তো বরিশাল বা সিলেটের ভায়াটিই আধুনিক বাংলা ‘সাধু’ বা ‘শুদ্ধ’ ভাষা হিসেবে দুই বাংলার সর্বত্র গৃহিত হতো।

তবে শুধু আমরা জেনে রাখলাম, বাংলাদেশের অনেক ‘আমদানি’কৃত জিনিসের মত আমাদের আধুনিক বাংলাটিও কোলকাতার মানুষের ব্যবহৃত ও তাদের মুখের ভাষা থেকে এদেশে ‘আমদানিকৃত’, যদিও বাংলাভাষি মানুষেরা সবসময়ই রাজভাষা হিসেবে অন্যের ভাষা ব্যবহার করেছে শতাব্দির পর শতাব্দি। সে কারণেই হয়তো এখনো আমাদের বিদেশি জিনিসের প্রতি এতো মোহ। এদেশের বাঙালিরা তেইশ বছর রাজভাষা হিসেবে ব্যবহার করেছে উর্দু, দু’শ বছর ইরেজি, সাড়ে পাঁচ’শ বছর ফার্সি, তার আগে বহিরাগত ভাষা সংস্কৃত, প্রাকৃত, অপভ্রংশ, কামরূপি আরো কত কি? এখনো আমাদের এ অঞ্চলের মানুষের মাতৃভাষা কারো সিলেটি, চট্টগ্রামি, ঢাকাইয়া বা বরিশালি। কিন্তু তা সত্বেও কোলকাতার ভাষাকে সত্যিই আমরা আমাদের ‘মাতৃভাষা’ হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং বিশ্বে সম্ভবত আমরাই এমন একটি ‘ধার’ করা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছি। যে কারণে বিশ্বের অন্যান্য জাতিগুলো ছাড়াও কোলকাতাবাসিগণও আমাদেরকে প্রতিনিয়ত ‘শ্রদ্ধা’ এবং শ্রদ্ধার সাথে কিঞ্চিৎ ‘ঈর্ষা’ও করে। অতএব বোঝা গেল রাজনৈতিক বাংলাদেশ তথা পূর্ববাংলার মানুষেরা একুশ ফেব্রুয়ারি যে ভাষাটির জন্য রক্ত দিয়েছিল তা তার নিজ অঞ্চলের মাতৃভাষা নয়, এটা ছিল কোলকাতা অঞ্চলের অভিজাত বনেদি মানুষের ভাষা তথা রাজধানির ভাষা, যা এদেশের বাঙালিরা আত্মিকরণ করে অনেক বিদেশি জিনিসপত্র আত্মিকরণের মতই! এখন যাকে সে মর্যাদা দিচ্ছে তার মাতৃভাষা রূপে। কিন্তু তা দিলেও, ভাষাটি তার নিজের মায়ের ভাষা [এমনকি পিতৃভাষাও না] না হওয়ার কারণে, সে তাকে এখনো ‘পরভাষা’ করে রেখেছে দেশের উচ্চ আদালতসহ অনেক গুরত্বপূর্ণ কর্ম তথা স্থানেই। তাই বাংলা “অপাঙ্‌ক্তেয়” ভাষা-ই রয়ে গেল ২০১৪ সনেও রাজনৈতিক বাংলাদেশে এসব ঐতিহাসিক অকথিত অপ্রিয় সত্যের কারণে!

ইতোপূর্বকার পোস্টসমুহ :
http://www.istishon.com/node/6697#sthash.OgDsqrzr.dpbs [পোস্ট-১)

লেখকের ফেসবুক ঠিকানা [ধর্মান্ধতামুক্ত যুক্তিবাদিদের ফ্রেন্ডভুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানাই ] : https://www.facebook.com/logicalbengali

২৪ thoughts on “ভাষার মাসে ভাষা বিতর্ক # ২ : আমরা জানি কি : বাংলাদেশে ব্যবহৃত ভাষাটি আমাদের ‘মাতৃভাষা’ বা ‘বাংলাদেশি’ নয়?

  1. এদেশের বাঙালিরা তেইশ বছর

    এদেশের বাঙালিরা তেইশ বছর ব্যবহার করেছে উর্দু, দু’শ বছর ইরেজি, সাড়ে পাঁচ’শ বছর ফার্সি, তার আগে বহিরাগত ভাষা সংস্কৃত, প্রাকৃত, অপভ্রংশ, কামরূপি আরো কত কি?

    আপনার আজকের পোস্টের সবচে বড় দুর্বলতা হচ্ছে এই লাইনটিকে স্বীকার্য ধরে নেয়া! একটা ছোট উদাহরণ দিলেই বুঝতে পারবেন। ১৯০ বছর এই তল্লাটের জনমানুষ ব্রিটিশদের বা শাসক শ্রেণীর ভাষায় কথা বলে নি। সাবলীল নিয়মের মাতৃভাষা দিয়েই কথা বলেছে। আর শাসক শ্রেণীর সাথে ভাবের আদান-প্রদান হয়েছে বেশীরভাগ সময় দোভাষী বা শিখিতদের মাধ্যমে…

    কেননা আপনার কথামত বা স্বীকার্য মত ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল বাঙালী উর্দু বলে ১৯৭১ থেকে পুনরায় বাঙলা বলা শুরু করেছে! ভাষা সংস্কৃতি এবং নৃতাত্ত্বিকতা আসলে কারো সম্পত্তি না। সম্পত্তি হচ্ছে স্থানগত আবেগ, অর্জন আর মুক্তির সংগ্রাম… আমরাই এই পরিশীলিত বাঙলা ভাষা এবং বাঙালী সংস্কৃতিকে ধারণ করেছি! আপনি ইংল্যান্ড থেকে নিউজিল্যান্ড বা মেক্সিকো থেকে অষ্ট্রিয়া সর্বত্রই ইংরেজি পাবেন হাজার হাজার বছর গবেষণা করেও তর্ক করেও দিনশেষে ব্রিটিশদেরই ইংলিশ বলতে হবে!! এইটাই বাস্তবতা…

    বাঙালীত্ব শুধু মাত্র ভাষার বিষয় নয়, পালা-পার্বণ, বসন্ত উৎসব, ফাল্গুন উৎসব, নবান্ন উৎসব, বর্ণীল বাঙলা নববর্ষ সব কিছু মিলেই বাঙালীত্ব আর আমরাই কেবল এর সার্থক অনুসারি…

    1. আপনার কথামত বা স্বীকার্য মত

      আপনার কথামত বা স্বীকার্য মত ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল বাঙালী উর্দু বলে ১৯৭১ থেকে পুনরায় বাঙলা বলা শুরু করেছে! ভাষা সংস্কৃতি এবং নৃতাত্ত্বিকতা আসলে কারো সম্পত্তি না। সম্পত্তি হচ্ছে স্থানগত আবেগ, অর্জন আর মুক্তির সংগ্রাম… আমরাই এই পরিশীলিত বাঙলা ভাষা এবং বাঙালী সংস্কৃতিকে ধারণ করেছি! আপনি ইংল্যান্ড থেকে নিউজিল্যান্ড বা মেক্সিকো থেকে অষ্ট্রিয়া সর্বত্রই ইংরেজি পাবেন হাজার হাজার বছর গবেষণা করেও তর্ক করেও দিনশেষে ব্রিটিশদেরই ইংলিশ বলতে হবে!!

      :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

      1. আমার প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য
        আমার প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য ধারণের অনুরোধ জানাই ক্লান্তকে। আপনি বাক্যটি যেভাবেই উপস্থাপন করেন না কেন, ১৯৪৮-১৯৭১ পর্যন্ত পাকিস্তানের রাজভাষা উর্দু ছিল এ সত্যটাই আমি বলতে চেয়েছি। এখনো কোলকাতার গৃহিত “শুদ্ধ” বাংলাটি রাজনৈতিক বাংলাদেশের রাজভাষা কিন্তু সাধারণের ভাষা ৬৪-টি জেলায় ভিন্ন ভিন্ন, যার তার মাতৃ-পিতৃ ভাষাও বটে।

        বৃটেন বাংলাদেশের উদাহরণে ভিন্নতা বিদ্যমান, কারণ বৃটেন থেকে মূল বসতিস্থাপনকারিগণ রাজনৈতিক কারণে ভাষাসহ ওখানে স্থানান্তরিত হয়ে বসতি গড়ে, ইংরেজি ভাষায় কিছু ভিন্নতা সৃষ্টি হয় কিন্তু কোলকাতা নগরের পত্তনের আগেই ঢাকা বা পূর্ববঙ্গিয় নগরগুলোর জনবসতি গড়ে ওঠে ও নিজ নিজ ভাষা ব্যবহার শুরু হয় এখানের মানুষ। কিন্তু কোলকাতা বৃটিশ রাজধানি ও অভিজাত মানুষের আধিপত্যের কারণে তাদের ভাষাটি সাহিত্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে থাকে। যা পূর্ববঙ্গীয়রা নানা কারণে গ্রহণ করে।

  2. ধন্যবাদ তারিখ। আমার ভাষা
    ধন্যবাদ তারিখ। আমার ভাষা বিষয়ক এ পোস্টের উদ্দেশ্য হল বাংলাভাষার অতিত বর্তমান জানা ও বোঝা, যাতে এর ব্যবচ্ছেদ করা সহজতর হয়। এখানে “ব্যবহার” রাজভাষা অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে। হ্যা রাজভাষা কখনো মানুষের মুখে ব্যবহৃত ভাষা থেকে পৃথক হলেও, সমাজে রাজভাষার ব্যাপক প্রভাব থাকে। যেমন মুসলিম শাসনামলে “ফার্সি” রাজভাষা থাকলে, সাধারণের ব্যবহৃত বাংলা ভাষা সরকারি কাজে ব্যবহার করা যায়নি, কিংবা শাসকদের পৃষ্টপোষকতা পায়নি সাধারণের ভাষাটি। যে কারণে ভাষাটির বিকাশ ঘটেছে খুব ধির লয়ে। অথচ বাংলার চেয়ে কম মানুষের ব্যবহৃত ঐ সময়ের ইংরেজি ভাষা রাজার পৃষ্টপোষকতা তথা রাজভাষা হওয়ার কারণে তা চষে বেরিয়েছে বিশ্বময়! যা এখনো বিদ্যমান!

    আর এ প্রবন্ধের মূল বিষয়টি হচ্ছে রাজনৈতিক বাংলাদেশে ব্যবহৃত বাংলা ভাষাটির নিজস্বতা!

    1. আপনার পোষ্ট বরাবরেই ভালো লাগে
      আপনার পোষ্ট বরাবরেই ভালো লাগে বিশাল বিশাল পোষ্ট করেন পড়তে একটু ও খারাপ লাগেনা চালিয়ে যান …… (আপনার কমেন্টে তারিক ভাইয়ের নামটা ভুল লিখছেন এটা হবে তারিক আপনি লিখেছেন তারিখ :ভেংচি: )

  3. দেখুন কোলকাতা এবং আমাদের
    দেখুন কোলকাতা এবং আমাদের ব্যবহার্য বাংলায় বেশ কিছু পার্থক্য র​য়েছে যা তাদের থেকে আমাদের পৃথক করে। বাংলা ভাষা টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ায় বেশ কিছু মোড় নিয়েছে যা একসাথে ব্যবহার করা সম্ভব ন​য়। কিন্তু কোলকাতার ভাষা বলে আপনি আমাদের বাংলা ভাষাকে অন্য লাইনে এনে ফেলেছেন। উদাহরনস্বরুপ ব্রিটিশ ইংলিশ ও আমেরিকান ইংলিশের কথা বলা যায়। ব্রিটিশ​, স্প্যানিশ এবং স্কটিশরা আমেরিকায় উপনিবেশ গ​ড়ে তোলার পর ইংলিশই তাদের প্রধান ভাষা হ​য়ে দাড়ায়। কিন্তু সিভিল ওয়ার এর আগ পর্যন্ত এর বিবর্তন তেমন হ​য়নি। সিভিল ওয়ারের পর ভাষার দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে ও ইংলিশ হওয়া সত্ত্বেও তার উচ্চারনভঙ্গি, শব্দভান্ডার ও ব্যাকরন এর তদানুরূপ পরিবর্তন দেখা যায়। এই বিবর্তনেই ব্রিটিশ ইংলিশ আমেরিকান ইংলিশ হ​য়ে দাড়িয়েছে এবং সেটা ব্রিটিশদের থেকে ধার করা ভাষা না, আমেরিকানদের মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। কোলকাতার বাংলা ও বাংলাদেশি বাংলা তাই আলাদা জিনিস, আমরা জিনিস কে জিনিস উচ্চারন করি “জিনিছ” ন​য়, আমরা “খাইসি” বা “করসিশ” উচ্চারন করি যেটা কোলকাতার বাংলায় নেই। এরকম বহু উদাহরন আছে যা বাংলাদেশি বাংলাকে কোলকাতান বাংলা থেকে পৃথক করার জন্য যথেষ্ট। এবং বাংলা ভাষার জন্য যে আন্দোলন হ​য়েছিল তা এই ভাষার জন্য, কোলকাতার বাংলার জন্য না, এই কথাটা মনে রাখবেন।

    1. ইলোসিয়া মৌনিন রাইন যা বলেছেন
      ইলোসিয়া মৌনিন রাইন যা বলেছেন তার মধ্যে আংশিক সত্য থাকলেও, পরিপূর্ণ সত্য নেই। বৃটেন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মাইগ্রেটেড ইংরেজি ভাষিক জনগোষ্ঠির সাথে পূর্ববঙ্গিয় জনমানুষের তুলনা এক হবে না। এখানের মানুষ কোলকাতার ভাষা নিয়ে সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল বা নোয়াখালী বসবাস শুরু করেনি। এখানের মানুষের ব্যবহৃত ভাষার ভিন্নতি সুষ্পষ্ট। তবে কোলকাতার ভাষার সাথে উড়িয়া, অহমিয়া ভাষার যেমন সাদৃশ্য মেলে, তেমন সাদৃশ্য পাওয়া যাবে উদাহরণে বর্ণিত ভাষার সাথেও। নোয়াখালির চরাঞ্চলের মানুষের ভাষা আন্ডা (ডিম), কুত্তা (কুকুর), কাউয়া (কাক) হিন্দি ভাষায় ব্যবহৃত হলেই হিন্দি ভাষা আর নোয়াখালির চরাঞ্চলের ভাষা কি এক? তবুও এরূপ আলোচনায় মননশিল বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আপনায় ধন্যবাদ জানাই। ভাল থাকুন।

      এই কথাটা মনে রাখবেন।
      “শ​য়তান মানুষকে প্ররোচনা দেয় না, মানুষই শ​য়তান​।”

      হ্যা কথাটা খুবই মনে রাখব।

      1. ওইটা আমার সিগনেচার। আর আমি
        ওইটা আমার সিগনেচার। আর আমি হিন্দির সাথে বাংলার তুলনা করিনি আপনি সম্পূর্ণ উল্টো দিক থেকে আমার কথা বুঝেছেন।

    2. রাইন তোমার সিগনেচার আর
      রাইন তোমার সিগনেচার আর মন্তব্যের মাঝে কোন ডিভাইডার ইউজ কর… নইলে লজিক্যাল সাহেবের মত অন্যরাও বিভ্রান্তিতে পড়তে পারে।

  4. পথিককে ধন্যবাদ ভাললাগার
    পথিককে ধন্যবাদ ভাললাগার জন্যে। আমি একটু ভিন্ন প্রকৃতির মানুষ। গতাগতিক চিন্তার বাইরে গিয়ে চিন্তা করি, যে কারণে অনেকেই তা গ্রহণ করতে পারেনা। কারণ মানুষ সচরাচর তার চিন্তার বাইরে যেতে চায়না বা পারে না। আমার সব লেখার ভেতর এটা পাবেন। ধন্যবাদ

  5. কিন্তু তা সত্বেও কোলকাতার

    কিন্তু তা সত্বেও কোলকাতার ভাষাকে সত্যিই আমরা আমাদের ‘মাতৃভাষা’ হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং বিশ্বে সম্ভবত আমরাই এমন একটি ‘ধার’ করা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছি। –

    এই কথাটা ব্যাখ্যা করলে ভালো হয়…

    1. কেন? বর্তমান বাংলাদেশে আমাদের
      কেন? বর্তমান বাংলাদেশে আমাদের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আমরা যা গ্রহণ করেছি তা কি কোলকাতার ভাষা নয়? এটাইতো পুরো লেখাটায় ব্যাখ্যা করলাম। কিনতু কিভাবে? মধ্য কোলকাতার সুতোনটি গ্রামে (যা বর্তমানে সেন্ট্রাল কোলকাতা) যান, আমার কথা ও বাংলা ভাষার পুঁথি পুস্তক, ইতিহাস ঘাটলেই কথার সত্যতা মিলবে।

      আর এ ব্যাখ্যার জন্য এদেশের ৬৪ জেলার সপ্তপদি ভাষা ভার্সাস আমাদের প্রমিত ভাষারূপটি দেখুন। সব ফকফকা হবে বলেই আমার বিশ্বাস!!!

      জয় বাংলা বলে আগে বাড়ো… জি বাড়ছি।।

  6. ভাষা হচ্ছে পৃথিবীর মানুষের
    ভাষা হচ্ছে পৃথিবীর মানুষের নানাবিধ অভিজ্ঞতার সমষ্টি। নানা দেশের ভাষা মিলেই সৃষ্টি হয়েছে একটি ভাষা, কাজেই বাংলাদেশর সব অঞ্চলের শব্দ মিলেই বাংলা ভাষার সৃষ্টি। আর কলিকাতাতো তখন আমাদের সাথে একত্র ছিল। তাতে সমস্যা কি হলো। আমি কোন সমস্যা দেখি না।

  7. আমরা পুর্ব একত্রিত ছিলাম আমরা
    আমরা পুর্ব একত্রিত ছিলাম আমরা এক ভাষাতেই কথা বলতাম এক ভাষাতেই মাকে ডাকতাম । সভ্যতা আর সংস্কৃতি করো ব্যক্তিগত সম্পদ না । সবাই মিলে তা সৃষ্টি করতে হয়েছিল । আমরা আমদের ভাষার জন্য যুদ্ধ করেছি কোলকাতার ভাষার জন্য না ।

  8. তা ঠিক বলেছেন কিন্তু ভাষাটা
    তা ঠিক বলেছেন কিন্তু ভাষাটা ওখান থেকে নেয়া এটাতো ঠিক তাইনা ভাই? কোলকাতার হুবহু ভাষাটি এখন আমরা বাংলাদেশে ও পশ্চিম বাংলায় একইভাবে ব্যবহার করছি। তারা কিন্তু আমাদের পূর্ববঙ্গের ভাষা ব্যবহার করছে না।

  9. ভদ্রলোক খাটি পশ্চিমবঙ্গীয়।
    ভদ্রলোক খাটি পশ্চিমবঙ্গীয়। কথায় কথায় এই অধ্যাপক বলেই বসলেন, “বাংলাদেশে কীসের এক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আর তার সুযোগে মশায় জয় বাংলা রেডিও যা করছে তা আর বলার নয়। য-ইচ্ছে তাই ভাবে রেডিওতে বাঙাল ভাষা ব্যবহার করছে। বাংলা ভাষাটাকে মশায় একেবারে রেপ করে দিল।” আর যায় কোথায়? সবাই আমরা একযোগে প্রতিবাদ করে উঠলাম। কিশোরগঞ্জের প্রখ্যাত রবীন্দ্র সংগীত গায়ক দেবব্রত বিশ্বাস জবাবে বললেন, “হ্যাঁ মশায়! কুঁচো চিংড়ির ঝোল খাইয়া সিঁদুরমাখা সিন্দুকের মধ্যে আর বুঝি বাংলা ভাষাটারে আটকায় রাখতে পারলেন না। বাংলা ভাষার লাইগ্যা ঢাকার পোলাপানরা গুলি খাইলো। আর হেই বাংলা লেইগ্যা দরদী হইলেন আপনে? এইটা কি আপনার পৈত্রিক সম্পত্তি না’কি?”

    -এম আর আখতার মুকুল (আমি বিজয় দেখেছি) : পৃষ্ঠা ৯৯

    1. ক্লান্ত কালবৈশাখির ওপরের
      ক্লান্ত কালবৈশাখির ওপরের উদাহরণটিতে আমার পরিশ্রম প্রমাণিত হয়ে গেল অনেকটা। অধ্যাপক যা বললেন, তাই কোলকাতার ভাষা আর দেবব্রত বিশ্বাস যা বললেন, তাই পূর্ব বঙ্গিয় বাংলা। কোনটা চলছে বাংলাদেশে এখন প্রমিত ভাষা হিসেবে? ও কথাটা কোলকাতার বনেদি অধ্যাপক বলেছিলেন “বাঙাল” ভাষায় উপস্থাপিত স্বাধিন বাংলা বেতারের মুকুল পরিবেশিত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান “চরম পত্র” সম্পর্কে। আমার মনে হয়না এর পর আর কোন বিতর্কের অবকাশ আছে। ধন্যবাদ ক্লান্তকে।

      1. বাংলা ভাষার লাইগ্যা ঢাকার

        বাংলা ভাষার লাইগ্যা ঢাকার পোলাপানরা গুলি খাইলো। আর হেই বাংলা লেইগ্যা দরদী হইলেন আপনে?

        এই লাইনটার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনি বলেছেন, ধার করা ভাষার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি। আমরা যে আমাদের নিজেদের মুখের ভাষার জন্যেই জীবন দিয়েছি, এই লাইনটা তার প্রমাণ। যখন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন করেছি, তখন প্রমিত না আঞ্চলিক বাংলা এমন কোন বিভাজন নিয়ে করিনি। সোজাসুজি আমাদের মুখের ভাষার জন্য আন্দোলন করেছি।

        আর তখন কোলকাতা সভ্যতা-সংস্কৃতির কেন্দ্র হওয়ায়, সেটাই প্রভাব বিস্তার করবে, সেই স্বাভাবিক। ঢাকা কেন্দ্রস্থলে থাকলে এখন পশ্চিমবঙ্গের মানুষেরাও ঢাকাইয়া ভাষায় কথা বলত। কিংবা বাংলা সাহিত্যের প্রাথমিক অবস্থায় যদি আমাদের আলাদা ভূখণ্ড থাকত, তাহলেও এদিককার ‘উপ’ভাষাই প্রাধান্য পেত সেখানে। কিন্তু, তখন পুরোটা একীভূত থাকায় কোলকাতাই প্রাধান্য পেয়েছে। আমি এতে কোন সমস্যা দেখি না। বরং সেটাই স্বাভাবিক।

        1. আপনি বলেছেন, ধার করা ভাষার

          আপনি বলেছেন, ধার করা ভাষার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি। আমরা যে আমাদের নিজেদের মুখের ভাষার জন্যেই জীবন দিয়েছি, এই লাইনটা তার প্রমাণ। যখন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন করেছি, তখন প্রমিত না আঞ্চলিক বাংলা এমন কোন বিভাজন নিয়ে করিনি। সোজাসুজি আমাদের মুখের ভাষার জন্য আন্দোলন করেছি।
          আর তখন কোলকাতা সভ্যতা-সংস্কৃতির কেন্দ্র হওয়ায়, সেটাই প্রভাব বিস্তার করবে, সেই স্বাভাবিক। ঢাকা কেন্দ্রস্থলে থাকলে এখন পশ্চিমবঙ্গের মানুষেরাও ঢাকাইয়া ভাষায় কথা বলত। কিংবা বাংলা সাহিত্যের প্রাথমিক অবস্থায় যদি আমাদের আলাদা ভূখণ্ড থাকত, তাহলেও এদিককার ‘উপ’ভাষাই প্রাধান্য পেত সেখানে। কিন্তু, তখন পুরোটা একীভূত থাকায় কোলকাতাই প্রাধান্য পেয়েছে। আমি এতে কোন সমস্যা দেখি না। বরং সেটাই স্বাভাবিক।

          আশা করি আপনার যুক্তির অসারতা কালবৈশাখির এই কথাগুলোতেই প্রমান হয়ে গেছে। ৫২তে যদি এতো যুক্তির কচকচানি বিচার বিশ্লেষণ করতে বসতাম আমরা, তবে আজ হয়তো আমাদের উর্দুতে কথা বলতে হত, বাস করতে হত ফাকিস্তানে… কেননা রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই স্লোগানটা শুধু বাংলা ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে এক রক্তাক্ত স্লোগানই ছিল না, ছিল ৭১রের এক অন্যতম উপাদান, এক অন্যতম প্রভাবক…

          1. মাইকেলের মন্তব্যের জবাব মনে
            মাইকেলের মন্তব্যের জবাব মনে হয় দিয়েছি ক্লান্তর জবাবে। হ্যা তখন হয়তো আবেগের কারণে এ বিষয়টা আসেনি কিনতু এখন বাস্তবতায় এসেছে, এবং সেখানে আমার মাতৃভাষা পরাজিত হয়েছে।

            বাকিটা ক্লান্তকে দেখুন। ধন্যবাদ

        2. আপনি নিজেই সব বিশ্লেষণ করেছেন
          আপনি নিজেই সব বিশ্লেষণ করেছেন বিধায় আমার ব্যাখ্যার অবকাশ কোথায়? তবে-

          মায়ের ভাষার জন্যেই রক্ত দিয়েছি না ওটার জন্য দিয়েছি তা কি ষ্পষ্ট এখন? মায়ের ভাষার জন্যে দিলে রাষ্ট্রভাষা পূর্ববঙ্গীয় ভাষাকে করিনি কেন? এখন সর্বস্তরে আমার মায়ের ভাষাটির বদলে কাকে বসিয়েছি? হ্যা এ জন্যে আমার ঈর্ষা নেই কিন্তু বিষয়টির ইতিহাস এটাই!

          আপনার অন্য কথা আমার কথারই প্রতিফলন তাই মন্তব্য দরকার নেই। ভাল থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *