আমরা যে ভাবে দেখি, পর্ব-২১ (১)

আমরা যে ভাবে দেখি, পর্ব-২১ (১)

প্রথমেই বলে রাখা ভাল, আমরা চোখের জ্যোতি দ্বারা কোন কিছু দেখিনা। চোখের এমন কোন আলোক রশ্মি নাই, যা দিয়ে আমরা কোন কিছূ দেখতে পারি।

তা হলে আমরা কী ভাবে কোন বস্তু দেখে থাকি?

এর একটি মাত্রই উত্তর, যা হল, বস্তুটা হতে যদি আলোক রশ্মী –

ক) আমাদের চক্ষু গোলকের ১)কর্নিয়া ২) পিউপিল ৩) লেন্স ও ৪) ভিট্রিয়াস হিউমার, অতিক্রম করিয়া সর্ব পিছনের রেটিনা নামক লেয়ারে পৌছাইতে পারে। (চিত্র-৩ দেখুন)এবং


আমরা যে ভাবে দেখি, পর্ব-২১ (১)

প্রথমেই বলে রাখা ভাল, আমরা চোখের জ্যোতি দ্বারা কোন কিছু দেখিনা। চোখের এমন কোন আলোক রশ্মি নাই, যা দিয়ে আমরা কোন কিছূ দেখতে পারি।

তা হলে আমরা কী ভাবে কোন বস্তু দেখে থাকি?

এর একটি মাত্রই উত্তর, যা হল, বস্তুটা হতে যদি আলোক রশ্মী –

ক) আমাদের চক্ষু গোলকের ১)কর্নিয়া ২) পিউপিল ৩) লেন্স ও ৪) ভিট্রিয়াস হিউমার, অতিক্রম করিয়া সর্ব পিছনের রেটিনা নামক লেয়ারে পৌছাইতে পারে। (চিত্র-৩ দেখুন)এবং

খ) এই রেটিনার বিশেষ কোষ (RODS & CONES) ১) সংগৃহিত আলোক রশ্মীটাকে NERVE IMPULSE বা বৈদ্যুতিক প্রবাহে রুপান্তরিত করে, ( চিত্র-৪)২) OPTIC NERVEবা অপটিক স্নায়ুর মধ্যদিয়ে প্রবাহিত করে,(চিত্র-৫) ৩) মস্তিস্কের পিছনের দেখার দৃষ্টি কেন্দ্রে (VISUAL CORTEX) এ পৌছাইতে পারে।(চিত্র-৬)

কোন পদার্থ হতে বিচ্ছুরিত আলোক রশ্মী, আমাদের চক্ষুগোলক ও মস্তিস্ককে জড়িয়ে, এতগুলী ঘটনা ঘটার পর আমরা তখন সেই বস্তুটাকে দেখতে পারি।

চোখের পাতা (চিত্র-২)উন্মুক্ত করিলে, পদার্থ হতে আলোক রশ্মী ঠিক ক্যামেরায় (চিত্র-১) যেমন লেন্স এর মধ্য দিয়ে ফিল্ম এর উপর পড়ে চিত্র অঙ্কিত হয়, আলোক রশ্মী ঠিক তদ্রুপ চোখের মধ্যের লেন্স এর মধ্য দিয়ে চক্ষু গোলকের সর্ব পিছনের রেটিনা লেয়ারের উপর পড়ে পদার্থটির চিত্র অঙ্কন করে ফেলে।

এরপর রেটিনার RODS এবং CONES কোষ চিত্রটিকে বৈদ্যুতিক প্রবাহে রুপান্তরিত করিয়া মস্তিস্কের পিছনে VISUAL CENTER বা দৃষ্টি কেন্দ্র পর্যন্ত পৌছাইয়া দিলে আমরা বস্তুটিকে দেখতে পারি।

(চিত্র-৪,৫,৬,৭

চিত্র-১ চক্ষুগোলকের লেন্স ঠিক একটি ক্যামেরার লেন্সএর মত ব্যবহৃত হয়।

চিত্র-২ চোখের পাতা উন্মুক্ত করার পর আলোক রশ্মী চোখের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে।

চিত্র-৩ চক্ষুগোলক ,পার্শ হতে মাঝখান দিয়ে আড়াআড়ি খন্ডন (SAGITTAL SECTION)

চিত্র-৪ রেটিনা,যেখানে RODS & CONES কোষ গুলী আলোক রশ্মীকে বৈদ্যুতিক প্রবাহে রুপান্তরিত করে।

চিত্র-৫, OPTIC NERVE যে পথ দিয়ে বৈদ্যুতিক প্রবাহ RETINA হতে VISUAL CORTEX (দৃষ্টি কেন্দ্র)পর্যন্ত বহন করে আনে, যা মস্তিস্কের পিছন অংসে অবস্থিত।

চিত্র ৬- মস্তিকের পিছনাংশে দৃষ্টি কেন্দ্র (VISUAL CORTEX) মস্তিস্কের পার্শ হতে মধ্য দিয়ে একটি SECTION এ দেখানো হয়েছে।

চিত্র-৭ মস্তিস্কের উপর হতে মাঝখান দিয়ে খন্ডনে মস্তিস্কের দৃষ্টি কেন্দ্র (VISUAL CENTER)

তা হলে মোদ্দা কথা দাড়াল আমরা শুধুমাত্র চোখ দ্বারা দেখিনা। বরং মস্তিস্কও আমাদেরকে দেখার মস্তবড় সহযোগিতা করে।

চোখের যদি কোন আলোক রশ্মী থাকত তাহলে আমাদের অন্ধকারেও দেখতে কোন অসুবিধা হইতোনা।

সব কিছু একত্রে বিস্তারিত বর্ণনা করতে গেলে পাঠকদের জন্য কঠিন হইবে এ কারণে ক্ষুদ্রকারে ও খন্ডাকারে প্রকাশ করতে চাচ্ছি।

চলতে থাকবে।

২১ তম পর্বের সূত্র-১,২,৩,৪,৫

৩)http://webvision.med.utah.edu/imageswv/schem.jpeg

৪)http://en.wikipedia.org/wiki/Retina

RETIAL WORK

৫)http://www.vetmed.vt.edu/education/curriculum/vm8054/EYE/CNSPROC.HTM

৮ thoughts on “আমরা যে ভাবে দেখি, পর্ব-২১ (১)

  1. চাকলাদার ভাই, আপনার বিজ্ঞান
    চাকলাদার ভাই, আপনার বিজ্ঞান নিয়ে লেখাগুলি এক নিশ্বাসেই পড়ে ফেলি । আচ্ছা এমন কৃত্তিম চোখ কি আমরা বানাতে পারব না ? :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

    1. সেই দিন আর বেশী দূরে নেই…
      সেই দিন আর বেশী দূরে নেই… চাষা-ভাই আশাকরি বছর দুয়েকের মাঝেই কৃত্রিম চোখ চলে আসবে বাজারে!! দ্যা সায়েন্টিস্ট, দ্যা নেচার , ডিসকভারি এবং নেট জিও এই কয়েকটা ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন… চোখ খুলে যাবে!!

  2. মানুষের দেখার বিষয়টা একটা
    মানুষের দেখার বিষয়টা একটা বিস্ময়কর প্রক্রিয়া। যতোই জানি, ততোই অবাক হই এই বিষয়ে। আমি আবার চোখ নিয়েই পড়ালেখা করি কিনা… :মুগ্ধৈছি:

  3. হাকিম ভাই আপনার পরিশ্রম
    হাকিম ভাই আপনার পরিশ্রম বরাবরই পাঠকদের মুগ্ধ করে সাথে আছে একটা বিষয় নিয়ে অবিরত লিখে যাওয়ার মত একাগ্রতা। আমার একটা অনুরোধ আছে, সরল চোখ থেকে বিবর্তনের ধারায় কীভাবে যৌগিক জটিল চোখ গঠিত হয় এই ব্যাপারে একটা তথ্যবহুল পোস্ট দিলে খুবই উপকার হত…
    :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *