যুক্তির বিচারে সমকামিতা; কিছু পরিচিত যুক্তি।

(প্রথমেই বলে নিচ্ছি, লেখাটা অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সুখপাঠ্য হবে না, অশালীন না হলেও অপ্রাপ্তবয়স্কদের না পড়াই সমীচিন)

সমকামিতার বিপক্ষে মাঠে ঘাটে বা ভার্চুয়্যাল জগতে বেশ কিছু যুক্তি প্রায়শই ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। ‘ধর্মে নিষিদ্ধ’ ধরণের যুক্তি বাদেও সমকামীতাকে কিছু ধারালো যুক্তির মোকাবেলা করতে হয় প্রতিনিয়ত। আমি চিকিৎসা বা দেহবিজ্ঞানের ছাত্র নই, আলোচনা সেদিকে নিবওনা। আমার আলোচনা হবে যুক্তির মাধ্যমেই যুক্তিখণ্ডন।

যুক্তি ০১: সমকামীদের মাধ্যমে এইড্‌স ছড়ায়!

এইড্‌স বিভিন্নভাবে সংক্রমিত হতে পারে, তার মধ্যে সমকামিতা একটা, একমাত্র কারণ বা মাধ্যম নয়। সমকামের মত অনিয়ন্ত্রীত বিষমকামের মাধ্যমেও এইড্‌স ছড়ায় এবং বিষমকামীরা এইড্‌স সংক্রমণ রোধে যেসব পদ্ধতি বা কৌশল অবলম্বন করে থাকেন সেসব পদ্ধতি ও কৌশলে সমকামের মাধ্যমে এইড্‌স ছড়ানোও রোধ করা সম্ভব। এইড্‌স সংক্রমণের কারণে যারা সমকামিতার বিরোধীতা করেন তারা কি অন্যান্য কারণগুলো সম্পর্কে সমান সচেতন এবং সেসবের প্রতি ‘ঘৃণা, দ্বেষ, বৈষম্য’ সমপর্যায়ের যতটা সমকাম ও সমকামীদের প্রতি? এইড্‌স আক্রান্ত মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুও এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে! এক্ষেত্রে মা ও শিশুর ‘Sexual Orientation’ নিয়ে প্রশ্ন করার মত বোকা নিশ্চয়ই এসব যুক্তিবাদীরা নন।

যুক্তি ০২: সমকাম প্রকৃতি বিরুদ্ধ যৌনাচার!

এ সম্বন্ধে আলোচনার আগে আমাদের জানা দরকার বিষমকামের উদ্দেশ্য কী কী? যৌনসঙ্গমের উদ্দেশ্য কি শুধুই সন্তান উৎপাদন করা? প্রকৃতি প্রানীদের মধ্যে যৌনাকাক্ষা নামক ব্যাপারটা শুধুই কি বংশবিস্তারের জন্যই সংযোজন করেছে? হয়তবা, হতেও পারে। প্রানীজগতের বাকীদের কথা বাদ দিলেও মানুষ একমাত্র সন্তান উৎপাদনের জন্যই যে যৌনসঙ্গম করে না সে ব্যাপারে নিশ্চয়ই তর্ক করা চলে না। এখন, বংশবিস্তারের জন্য যে সঙ্গম সে সঙ্গমে ‘জন্মনিরোধক’ পদ্ধতি গ্রহন তাহলে কতটা প্রকৃতির উদ্দেশ্য সাধন করছে? জন্মনিরোধক সব পদ্ধতি, গর্ভপাত, হস্তমৈথূন সহ অন্যান্য কারণে স্বাভাবিক অস্বাভাবিক সব বীর্য্যস্খলনই (যার মাধ্যমে কোন সন্তানের জন্ম হয় না) তো সমকামের দোষে দোষী হতে বাধ্য। একইভাবে চিরকুমারী/কুমার বা বিয়ে না করে (মানে সন্তান উৎপাদন না করে) জীবন পার করে দেওয়া প্রত্যেক নারী পুরুষও দোষী হবেন। ধর্ম বর্নীত ‘আজল’ পদ্ধতিও ঠিক একই কারণে তাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। যৌনসঙ্গমের অরেকটা উদ্দেশ্য যদি ‘মানসিক প্রশান্তি’ হয়, তবে নিশ্চয়ই সমকামিতাকে খারাপ বলার তেমন কোন যুক্তি নেই?

যুক্তি ০৩: বিপরীত লিঙ্গ ভীতি বা বিপরীত লিঙ্গের কাছে প্রত্যাখাত হয়েই সমকামী হয়!

এটাও আসলে সমকাম বিরোধীতার জন্যে খুব জোড়ালো যুক্তি নয়। যুক্তিতে না পেরে শেষে ‘যারে দেখতে নারী তার চলন বাঁকা’ ধরণের মন্তব্য এটা। আমি স্বীকার করছি অনেকে বিপরীত লিঙ্গ ভীতির কারণে সমকামী হয় (এরকম কয়েকজন সমকামী নারীর সাথে আমি নিজে কথা বলেছি), তবে সে সংখ্যাটা কত? মাত্র কয়েকজনের উদাহরণ দিয়ে পুরো ব্যাপারটাকে বিতর্কিত করার মত বড় সংখ্যা নিশ্চয়ই না এটা। সমকামিতা সাধারণত নিজের ইচ্ছায় হয় না, প্রাকৃতিকভাবেই ঘটে, যেমন ঘটে বিষমকামীদের ক্ষেত্রেও। কয়েকজন নিজের ইচ্ছায় সমকামী বা উভকামী হতে পারে, সেটাও যার যার নিজস্ব ব্যাপার। যুক্তি দিয়ে কারো গোসল করার বা শোয়ার ভঙ্গী বদলানোর চেষ্টা করা যেমন অনুচিত, এটাও ঠিক তেমনি।

যুক্তি ০৪: সমকামিতা অরুচিকর, অশ্রাব্য!

এটা কোন যুক্তি না, সমকাম বিরোধীদের নিজস্ব মতামত। আমরা তো অনেক খাবারকেও ‘অরুচিকর’ বা ‘অখাদ্য’ বলে থাকি তার পুষ্টিগুন সম্পর্কে কোন ধারণা না থাকা সত্ত্বেও কারণ সেটা আমার খাদ্যাভ্যাসে নেই, এটা খাওয়ার মত কোন বস্তু সেটাও ধারণায় নেই। মানুষ প্রাচীনকাল থেকে সেটাই তার খাদ্যাভ্যাসে রেখেছে যা সে সহজে সংগ্রহ করতে পারে বা যা সহজপ্রাপ্য। এ কারণেই পৃথিবীতে নানান এলাকার মানুষের খাদ্যাভ্যাস নানান রকমের। আমার খাদ্যাভ্যাসে যা নেই বা যেটা অরুচিকর সেটা অন্য অঞ্চলের মানুষের জন্য খুবই উপাদেয় খাবার হতে পারে। সমকামিতাও হয়ত আপনার শুনতে বা নিজে করতে খারাপ লাগতে পারে, আপনি করবেন না। কিন্তু অন্যে করলে সেটা কেন খারাপ বলবেন? শুধু আপনি করেন না, একারণেই? কখনো শোনেননি, শুধু এ যুক্তিতেই?

সমকামীরা কাউকে জোড় করে সমকামী বানায় না। ব্যাপারটা পছন্দ না হলে করবেন না, কিন্তু কেউ সমকামী এটা জানার পরে দয়া করে আৎকে উঠবেন না। সমকামীদের সাথে কোন ধরণের বৈষম্য করবেন না, করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে সমকামী জানার পরে হাতটা ফেরৎ নেবেন না। সমকামিতা কোন ছোঁয়াচে রোগ না, করমর্দনের মাধ্যমে বা সামাজিকভাবে সম্পর্ক রাখলে এইচআইভি ভাইরাস ছড়ানোরও কোন সম্ভাবনা নেই। সমর্থন করতে না পারেন অন্তত তাদের ঘৃণা করবেন না।

৮০ thoughts on “যুক্তির বিচারে সমকামিতা; কিছু পরিচিত যুক্তি।

  1. ধরে নেয়া যাক, আজকে পৃথিবীর সব
    ধরে নেয়া যাক, আজকে পৃথিবীর সব মানুষ সমকামী হয়ে গেল। ঠিক বিশ বছর পর পৃথিবীর অবস্থাটা একটু কল্পনা করুণ তো। সেটা আপনার কাছে সুখকর কিছু হলে, কিছু বলার নেই…

    1. ক্লান্ত ভাই, আপনার যুক্তিটাও
      ক্লান্ত ভাই, আপনার যুক্তিটাও দুর্বল হয়ে গেলো না? পৃথিবীর সব মানুষ সমকামী হোক এটা লেখক বা কেউই দাবী করেন না। উনি প্রাকৃতিক বৈচিত্রতার পক্ষে বলেছেন।

      1. ঠিক আছে ভাই। মানলাম বৈচিত্রের
        ঠিক আছে ভাই। মানলাম বৈচিত্রের দরকার আছে। কিন্তু, এটাও নিশ্চয়ই মানবেন, সেটার একটা সীমারেখার দরকার আছে। বৈচিত্রের জন্যে যদি কেউ নিজের মা-বোনের সাথে সম্পর্কে জড়াতে চায়, মেনে নেবেন? ঠিক সে কারণেই বলছি, বৈচিত্রটা ঠিক কোথায় থামাতে হবে, তার একটা সীমারেখা প্রয়োজন। মা-বোনের সাথে কেন সম্পর্কে জড়ানো যাবে না, তার কিন্তু কোন ভাল কারণ কেউ দর্শাতে পারবে না। এটাও অনেকটা তেমনি।

        বৈচিত্রতার জন্য আমি গাঁজা খেয়ে ছবির হাঁটে পড়ে থাকছি। বৈচিত্রতার জন্য মাতাল হয়ে পড়ে থাকছি। বৈচিত্রতার জন্য হাতে সিগারেট ঠেসে ধরছি। সবকিছু বৈচিত্রতার জন্য। কোনটা সমর্থন করবেন?

        বৈচিত্রতার কথা বললে, গরু ছাগলের সাথেও সম্পর্কে জড়ানো যায়। সমর্থন দেবেন?

          1. আমি মোটেও বলি নাই, সমকামিতা
            আমি মোটেও বলি নাই, সমকামিতা মানে মাবোনের সাথে সম্পর্ক। আমি বলেছি, সমকামিতা যদি বৈচিত্রের জন্য গ্রহনযোগ্য হতে পারে, তবে এটা কী দোষ করল?

      2. সমকামিতাকে সাপোর্ট করেই
        সমকামিতাকে সাপোর্ট করেই লিখকের যে চারটি যুক্তির একটাও পরম বিরোধিতাকারীদের প্রধান যুক্তি নয়। যদি বৈচিত্রের জন্যেই সমকামিতার দরকার মনে করে সে ক্ষেত্রে আমি বলব বহুগামিতায় সমাধান, সমকামিতা নয়…
        একটু সহজ উদাহরণ দেইঃ মানুষ বেঁচে থাকার জন্যে কি দরকার? মৌলিক একটি প্রধান উপাদান হচ্ছে গ্লুকোজ। তাই তো? আমরা কিন্তু সরাসরি কেবলই বিশুদ্ধ গ্লুকোজ খাই না। একইভাবে মানুষের জৈবিক চাহিদার প্রয়োজনবসত বিপরীত লিঙ্গের সাথে যে মিলন হয় তা হাজারো উপায়ে, অনেক চমকপ্রদভাবে এবং রোম্যান্টিকভাবে করতে পারে। আমি মনে করি এইখানেও কারও বৈচিত্রের অভাব অনুভব হলে সে সমকামিতা টেস্ট করতে পারে এমন কি কালেভদ্রে এঞ্জয়ও করতে পারে কিন্তু মানব প্রজাতির মূল খাবার হয়ে যাবে মদ, গাঁজা, কোকেন, হেরোইন বা এলএসডি এইটা কোন যুক্তি দিয়ে আমাকে বুঝাবেন?

        এইবার পোস্টকর্তার পোস্টে মন্তব্য না করে আতিক-ভাইয়ের মন্তব্যের প্রতিমন্তব্য করার কারণ একটা প্রশ্ন। আতিক ভাই আপনি ডঃ মানুষ, আপনিই বলেন পুরুষ এবং নারী সমকামীদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে একটু প্রাসঙ্গিক বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করুণ। কারণ কোন বিষয়ের বিরোধিতাকারীদের সবচে দুর্বল যুক্তি নিয়ে আলোচনা করে মূল প্রসঙ্গকে এভয়েড করার রীতি যথেষ্ট পুরাতন এবং একই সাথে প্রচণ্ডভাবে ব্যর্থ…

        আশাকরি মূল যুক্তি নিয়ে কথা বলবেন। প্রকৃতিবিরুদ্ধ আচরণ কিনা তা প্রকৃতিই নির্ধারণ করবে। বিবর্তনের লক্ষ বছরের ইতিহাস ঘাঁটলেই বুঝতে পারবেন এই বৈচিত্র্যান্যাসী সাময়িক সমাধান কোন স্থায়ী সমাধান নয়।

        পোস্ট কর্তার কাছে আমার মূল প্রশ্ন আচ্ছা বলেন তো ভাইঃ সমকামী মানুষ সৃষ্টির পিছনের মূল কারণ কি?

        1. মন্তব্যের প্রথম অংশটা আমার
          মন্তব্যের প্রথম অংশটা আমার উদ্দেশ্যে, তাই সেটুকুর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি। এই চারটা যুক্তিই প্রধান যুক্তি তা দাবি করা হয়নি, কিন্তু বিরোধীতাকারিদের কাছ থেকে এসবকিছুই প্রথমে শোনা যায়। বৈচিত্রের জন্য যদি কেউ সমকামী হয় সেটা তার ইচ্ছানির্ভর সিদ্ধান্ত হয়ে গেল, কিন্তু কেউ যদি প্রাকৃতিকভাবেই সমলিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয় সেটা কি শুধুই বৈচিত্রের জন্য? নাকি আমরা অস্বীকার করব যে প্রাকৃতিকভাবে কেউ সমকামী হতে পারে না? গাঁজা, কোকেন, হেরোইন বা এলএসডি সেবনে উদরপূর্তি সম্ভব না, কিন্তু ভাতের বদলে রুটি বা শুধুই লতাপাতা কারো মূল খাবার হলে আমাদের কি করার থাকবে? সমকামীতাকে কেন ওসব নেশাদ্রব্যের সাথে মেলানো হচ্ছে? এটা কি ইচ্ছাকৃত না অনিচ্ছাকৃত?

          সবাইকে ধন্যবাদ আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য।

          1. নেশাদ্রব্যকে সমকামীতার সাথে
            নেশাদ্রব্যকে সমকামীতার সাথে মিলানো হয়নি আমি উপমা দিয়েছি মাত্র। আরেকবার পড়লেই বুঝতে পারবেন কি বলতে চাইছি…

            “গাঁজা, কোকেন, হেরোইন বা এলএসডি সেবনে উদরপূর্তি সম্ভব না”— ধন্যবাদ ফাঁদে পা দেয়ার জন্যে। এইবার আমায় উত্তর দিনতো যৌনতার মৌলিক [একমাত্র] কারণ কি? ডঃ আতিক ভাই আনন্দ নিয়ন্ত্রণ করে এমন হরমোন ডোপামিন‘র প্রভাবটাও আলোচনা করবেন আশাকরি… তারপর সবার কাছে পরিষ্কার হবে সমকামি মানুষ সৃষ্টির পেছনের মূল কারণ কি? এরপরই আমরা এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করব! আমি এই পোস্টেই মন্তব্যে বলেছি আবারও বলছি, “তাঁদের সঙ্গে আমি দ্বিমত কিন্তু তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করতে আমি লড়াই করতে প্রস্তুত। যেমনটি সরকার অন্ধ, প্রতিবন্ধী, অটিস্টিকদের জন্যেও আলাদা সকল ব্যবস্থা করে। আমি তাঁদের প্রতিবন্ধী বলছি না তবে ভিন্ন ধারার এই মানুষদের অধিকার আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে”…

          2. উপমা ভিন্নভাবেও দেওয়া যায়, না
            উপমা ভিন্নভাবেও দেওয়া যায়, না মিললে উপমার বিশেষত্ব থাকে না। যাইহোক, ফাঁদে ফেলুন আর যাই করুন, “যৌনতার মৌলিক [একমাত্র] কারণ কি?” এই প্রশ্নের উত্তর আংশিক দেওয়ার চেষ্টা করেছি মূল লেখায়, এর বেশী আপাতত নেই। এর সঠিক ও একমাত্র উত্তর কি আপনার কাছেই আছে?

          1. দোস্ত,
            আমার বাক্যকে স্পট

            দোস্ত,
            আমার বাক্যকে স্পট ফিক্সিং করসস ক্যা রে? বাক্যটি ছিল “যদি বৈচিত্রের জন্যেই সমকামিতার দরকার মনে করে সে ক্ষেত্রে আমি বলব বহুগামিতায় সমাধান, সমকামিতা নয়…”
            তুই আংশিক কাট-পিস মারছস ক্যান? তেব্র নেন্দা জানাইলাম…

    2. আপনি কোন যুক্তিতে ধরে নিচ্ছেন যে পৃথিবীর সব মানুষ সমকামী হয়ে যাবে? সমকামীতা কি চয়েজেেে ব্যাপার? একজন স্ট্রেইট চাইলো আর সমকামী হলো, জিনিসটা কি এমন? আপনি নিজে চান,দেখুন তো আপনার সম লিঙ্গের কারো প্রতি আপনার ফিল আসে কি না! পৃথিবীতে সমকামীর চেয়ে অনেকগুন বেশি স্ট্রেইট, এরা কি বসে বসে সব সমকামী বাচ্চা পয়দা করবো? আপনি যদি ধরেই নেন কোন এক যাদুবলে সম সমকামী হয়ে গেলো তাহলে আপনি কেন ভাবতে পারতেছেন না সেই দিন আপনার যাদুবলে সমকামীরাও বাচ্চা উৎপাদন করতে সক্ষমহবে কিংবা বাচ্চা উৎপাদনের জন্যবিপরীত লিঙ্গের কাওকে লাগবে না।

  2. কে সমকামী কে অসমকামি এটা তার
    কে সমকামী কে অসমকামি এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। পাশাপাশি কারো জন্য এটা শারীরিক ব্যাপারও। জন্মগত ভাবেও সমকামী হতে পারে। এতে তার কোন হাত নেই। আমাদের যেমন বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ হওয়া স্বাভাবিক মনে হয় তেমনি ওদেরও সম লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ হওয়া স্বাভাবিক মনে হয়। জোর করে যেমন কাউকে সমকামী বানানো যায় না তেমনি জোর করে কাউকে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করা যায় না।

    1. হালকা দ্বিমত আছে,
      তারজন্যে

      হালকা দ্বিমত আছে,
      তারজন্যে আগে একটু ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে একটা কথা বলে নিই। ‘যে ব্যক্তিস্বাধীনতা সমাজের অন্য ব্যক্তির স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত বা প্রশ্নবিদ্ধ করে তা কিন্তু ব্যক্তিস্বাধীনতা নয়’! সমকামিতার ক্ষেত্রে এই কথা প্রযোজ্য নয় আমিও মনে করি। তবে এক কক্ষ বিশিষ্ট যানবাহনে যেমন ধূমপান নিষেধ বা প্রকাশ্যে মদ্যপান বিশ্বের বেশীরভাগ দেশেই নিষেধ ঠিক একইভাবে আমার মনেহয় এইটাও একান্ত ব্যক্তিগত রুচির ব্যাপার। সে সমকামি হবে না বহুগামি অথবা উভগামী তা সেই নির্ধারণ করবে তবে এইটা নিয়ে এত হইচই করার কিছু নেই। তবে মানবাধিকারের প্রশ্নে আমি তাঁদের অধিকারের পক্ষে। তাঁদের সঙ্গে আমি দ্বিমত কিন্তু তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করতে আমি লড়াই করতে প্রস্তুত। যেমনটি সরকার অন্ধ, প্রতিবন্ধী, অটিস্টিকদের জন্যেও আলাদা সকল ব্যবস্থা করে। আমি তাঁদের প্রতিবন্ধী বলছি না তবে ভিন্ন ধারার এই মানুষদের অধিকার আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।
      এই বিষয়ে আমার প্রশ্নটি আপনাকেও করছিঃ
      ‘সমকামী মানুষ সৃষ্টির পিছনের মূল কারণ কি?”

      1. এখানে আপনার শেষের প্রশ্নটি
        এখানে আপনার শেষের প্রশ্নটি বাদে যা বলছেন, তার পরে তো আমারও প্রশ্ন জাগে মনে, আমরা তাহলে কি নিয়ে তর্ক বা আলোচনা করছি এতক্ষন?

  3. সমকামিতাকে আমি কোন অবস্থাতেই
    সমকামিতাকে আমি কোন অবস্থাতেই সমর্থন করি না। প্রথম কারণ এটা আমার কাছে বিকৃত রুচির পরিচায়ক বলে মনে হয়। আর দ্বিতীয়ত আমার ধর্ম কোন অবস্থাতেই সমকামিতাকে সমর্থন করে না।

    1. আপনার প্রথম কারণের উত্তর মূল
      আপনার প্রথম কারণের উত্তর মূল লেখাতেই দেওয়া আছে। আর দ্বিতীয় অংশের উত্তরের জন্য কোন কথা নেই, ধৈর্য্যও নেই।

  4. সমকামিতার বিরোধীতা
    সমকামিতার বিরোধীতা করছিনা,কারণ কারো ব্যাক্তিগত জীবন সে কিভাবে বেছে নেবে সেটা তার একান্তই নিজস্বতার ব্যাপার।আর ধর্মের হালাল হারামের ধারে কাছেও যেতে চাইনা কারণ বেফাস কথা বলে আমার চোদ্দ শিখের ভেতরে ঢোকার আপাতত কোনো ইচ্ছাই নেই।আমি শুধু মানবিক রুচিবোধের কথা বলবো।ধরুন একজন লোকের সাথে আপনি এক ডাইনিং টেবিলে বসে ব্রেকফাস্ট করছেন,লোকটি ডান হাতে খাচ্ছে আর বাম হাতে নাকের বিষ্ঠা খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বের করে দুই আঙ্গুলের চিপায় ফেলে খেলা করছে। এটা আপনার জন্য যতটাই অশোভন যে কাজটি করছে তার কাছে ততটাই স্বাভাবিক।আবার ধরুন আমরা সবাই হাত ব্যাবহার করে খাবার খাই।হাতটা ব্যবহার করেই খাবারটা মুখে পুরি।একটি কুকুরের পক্ষে তা সম্ভব নয়।তাকে খাবার মুখ ব্যাবহার করেই মুখে পুরতে হবে।কিন্তু কুকুরের মত যদি কোনো সুস্থ মানুষ হাত ব্যতিরেখে মুখ দিয়েই খাবার মুখে পুরে এটা আপনি বিকৃত মস্তিষ্কের একটি কান্ড ছাড়া আর কিছুই ভাববেননা।সমকামিতাও সেইরকম কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের স্বভাব।যারা প্রকৃতির উল্টা নিয়মে তাদের কামুক তৃপ্তি নিবারণ করে।যৌন কামনা বাসনা নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিষ্ক থেকে। ঘরে সুন্দরিতমা স্ত্রী থাকা সত্যেও কেউ কেউ সানিলিওনকে কল্পনা করে বাথরুমে বসে শক্তি ব্যায় করে।এগুলো যার যার রুচির ব্যাপার।আইন করে বা জোর করে কারো বিকৃত রুচির পরিবর্তন করা যায়না।এর জন্য সঠিক সময়ে সঠিক মানষিক চিকিৎসা ও সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজন।

    1. আপনি যে ‘রুচি’বোধের কথা
      আপনি যে ‘রুচি’বোধের কথা বলছেন, সেটা তো মূল লেখাতেই আলোচনা করলাম। যাইহোক, আপনি ধরে নিয়েছেন সমকামীতা সম্পুর্ণ ইচ্ছানির্ভর, প্রকৃতিপ্রদত্ত না। আপনি বিষমকামী সেটা কি আপনার মধ্যে যখন যৌনানুভূতি জাগল তখন নিজে নিজে বেছে নিয়েছেন নাকি প্রকৃতিপ্রদত্তভাবেই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বোধ করতে শুরু করলেন? যাইহোক, কারো হাত না থাকলে বা প্লেট থেকে ডাল সমেত ভাত হাতের সাহায্য ছাড়া মুখ দিয়েই খাওয়া হয়, জাপানে স্যুপ খাওয়ার জন্য কোন চামচ ব্যাবহার করা হয় না, বাটি থেকে মুখ দিয়ে টেনে খায়, এসব নিশ্চয়ই মস্তিস্ক বিকৃতির লক্ষন না! পাশ্চাত্যের কাঁটা চামচে খাওয়া সাহেবেরা আমাদের হাত দিয়ে খাওয়াকেও অসভ্যতা ও অরুচিকর মনে করে, তাতে আমাদের বয়েই গেছে!

      1. জাপানে স্যুপ খাওয়ার জন্য কোন

        জাপানে স্যুপ খাওয়ার জন্য কোন চামচ ব্যাবহার করা হয় না, বাটি থেকে মুখ দিয়ে টেনে খায়,

        আমার জানা মতে শুধু শুধু টেনে খায়না হাতে দুইটা কাঠি থাকে।যাই হোক আপনার কথায় যুক্তি আছে।জেনেটিক কারণেই হোক আর অজ্ঞতার কারণেই হোক সমকামিতাকে অরুচিকর অভ্যাস হিসেবেই মনে করতাম।

        1. কাঠি দিয়ে স্যুপে থাকা সলিড
          কাঠি দিয়ে স্যুপে থাকা সলিড বস্তু তুলে খাওয়া হয়, কিন্তু তরল স্যুপ বাটি থেকে মুখেই টানা হয়, মানে স্যুপ খাবার পরিচিত চামচের মত চামচ জাপানে ব্যাবহার করা হয় না! ধন্যবাদ আপনাকে!

          1. সরি প্রথমে মনে হয় স্যুপ
            সরি প্রথমে মনে হয় স্যুপ শব্দটা ব্যাবহার করেননি।হ্যা স্যুপতো মুখে টেনে টেনেই খাবে।আমরাও খাই।প্লেটে ডাল সহ ভাত চুমুক দিয়ে খাই। যাই হোক আমি এখন অভিজিৎ রায়ের সমকামিতা মুলক বইটি পড়ছি।পড়ে আলোচনায় আসছি।

  5. কে সমকামী কে অসমকামি এটা তার

    কে সমকামী কে অসমকামি এটা তার ব্যক্তিগত
    ব্যাপার। পাশাপাশি কারো জন্য এটা শারীরিক
    ব্যাপারও। জন্মগত ভাবেও সমকামী হতে পারে।
    এতে তার কোন হাত নেই। আমাদের যেমন বিপরীত
    লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ হওয়া স্বাভাবিক মনে হয়
    তেমনি ওদেরও সম লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ
    হওয়া স্বাভাবিক মনে হয়। জোর করে যেমন
    কাউকে সমকামী বানানো যায় না তেমনি জোর
    করে কাউকে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ অনুভব
    করা যায় না।

    মানুষের ব্যাক্তিগত ব্যাপারটা ব্যাক্তিগতই থাক। আমাদের কাছে বিপরীত লিঙ্গ আকর্ষণীয় সমকামিদের তেমনি আকর্ষণীয় না। তাই বলে তাদের মানুষিকতাকে আমরা ঘৃণা করতে পারিনা। তাহলে তারাও আমাদের মানুষিকতাকে ঘৃণা করতে পারে।

    1. তাই বলে তাদের মানুষিকতাকে

      তাই বলে তাদের মানুষিকতাকে আমরা ঘৃণা করতে পারিনা। তাহলে তারাও আমাদের মানুষিকতাকে ঘৃণা করতে পারে

      । –
      Thats The Point……

  6. কামী, সমকামী যেহেতু সবই জৈবিক
    কামী, সমকামী যেহেতু সবই জৈবিক ব্যাপার, তাই তাকে তার মত ছেড়ে দেয়াই উত্তম। তবে আমার প্রশ্ন মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণির মধ্যে সমকামিতা নেই কেন? বিপরিত লিঙ্দ ছাড়া তা কখনো যৌনতা নিরোধের চেষ্টা করেকি?

    1. মানুষ ছাড়াও ৫০০ প্রজাতির
      মানুষ ছাড়াও ৫০০ প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে সমকামীতা বিদ্যমান। নিচের লিংকগুলো দেখতে পারেন!

      ১. http://en.wikipedia.org/wiki/List_of_animals_displaying_homosexual_behavior

      ২. http://en.wikipedia.org/wiki/Homosexual_behavior_in_animals

  7. স্বাভাবিক যৌন কর্ম যদি
    স্বাভাবিক যৌন কর্ম যদি স্বাধীনতা হয় তাহলে সমকামিতা সেচ্ছাতারিতা । স্বাধীনতা ক্ষতিকর নয় কিন্তু স্বচ্ছাচারিতা ক্ষতিকর । যা ক্ষতিকর তা বর্জনিয় ।

    1. মিঃ লংলিভ ফ্রিথিংকিং,
      আমার এই

      মিঃ লংলিভ ফ্রিথিংকিং,
      আমার এই প্রশ্নের উত্তর কি পাব?
      সমকামী মানুষ সৃষ্টির পিছনের মূল কারণ কি?
      আমি ফ্রয়ড কিংবা অন্য কারও কাছে যাব না, নিজের ধারণা দিয়েই প্রশ্নের উত্তর দিব! আর চাষা-ভাই স্বেচ্ছাচারিতা বলেছে আপনি আপত্তি করেছেন। স্বেচ্ছাচারিতা কিনা সে ব্যাপারে আমিও নিশ্চিত না তবে অসুস্থতা এতে কোন সন্দেহ নেই… আপনি প্রাসঙ্গিক উত্তরটা দিয়েন!! ধন্যাবাদ…
      মুক্তচিন্তা অমর হোক! :bow: :থাম্বসআপ:

        1. কেবল এবং কেবল মাত্র বিবর্তনের
          কেবল এবং কেবল মাত্র বিবর্তনের ধারা অব্যাহত রাখা। আপনি হয়তো লক্ষ করেন নি আমার প্রথম কমেন্টের একটা অংশঃ
          “সমকামিতা প্রকৃতিবিরুদ্ধ আচরণ কিনা তা প্রকৃতিই নির্ধারণ করবে। বিবর্তনের লক্ষ বছরের ইতিহাস ঘাঁটলেই বুঝতে পারবেন এই বৈচিত্র্যান্যাসী সাময়িক সমাধান কোন স্থায়ী সমাধান নয়।”

      1. এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার
        এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না, আমি আগেই বলেছি, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র নই আমি। তবে ধারণার কথা বলতে পারি! ক্রোমোজমের হেরফেরের কারণে যেমন প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা, সেরকম কোন কারণ থাকতে পারে, তবে আমি নিশ্চিতভাবে জানি না। মানুষ ছাড়াও প্রায় ৫০০ প্রজাতির প্রানীর মধ্যে সমকামীতা বিদ্যমান! শুধু সমকামী মানুষ না, পুরো সমকামীতা বিষয়টা নিয়েই আলোচনা করা দরকার!

    2. কোন কোন যুক্তিতে সমকামীতাকে

      কোন কোন যুক্তিতে সমকামীতাকে স্বেচ্ছাচারিতা বলছেন?

      যৌনতার স্বাভাবিক কিছু প্রক্রিয়া আছে এবং এই স্বাভাবিকতার পিছনে কিছু প্রয়োজনও জড়িত । এখন কেউ যদি সেই প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করে অপ্রাকৃতিক ভাবে যৌনতা উপভোগ করে তাহলে তাকে অপ্রাকৃতিক বলে যা স্বেচ্ছাচারের পর্যায়ে পড়ে বলেই আমি মনে করি । কেন তা স্বেচ্ছাচারের পর্যায়ে পড়বে না তা আপনাকেই ব্যাখ্যা দিতে হবে । মানুষের অর্থ কামানোর কিছু স্বাভাবিক প্রক্রিয়া আছে যাতে তার নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মিটায় । কিন্তু আপনি যদি কোন অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অর্থ কামান ও তা আপনার নিজের ও পরিবারের কাজে না লাগে তাহলে আপনার সেই অর্থ কামানোর পদ্ধতিকে স্বেচ্ছাচারিতা না বলে আর কি বলার আছে ?

      1. যৌনতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার
        যৌনতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার পিছনে প্রয়োজনীয় কারণগুলো কী কী? আর, স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলতে কি বুঝি আমরা? মানে আমরা বা মানুষের মধ্যে বেশীরভাগ যে পন্থা অবলম্বন করে সেটাই স্বাভাবিকতার একমাত্র মাপকাঠি?

        1. যৌনতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার

          যৌনতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার পিছনে প্রয়োজনীয় কারণগুলো কী কী? আর, স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলতে কি বুঝি আমরা? মানে আমরা বা মানুষের মধ্যে বেশীরভাগ যে পন্থা অবলম্বন করে সেটাই স্বাভাবিকতার একমাত্র মাপকাঠি?

          আগে ভাবুন যৌনতার প্রয়োজন কেন ?

          1. মোটামুটি দু’টা বলা যায়,
            মোটামুটি দু’টা বলা যায়, ‘উত্তরাধিকার’ সৃষ্টি ও ‘মানসিক প্রশান্তি’, আলোচনাটা এখন আপনি যেদিকে নিবেন সেটা নিয়ে তো মূল লেখাতেই আলোচনা করা হয়েছে।

          2. মানসিক প্রশান্তির মাধ্যমে
            মানসিক প্রশান্তির মাধ্যমে উত্তরাধিকার সৃস্টি নাকি উত্তরাধিকার সৃস্টির নিমিত্তে মানসিক প্রশান্তি – যে যেভাবে নেয় সেটাই তার জন্য ভাল ।

  8. যেসব দেশে সমকামীতাকে বৈধতা
    যেসব দেশে সমকামীতাকে বৈধতা দেয়া হয়েছে সে সব দেশে একটা সময় বিয়ের অধিকার দাবী করা হল। যখন বিয়ের অধিকার দেয়া হল তখন চাইলো সন্তান দত্তক নেয়ার অধিকার; এই হল সমকামীতার এন্ড রেজাল্ট। চিন্তা করেন যে সন্তান সে দত্তক নিবে, সে সন্তান প্রকৃতগতভাবে সমকামী না হলেও দেখবে তার তথাকথিত বাবা-বাবা(!)ইয়ে মারামারি করছে! এটাকেই সে স্বাভাবিক মনে করবে! ভাবতেই বমি আসে! পৃথিবীতে কোন স্বাধীনতাই অবাধ নয়! সিম্পলি বিকজ আপনার ‘ইয়ে’ মারতে ভাল লাগে তাঁর জন্য আপনাকে সেই অধিকার দিয়ে দিতে হবে মানবতার নামে এমন মানবতাবাদীর ‘ইয়ে’ মারতে পারেন একজন সমকামী। সমকামীরা পরিবেশ দুষিত করে। এতো ভাল মানুষ হইয়েন না। বেশী ভাল, ভাল না।

    1. ‘চায়নিজরা পোকা মাকড় খায়’
      ‘চায়নিজরা পোকা মাকড় খায়’ শুনেও বমি চলে আসে আমাদের। আমাদের উচিৎ এই খাদ্যাভ্যাসের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংসদে বিল পাস করা! ‘সমকামী’রা পরিবেশ দূষিত করে’ এই কথা আগে শুনিনি। কোন কোন উপায়ে পরিবেশটা দূষিত হচ্ছে একটু বলবেন দয়া করে?

  9. কিছু জায়গাতে আমার প্রশ্ন আছে
    কিছু জায়গাতে আমার প্রশ্ন আছে যে
    • মানুষের সমকামিতা কি প্রাকৃতিক কিনা? নাকি শুধুই অভ্যাস।
    সমকামিতে বৈধতা দিলে সবাই এমন হবে না। কিন্তু এদের ভবিষ্যৎ টা কি? সন্তান উৎপাদনের ধারায় একটা বড় ধাক্কা খাবে। আর যদি সেক্স এর কথা বলি সেটাও কি এই প্রক্রিয়ায় মাঝে মেটানো সম্ভব?
    তবে তাই বলে অন্যের অধিকারে আমি হস্তক্ষেপের পক্ষপাতী না। আর সমকামিতাদের এভাবে ঘৃণা করার কোন কারণ আমি দেখতে পাচ্ছি না। ওনারা খুন বা ধর্ষণ এর মত অপরাধ করেনি।

  10. এখানে যারা আলোচনা করছেন তাদের
    এখানে যারা আলোচনা করছেন তাদের বেশীর ভাগেরই এই বিষয়ক সায়েন্টিফিক নলেজ নেই বলেই মনে হচ্ছে। বিশেষ করে তারিক লিংকন ভাই, আপনি অনেক বেশী পড়ালেখা করেন বলেই জানি। সব বিষয়ে পড়তে হবে এমন আমি মনে করিনা। কিন্তু যেই বিষয়ে আপনার পড়াশুনা নেই, সেই বিষয়ে এভাবে নিজ মতামত ব্যক্ত করে দেওয়া কতটুকু মুক্তিচিন্তার পরিচয় বহন করে আমার জানা নাই। আমরা আসলে এই বিষয়টি নিয়ে পড়তে এবং আলোচনা করতে অসস্ত্বি বোধ করি। তাই এভয়েড করি। কিন্তু নিজেদের শক্ত অবস্থান জানাতে দ্বিধাবোধ করিনা। এক্ষেত্রে অবশ্য আমাদের আচরণ মৌলবাদীদের মতোই। কেউ যদি এর পক্ষে কথা বলেন তাকেও নানান বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয়। যেমন, আসিফ মহিউদ্দিনকে অনেকেই সমকামী বলে খোঁচা দেয়, কারণ উনি এর পক্ষে কথা বলেছিলেন।
    যাই হোক আলোচনা সেটা নয়। আপনারা আগে এটা নিয়ে পড়ালেখা করুন। আমি শুধু আমার মেডিকেল সায়েন্সের সামান্য নলেজ থেকে বলি, এটা শুধুমাত্র যৌনতার বিষয় নয়। সমকামিতাকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে মেডিকেল সায়েন্সে, তাতে এটা মানসিক এবং শারীরিক আকর্ষণ। আপনাকে আমাকে যেমন জোর করেও সমকামে লিপ্ত করানো যাবে না, তেমনি সমকামী একজনকে আপনি জোর করে ১০০% বিষমকামী বানাতে পারবেন না। সে পারবে না। কারণ তার জন্মগতভাবেই, ইয়েস জন্মগতভাবেই সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ গড়ে উঠেছে। এখন এটাকে আমরা বিকৃতরুচি বলে রায় দেবো কিনা সেটা একটা বড় প্রশ্ন। সেক্ষেত্রে যৌনতা এবং ভালোবাসার অনুভূতি যেমন মানুষের একটি ব্যাসিক ইনস্টিংক্ট। তাতে করে তাদের জন্য আমরা কি সমাধান দেবো? এটা তো কোন যৌন রোগ না বা মানসিক রোগ না যে চিকিৎসায় ভালো হয়ে যাবে? তাহলে কি তাদের জন্য সমাধান হচ্ছে সারাজীবন নিজের মনকে দমিয়ে রাখা? অথবা নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করে একটা মেয়েকে বিয়ে করে সারাজীবন তার সাথে প্রতারণা করে দুটো জীবন নষ্ট করা? নাকি আমরা তাদের হত্যা করে ফেলবো? কোনটা?

    1. আতিক ভাই,
      আপনার মন্তব্যের

      আতিক ভাই,
      আপনার মন্তব্যের জন্য ঐকান্তিক অফুরন্ত ধইন্যা :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
      আপনার প্রথম কথাগুলোর ব্যাপারে কিছুই বলার নেই। শেষের দৃশ্যত যৌক্তিক অংশের অসাড়তাটা একটু দেখুনঃ

      ‘তাতে করে তাদের জন্য আমরা কি সমাধান দেবো? এটা তো কোন যৌন রোগ না বা মানসিক রোগ না যে চিকিৎসায় ভালো হয়ে যাবে? তাহলে কি তাদের জন্য সমাধান হচ্ছে সারাজীবন নিজের মনকে দমিয়ে রাখা? অথবা নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করে একটা মেয়েকে বিয়ে করে সারাজীবন তার সাথে প্রতারণা করে দুটো জীবন নষ্ট করা? নাকি আমরা তাদের হত্যা করে ফেলবো? কোনটা?’

      — আতিক ভাই নিশ্চয় ফ্রয়ডের ইডিফাস এবং ইলেক্ট্রা কমপ্লেক্স সম্পর্কে জ্ঞাত আছেন। আচ্ছা বলেনতো-
      ১) সমাজ কোন কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে মা-ছেলে এবং বাবা-মেয়ের এমন প্রেমকে সমাজ অস্বীকার করে অন্য আরেকটি ধারার প্রেমে সংজ্ঞায়িত করে রোধ করল?
      ২) কোন কোন ঘটনার কারণে মানুষের মাঝে এমন জিন এসেছে বা মানুষ সমকামিতায় উদ্বুদ্ধ হচ্ছে?
      ৩) আপনার কাছে মূল প্রশ্ন ছিল ছেলে সমকামীদের স্বাস্থ্যগত দিক নিয়ে। সেই প্রশ্নের জবাবও আশাকরি দিয়ে যাবেন। আলোচনার জন্যেই প্রয়োজন, আপনি এক্সপার্ট থাকতে আমি এই বিষয়ে বলতে চাই না।

      1. তারিক ভাই, আপনি এই বিষয়ে
        তারিক ভাই, আপনি এই বিষয়ে বৈজ্ঞানিক কিছু গবেষণামূলক লেখা আছে সেগুলো পড়ে দেখতে পারেন। আপনি বা আমি আসলে মূল সমস্যাটা ধরতে পারবো না। সমকামীদের মনস্তাত্ত্বিক দিকটা একান্তই তাদের মতো। সেটাকে আমার আপনার মনস্তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করতে গেলেই ভুল করবেন। বেশীর ভাগ মানুষ মনে করে, এটা তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে করে। ইচ্ছে করলেই সে একজন বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে বিয়ে করে ঘরসংসার চালিয়ে নিতে পারে। কিন্তু সে তার বিকৃত মানসিকতার কারনে সোম লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তার যৌন বাসনা পূরণ করে। আদতেই ব্যাপারটা তা নয়। আমি আগের মন্তব্যেই বলেছি, এটা শুধু যৌনতার বিষয় নয়। একজন নারী এবং পুরুষের মাঝে যেরকম প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, ঠিক তদ্রুপ দুইজন সমকামীর মধ্যে প্রেমের এবং গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একজন আরেকজনকে না পেয়ে সুইসাইড করার ঘটনা খুব বিরল নয়। আপনার আমার কাছে হাস্যকর শোনালেও এটাই বাস্তব। আমি সাইকিয়াট্রি বিভাগে কাজ করার সময় এমন পেয়েছি। আর একটা মজার বিষয় কি জানেন? আমাদের সমাজ, ধর্ম এসব নানাবিধ বাঁধার মুখে পড়ে বেশীরভাগ সমকামী মনে-প্রানে চায় সেও অন্য আর দশজনের মতো বিপরীত লিঙ্গের প্রতি যেন আকৃষ্ট হয়ে সমাজ নির্ধারিত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। কিন্তু হাজার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয় না? কারণ এটা পুরোটাই মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। আসলে সমকামী শব্দটার মাঝেই কাম জড়িয়ে আছে বলেই আমরা সবাই ধরেই নেই এটাই শুধুই যৌনতার বিষয়। আদতেই তা নয়। যে জন্মগতভাবেই এভাবে তার মনস্তত্ত্ব পেয়েছে সে কিভাবে নিজেকে পরিবর্তন করবে বলতে পারেন? তার জেনেটিক্স তো আর চেঞ্জ করা সম্ভব না তাই না?

        আর স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা যা বললেন, সেটা অস্বীকার করার কিছু নাই। সেজন্য তাদের প্রোটেকশন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঠিক একই স্বাস্থ্য ঝুঁকি কিন্তু বিষমকামীর জন্যও আছে। যৌন বাহিত রোগ কারো থাকলে সেটা বিষম কামের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে যদি প্রোটেকশন না নেওয়া হয়।

        1. তার জেনেটিক্স তো আর চেঞ্জ করা

          তার জেনেটিক্স তো আর চেঞ্জ করা সম্ভব না তাই না?

          — তাহলে আপনি আপডেটেড না! মানুষের পূর্ণাঙ্গ জিন ম্যাপিং এর কাজ ২০১৪ কি ১৫ তেই শেষ হবে, তারপর তাও সম্ভব হবে! যদিও এইটা প্রশঙ্গের বাইরে, কেন? বলছিঃ আমি কেন আমার মূল প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে নিজের কথা বলে যাচ্ছেন? আমি তো বলেছি, ‘তাঁদের সঙ্গে আমি দ্বিমত কিন্তু তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করতে আমি লড়াই করতে প্রস্তুত। যেমনটি সরকার অন্ধ, প্রতিবন্ধী, অটিস্টিকদের জন্যেও আলাদা সকল ব্যবস্থা করে। আমি তাঁদের প্রতিবন্ধী বলছি না তবে ভিন্ন ধারার এই মানুষদের অধিকার আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।”
          বাবা কি তার মেয়ের প্রতি এবং মা কি তার ছেলের প্রতি সহজাত প্রেমকে সমাজের জন্যে স্যক্রিফাইস করে না? আমরা কি ঢাকার রাস্তায় প্রেমিকার হাত ধরে হাঁটলেও গ্রামে গিয়ে ভাবভঙ্গী পরিবর্তন করি না? আবার কক্সবাজার সমুদ্র বীচ বা বিদেশে বেড়াতে গেলে ঐ সমাজের সাথে খাপ খাইয়ে নেই না নিজেকে?

          তাহলে আপনি কোন জিনের কথা বলছেন যার জন্যে সমাজের শৃঙ্খলা ভাঙ্গতে হবে? আমি তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে চাপ দিব প্রয়োজনে তাদের জন্যে শাহবাগ হবে কিন্তু আমি একে স্বাভাবিক যৌনাচার মানতে পারব না। সিজফ্রেনিক রোগী জেনেটিক কারণে হোক বা এক্সিডেন্টালি হোক অথবা প্রেক্ষাপটের কারণেই হোক, সে সিজফ্রেনিক রোগী এবং তার ট্রিটমেন্ট একই! তাঁকে বা তাদের আমি সকল নাগরিক অধিকার দিতে রাজী এমনকি সামনা সামনি তাদের অন্য চোখেও দেখবো না তাদের মনে আঘাত লাগবে বলে কিন্তু তাদের আমি সামজের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বলে মেনে নিতে পারব না…

          1. যাক আমার আর কিছু বলার নাই।
            যাক আমার আর কিছু বলার নাই। কারণ আপনি এটাকে যেভাবে ব্যাখ্যা করছেন তা সম্পুর্ন অজ্ঞতা প্রসূত। অজ্ঞতার সাথে তর্ক চলে না। আপনি অভিজিৎ রায়ের লেখা সমকামিতা : একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান বইটা পড়ে দেখতে পারেন। আশা করি আপনার বিভ্রান্তি কিছুটা কাটবে। সাথে এই লেখাটাও পড়ে দেখতে পারেন। আমি আপনাকে আর দশটা গোঁয়ার মানুষ হিসেবে জানিনা। তাই লিংক দিলাম।

            তাহলে আপনি কোন জিনের কথা বলছেন যার জন্যে সমাজের শৃঙ্খলা ভাঙ্গতে হবে?

            সমাজের শৃংখলা কিন্তু ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বললেও ভাঙে। :আমিকিন্তুচুপচাপ:

          2. আপনার দেয়া অভিজিৎ রায়ের লেখা
            আপনার দেয়া অভিজিৎ রায়ের লেখা সমকামিতা : একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান বইটার পিডিএফ ফাইল নামালাম।দেখি পড়ে কিছু মাথায় ঢুকে কিনা। :গোলাপ: :গোলাপ:

          3. দুইটার মাঝে বিস্তর ফারাক। কেন
            দুইটার মাঝে বিস্তর ফারাক। কেন বলছি একটু দেখুন আতিক ভাইঃ
            আপনি কি শিশু পার্কে দুজন সমকামী যুগল চুম্বনরত অবস্থায় আপনার সন্তানকে নিতে স্বচ্ছন্দবোধ করবেন? আমারতো মনেহয় আমরা আগামী প্রজন্মকে ধূমপান বা অপ্রাপ্ত বয়সে মদ্যপান এমনকি সমকামিতাকে স্বাভাবিক একটা সামাজিক বন্ধন এইটা দেখাতে দিতে চাইবো না? বুঝতে পারছেন আমি কি বলছি?

            আমি-আপনি নাস্তিকের সাথে মিশতে অসুবিধা থাকে না এমনকি নাস্তিকের কাছে নিজের সন্তানদের পড়তে দিতেও আমাদের আপত্তি নেই কিন্তু আপনি কি পারবেন কোন সমাকামি নারীর কাছে আপনার মেয়েকে পড়তে দিতে বা সমকামী ছেলের কাছে নিজের ছেলেকে পড়তে পাঠাতে? আমি যা পারি না পারব না, তা অতি-উদার সাজার জন্যে বলি না। তবে আমি তাদের সামাজিক স্বাভাবিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। হয়তো আমি এতোটা মুক্তচিন্তার হতে পারি নি। আমার কাছে কখনই সমকামিতাকে স্বাভাবিক যৌন আচরণ মনে হয় নি। তবে তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, অনেক কারণেই…
            তাদের আমি অসম্মানও করি না আবার আলাদাভাবেও দেখি না দেখি না দেখতে চাই না! ব্যাস…
            ধন্যবাদ! আপনার লিংকের লিখাগুলো পড়ার আগে আপাতত আমি অফ গেলাম। দেখি কি পাওয়া যায়… :bow: :bow: :bow: :bow: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

            আর হ্যাঁ! আমারতো মনে হয় মানব সমাজ সহজাতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ (ইহজাগতিক) ছিল বরং একটা বিশাল কালের পরিক্রমায় জনগোষ্ঠী ধর্মকে এই সেক্যুলার সমাজে এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, করছে!! আতিক ভাই আমি ভুলও হতে পারি তবে জনপ্রিয়তা কোন মানদণ্ড না। আমি এইটা মানি…

          4. আপনি কি শিশু পার্কে দুজন

            আপনি কি শিশু পার্কে দুজন সমকামী যুগল চুম্বনরত অবস্থায় আপনার সন্তানকে নিতে স্বচ্ছন্দবোধ করবেন? আমারতো মনেহয় আমরা আগামী প্রজন্মকে ধূমপান বা অপ্রাপ্ত বয়সে মদ্যপান এমনকি সমকামিতাকে স্বাভাবিক একটা সামাজিক বন্ধন এইটা দেখাতে দিতে চাইবো না? বুঝতে পারছেন আমি কি বলছি? আমি-আপনি নাস্তিকের সাথে মিশতে অসুবিধা থাকে না এমনকি নাস্তিকের কাছে নিজের সন্তানদের পড়তে দিতেও আমাদের আপত্তি নেই কিন্তু আপনি কি পারবেন কোন সমাকামি নারীর কাছে আপনার মেয়েকে পড়তে দিতে বা সমকামী ছেলের কাছে নিজের ছেলেকে পড়তে পাঠাতে?

            ভাই, এটা ঠিক আপনার সাথে মেলাতে পারছিনা, দু:খিত! পার্কে সমকামী যুগল কেন, বিষমকামী যুগলের অন্তরঙ্গতাও আমাদের সমাজ ব্যাবস্থার সাথে যায় না, বাবা-ছেলের চোখেও সেটা আপত্তিকর ঠেকতে পারে, কিন্তু এটা কি শুধুই আমাদের সমাজের কারণেই না? মানে ইউরোপ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ঘটনা ট্রেনে, বাসে, পার্কে, রাস্তায়, রেস্তোঁরায় অহরহ ঘটছে, কেউ ফিরেও তাকায় না তেমন। আমরা কেন শুধু আমাদের সমাজের দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে একটা ব্যাপারে উপসংহারে পৌছে যাব। দ্বিতীয় কথা হলো একটা ছাত্রী’কে সমকামী শিক্ষিকার কাছে বা ছাত্র’কে সমকামী শিক্ষকের কাছে পাঠাতে কেন সমস্যা হবে ভাই? ছাত্রী’কে শিক্ষকের কাছে বা ছাত্র’কে শিক্ষিকার কাছে কি খুব সহজেই এবং স্বাভাবিকভাবেই পাঠাচ্ছি না আমরা?

          5. লিংকন ভাই, আপনি বাবা মায়ের
            লিংকন ভাই, আপনি বাবা মায়ের প্রতি যে আকর্ষনের কথা বললেন, সেটাকে সমকামিতার সাথে এক পাল্লায় মাপলে ভুল করবেন। কারণ বাবা মায়ের প্রতি এই আকর্ষন সাময়িক। এবং অনেকের ক্ষেত্রে সেটা হয়ও না কখনই। কিন্তু সমকামীদের এই আকর্ষন সাময়িক নয়, স্থায়ী। আপনি কোনভাবেই তা পরিবর্তন করে দিতে পারবেন না। কেন, সেটা আমি আমার নীচের মন্তব্যে বলেছি। যার মানসিক এই অবস্থা আপনি কোনভাবেই পরিবর্তন করে দিতে পারবেন না, তাকে কি আপনি জোর করে বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে বিয়ে দিয়ে দেবেন? দিলে কি সেটা ভালো ফল বয়ে আনবে? অনেক ক্ষেত্রে আমরা দেখি পছন্দের মেয়ে বা ছেলেটিকে বিয়ে করতে না পারলে বিসমকামি অনেকেই আর অন্য ছেলে বা মেয়ের প্রতি সেভাবে টান অনুভব করে না। বিবাহিত জীবনে তাঁরা যৌন জীবনে অসুখী হয়। কারণ তার আকর্ষন পড়ে আছে অন্য জায়গায়। সেখানে আপনি একজন সমকামিকে কিভাবে জোর করে বিপরীত লিঙ্গের কারো প্রতি আকর্ষিত করবেন?

            আর পার্কের উদাহরণ যেটা দিলেন সেটা হাস্যকর। আমাদের সমাজে আমরা কি একটা ছেলে-মেয়ে পার্কে চুম্বনরত আছে এই দৃশ্যও মেনে নিতে পারি? এই যুক্তি দিয়ে আপনি সমকামিতাকে নাকচ করে দেন কিভাবে? আমি আপনাকে ধর্মের উদাহরণ দিলাম এই জন্য যে, আপনি যেমন নাস্তিকতাকে খুব সহজেই নিতে পারেন আমাদের সমাজের বেশীর ভাগ মানুষ তা পারেনা। পারে যে না, সেটা নিশ্চয়ই ব্লগিং করার সুবাদে এতদিনে টের পেয়েছেন? এখন সমাজের বেশীর ভাগ মানুষ নিতে পারেনা বলে কি আপনি আপনার এথিস্ট হওয়াটাকে অস্বীকার করে ধার্মিক হতে পারবেন?

            অনেকের ভেতরে একটা ভয় কাজ করে যে সমাজে সমকামকে মেনে নিলে সমাজ রসাতলে যাবে। সবাই বোধ হয় সমকামী হয়ে যাবে। হাস্যকর। আপনি পারবেন সমকামী হতে? শুনলেই গা গুলিয়ে উঠছে না? সো সমকামকে মেনে নিলে সেই আপনি সমকামী হয়ে যাবেন এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? ঠিক তেমনি, আপনি আমি মানি বা না মানি তাতে একজন সমকামী ব্যক্তির মনজগতে কোন প্রভাব পড়ে না। সে যা ছিল তাই থাকবে। বরং ব্যাপারটা আরও বাজে হয়ে যায়। সে নানান বাঁধার স্বীকার হয়ে বাধ্য হয়ে সমাজের মুখ রক্ষায় একজন বিপরীত লিঙ্গের কাউকে বিয়ে করে সুখী হওয়ার ভান করবে। এই ভান করতে গিয়ে ঐ দুটো জীবনই নষ্ট হবে। কারণ সে যাকে বিয়ে করবে তার থাকবে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষন। যার ফলে সে তার স্বামীটিকে, বা স্ত্রীটিকে কামনা করবে প্রতিনিয়ত। অথচ তার সেই হিডেন সমকামী স্বামী বা স্ত্রীর মন তখন পড়ে আছে অন্য কোথাও। কোনভাবেই সে তার মানসিক আকর্ষন তার বিবাহিত স্বামী বা স্ত্রীর দিকে আনতে পারছে না। দৈহিক মিলন হচ্ছে অত্যন্ত মানসিক ইচ্ছের বিরুদ্ধে জাস্ট দায়িত্ব পালন করার মতো, অথবা সোজা কথায় বলতে গেলে নিজেকে প্রমাণের তাগিদে। ব্যাপারটা কি খুব স্বস্তিদায়ক? সাইকিয়াট্রি আমার প্রিয় সাবজেক্ট। সাইকিয়াট্রি বিভাবে কাজ করার সময় এমন কিছু সমকামী মানুষের জীবনের দুর্বিসহ অভিজ্ঞতা নিজ চোখে দেখেই আজকে আমি এসব কথা বলছি। আগে আমিও আপনার মতোই ভাবতাম। যেন ব্যাটারা ইচ্ছে করে সমকামী হয়ে আকাম করে বেড়ায়। ধরে পেঁদানি দিলেই ঠিক হয়ে যাবে। ব্যাপারটা আদতেই তা নয়, এটা যখন বুঝতে পারলাম। যখন দেখলাম একজন সমকামী ব্যক্তি আমার সামনে হাউমাউ করে কাঁদছে আর আমার হাত ধরে অনুনয় বিনয় করছে, প্লীজ আমাকে ঠিক করে দেন, প্লীজ আমাকে ঠিক করে দেন। তখন আর ভাবতে পারিনা যে ব্যাটাকে ধরে পেঁদানি দিলেই ঠিক হয়ে যাবে। কারণ আমাদের সমাজ বিষয়টাকে এমন করে রেখেছে যে প্যাদানি দেওয়ার দরকার নাই, যদি পারত তাহলে ব্যাটা নাচতে নাচতে বিসমকামি হয়ে যেতো।

    2. আমি শুধু আমার মেডিকেল

      আমি শুধু আমার মেডিকেল সায়েন্সের সামান্য নলেজ থেকে বলি, এটা শুধুমাত্র যৌনতার বিষয় নয়। সমকামিতাকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে মেডিকেল সায়েন্সে, তাতে এটা মানসিক এবং শারীরিক আকর্ষণ। আপনাকে আমাকে যেমন জোর করেও সমকামে লিপ্ত করানো যাবে না, তেমনি সমকামী একজনকে আপনি জোর করে ১০০% বিষমকামী বানাতে পারবেন না। সে পারবে না। কারণ তার জন্মগতভাবেই, ইয়েস জন্মগতভাবেই সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ গড়ে উঠেছে।

      এরপরও কাউকে ঘৃণা করা কি উচিত? প্রকৃতি নির্ধারণ করে দেয় আমাদেরকে। @ডা. আতিক ও পোস্টের লেখককে অশেষ ধন্যবাদ।

    3. আপনাকে আমাকে যেমন জোর করেও

      আপনাকে আমাকে যেমন জোর করেও সমকামে লিপ্ত করানো যাবে না, তেমনি সমকামী একজনকে আপনি জোর করে ১০০% বিষমকামী বানাতে পারবেন না। সে পারবে না। কারণ তার জন্মগতভাবেই, ইয়েস জন্মগতভাবেই সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ গড়ে উঠেছে।

      সহমত আতিক ভাইয়ের সাথে :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    4. কারণ তার জন্মগতভাবেই, ইয়েস

      কারণ তার জন্মগতভাবেই, ইয়েস জন্মগতভাবেই সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ গড়ে উঠেছে।


      :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
      আতিক ভাই একেবারে অন্তরের অন্তরস্থল থেকে ধন্যবাদ। আপনি ডাক্তার বলে আপনার কথা যদি এখন মানুষ বিশ্বাস করে !! বিশেষ করে যারা মনে করে সমকামিতা একটা রোগ! চিকিৎসা করলে ঠিক হয়ে যাবে ! :মাথাঠুকি:
      এই একটা সোজা কথা মানুষ বুঝতে চায় না, জন্মগত ভাবে আমি যেমন বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করবো তেমনি তারাও এমন অমুভুতি একই লিঙ্গের মানুষের প্রতি অনুভব করে। তাঁদের এই অনুভূতি যদি বিকারগ্রস্থতা হয় তবে আমাদের অনুভূতি যে স্বাভাবিক সেটার প্রমাণ কী?
      আমরা প্রজননে যোগ্য এটাই প্রমাণ? তো যাদের প্রজনন করার ক্ষমতা থাকে না, সব কিছু ঠিক থাকলেও যাদের সন্তান হয় না, চিকিৎসা করলেও সমাধান হয় না, তাদেরও কি মানসিক বিকারের শিকার বলবো? না, তারা ব্যতিক্রম। কিন্তু এর মানে এই না যে তারা বিকারের শিকার। তেমনি সমকামীরাও বিকারোগ্রস্থ নয়।
      মূল কথা একজন বিশমকামি যেমন জন্ম থেকে বিসমকামি , তার অনুভূতির উপর যেমন কারো হাত নেই, তেমনি একজন সমকামীর অনুভূতির উপর কারো কোন হাত নেই তার নিজের তো না’ই। জন্মগত ভাবে প্রাপ্ত অনুভূতিকে যারা বিকার বলে তারা নিজেরাই কিঞ্চিৎ বিকারের শিকার। :শয়তান:

      1. আপনারা সবাই একটা প্রশ্ন
        আপনারা সবাই একটা প্রশ্ন সুকৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। আচ্ছা ভাই জন্মগত এবং জিনগতভাবে মা-ছেলে এবং বাবা-মেয়ের যে অনুভূতিকে আজকে সমাজ রীতিবিরুদ্ধ বলে চিহ্নিত করল আর সবাই মেনে নিল তার জন্যে কি গোটা মানব সভ্যতা বিকারগ্রস্ত হয় গেল?

        আমার মন্তব্যগুলো ভাল করে পড়ে টু দ্যা পয়েন্ট উত্তর দিলে খুশি হব!

        1. আপনার প্রশ্নের সাথে সমকামিতার
          আপনার প্রশ্নের সাথে সমকামিতার কি সম্পর্ক সেটাই তো বুঝতে পারছি না !!!! :কনফিউজড: :কনফিউজড: :কনফিউজড: :কনফিউজড:

          1. কারণ তার জন্মগতভাবেই, ইয়েস
            কারণ তার জন্মগতভাবেই, ইয়েস জন্মগতভাবেই সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ গড়ে উঠেছে। আতিক ভাইয়ের এই কথায় ৭ টা থাম্বস আপ দিয়েছেন! আচ্ছা আমি আপনি যখন মা অথবা বাবার প্রতি জন্মগত এবং জিনগত আকর্ষণ নিয়ন্ত্রণ করছি ইন দ্যা নেম অব সোসাইটি সেখানে ক্যান সমকামিতাকে ত্যাগ বা প্রতিরোধ করতে চাইবো না। আচ্ছা আরেকটা প্রশ্ন আপনি কি শিশু পার্কে দুজন সমকামী যুগল চুম্বনরত অবস্থায় আপনার সন্তানকে নিতে স্বচ্ছন্দবোধ করবেন?
            আমারতো মনেহয় আমরা আগামী প্রজন্মকে ধূমপান বা অপ্রাপ্ত বয়সে মদ্যপান এমনকি সমকামিতাকে স্বাভাবিক একটা সামাজিক বন্ধন এইটা দেখাতে দিতে চাইবো না? বুঝতে পারছেন আমি কি বলছি?

            তবে, আমি এই পোস্টেই চতুর্থবারেরমত বলছি “তাঁদের সঙ্গে আমি দ্বিমত কিন্তু তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করতে আমি লড়াই করতে প্রস্তুত। যেমনটি সরকার অন্ধ, প্রতিবন্ধী, অটিস্টিকদের জন্যেও আলাদা সকল ব্যবস্থা করে। আমি তাঁদের প্রতিবন্ধী বলছি না তবে ভিন্ন ধারার এই মানুষদের অধিকার আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে”

          2. আচ্ছা জন্ম থেকে আপনি যদি
            আচ্ছা জন্ম থেকে আপনি যদি ছেলের প্রতি আকর্ষণ বোধ করতেন তবে আপনি পারতেন কোন মেয়েকে জীবনসঙ্গী করতে???? পারতেন না। যেভাবে এখন পারবেন না কোন ছেলের প্রতি আকর্ষণ বোধ করতে।
            বাবা মার প্রতি আকর্ষণ যত দূর জানি বয়স বারার সাথে সাথে চলে যায়। এই সম্পর্কে খুব বেশি জানি না আমি।
            তবে এর সাথে সমকামিতার সম্পর্ক আছে বলে মনে করি না। খুব সোজা একটা কথা যে ছেলে মেয়ের প্রতি বা মেয়ে ছেলের প্রতি আকর্ষণ বোধ করবে এটা তাঁদের জন্মগতও, জীনগত ব্যাপার। তেমনি সমকামিতাও জন্মগত জীনগত ব্যাপার। কোন ভাবেই একে দমন করা যাবে না। যেভাবে আপনি দমন করতে পারণে না কোন মেয়ের প্রতি আকর্ষণ বোধ করাকে। আপনাকে কোন ছেলেকে জীবনসঙ্গী করতে বললে এটা যেমন অমানবিক হবে তেমনি তাঁদের ক্ষেত্রেও হবে।

          3. আপনি এর সমাধানের পথ খুঁজছেন।
            আপনি এর সমাধানের পথ খুঁজছেন। কিন্তু এটা কোন সমস্যা না যে এর সমাধান লাগবে। । আপনার মানসিক চাহিদা আপনি যেমন কোন চিকিৎসা দিয়ে পরিবর্তন করতে পারবেন না, তেমনে তারাও পারবে না।

          4. কথাটা পছন্দ হয়েছে “আপনি এর
            :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
            কথাটা পছন্দ হয়েছে “আপনি এর সমাধানের পথ খুঁজছেন। কিন্তু এটা কোন সমস্যা না যে এর সমাধান লাগবে।”, তবে প্রমাণ লাগবে… আমি এইটাকে স্বাভাবিক মানতে পারছি না।

    5. তার জন্মগতভাবেই, ইয়েস

      তার জন্মগতভাবেই, ইয়েস জন্মগতভাবেই সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ গড়ে উঠেছে।

      আপনার কমেন্টের শুরুতেই করা বাকিদের দৃষ্টিভঙ্গি (সায়েন্টিফিক নলেজলেস) অনন্ত আমার ক্ষেত্রে সঠিক। তাই আমি সেদিকে পা না বাড়িয়ে নিজের কিছু অভিজ্ঞতার কথাই বলি।

      ক্লাস সেভেন-এইটে চট্টগ্রাম থাকতে বেশ কিছু সমকামীর সাথে পরিচয় ছিল। বয়সে দু’তিন বছরের বেশি হলেও মোটামুটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই বলা যায়। তাদের (দুইয়ের অধিক। একটা ছোটখাটো সোসাইটি বলা যায়) সমকামী হয়ে ওঠার গল্প আমার দেখা। তাদের মাঝে কেউই জন্মগতভাবে সমকামী ছিল না। বরং তাদের সমকামী হবার কারণ ছিল অবদমিত যৌনচেতনা। গার্লফ্রেন্ড ছিল কিন্তু তার সাথে মিলিত হবার সুযোগ ছিল না। এখন আপনি যদি আপনার ছেলে বন্ধুর সাথে হাসতে হাসতে রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন, আপনার ফ্যামিলি কিচ্ছু মনে করবে না। কিন্তু, একটা মেয়েকে নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে দেখলেও নানা কথা ছড়াবে। ঠিক এ কারণেই তারা সমকামী হতে বাধ্য হয়েছিল।

      এখন হয়তো বড় হয়েছে। ভার্সিটিতে ঢুকে গেছে। গার্লফ্রেন্ডের সাথে চাইলেই মিলিত হতে পারে। কিন্তু, আবার এখন গার্লফ্রেন্ডের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেশাটাকে দোষ হিসেবে দেখা হয় না। কিন্তু, একটা ছেলের সাথে “ঘনিষ্ঠভাবে” মেশাটাকে দোষ হিসেবে দেখা হয়। আবার একবার অভ্যাস হয়ে যাওয়ায় ছেলেদের প্রতি তার মাঝে একটা আকর্ষণও কাজ করে। এবং সেটা কাজ করে অবদমিত ক্ষোভ হিসেবে। তাই সুযোগ পেলেই সেটা বেরিয়ে আসে।

      গ্রামে দু’টো ছেলের কথা শুনেছিলাম, ক্লাস ফাইভে থাকতে সমকামে লিপ্ত হয়েছিল। কারণ হিসেবে আমি একটা জিনিসই পেয়েছিলাম – একটা মেয়ের সাথে মেশা তার পক্ষে অসম্ভব ছিল। কিন্তু, তার মধ্যে অবদমিত যৌনচেতনা ছিল। তাই সে সমকামীতার দিকেই পা বাড়িয়েছে।

      জন্মগতভাবে অনন্ত আমাদের দেশে অনন্ত আমি দেখি নি। উন্নত(!) বিশ্ব অনেকদিন ধরেই সমকামী। ওটা ওদের জিনে মিশে যেতে পারে। কিন্তু, আমার দেখা কিংবা জানা সব সমকামীই অবদমিত যৌনচেতনার ফসল।

      1. ক্লান্ত ভাই, সমকামীদের
        ক্লান্ত ভাই, সমকামীদের সম্পর্কে আমার ধারণার ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে আপনার আমার মতোই এইরকম দুই একটা দেখা বা জানা ঘটনা। আপনার আমার মতো যারা নিজেদের মুক্তচিন্তার অধিকারী বলে দাবী করি তাদের মনোভাবই যখন এমন যে আমরা এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারিনা। সেখানে সমাজের বাকিদের অবস্থা কেমন বলাই বাহুল্য। সেক্ষেত্রে আপনার কি ধারণা আমাদের সমাজের আরও যারা অসংখ্য সমকামী আছে, তাঁরা কি আমাকে আপনাকে বলে বেড়াবে যে তাঁরা সমকামী? আইসবার্গ থিয়োরি জানেন? আইসবার্গের খুব অল্প অংশই আমরা চোখে দেখি যেটুকু পানির উপর ভেসে থাকে। কিন্তু সিংহভাগ অংশটুকুই থাকে চোখের আড়ালে। আপনি যাদের উদাহরণ দিলেন, তাঁরা মূলত সমকামী না। তাঁরা বাইসেক্সুয়াল হতে পারে। একজন ট্রু সমকামী কখনই বিপরীত লিঙ্গের কারো প্রতি আকর্ষন বোধ করবে না, দৈহিক মিলন তো অনেক পরের ব্যাপার। আপনার দেখা ব্যক্তিরা কিন্তু পরবর্তিতে বিপরীত লিঙ্গের সাথে প্রেম ভালোবাসা করে গেছে, কারণ তাঁরা সমকামী না। সমকামী হলে পারত না। এইজন্যই আমাদের কাছে যখন অনেক সমকামীরা আসেন এর থেকে পরিত্রাণ পেতে চিকিৎসা পরামর্শ নিতে, তখন একটা প্রশ্ন করা হয়- উনি বিপরীত লিঙ্গের প্রতি কোন আকর্ষন অনুভব করেন কিনা? যদি উত্তর হ্যাঁ হয় তাহলে তার চিকিৎসা করা হয়। অর্থাৎ বাইসেক্সুয়াল হলে তাকে চিকিৎসা, সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং ইত্যাদির মাধ্যমে চেঞ্জ করা যায়। কিন্তু উত্তর যদি হয়- না, তাহলে সেক্ষেত্রে কিছু করার থাকে না। কারণ সে ট্রু সমকামী। তাকে হাজার চিকিৎসা দিয়েও পরিবর্তন করা সম্ভব না। আমার কথা বিশ্বাস না হলে যে কোন বড় সাইকিয়াট্রিস্ট জিনি এই বিষয়ে কাজ করেন তার সাথে কথা বলে দেখতে পারেন।

        আমাদের মিডিয়াও এই ব্যাপারটাকে এভাবেই দেখিয়েছে যেভাবে আপনি বলছেন। আমরা “ফায়ার” মুভিতে দেখি দুই জা তাদের স্বামীদের দ্বারা বঞ্চিত হয়ে সমকামে লিপ্ত হয়। আমরা দেখি “ঘেটুপুত্র কমলায়” জমিদার তার সাময়িক বিকৃত যৌনতা পূরণ করতে সমকামে লিপ্ত হয়। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে, এগুলো সমকামিতার আসল চিত্র নয়।

  11. কার কি সমস্যা আমি জানি না
    কার কি সমস্যা আমি জানি না ভাই। তবে আমি আমার আশেপাশে এই ধরনের সমকামী স্যাম্পল দেখতে চাই না। আমি এতো ফ্রি হইতে পারব না কোনদিন। কয়দিন পর দেখা যাবে মুরগীকামী মানবজাতি বের হয়েছে। আবার তাদের জন্য সমবেদনা জানানোর অবেদন জানানো হচ্ছে।

    1. মুরগীকামী মানবজাতি
      মুরগীকামী মানবজাতি :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:
      দোস্ত, ভার্সিটিতে কে জানি মুরগী*দা গালি দিত? 😉

    2. কয়দিন পর দেখা যাবে মুরগীকামী

      কয়দিন পর দেখা যাবে মুরগীকামী মানবজাতি বের হয়েছে।

      কবে জানি পেপারে দেখছিলাম, এক জামাত নেতার ছেলে গরুকামী।

  12. ভিন্ন ধর্মী পোস্ট উপস্থাপনে
    ভিন্ন ধর্মী পোস্ট উপস্থাপনে ধন্যবাদ আপনাকে, এমন বিষয় নিয়ে কম মানুষই লেখালিখি করে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  13. আতিক ভাইয়ের মন্তব্যের পর অনেক
    আতিক ভাইয়ের মন্তব্যের পর অনেক কিছু বুঝতে আমার সুবিধা হয়েছে। আমি ভেবেছিলাম যে এটা শুধুই বিকৃত মানসিক বিষয়। যেহেতু এটার প্রাকৃতিক বা বায়োলজিক্যাল কারণ আছে আছে সেক্ষেত্রে এটা নিয়ে ঘৃণা বা এগ্রেসিভ হওয়া দোষের বিষয়। মানুষ কে মানুষ হিসাবে বিবেচনা করা উচিত কোন কামের ভিত্তিতে না।
    আমি একটু ব্যক্তি জীবনের কিছু ঘটনা দিয়ে ব্যাখ্যা করি। ডিসেম্বর মাসে আমার ছোট বোনের সন্তান হয়েছে। আমার মা সে সময় বোনের বাসায় আসছিলেন। তো মা কথায় কথায় বলছিলেন, ট্রেনে যখন বোনের বাসায় আসে সেখানে একদল হিজড়া ওঠে। মা’র তখন মনেহয় এই হিজড়া রাও তো কোন মায়ের সন্তান। নিশ্চয় কোন বাবা-মা চাননি তার সন্তান এমন হোক। কিন্তু হয়েছে তো। যাহোক প্রাকৃতিক ঘটনার কাছে আমাদের হাত নেই। এজন্য গালাগালি বা অযথা বিরুদ্ধচারণ আমি অন্যায় বলে মনে করি।
    এখানে একটা কথা এসেছে অবদমিত যৌন ক্ষুধাই সমকাকিতার অন্যতম কারণ। এটা নিয়ে আমাদের কাজ করার বা এ অবস্থা থেকে উত্তরণ এর চেষ্টা করার সুযোগ আছে। আর এটার জন্য আমাদের সমাজ ব্যবস্থাই বেশি দায়ী। কিন্তু রাগ টা যদি এটা হয় আমি তো ২৭ বছর যাবত আমার যৌনকাঙ্ক্ষা দাবীয়ে রেখেছি আরেকজন কেন পারছে না! তাইলে আর কি কমু। :চিন্তায়আছি:

    1. সবকিছু পরিষ্কার হচ্ছে!! দেখি
      :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
      সবকিছু পরিষ্কার হচ্ছে!! দেখি কি হয়…

  14. যেভাবে ইচ্ছে, যা ইচ্ছে তা, বলে এবং করে “উন্মাদ”। কারণ, তার “বোধ বুদ্ধিটাই” নেই। আশা করছি,
    যুক্তিটা ঠিক আছে। ভুল হলে, শোধরে দেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *