বুরখাওয়ালী অথবা বৃক্ষের গল্প…

সিগারেটে শেষ টান দিয়ে অনুরাগ আপনের দিকে তাকিয়ে বলে ,
‘পুরা দিনডাই মাডি হালার্পো বিড়িটিরিও আইজকাইল বিস্বাদ লাগে,একটা মালও সাইজ করতে পারলাম না,হারমোনিয়াম একটাও নাই যে রিডে আংগুল দিয়া টিপ্পা দিমু’
আপন হাসে,
‘তুই হালায় বেকিসিম,চাইরদিন পরে ইবলিশেও তোরে ডরাইব,তোর এই রিড নিয়া টিপাটিপির নিউজ বাসায় জানে?’
অনুরাগ ক্ষেপে উঠে,
‘বাসার কথা টানস ক্যারে?আইজ শুক্কুরবার নামাজ ফাকি দিয়া এইহানে আইসি,বাপে খাডি জামাতি, জান্তারলে মাইরালবো…’

সিগারেটে শেষ টান দিয়ে অনুরাগ আপনের দিকে তাকিয়ে বলে ,
‘পুরা দিনডাই মাডি হালার্পো বিড়িটিরিও আইজকাইল বিস্বাদ লাগে,একটা মালও সাইজ করতে পারলাম না,হারমোনিয়াম একটাও নাই যে রিডে আংগুল দিয়া টিপ্পা দিমু’
আপন হাসে,
‘তুই হালায় বেকিসিম,চাইরদিন পরে ইবলিশেও তোরে ডরাইব,তোর এই রিড নিয়া টিপাটিপির নিউজ বাসায় জানে?’
অনুরাগ ক্ষেপে উঠে,
‘বাসার কথা টানস ক্যারে?আইজ শুক্কুরবার নামাজ ফাকি দিয়া এইহানে আইসি,বাপে খাডি জামাতি, জান্তারলে মাইরালবো…’
-তাইলে চুপচাপ বয়া থাক,মালগুলা যাইবো কই?মূলা লাগাইলে গন্ধ হইব,বেগুনে এলার্জি,মোম জ্বালাইলে হয় ক্যান্সার!
আই এম এ ডিস্কো ড্যান্সার!
‘এহ স্বভাব কবিরে!কতো ঢং যে করতাসোস!পুরিয়া আনসোস?’
-‘টেকা ম্যানেজ হয়নাই,কাইলকা ইস্কুলে গেলে আরিফ কইসে পুরিয়া দিবু।তোর বাপের পকেট কি খালি যাইতাসে নাকি আইজকাইল?’
আপন উদাস হয়ে মাঠের দিকে তাকায়,
‘ওই দেখ মাল আইতাসে একটা।’
অনুরাগ সামনের দিকে তাকিয়ে উল্লাসিত হয়ে উঠে,
‘খাইসি তাইলে।বুরখাওলী মাল।আওয়াজ দিবোনা,গাছের চিপায় গিয়া পজিশন লই আয়।আইলেই একশন।’

মসিপুরা গ্রামের উত্তরদিকের ফাঁকা মাঠের দিকে বুরখাওলী এক মেয়ে দেখা যায়।খা খা রোদ যেনো ছাতায়ও আড়াল হতে চায়না।মেয়েটা কি ক্লান্ত?নেকাবের আড়ালে দেখা যাওয়া চোখ দুটো ক্লান্তি ঢাকতে পারেনা।
মেয়েটার ক্লান্ত ধীর চলনে তাকে মনে হয় সমস্ত নির্যাতিত, অপমানিত,অপদস্ত নারী সমাজের প্রতিক।
রাস্তার মাঝামাঝি গাছটার দিকে কিছু একটার নড়াচড়া দেখতে পেয়ে ভয় লাগে মিনুর,এভাবে একলা আসাটা উচিত হয়নাই।লাবনীটা এমনভাবে ধরলো,না গিয়েও পারলোনা। মা বললেন,তার বাবা নামাজ আর দাওয়াত শেষ করতে করতে যেনো চলে আসে।
শুক্রবারের বিশেষ করে নামাজের সময়ের দুপুরগুলো হয় নির্জন,আজ যেনো অপার্থিব মনে হলো মিনুর।প্রচন্ড গরমে সেদ্ধ হবার জোগাড়, বুরখাটা ছুড়ে ফেলতে ইচ্ছে হলো।স্বীদ্ধান্ত নিল গাছের ছায়ায় কিছু সময় জিরিয়ে নেবে সে।তারপর দশ মিনিট হাঁটলেই ঘর।

অনুরাগের জিভে ইতিমধ্যে জল চলে এসেছে,আপনের পাছায় চিমটি দিয়ে বলে,
‘মালটা এদিকেই তো আসতেসে রে,যাইচা ফান্দে পা,কান্দে উপাসী মন…বিধাতার কি সৃষ্টি, মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। ফিগার দেখসোস?’
আপন ফিসফিস করে,
‘বেশী কথা কইস না হালায়,মালডা চিনা চিনা লাগে!ইস্কান্দার কাকার মাইয়া না?…’
-‘বালের মাইয়া,ইস্কান্দার চাচার মাইয়া হইলে তো আরো ভালা হয়,হালায় পাক্কা লীগার,জয় বাংলার লোক।আর যার মাইয়াই হোক।যায়গামতো হাত পরলে না পারবো কইতে না পারবো সইতে,বুচ্ছস?রেডি হ,আইয়া পরলো বইলা!’
আপনের কপালে ভাঁজ পড়ে,
‘মনডা কেমুন খচখচায়রে অনু,বুঝবার পারতেসিনা,কামডা কি ঠিক হইবো?মাইয়াডারে দেইখাই মনে হয় মাইয়াডা কাহিল!’
-‘তোর বালের সিম্প্যাথি দেখলেনা হালায় আমার খাড়া জিনিস ঝুইল্লা যায়,নিজেরে ফেরেস্তা ভাবোস?গত সপ্তাহে খরের গাদার পিছে নিয়া আবুল কাকার হারমোনিয়ামের রিড টিপসিলো কিডা?ভুলসোস?নাকি পঁচা মাল টিপায়া হিজড়া হয়া গেছোস?’
আত্মসম্মানে ঘা লাগায় রাগ লাগে আপনের,নাক ফুলিয়ে বলে,
-‘যা হালায় এই মালরে আমি ধইরা লইয়া আমু চিপায়,তুই উদাম করবি।পরে দুইজন মিল্লা বাজামু।হইসে?’
অনুরাগ সকালে না মাজা বিড়ি আর পান খাওয়া হলুদ দাঁত বের করে হাসে,’হ,হইসে!এখন যা।’

গাছটাকে অনেক দুরের মনে হয় মিনুর,কি সুন্দর হালকা বাতাস বইছে,মাঝে মাঝে দুই তিনটা ঘুঘু ফুড়ুত করে উড়ে উড়ে যাচ্ছে।
এই পাখীগুলার মতোই স্বাধীন হতে ইচ্ছে করে মিনুর।পর্দা টর্দাকে তার কাছে নরকের যন্ত্রনা মনে হয়।কাছে এসে পড়ে সে,কি সুন্দর এই গাছ কি গম্ভীর, কি উদার।বৃক্ষের অপরূপ ক্ষমতা আছে মানুষের ভেতরে ত্যাগের বোধ জাগানোর।প্রতিটা মানুষ যদি এক একটা গাছের মতো সহনশীলতার আদর্শ বুকে নিয়ে বেড়ে উঠতে পারতো?
মিনুর চিন্তায় ছেদ পরে।
কে যেনো তাকে পেছন থেকে ঝাপটে ধরে টেনে হিচড়ে নিয়ে যায়,ছাতাটা হাত থেকে পড়ে মৃদু বাতাসে কাঁপতে থাকে।
মিনুর চিৎকার ছাপিয়ে একটা কাক কাকা করে তারস্বরে চেচিয়ে চলে যায় মতিখোলা বিলের দিকে।মিনু নিজেকে ছাড়াতে চায়। পারেনা।
পুরুষালী হাতের চাপে তার দম বন্ধ হয়ে আসে,ভাবনাগুলো মুহূর্তে অবশ হয়ে মাথাটা ফাঁকা করে দেয়।তবুও ভাবনার স্রোতের অবচেতন ধারা মনে করিয়ে দেয়, মুক্ত পাখীদেরো বিপদ আসে,তাদেরো প্রাণহানি হয় তীরন্দাজ শীকারির তীরে,তীব্র বিষে,বন্দুকের উচানো নল থেকে ধেয়ে আসা তপ্ত বুলেটে।
আপন মেয়েটাকে টেনে নিয়ে আসে বিশাল অশত্থের তলায়,
নেকাবের নির্মম আড়াল থেকে মেয়েটার বিস্ফারিত চোখ চেয়ে থাকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অনুরাগের দিকে।আসন্ন আবেশের লোভে অনুরাগের ফর্সা গাল রক্তিম হয়ে আছে।
সে এগিয়ে এসে কাঁপা কাঁপা হাতে খুলে ফেলে মেয়েটার নেকাব।
পাঁচ সেকেন্ড স্তব্দতা,ঘড়ির কাটাগুলো যেনো থেমে আছে!বাতাস কি বইছেনা?পায়ের নিচের মাটিগুলো কই?
ধপাস করে মাটিতে বসে পড়ে অনুরাগ।তার মরে যেতে ইচ্ছে করে।

ধরনীর এক কোনে দাঁড়িয়ে থাকে তিনজন বিব্রত মানুষ।
আপনের সামনে অনুরাগ,অনুরাগের সামনে তার আদরের বোন মিনু!!!

১৭ thoughts on “বুরখাওয়ালী অথবা বৃক্ষের গল্প…

  1. গল্পে প্রাণ ছিলো,ইন্ডিংটা
    গল্পে প্রাণ ছিলো,ইন্ডিংটা চমৎকার হয়েছে।

    শুক্রবারের বিশেষ করে নামাজের সময়ের দুপুরগুলো হয় নির্জন,আজ যেনো অপার্থিব মনে হলো মিনুর।প্রচন্ড গরমে সেদ্ধ হবার জোগাড়, বুরখাটা ছুড়ে ফেলতে ইচ্ছে হলো।স্বীদ্ধান্ত নিল গাছের ছায়ায় কিছু সময় জিরিয়ে নেবে সে।তারপর দশ মিনিট হাঁটলেই ঘর।”আহা ঘর।”

    এখানে আহা ঘর বাক্যটা বেমানান লাগছে।

  2. চমৎকার লাগলো…
    চমৎকার লাগলো… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. (অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্যের জন্য
    (অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্যের জন্য খুবই দুঃখিত রাজু ভাই)
    আচ্ছা ইস্টিশনে আমার নাম চ্যাঞ্জ করার কোনো উপায় আছে???

  4. এক রাশ ভালো লাগা জানিয়ে গেলাম
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    এক রাশ ভালো লাগা জানিয়ে গেলাম রাজু দা।

Leave a Reply to শঙ্খনীল কারাগার Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *