পরমানু গল্প : অপহরন

১.
–দোস্ত
–কি হইছে?
–লাগবো খুব।
–কি?
–ইয়ে আরকি।
–আরে ডাইরেক্টলী বল না। না বললে কেমনে বুঝুম?
–টাকার খুব দরকার।
–ভাই বলছি, বন্ধুও বলছি। তোর জন্য সব করতে পারুম। বাট প্লিজ টাকার কথা বলিস না। আগের পাওনা গুলাও দেস নাই।



১.
–দোস্ত
–কি হইছে?
–লাগবো খুব।
–কি?
–ইয়ে আরকি।
–আরে ডাইরেক্টলী বল না। না বললে কেমনে বুঝুম?
–টাকার খুব দরকার।
–ভাই বলছি, বন্ধুও বলছি। তোর জন্য সব করতে পারুম। বাট প্লিজ টাকার কথা বলিস না। আগের পাওনা গুলাও দেস নাই।
–কি করুম বল! যত পোলাপান টাকা পায়, সবাই খুজতাছে। সামনে আবার ফারির বার্থডে। তারে যদি একটা গিফট না দিতে পারি তাহলে আমি কিসের বয়ফ্রেন্ড?
–পকেটে টাকা নাই তো প্রেম করস কেন?
–এখন বকবক না কইরা একটা সলুশন দে!

বন্ধুর দেয়া সলুশনটা রনির মাথায় ঘুরছে। নিছক ফাজলামী কইরাই সলুশনটা দিছে। বাট এটাই রনির মাথায় ধইরা গেছে। এই সলুশনটাই সাকসেস ফুল করতে হবে। যেমনেই হোক! সব পাওনাদারদের টাকাও শোধও হবে, গার্লফ্রেন্ডের জন্য গিফটও কেনা হবে।

২.
রনির বাবা মা চিন্তিত। কিছুক্ষন আগে যে খবর এসেছে তা তারা কল্পনাও করতে পারছে না। অজ্ঞত এক ফোন থেকে কল আসছে যে, রনিকে পেতে হলে ৩ লক্ষ টাকা দিতে হবে। টাকা না পেলে নাকি রনিকে খুন করা হতে পারে। ফোনটি রনির মাকে করা হয়। পরিবারের একমাত্র সন্তান এই রনি। তাই তার প্রতি তার বাবা মায়ের অতিরিক্ত টান আছে। আর রনিকে সবচেয়ে বেশি আদর করে তার মা। তাদের পরিবার বলতে গেলে অনেক সচ্ছল। ৩ লক্ষটাকা রনির বাবার কাছে কিছুই না। অনেক চিন্তা ভাবনা করে ব্যাগে ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে যান অজ্ঞাত স্থানে। অপহ্নরন কারিদের কাছে।

শহর থেকে একটু দূরে টাকা নিয়ে আসতে বলেছিল। তিনি নির্দিষ্ট জায়গায় টাকা রেখে আসার পর তার কাছে ফোন আসে যে, অপহরন কারীরা তার কর্মকান্ডে খুশি। এবং কিছুক্ষনের মধ্যেই তার ছেলে রনিকে ছেড়ে দেয়া হবে।

৩.
প্রায় ২ ঘন্টা হয়ে গেল। রনির কোন খবর নেই। হঠাৎ একটি ফোন কল বেজে উঠল। রিসিভ করল রনির বাবা
–হ্যালো হ্যালো কে?
–আমি শহরের ওসি। শাফকাত হোসেন।
–স্যার আমিতো আপনার কথামত কাজ করছি। কিন্তু আমার ছেলেরতো কোন খবর নেই।
–আপনাকে একটু থানায় আসতে হবে।
–কেন??
–একটা সেড বাট ইনটারেস্টি নিউজ আছে আপনার জন্য।
–কি?
–সেটা আসলেই বুঝতে পারবেন।

৪.
থানায় যাওয়ার পর রনির বাবা যা জানতে পারল তাতে তার চোখের পানি বের হয়ে গেছে। যেই ছেলেকে এত ভালোবাসে এত আদরে বড় করলেন সেই ছেলেই আজ বাবার বুকে ছো মারল। থানার ওসি পুরো ঘটনা তার কাছে তুলে ধরেন।
–আপনি টাকাটা রেখে চলে যাওয়ার পর আমি গোয়েন্দাসহ ব্যাগটার উপর পাশ থেকে নজরদারী করছিল। হঠাৎ খেয়াল করলাম একটা ছেলে ঝোপঝাড় দিয়ে এসে ব্যাগটা তুলে নেয়। এবং আবার ভীতরের দিকে যেতে থাকে। আমারাও পিছু নিলাম। আরেকটু ভীতরে যাওয়ার পর আমরা দেখি আপনার ছেলে একটি চেয়ারে বসেছিল। ছেলেটি আসার সাথে সাথে রনি চেয়ার থেকে উঠে আসে। এবং ব্যাগ থেকে টাকা বের করে, কিছু টাকা ছেলেটিকে দেয়। এবং বাকিটাকা নিজের কাছে নিয়ে নেয়। এবং আমরা সেখান থেকে ছেলেটিসহ রনিকে গ্রেফতার করি। পরে থানায় এনে জেরা করার পর জানতে পারি যে, রনিকে অপহ্নরন করার ঘটনাটি মূলত রনিই ঘটিয়েছিল। শুধু মাত্র টাকার জন্য সে এই কাজ করে। আপনি এখন চাইলে এই কেস বন্ধ করে দিতে পারেন। রনিকে আমরা ছেড়ে দিতে পারি।

কিছুক্ষন চুপ থাকার পর রনির বাবা বলল
–না। তাকে তার পাপের প্রাশচিত্ত করতে হবে। সে তার বাবা মায়ের বিশ্বাস নিয়ে খেলেছে।
দুষ্ট গোয়ালের চেয়ে, শূন্য গোয়াল ভালো। আপনি চার্জশীট তৈরি করুন।

৮ thoughts on “পরমানু গল্প : অপহরন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *