ভালোলাগা,একটি দুর্ঘটনা এবং ভালোবাসা

(১)

কয়েকদিন ধরে কেমন যেন একা একা লাগে। ঘুম থেকে উঠি কলেজ যাই,কোচিং তারপর বাসা কেমন যেন একঘেয়ে হয়ে উঠেছে জীবনটা। মাঝে মাঝে ফেবু তে যাই তাও ভাল লাগে না।আমার বন্ধুরা দিন রাত ফেবু তে প্রেম করে বেড়াই। আমারে বলে তুই করস না কেন? আমার কেন যেন ভাল লাগে না। কারন ফেবু তে এখন আসল এর চেয়ে নকল বেশি। আর এইসব প্রেমে ব্রেক আপ হয় তাড়াতাড়ি। তাই আগে থেকে সিদ্ধান্ত ফেবু তে প্রেম করব না। যাক এইভাবে চলছিলো।

(১)

কয়েকদিন ধরে কেমন যেন একা একা লাগে। ঘুম থেকে উঠি কলেজ যাই,কোচিং তারপর বাসা কেমন যেন একঘেয়ে হয়ে উঠেছে জীবনটা। মাঝে মাঝে ফেবু তে যাই তাও ভাল লাগে না।আমার বন্ধুরা দিন রাত ফেবু তে প্রেম করে বেড়াই। আমারে বলে তুই করস না কেন? আমার কেন যেন ভাল লাগে না। কারন ফেবু তে এখন আসল এর চেয়ে নকল বেশি। আর এইসব প্রেমে ব্রেক আপ হয় তাড়াতাড়ি। তাই আগে থেকে সিদ্ধান্ত ফেবু তে প্রেম করব না। যাক এইভাবে চলছিলো।
একদিন বারান্দায় দাড়িয়ে আছি। হটাত একটা মেয়ে চোখে পড়লো। চোখে চশমা মাথা নিচু করে হাঁটছে স্কুল থেকে আসছে। এলাকায় মনে হয় নতুন আগে দেখিনি। দেখেই কেমন যেন ভাল লাগলো,কেন যেন মনে হচ্ছে মেয়ে টা অনেক ভাল। সেই দিন বিকালেই ওর খবর নিলাম। এলাকায় আবার কিছু ছেলে আছে,এলাকার কোন মেয়ে কিরকম, কখন আসছে সব খবর এদের কাছে থাকে। ওদের কাছে জানতে চাইলাম। ওরা প্রথমেয় বলে সূর্য আজ কোন দিক দিয়ে উঠল মাহির চাই মেয়েদের খবর।
ওদের কাছে খবর পেলাম মেয়েটা নতুন এসেছে। অনেক ভাল কখন এদিক ওদিক তাকায় না সোজা যাই সোজা আসে। ওদের বললাম খেয়াল রাখিস যাতে কেউ নজর না দেয়। এরপর থেকে মেয়েটা আমার ধ্যান হয়ে গেছে। প্রতিদিন বারান্দায় বসে থাকি। ও যখন নিচ দিয়ে যাই তখন হার্ট বিট অনেক বেড়ে যায়। ইদানিং ও মনে হয় বুঝতে পারছে। যাওয়া আসার সময় দেখি একবার উপরের দিকে তাকায়। ও তাকালেই আমি মাথা নিচু করে ফেলি। মাঝে মাঝে দেখি মুচকি হাসি দেই,উফফ কি বলব ওইটা মনে হয় দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর হাসি। এভাবেই চলছিল বুঝে উঠতে পারছিলাম না কিভাবে ওকে মনের কথা বলব। আল্লাহ ই যেন আমার সহায় হলেন। একদিন কলেজ যাচ্ছিলাম যাওয়ার পথে রাস্তার মাঝখানে দেখলাম জটলা। রিক্সা থামিয়ে দেখলাম। কাছে গিয়ে দেখি,হায় হায় এ কি দেখছি আমি আমার রাজকন্যা মাটিতে পরে আছে মাথা থেকে রক্ত পড়ছে। বুক ফেটে কান্না আসতে চাইল তাড়াতাড়ি কাছে গেলাম। কেউ একজনের মুখে শুনতে পেলাম সিএন জি নাকি ধাক্কা দিয়েছে,সবাই দেখি তামাশা দেখছে ওকে ডাক্তারের কাছে না নিয়ে। আমি গিয়ে ওকে ধরে তুললাম কেউ একজন জানতে চাইল আপনি কি ওকে চিনেন আমি বললাম হ্যা।
তখন ওরা ওর থেকে জানতে চাইল দেখি ও মাথা নেড়ে হ্যা বলল,তারপর একটা গাড়ি নিয়ে হাসপাতাল। জরুরী বিভাগে নিলাম,ডাক্তার ভিতরে নিয়ে গেল,আমি বাইরে দাড়িয়ে। তখন মনে হল ওর বাসায় জানানো দরকার,ওর বিল্ডিং এ আমার এক বন্ধু থাকে ওকে ফোন করে সব খুলে বললাম। এরপর বাইরে বসে আছি,ডক্টরের কোন খবর নেই। একটু পর দেখি ওর আম্মু আর ভাই আসলো। সাথে আমার বন্ধু টাও আছে,এসেই বলল নিরা কই,প্রথমে বুঝলাম না,পরে মাথাই আসলো,আসলে এতদিন ধরে আমার রাজকন্যার নাম ই জানতাম না আমি, বললাম ভিতরে।
একটু পর ডাক্তার এসে বলল এক ব্যাগ রক্ত লাগবে। বি+ গ্রুপ এর,ওর মা তো বলল ওর আব্বুর এই গ্রুপ কিন্তু উনিতো ঢাকা। আসতে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লাগবে,তখন মাথায় আসল আমারও তো একই গ্রুপ।আমি বললাম আমি বললাম আমি দেব,এরপর ডাক্তার সাথে করে নিয়ে গেল। এইচ আই ভি আছে কিনা দেখল,তারপর শুইয়ে দিলেন আমাকে। আগে কখনও রক্ত দেয়া হয় নি ভয় লাগার কথা। কিন্তু ভয় লাগা তো দূরে থাক, আমার নিজেকে কেমন যেন বাংলা ছবির নায়ক নায়ক লাগছিল।

(২)

এরপর থেকে ওর মা অনেক আদর করতেন।সেই থেকে ওদের পরিবারের সাথে পরিচয় শুরু। শুনলাম ও এবার এস এস সি দিবে।দুজনের মাঝে ভালই বন্ধুক্ত তা হয়।ও হয়ত একটু একটু বুঝত আমি যে ওকে পছন্দ করতাম।সামনে আমার এইচ এস সি আর নিরার এস এস সি তাই দেখা কম হত। এভাবেই ওর পরীক্ষা শেষ হল আমার শুরু হল।তাও মাঝে মাঝে ওকে দেখতে যেতাম।এর ই মাঝে আমাদের দুই পরিবারের মাঝে সম্পর্ক ভাল হয়ে গিয়েছিলো, আমারও পরীক্ষা শেষ।
এবার ভাবছি ওকে জানিয়ে দিব,কিন্তু কিভাবে মুখে তো বলা সম্ভব না। সেই সাহস নেই,তাই ভাবলাম আগের যুগ এর মত চিঠি লিখি।যেই ভাবা সেই কাজ,মনের জমানো সব কথা খুলে বললাম চিঠিতে। চুপি চুপি ওর বই এর ব্যাগ এ চিঠি টা রেখে আসলাম। তারপর অপেক্ষা আর অপেক্ষা ভয়ে ভয়ে ছিলাম। সেইদিন ওদের ছাদে গেছিলাম ওর সাথে। ভাবলাম কিছু বলবে,দেখি কিছুই বলে না। শেষ পর্যন্ত জানতে চাইলাম তুমি কিছু পাও নি? ও বলে নাতো। আমি শুধু বললাম ব্যাগ চেক করে দেখ। এই বলে দৌড়ে ছাদ থেকে নেমে গেলাম,পর দিন ভয়ে ভয়ে ওঁদের বাসায় গেলাম। দেখি ও আমাকে দেখে মুখ গোমড়া করে সড়ে গেলো আমি মনে মনে বললাম শেষ সব শেষ। এখন শুধু ভয় যদি বাসায় বলে দেয়। এরপর ওর বাসার থেকে চলে আসার সময়ই ও দৌড়ে এসে বলে বিকালে ছাদে এস। আমি ভাবলাম হয়ত অপমান করবে।

বিকালে ভয়ে ভয়ে গেলাম।দেখি ও আগে এসে গেছে,আমার দিকে তাকিয়ে আছে, অনেক ভয় লাগছিল,হার্ট বিট যেন দৌড় দিচ্ছিল।
নিরা – চুপ করে থাকবে নাকি?
আমি – কি বলব?
নিরা – তোমার মাথা,ঘোড়ার ডিম। তুমি এত ভিতু কেন? একটা কথা বলতে এতদিন সময় লাগে ?
আমার মাথা তখন কাজ করছিল না। কি বলব আসলেই বুঝতে পারছিলাম না, ওর কাছে জানতে চাইলাম
আমি- তুমি কি জানতে?
নিরা – কেন জানব না বুদ্ধু?? একটা ছেলে প্রতিদিন আমার যাওয়া আসার পথে অপেক্ষা করে,ছাদে লুকিয়ে লুকিয়ে আমাকে দেখে, অন্তত এতটুকু তো বুঝতাম কেউ একজন আমাকে পছন্দ করে।
আমি – তুমি কি আমাকে ভালবাস?
কেমন যেন লজ্জা পেল তারপর মাথা নাড়ল। আমি বললাম তুমিও কেন বলনি?
নিরা – মেয়েরা কখনও প্রপস করে না।
তখন নিজেকে মনে হচ্ছিলো দুনিয়ার সবচেয়ে সুখি মানুষ,সেই থেকে আমাদের পথ চলা শুরু। এরপর আমি মোটামোটী ভালোই রেজাল্ট করলাম। কিন্তু কষ্টের বেপার চান্স পেলাম ঢাকা ইউনি তে,কি আর করা চলে আসলাম ঢাকায়। ও একটা ভাল কলেজ এ চান্স পেল,আমাদের প্রেম ভালোই চলছিল। মাঝে মাঝে মিষ্টি ঝগড়া হত। কিছুদিন পর পর বাড়ীতে আসতাম,তখন সবার আগে ওকে দেখতে যেতাম। আমাদের নিয়মিত ফোনে কথা হত।
তখন আমি ৪র্থ বর্ষে আর ও বি বি এ ২য় বর্ষ। হটাত একদিন ও ফোন করে বলল ওর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে ওকে মাফ করে দিতে আমার সাথে নাকি আর যোগাযোগ হবে না,এই বলে লাইন কেটে গেল। এরপর দেখি ওর মোবাইল বন্ধ,আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। কি করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কয়েকদিন পরে দেখি ওর আম্মু ফোন করে বলল বিয়ে তে যেতে। সিদ্ধান্ত নিছিলাম এই চেহারা ওকে আর দেখাব না। কিন্ত আল্লাহ মানল না,ওর বিয়ের আগের দিন বাসা থেকে ফোন এল আম্মু অনেক অসুস্থ যেতে হবে। কি আর করা বুকে পাথর চেপে রওনা হলাম। এলাকায় ঢুকেই দেখি সবাই আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাসে। নিশ্চয় আমার জি এফ এর বিয়ে তে আমি আসছি মনে করে হাসছে। বাসার কাছে গিয়ে দেখি ২টা বিল্ডিং ই সাজানো বুঝলাম না আমাদের বিল্ডিং কেন সাজানো? বাসায় ঢুকার সাথে সাথে পিচ্চি সব চিৎকার করে উঠল জামাই আসছে জামাই আসছে।
কিছু বুঝলাম না আমি বলি আম্মা কই আম্মা দেখি দিব্বি হেঁটে আমার দিকে আসছে। আমি বললাম তুমি না অসুস্থ ?????? আম্মা বলে আরে না সব ওই নিরা পাগলীর কাজ। মানে তোর বউ। তখন ই সব বুঝে উঠতে পারলাম, এই মেয়ের সারপ্রাইস দেওয়া সবকিছু তে অনেক পুরান অভ্যাস,কিন্তু এটা নিয়ে সারপ্রাইজ কল্পনার ই বাইরে।
তখন কেবল এটাই মনে হচ্ছিল আমার জীবনটা এত সুন্দর হল কেন,একটু আগেই আমিই সেই মানুষ যার গাড়ি থেকে লাফ দিতে ইচ্ছে হচ্ছিল। এখন মনে হচ্ছে যাতে আরও কয়েকশ বছর বেঁচে থাকি। এরপর শুরু হল আমাদের নতুন জীবন। আজ যখন আপনাদের কথাগুলো লিখছি তখন অনেক গুলো বছর পেরিয়ে গেছে আমাদের সুখের সংসারে। আমি এখন জীবন সংগ্রামে অনেক সফল এক সৈনিক। যা পুরাটাই সম্ভব হয়েছে ওর অনুপ্রেরনাই। ও একটা ব্যাংক এ সিনিওর অফিসার। হটাত ওর ডাকে সম্বিৎ ফিরে এল। ওরা নিশ্চয়ই রেডি হয়ে গেছে,। ও হা আপনাদের তো বলা হয়নি,এরই মাঝে আমাদের পরিবারে আরও ২জন নতুন সদস্য এসেছে। আল্লাহ এদিকেও আমাদের নিরাশ করেননি,ওর ইচ্ছে ছিল ছেলে আর আমার মেয়ে আমাদের জমজ সন্তান হয়েছে। একটা ছেলে একটা মেয়ে,আজ আমাদের বিবাহ বার্ষিকী তাই ওদের সবাই কে নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছি,সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

( লেখকের কিছু কথা- আজকাল ভালবাসাই পরিপূর্ণতা টা হারিয়ে গেছে। খুব কম ই সম্পর্ক আছে যা বিয়ে তে গড়াতে পেরেছে। কিন্তু সম্পর্কের শুরুর সময় সবার ই স্বপ্ন থাকে একটি সুখের সংসার। কিন্তু পরবর্তী তে দেখা যায় সেই তাদের মধ্যে যেকোনো কেউ সম্পর্ক টা ভেঙ্গে দেয়। ভালোবাসায় মান অভিমান থাকবে কিন্তু সবসময় একজন না একজন মেনে নিতে হবে। তাহলেই অভিমান টা বেশিক্ষণ থাকবে, তবে এর মানে এই নয় যে সবসময় একজন মেনে নিবে। ২ জন ই সমানভাবে sacrifie করতে হবে।আর কখনই ভালোবাসার মানুষ টিকে সন্দেহ করবেন না। সকল ভালোবাসার যুগল দের জন্যে শুভকামনা রইল। )

১০ thoughts on “ভালোলাগা,একটি দুর্ঘটনা এবং ভালোবাসা

  1. অবশেষে দুই টোনাটুনি
    অবশেষে দুই টোনাটুনি মানঅভিমানে, হাড়পাতিলের ঝগড়াঝাটিতে সুখেশান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো with lots of বাচ্চাকাচ্চা 😛 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *