যে কারণে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া এক সাথে বসা সম্ভব নয়


বাংলাদেশের রাজনীতির দুই প্রধান শক্তিধর পুরোধা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি প্রধান ও প্রাক্তন বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার ভিন্নতা ছাড়াও ব্যক্তি জীবনেও একে অপরকে ঘৃণা না করলেও সম্ভবত শ্রদ্ধা করেন না। যদিও অনেকে প্রায়ই আক্ষেপ করে বলে থাকেন, দেশের কল্যাণে কেন তারা এক হচ্ছেন না কিংবা এক সঙ্গে আলাপ আলোচনায় বসছেন না ইত্যাদি ইত্যাদি। কেউ কেউ তাদেরকে কখনো কখনো এক টেবিলে বসার অলীক স্বপ্নও দেখছেন অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করে। আবার কেউ কেউ দুজনের একত্রে না বসার জন্যে দুই নেত্রীর ব্যক্তিগত ঈর্ষা ও একঘুয়েমিকে দায়ী করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী (প্রাক্তন) খালেদার কি এক টেবিলে বসা সম্ভব? কেউ কেউ বিদেশের সরকারী ও বিরোধী দলের উদাহরণ টানেন। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসের পঙ্কিল পথ পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, কখনোই স্বাভাবিক নিয়মে হাসিরা-খালেদা এক হওয়া সম্ভব নয়, যদি না কোন দৈব ঘটনা ঘটে। না বসার কারনগুলো নিম্নরূপ :

কথিত আছে যে, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর গৃহবধু খালেদা জিয়ার চরম দুর্দিনে বঙ্গবন্ধু তৎকালীন মেজর জিয়াকে বাধ্য করেছিলেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে একত্রে শান্তিপূর্ণভাবে ঘর-সংসার করতে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট জিয়া কিংবা বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে পূর্ব উল্লিখিত ঘটনার স্মরণে কোন কৃতজ্ঞতাবোধ শেখ হাসিনা কি জিয়া পরিবারের মধ্যে দেখতে পেয়েছেন? বরং কেউ কেউ বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জিয়ার সম্পৃক্ততা খুঁজে ফিরছেন নানা ঘটনা পরম্পরায় ও জিয়ার রাজত্বে স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজ-আসন অলংকৃত করার সুযোগ দানে।

ক্ষমতায় বসে বেগম জিয়া ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার নানা চেষ্টা-তদবির করেছেন অব্যাহতভাবে, যার কমবেশী বাঙালী জাতি জানে। এমনকি বিভিন্ন স্থাপনা থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার বিশেষ কুনাম খালেদা জিয়ার আছে। স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী ও সংবিধান প্রণয়নকারী আওয়ামী লীগের ঘোষিত বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণাকে এক রকম অস্বীকৃতি জানিয়ে খালেদা জিয়ার দল বিএনপি ২৭শে মার্চ জিয়াউর রহমান কর্তৃক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে২য় বা ৩য় বার পঠিত বা ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণাকেই আসল ঘোষণা বলে দাবী করছে। এমনকি বিএনপি বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ও এর দিক নির্দেশনাকে ইতিহাসে কোন গুরুত্ব দিতেই নারাজ বরং ৭ই মার্চের ভাষণের চেয়ে বেগম জিয়া তথা বিএনপির কাছে ৭ নভেম্বরের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় শহীদ ৪ নেতা বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে কোন নেতাই নয়। শেখ হাসিনার শাসনামলে ক্রয়কৃত রোরো ফেরীর নাম ভাষা শহীদ বরকত রাখা হলেও, খালেদা জিয়ার শাসনামলে রোরো ফেরীর নাম রাখা হয় শাহ মাখদুম।

দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার বন্ধ করে জারীকৃত ইনডেমনিটি এক্ট জিয়াউর রহমানের সংসদ কর্তৃক অনুমোদন করে পৃথিবীর জঘন্যতম হত্যাকান্ডের হোতাদের বিচার রহিত ও খুনীদের পুরস্কৃত করার ধারা খালেদা জিয়া অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে অব্যাহত রাখেন। এরচেয়েও দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে, ব্যক্তি শেখ হাসিনার মা, বাবা, ভাই, ভাবী ইত্যাদি আত্মীয় স্বজনের চরম দুঃখজনক মৃত্যুর দিনকে খালেদা জিয়া কর্তৃক তথাকথিত জন্মদিন হিসেবে পালন করা। যদিও নানা তথ্য উপাত্তে বলা হচ্ছে যে, ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার আসল জন্মদিন নয়। যদি ঐদিন তার প্রকৃত জন্মদিন হয়েও থাকে, তবুও বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি এবং বাঙালী জাতির জন্যে দীর্ঘদিন জেল-জুলুম সহ্যকারী একজন মহান বীরের নির্মম হত্যাকান্ডের দিন ৩/৪ ট্রাকের কেক কেটে জন্মদিন পালন করা কোন নেত্রীর সঙ্গে ঐ জাতীয় নেতার কন্যা শেখ হাসিনা কি এক টেবিলে আলোচনায় বসার মানসিকতা লালন করতে পারে?

এ ছাড়া গোলাম আজম গংদের নাগরিকত্ব বঙ্গবন্ধুর সরকার কর্তৃক বাতিল ও বিএনপি আমলে পুন. প্রদান, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারবর্গের বিচারে বিএনপির রহস্যজনক আচরণ ও কথাবার্তা, মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা বিরোধীদের ব্যাপারে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সম্পূর্ণ পৃথক দৃষ্টিভঙ্গী লালন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বিএনপির নেতিবাচক কথাবার্তা তথা বাঁধা প্রদান, হেফাজত ও জামায়াতকে সরাসরি সাপোর্ট ও সরকারের পেছনে লেলিয়ে রাখা, বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া বিডিআর বিদ্রোহের ব্যাপারে খালেদা জিয়া কর্তৃক ঘটনার জন্যে সরাসরি বর্তমান সরকারকে দোষারোপ করা ইত্যাদি নানাবিধ ঘটনা পর্যালোচনায় বোঝা যায়, উপরোক্ত ঘটনাগুলোর ব্যাপারে বিএনপি ও খালেদা জিয়ার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী না পাল্টালে কখনোই হাসিনা-খালেদা এক টেবিলে বসা সম্ভব নয়। এ জন্যে বেগম খালেদা জিয়ার পরিত্যাগ করতে হবে তার উপরে বর্ণিত নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী, যদি তিনি চান সত্যিই শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বসা জাতির কল্যাণে অত্যাবশ্যক! কিন্তু আমাদের এ আশা কি ইহজনমে পুরণ হবে? হবে যদি বেগম খালেদা জিয়া পরিত্যাগ করেন তার নেতিবাচক রাজনীতি ও চিন্তাধারা!

ব্লগারের ফেসবুক : https://www.facebook.com/falgunishekh.dipa

৪৯ thoughts on “যে কারণে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া এক সাথে বসা সম্ভব নয়

  1. দিদি তেলে জ্বলে যদি অলোকিক
    দিদি তেলে জ্বলে যদি অলোকিক ভাবে মিল হয়েও যায় হাসিনা খালেদা মিল হবেনা আর যেদিন মিল হবে সেদিন হতে মহাপ্রলয়ের দিন শুরু হবে ……

    1. তা যা বলেছেন ভাই! তবে দেখতে
      তা যা বলেছেন ভাই! তবে দেখতে হবে এ জন্য দায়ী কে? আগে কে পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া শুরু করে। আগে কে নামবদলের সিস্টেম চালু করেছিল। কে কার বাড়ি বাতিল করেছিল?

  2. কথার ভেতর যুক্তি প্রচুর! বেগম
    কথার ভেতর যুক্তি প্রচুর! বেগম জিয়া কি পারেন না তথাকথিত ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন উৎসব বাদ দিতে? আর যুদ্ধাপরাধিদের বিচারে তার সহযোগিতা পেলে জামাত শিবির কি দেশে এভাবে নেতিবাচক কর্মকান্ড করতে পারতো? বেগম জিয়ার উচিত ওসব বাদ দিয়ে ইতিবাচক রাজনীতি তথা আলোচনার পথ উন্মুক্ত করা!

  3. যদি তিনি চান সত্যিই শেখ

    যদি তিনি চান সত্যিই শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বসা জাতির কল্যাণে অত্যাবশ্যক!

    জাতি বলতে খালেদা শুধু জামতকেই জানে…
    ভালো লিখেছেন আপুনি। চালিয়ে যান… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

      1. (No subject)
        :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি:

        :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

  4. সম্ভবত ৯৬ এর নির্বাচনের আগে
    সম্ভবত ৯৬ এর নির্বাচনের আগে এক টিভি রিপোর্টে দেখছিলাম রিপোর্টার এক রিকশাওয়ালারে জিগাইছে, কারে ভোট দিবেন চাচা? চাচা কয়, খালেদারে। রিপোর্টার জিগায়, কেন? চাচায় হাসি দিয়া কয়, হ্যাতে বড়ই সৌন্দইর্য্য 😀 😀 😀 😀 😀 😀 😀

        1. এই মারখোর ছাগের ছবি কই
          এই মারখোর ছাগের ছবি কই পাইলেন?? :ভেংচি: :মাথাঠুকি: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :কল্কি: সেইরাম হইছে আপা… :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :ভেংচি: 😀

      1. কারাগার ভাই, ভাবিরে কইয়া দিম
        কারাগার ভাই, ভাবিরে কইয়া দিম কইলাম… :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :বিষয়ডাকী: :চোখমারা: :দাঁড়াফোনাইয়ালই: :আমিওআছি: :ভেংচি: 😀

  5. চমৎকার লিখেছেন দীপা আপু…
    চমৎকার লিখেছেন দীপা আপু… বৃহত্তর জামায়াতে ইসলামের বিম্পি শাখার নায়েবে আমির মাদারে গনতন্ত্র বেগম খালেদা জিয়া জেএসসির দুই নয়নে শুধু একটা জিনিসই ভাসে, আর তা হল ফাকিস্তান , ফাকিস্তান আর ফাকিস্তান… :আমারকুনোদোষনাই: আর সেই কারনেই তিনি ফাকিস্তানের জারজদের পরম মমতায় আগলে রাখেন নিজের আচলের তলে, স্বপ্ন দেখেন একদিন এই জারজেরাই তার পেয়ারা ফাকিস্তান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে… শাইড পেসিডেন জিয়াউর রাহমানের কবরের জায়গায় স্থান পাবে তার প্রেমিকপুরুষ জাঞ্জুয়ার কবর… :ভেংচি: 😀

    1. বৃহত্তর জামায়াতে ইসলামের
      বৃহত্তর জামায়াতে ইসলামের বিম্পি শাখার নায়েবে আমির মাদারে গনতন্ত্র বেগম খালেদা জিয়া, জেএসসি

      আর কিছুই বলা লাগবে না! মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন…
      :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য:

  6. চমৎকার লিখেছেন দীপা আপু…

    চমৎকার লিখেছেন দীপা আপু… বৃহত্তর জামায়াতে ইসলামের বিম্পি শাখার নায়েবে আমির মাদারে গনতন্ত্র বেগম খালেদা জিয়া জেএসসির দুই নয়নে শুধু একটা জিনিসই ভাসে, আর তা হল ফাকিস্তান , ফাকিস্তান আর ফাকিস্তান… আমার কুনো দোষ নাই আর সেই কারনেই তিনি ফাকিস্তানের জারজদের পরম মমতায় আগলে রাখেন নিজের আচলের তলে, স্বপ্ন দেখেন একদিন এই জারজেরাই তার পেয়ারা ফাকিস্তান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে… শাইড পেসিডেন জিয়াউর রাহমানের কবরের জায়গায় স্থান পাবে তার প্রেমিকপুরুষ জাঞ্জুয়ার কবর… ভেংচি বত্রিশ পাটি দেখানো হাঁসি –

    আর কি মন্তব্য করবো ভাইঁ! ধন্যবাদ

  7. একদম সত্যটুকুই বলেছেন ।
    সহমত

    একদম সত্যটুকুই বলেছেন ।
    সহমত ।
    যে কি না বাংলাদেশ নামে কোন দেশই পৃথিবীর মানচিত্রে দেখতে চায়না সে বাংলাদেশের রূপকারের মেয়ের সাথে সখ্যতা করবে কোন দুঃখে?
    তবে হ্যা, আমাদের বাসনামত(যদিও আমি ব্যাক্তিগতভাবে চাইনা) এক টেবিলে বসার দুর্লভ কর্মটি ঘটেই যায় তবে সেটা আন্তরিকতার মধ্যে নয়, সেটা হবে কেবলমাত্র রাজনৈতিক হীন স্বার্থে কিংবা বিদেশী প্রভুদের স্বার্থান্বেষী চাপে ।

  8. ওইটা বাকি রাখলেন কেন? ২১
    ওইটা বাকি রাখলেন কেন? ২১ অগাস্ট এর বোমা হামলা খালেদা জিয়ার ‘হাযুয়া ভোভন’ একমাত্র দায়ী।ওই হামলায় হাসিনাকে বিদায় দিয়ে একক রাজত্ব করতে চাইছিল খালেদা জিয়া।ওই গোস্যা কী বুলা যায়????

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *