এটা কোন কলাম নয় এটা ‘বিপদ সঙ্কেত’

জমি দিলে কর্ণফুলী টানেল হবে
আরিফুর রহমান
শেয়ার – মন্তব্য (0) – প্রিন্ট
অঅ-অ+

জমি দিলে কর্ণফুলী টানেল হবে
আরিফুর রহমান
শেয়ার – মন্তব্য (0) – প্রিন্ট
অঅ-অ+
বন্দর নগরী চট্টগ্রামকে ‘অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে গড়ে তুলতে কর্ণফুলী নদীর অপর পারে আনোয়ারায় এক হাজার একর জমি চেয়েছে চীন। বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জুন সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, জমির নিশ্চয়তা পেলে চীন সরকার সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল নির্মাণ করে দেবে। পাশাপাশি এই টানেল নির্মাণের সময় যত ধরনের সমীক্ষার প্রয়োজন হয়, তা চীন সরকার করবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সম্মতি পাওয়া গেলে একটি প্যাকেজের আওতায় শিল্পাঞ্চল এবং টানেল নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চীনের এই প্যাকেজ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা। প্রস্তাব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হলে তিনি তাতে সম্মতি জানিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পর দফায় দফায় বৈঠক করছেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প। কিন্তু এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যে পরিমাণ অর্থ ও কারিগরি সক্ষমতা থাকা দরকার, তা সরকারের নেই। তাই এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক ঋণ নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। কর্মকর্তারা বলছেন, চীন যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা খুবই ইতিবাচক। এ জন্য খুব দ্রুত জমির ব্যবস্থা করতে হবে।
বেজা সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর অপর পারে আনোয়ারায় ৬১১ একর জমি রয়েছে, যেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বেজা এই জমি অধিগ্রহণ করেছে। সেখানে চীনের জন্য আলাদা কোনো জমির ব্যবস্থা করার সুযোগ নেই। তবে চীনকে জমি দিতে হলে সরকারের প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ করা জমি ছেড়ে দিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব শফিকুল আযম কালের কণ্ঠকে বলেন, চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে এক হাজার একর জমি চেয়েছে চীন। কিন্তু ওই পরিমাণ জমি আনোয়ারায় নেই। তাই বেজাকে যে ৬১১ একর জমি দেওয়া হয়েছে, তা চীনকে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। জমি ছেড়ে দিতে বেজা নীতিগতভাবে সম্মত হলে তা চীন সরকারকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এর পরই দুটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘চীন জানিয়েছে জমির সুবিধা দেওয়া হলে তারা তাদের নিজ অর্থে কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল নির্মাণ করে দেবে।’
জানা গেছে, চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী টানেলের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সিসিসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু চলাচলের জন্য টানেল নির্মাণ করা হলে তাতে তেমন সুবিধা পাওয়া যাবে না। কিন্তু নদীর অপর পারে শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে টানেলের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেড়ে যাবে।
জানা গেছে, বেসরকারি খাতে দেশের প্রথম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বা ইপিজেড করার অনুমতি পেয়েছিল কোরিয়ার ইয়ংওয়ান করপোরেশন। সিউলভিত্তিক ইয়ংওয়ান ইপিজেড করপোরেশন (বিডি) লিমিটেড চট্টগ্রামের বন্দরসংলগ্ন আনোয়ারায় একটি ইপিজেড করার প্রস্তাব দেয় ১৯৯৬ সালে। পরে কোরিয়ান ইপিজেড করপোরেশন (বিডি) নামে ওই বছরই কম্পানিটি বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি পায়। কেইপিজেড প্রথমে ৫০০ একর জায়গা চাইলেও পর্যায়ক্রমে তা আড়াই হাজার একরে সম্প্রসারিত হয়। এ জন্য ১৯৯৬ সালে সংসদে একটি আইনও পাস করা হয়।
বেজা সূত্রে জানা গেছে, কোরিয়ার মতো চীন আনোয়ারায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে চায়। তবে ওই শিল্পাঞ্চলে দেশটি কী পরিমাণ বিনিয়োগ করবে তার কোনো ধারণা দেয়নি। কোন খাতকে তারা গুরুত্ব দেবে তা-ও বলা হয়নি। তবে ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, টানেল নির্মাণে যে ধরনের কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে, তা বাংলাদেশের নেই। চীন থেকে কারিগরি সহযোগিতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহায়তাও পাওয়া যাবে। তাই যত দ্রুত সম্ভব সরকারের মঙ্গলের জন্য বেজার তত্ত্বাবধানে থাকা ৬১১ একর জমি চীনকে ছেড়ে দেওয়া উচিত।
বেপজা ও বেজা সূত্রে জানা গেছে, দেশের আটটি সরকারি ইপিজেডে মোট জমির পরিমাণ দুই হাজার ৫৮৬ একর। সেগুলোতে দুই হাজার ২০০ শিল্প প্লটের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের কোরিয়ান ইপিজেডের (কেইপিজেড) দখলে রয়েছে দুই হাজার ৫০০ একর জমি।
এদিকে সেতু বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাকেজের আওতায় প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত টানেলের গ্রহণযোগ্যতা আরো বাড়বে।
– See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2014/02/02/47675#sthash.pUHvutHe.dpuf

একটা সময় গরীব নাকি বউ আর সন্তান চালাতে না পারলে বড়লোকের কাছে বেঁচে দিত। এখন টানেলের লোভে কর্ণফুলী নদীর অপাড়ে হাজার হাজার কোটি টাকার জমি চীনের হাতে তুলে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। টানেল দিয়ে যে পাড়ে যাবো সেই পাড়ই যদি আমার না থাকে তাহলে টানেল দিয়ে কি করবো? এর আগে কোরিয়ান ইপিজেডের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে, আড়াই হাজার একর জমি। এই জমিতে তো কোণ শিল্পায়ন হয়-ই নি, বরং চট্টগ্রামের বিশাল প্রাণকেন্দ্র কোরিয়ানদের পানির দামে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এই দেশটা তো ইন্ডিয়ার মত বিশাল দেশ নয় যে, যায়গা দিয়ে দিলে আমাদের গায়ে লাগবেনা! টানেল নির্মাণ করতেই হবে এমন কোন কথা নেই! এই এলাকা এমনিতেই এক সময় শিল্পায়িত হবে। আমরা আমাদের জমি বিদেশীদের দিয়ে দেয়ার বিনিময়ে টানেল চাই না! এই এলাকা কর্ণফুলী সংলগ্ন হওয়ায় এবং বিমান বন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম! মাথাই যদি না থাকে তো সোনার মুকুট দিয়ে কি করবো। সারা দেশের শ্রেষ্ট জায়গা এও কর্ণফুলী এলাকা! এটা সামান্য একটা টানেলের বিনিময়ে চীনকে দেয়া মানে হল মাথা বেঁচে মুকুট কেনার মত। আশা করি সবাই এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন, বিশেষতঃ চট্টগ্রামের মানুষ যারা ঐ এলাকার মুল্য বুঝতে পারছেন। সরকারের কাছে আবেদন এই কাজ ভুলেও করতে যাবেন না।

২ thoughts on “এটা কোন কলাম নয় এটা ‘বিপদ সঙ্কেত’

  1. চীনের কি এমন ঠেকা প​ড়ছে রে
    চীনের কি এমন ঠেকা প​ড়ছে রে বাবা যে ফ্রি তে এইরকম অফার সাধবে!! আর সরকার এই অফার গ্রহন করলে পুরান প্রবাদ আবারো প্রমানিত হবে,”বাঙালি ফ্রি পাইলে আলকাতরাও খায়”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *