বিশ্বের ইহুদি জাতির ৩০০০ বছরের ইতিহাস : ভেতর-বাহির [পর্ব-৫]


ইহুদীদের স্বর্গদূত ছিল ৩-প্রকার যথা : সিরাফিম, চিরাবিম ও ওনাকিম। তালমুদে ফেরেস্তাদের কার্যবিভাজন ছিল নিম্নরূপ : মানুষের চিন্তা বহনকারী আফত্রিয়েল, যিহোভার বাণী বহনকারী গাললিজুর, ঝড়ঝঞ্চার নিয়ন্ত্রক বেননেজ, কারেন্ট নিয়ন্ত্রক বারাকিয়েল, রাত্রি নিয়ন্ত্রক লাইলাহেম, শিলাবৃষ্টি নিয়ন্ত্রক জোরকামি, ভূমিকম্প নিয়ন্ত্রক রাশিয়েল, তুষারপাত নিয়ন্ত্রক সালগিয়েল, সমুদ্র নিয়ন্ত্রক রাহাব, সানডেল ফিরিস্তা পৃথিবী থেকে স্বর্গ পর্যন্ত দন্ডায়মান। মেঘ ও বৃষ্টির নিয়ন্ত্রক রেডিয়াও এবং মেটাট্রোন ছিলো বনি ঈসরাইলীদের পথ প্রদর্শক ও পৃথিবীর সুপারভাইজার। অতিরিক্ত ক্ষমতাধর ফেরেস্তা হিসেবে ছিলো মাইকেল, র‌্যাফেল, গ্যাব্রিয়েল, উরিয়েল। শয়তান ছিল সিরাফিম গোত্রের ‘সামমায়েল’ নামধারী ফেরেস্তা।

ওল্ড টেস্টামেন্ট মূলত হিব্রু ও এরামাইক ভাষায় রচিত ছিল। তৌরাতের ব্যাখ্যা, টিকা, টিপ্পনীর কিতাব ছিল ‘মিশনা’, মিশনার অপর অংশের নাম ছিল ‘গেমারা’। ১২০-২২০ সনের মধ্যে ইহুদী ‘এমোরাইম’ পন্ডিতগণ হিব্রু ভাষায় ‘মিশনা’ ও ‘এরোমাইক’ ভাষায় ‘গেমারা’ রচনা করেছিল। মানব জীবনের সকল দিক এইসব ধর্মীয় কিতাবে বর্ণিত হয়েছিল। ইহুদী রাববীদের মতে সকালে, বের হওয়ার আগে ও আহারের পূর্বে ও দৈনন্দিন সকল কাজে যিহোবার উপাসনা করার রীতি চালু ছিল।

ইহুদীদের মধ্যে বর্ণভেদ ছিলনা বরং তাদের সৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান ছিল। ইহুদীদের ধর্মীয় ইতিহাসে আব্রাম, ইসহাক ও ইয়াকুব নবী মেসোপটেমিয়ার ‘হারান’ শহরে বসবাস করতো পরিবারসহ। খ্রীস্ট পূর্ব ১৯০০ অব্দে ‘আব্রাম’ যিহোবার নির্দেশমত ইহুদীদের কেনান নিয়ে যায়। ইয়াকুব নবীর অপর নাম ইসরাইল ছিল বলে, ইহুদীরা ইসরাইলী নামেও পরিচিতি লাভ করে। ইহুদীদের মতে আদম থেকে মুসা পর্যন্ত সকল মানুষ যিহোবার উপাসনা করতো, তবে তাকে অন্য নামে ডাকতো। রোমানরা ইহুদী নবীদের ‘প্যাট্রিয়ার্ক’ বলতো। ‘প্যাট্রিয়ার্ক’ অনুসারীদের চেনার জন্যে তাদের খাতনা বা লিঙ্গচ্ছেদের বিধান করা হয়েছিল। আব্রাহামিক ইহুদীরা স্বর্গের জন্যে নয়, কিনান দেশ পাওয়ার লোভে যিহোবার উপাসনা শুরু করেছিল। মিশর থেকে সিনাই হয়ে কিনান ফেরার পথে ইহুদীরা নিরাকার যিহোবার উপাসনা শেখে। আব্রামের পর সাউল, দাউদ ও সোলেমান ইহুদীদের রাজা হয়েছিলো। সুলেমানের মৃত্যুর পর কিনান ভাগ হয়ে ১টি ইসরাইল, অন্যটি জুদিয়া নামে বিভক্ত হয়। নতুন প্রতিষ্ঠিত ইসরাইলের মন্দিরে ইহুদীদের আকৃষ্ট করার জন্যে ‘সোনার বাছুর’ স্থাপন করা হয়েছিল। ৭২১ খ্রী. পূর্বাব্দে ইসরাইল রাষ্ট্রের পতন ঘটলে, ইহুদী নবী হোসিয়া এই পতনকে ‘যিহোবা’র উপাসনা ভুলে থাকার পাপ বলে ব্যাখ্যা করেন।

৪৪৪ খ্রী. পূর্বাব্দে পারস্যরাজ ইহুদীদের তৌরাত পাঠের অনুমতি ও সামারিতানদের ইহুদী ধর্মে অন্তর্ভুক্তির অনুমতি প্রদান করলে, তৌরাত আধুনিকায়নে ‘মিদরাশ’ প্রণয়ন করা হয়। ১৯৮ খ্রী. পূর্বাব্দে গ্রীকরা ইহুদী রাজ্য দখলে নিলে ‘সোফেরিম’, ‘হাসডিম’, ‘সাদদুচি’ নামে বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যাখ্যাকারী ইহুদী গোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে। এ সময় উদার ‘ফরিসী’দের উদ্যোগে ৭১-সদস্যের বৃহত্তম ‘সামহেড্রিম’ কাউন্সিল গঠিত হয়। ৭০ সালে রোমানরা জেরুজালেম মন্দির ধ্বংস করে এবং ১৩৫ সালে ইহুদীদের তৌরাত পাঠ ও লিঙ্গচ্ছেদ ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করে। নানা ঘাত প্রতিঘাতের পর ২২০ সালে ইহুদীরা তাদের হাদিসগ্রন্থ বা ‘তালমন্দ’ প্রস্তুত করতে সমর্থ হয়। এমোরাইম নামক ইহুদী পন্ডিতরা এ সময় তালমন্দের জন্যে নানাবিধ ধর্মীয় নিয়মকানুন প্রণয়ন করে। ষষ্ঠ শতকে ইসলাম ধর্মের আগমনে ভীত রাববীরা ‘কাবাইত’ আন্দোলন শুরু করে। এ সময় তৌরাত থেকে মানব রচিত অংশ বাদ দেয়ার প্রশ্ন উঠে। এ সময় স্পেন, ফ্রান্স ও জার্মানী থেকে ইহুদী ধর্ম প্রচার ব্যাপক আকার লাভ করে। ১৪৯২ ও ১৫০৬ সনে স্পেন ও পর্তুগাল থেকে ইহুদীদের বহিষ্কার করা হলে, তারা ইতালীতে আশ্রয় নেয়। ক্রমান্বয়ে ঘা খাওয়া ইহুদীরা দার্শনিক মোসেস মেন্ডেলসান ও ইহুদী কবি নাফতালিজ এর নেতৃত্বে সংস্কারমূলক ‘হাসকালা’ আন্দোলনে নামে। এর ফলশ্রতিতে ইহুদীরা তৌরাত, তালমন্দ, মিশনা, মিদরাশ এর ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বেড়িয়ে আধুনিক ইউরোপীয় শিক্ষায় নিজেদের স্নাত করে। ১৮৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ সিনাগগ প্রতিষ্ঠিত হয় ইহুদীদের দ্বারা।

১৯৪৮ সনে তৌরাত বর্ণিত ‘যিহোবা’ প্রতিশ্রুত ইসরাইল নামক ইহুদী রাষ্ট্র প্যালেস্টাইনে পুন. প্রতিষ্ঠিত হলে, আরবদের সম্মিলিত মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে ইহুদীদের যথাক্রমে ১৯৪৮, ১৯৫৬, ১৯৬৭ ও ১৯৭৩ সনে যুদ্ধ বাধে। যা এই ২০১৪ সনেও নানা প্রপঞ্চে চলমান ছিল। ২০১৪ সনে ইহুদীরা ‘ইসরাইল’ নামে একটি ক্ষুদ্র ইহুদী রাষ্ট্র বসবাস করতো, যাতে সাকুল্যে ৭.৪ মিলিয়ন ইহুদী বসবাস করলেও, ঐ সময়ের বিশ্বকে তারা নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করতো বুদ্ধি আর কূট-কৌশল প্রয়োগে। পৃথিবীর প্রাচীন ৪০০০ বছরের ব্যবিলন থেকে ২০১৪ সনের যুক্তরাষ্ট্রীয় সভ্যতার সর্বত্রই ইহুদী জাতির জয়জয়কার ছিল। তারা সম্ভবত ধার নিয়েছিল পৃথিবীর নানা জাতি থেকে মাটি কামড়ে বেঁচে থাকার নানাবিধ উপাদান। ইহুদীদের মতে তারা ছাড়া ২০১৪ সনের খ্রীস্টান, মুসলমান ও অন্য সকল প্রচলিত ধর্মামলম্বীরা ভণ্ড তথা মিথ্যবাদী ছিল।

অন্যান্য অনেক ধর্মের মত ইহুদীদের ধর্মেও যুদ্ধজয়ের পর অগণিত যুদ্ধবন্ধীকে কব্জা করার পর নবী মোজেস ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা ছিল, ‘‘এখন তোমরা এইসব পুরুষদের এবং কুমারী নয় এমন মহিলাদের হত্যা কর কিন্তু কুমারীদের বাঁচিয়ে রাখ নিজেদের জন্যে’’ (তাওরাত গণনা পুস্তক, ৩১:১৭-১৮), ঐ সময়ের মোজেস এর নির্দেশে যুদ্ধবন্ধী ১ লাখ পুরুষ ও ৬৮,০০০ নারীকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়াও তাওরাতে বিভিন্ন নিষ্ঠুর, আক্রমনাত্মক ও অরাজক কথাবার্তার প্রমাণ পাওয়া যায় যিশাইয় (২১:৯), বংশাবলী (২০:৩), গণনা পুস্তক (২৫:৩-৪), বিচারকগণ (৮:৭), ২য় বিবরণ (১২:২৯-৩০), শমুয়েল (৬:১৯), ডয়টারনোমি (১৩:৪,৫,৮,৯,), আদিপুস্তক (৯:৫-৬) প্রভৃতি অধ্যায়ে। আদিপুস্তক মতে, আদমের ৪০,০০০ সন্তান, দাউদের ৯-স্ত্রী, সোলায়মানের ৩০০-স্ত্রী ও এক-হাজার দাসী/বাঁদী ছিল। তৌরাত মতে জগতের সৃষ্টি খূ.পূ ৪০০৪ অব্দে, সে হিসেবে পৃথিবীর বর্তমান বয়স ৬০১৬ বছর, অথচ জ্যোর্বিজ্ঞানের মতে ৪০০-৫০০ কোটি বছর।

এরপর পর্ব – ৬ [সিরিজটি মোট ১৮ পর্বে সমাপ্ত হবে]

ইতোপূর্বেকার পোস্টসমূহের লিংক :
http://www.istishon.com/node/6503#sthash.QPjpEpOB.dpbs (Part 1)
http://istishon.blog/node/6532#sthash.rFf73XX7.dpbs (Part 2)
http://www.istishon.com/node/6546#sthash.uK8UMiUo.dpbs (Part 3)
http://www.istishon.com/node/6587#sthash.DF0y7UrP.dpbs (Part 4)

লেখকের ফেসবুক ঠিকানা [ধর্মান্ধতামুক্ত যুক্তিবাদিদের ফ্রেন্ডভুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানাই ] : https://www.facebook.com/logicalbengali

২৭ thoughts on “বিশ্বের ইহুদি জাতির ৩০০০ বছরের ইতিহাস : ভেতর-বাহির [পর্ব-৫]

  1. Most of us don’t know least
    Most of us don’t know least of these info’s. Thanks for sharing.
    I have something to say…might be a bit off topic

    According to scientific explanation, we, the human species are creation of evolution, not creation of God. So, the question of believing comes in the first place.

    God created the earth in six days and he rested on the seventh. Can you believe that even God needs to have a break?

    Science say that this universe is 13.7 billion years old, Not merely 6000 years old according to those holy books.

    I guess you don’t believe that Adam really lived that long, do you?

    Some people (or should I say fool like me) likes to believe in something they don’t understand and they call it religion.

    Let’s go deep in those mysteries but just don’t ask me – why these things don’t have any scientific explanation.

    1. আন্তরিক ধন্যবাদ মননশিল
      আন্তরিক ধন্যবাদ মননশিল মন্তব্যের জন্যে। আমি কখনো অযৌক্তিক, অবৈজ্ঞানিক কথা বিশ্বাস করিনা, মানিনা, তা যে পুস্তকেই লেখা থাকুক না কেন? আমাদের শিশুদের ধর্মে সেখানে হয় আদম-ইভ, ৬০০০ বছর তথ্য। আর বিজ্ঞান শেখানো হয় ১৩.৭ বিলিয়ন বছর তথ্য, তাই শিশুরা যাবে কোথায়? তারা শিক্ষাশেষে হয়ে ওঠে না ঘরকা, না ঘাটকা।

      তবে পৃথিবিতে এখন যুক্তিশিল মানুষের সংখ্যা প্রতি সেকেন্ডে বাড়ছে, মানুষ পবিত্র পুস্তকের অযৌক্তিক আর অবৈজ্ঞানিক কথা পরিত্যাগ করছে, এ সংখ্যা প্রত্যহ বাড়বেই বাড়বে এবং আমার রূপক রচনায় বলেছি ৩০১৪ সনে পৃথিবির কোন মানুষই আর ধর্ম মানবে না।

      আবার ধন্যবাদ জানাই আপনাকে।

      1. আমি ভাইয়া, বিজ্ঞানের ছাত্র
        আমি ভাইয়া, বিজ্ঞানের ছাত্র এবং বিজ্ঞানের নানান বিষয় নিয়ে এখনো পড়ালেখা করি। তবে কখনোই বিজ্ঞানকে ধর্ম বিশ্বাসকে ব্যাখ্যা করার কাজে ব্যাবহার করিনি। আমার বিশ্বাস, বিশ্বাসের জায়গাতেই আছে। কারণ আমার মতে, কেউ যদি এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড তৈরি করে থাকে তাহলে তাকে বোঝার ক্ষমতা আমার নাই।
        আপনার যদি সময় থাকে তাহলে এই সৌরজগতের বৈজ্ঞানিক বৃত্তান্ত, পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি কিভাবে হল আর পৃথিবীর আদি পরিবেশ কেমন ছিল এসব জেনে দেখেন – আপনার কাছেও অনেক কিছু রিডিকুলাস বলে মনে হবে।
        আমি পড়তে থাকি, জানতে থাকি – ভালো লাগে তাই। কোন ধর্ম বিশ্বাসে বা অবিশ্বাসে বায়াসড হয়ে পড়লে আমার মতে “মুক্তচিন্তা” করা সম্ভব না।
        আসলে এসব নিয়ে অনেক কথা বলা যায়, বলতে ইচ্ছা করে। কিন্তু এসব নিয়ে আলোচনা করার বা জ্ঞান আহরন করার মত সুযোগ হয় না। কারণ যার সাথে কথা বলবো বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তারা দুই শ্রেণীর হয় – একদল আছে যারা প্রমাণ করার চেষ্টা করে ধর্ম বলে কিছু নাই আর আরেকদল বৈজ্ঞানিকভাবে ধর্মের প্রমাণ করতে চেষ্টা করতে থাকে। আমার কাছে এই দুই ধরনের লোকই অসহ্য লাগে।

        1. দোস্ত,
          তোর অসহ্য লাগাটাই পরম

          দোস্ত,
          তোর অসহ্য লাগাটাই পরম সত্য নয়। নিৎসে প্রায় একটা কথা বলতেন “আমার জ্ঞান এবং বুদ্ধি এতোটা বালকসুলভ নয় যে ধর্ম বিশ্বাস করব না ভুল প্রমাণ করতে যাব”!
          আবার প্রিয় দার্শনিক রুশোও বলতেন “ব্যক্তি যখন যথেষ্ট জ্ঞানের অধিকারী হয় তখন সে নিজেই নিজের ঈশ্বরে পরিনিত হয়”…

          আর আমারও কিছু পরম নয় তবে চরম আবেগসর্বস্ব অনুভূতি আছেঃ সুশিক্ষিত ব্যক্তি বা মানুষ যখন নিজেকে একটা মায়া বা মোহে আবদ্ধ করে নিজের বুদ্ধি, শিক্ষা এবং বিবেচনাবোধকে প্রতিবন্ধী করে ফেলে তখনও খুব বিরক্ত লাগে।। কিন্তু কিছুই করার নেই সভ্যতার অগ্রগতি এমনিই হবে… শুভরাত্রি… এইবার অসহ্য লাগাটা সহ্য করে ঘুমায় পর!!
          আবারও তোর জন্যে ২ টা তথ্যসূত্র দেইঃ

          আর,

          আর যখন এইসব তথ্য দেখিস তখন তোর কেমন লাগে? রিডিকিউলাস নাকি তালগাছ তালগাছ লাগে? আমি বারংবার স্পীকার হয়ে গেলাম রায়ান… 🙂 😉

          1. নিৎসে প্রায় একটা কথা বলতেন এই
            নিৎসে প্রায় একটা কথা বলতেন এই কোটে একটা অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে গেছে। সঠিকটি হবে এমনঃ

            “আমার জ্ঞান এবং বুদ্ধি এতোটা বালকসুলভ নয় যে ধর্ম বিশ্বাস করব বা ভুল প্রমাণ করতে যাব”

            না এর স্থলে বা হবে… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

          2. “ব্যক্তি যখন যথেষ্ট জ্ঞানের

            “ব্যক্তি যখন যথেষ্ট জ্ঞানের অধিকারী হয় তখন সে নিজেই নিজের ঈশ্বরে পরিনিত হয়”

            :থাম্বসআপ:

          3. নাভিদ, তারিক লিংকন, শঙ্খনীল
            নাভিদ, তারিক লিংকন, শঙ্খনীল কারাগার, ক্লান্ত কালবৈশাখি সবার মননশিল বক্তব্য উপভোগ করলাম।

          4. এই ক্রনোলজি আমি দেখেছি। খুবই
            এই ক্রনোলজি আমি দেখেছি। খুবই ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার।
            এই ক্রনোলজিটা দেখেই আমি আবার অতীত ঘাটতে শুরু করেছিলাম সেই ৩০০০০০ বছর আগে প্রস্তর যুগ থেকে। কিন্তু পুরোপুরি শেষ করতে পারি নাই।

            আসলে বই না পড়লে আমার মাথায় কিছু ঢুকতে চায় না। নেট ঘেটে একটা কিছু তৈরি করতে না পারলে আমার কাছে ব্যাপারটা পুরোপুরি স্পষ্ট হয় না।

            যাই হোক, একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার খেয়াল করে দেখলাম, সেটা হল, এই ক্রনোলজি অনুসারে ৪০০০ খ্রিস্টপূর্বে আদম কে তৈরি করা হয়। আর প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে ৪০০০ খ্রিস্টপূর্বের এই সময়টাতে মেসপটেমিয়াতে অলরেডি মানব সভ্যতা শুরু হয়ে গেছে। তার মানে বাইবেলের ৪০০০ আর মেসপটেমিয়ার ৪০০০ এক না। কারণ মানুষ আরও কম থাকতে হবে সেই অনুসারে।

            আমি ভাবলাম ঠিক আছে, দেখা যাক কি হয়। আরও পেছনে দেখতে শুরু করলাম,

            আসলে, শুরু করেছিলাম কিন্তু শেষ করতে পারিনি। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা বোঝার জন্য জ্ঞান দরকার, এমনকি কিছু চিকিৎসা শাস্ত্রের কঠিন কঠিন তথ্য বোঝার ক্ষমতা থাকতে হয়। থাঙ্কস তো মি হাকিম চাকলাদার, উনার কল্যাণে আমি ডি এন এ সম্পর্কে আস্তে আস্তে জানা শুরু করেছি। যখন মনে হবে মোটামুটি চালিয়ে নেয়া যাবে তখন আবার শুরু করবো।

            আর এতো সহজে আমি স্পীকার হই না। মানুষকে যদি মাটি থেকে তৈরি করা হয়ে থাকে আর জিন জাতিকে (যাদের খালি চোখে দেখা যায় না) আগুন থেকে তাহলে অনেক কিছুই সম্ভব।

            আরে ব্যাটা, বিজ্ঞানীরা যখন বলে এই যে আশেপাশে যত গ্রহ-নক্ষত্র-তারা দেখি এসব এই ইউনিভার্সের মাত্র 1% তখন তো দেখি কিছু বলতে শুনি না। তোর কাছে কি এটা সম্ভব মনে হয় যে এই ইউনিভার্সের ৯৫% জিনিষই হল অদৃশ্য বস্তু আর অদৃশ্য শক্তি?
            এসব শুনে তো তুই কিছু বলিস না কারণ তুই বুঝিস না। তাই ভেবে নিচ্ছিস – বিজ্ঞানীরা যা বলে, মনে হয় ঠিকই বলে।

            আমার অবস্থাও একই, আমি শুধু ধর্মগ্রন্থগুলোকে বিশ্বাস করে নিয়েছি যে ওখানে যা লেখা আছে তার সব বোঝা যাবে না। ব্যস। সহজ সমাধান। না বুঝলেই তালগাছ হতে হবে এমন কথা যারা বলে তারা তো অশিক্ষিত অথবা ভিতু।

        2. নাভিদ কি করেন? বাংলাদেশে
          নাভিদ কি করেন? বাংলাদেশে থাকেন কি? সবকিছুর উর্ধে বিজ্ঞান, একদিন সব চলে যাবে কিন্তু বিজ্ঞান থাকবে, তার জয় হবে। আপনার সব কথার সাথে একমত পোষণ করি। মুক্তচিন্তার জয়জয়কার হবে, তবে এ দেয়াল ভাঙতে সময় লাগবে, কারণ স্বার্থবাদিরা ধর্মকে টিকিয়ে রাখি নিজের স্বার্থে, তাই তার দির্ঘতর হয়।

          1. বাঙালী ভাই, আমি আর রায়ান
            বাঙালী ভাই, আমি আর রায়ান ভার্সিটি’র বন্ধু। দু’জনেই পুরকৌশলে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছি চুয়েট থেকে। আজ দুজনই আমরা নির্মাণ শিল্পে কর্মরত আছি। আপনি বোধহয় আমাদের অনেক অনেক সিনিয়র… আপনার তথ্যবহুল পোস্ট এবং চমৎকার লিখনি থেকে দিন শেষে সকল পাঠকই প্রচুর জানতে পারি।
            ইস্টিশন মাষ্টারের সিদ্ধান্ত কি হবে জানিনা, জানুয়ারি ২০১৪ তে আপনিই ইস্টিশন ব্লগের সেরা প্রাপ্তি… ভাল থাকবেন ! আপনার পোস্টের একজন নিয়মিত পাঠক আমি, অনেক কিছুই জানা যায়; বিনা পরিশ্রমে আপনি একদম রেডিমেড পাঠকের সামনে তথ্যের ভাণ্ডার নিয়ে হাজির হন। আপনাকে :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

          2. তারিক আপনার সাথে আমার কথোপথন
            তারিক আপনার সাথে আমার কথোপথন শুরু হয়েছিল নেতিবাচক কথাবার্তা দিয়ে, যা ইতোমধ্যে ইতিবাচকতায় পরিণত হয়েছে। প্রথম লেখা পোস্ট করে ভাল কোন রেসপন্স না পাওয়াতে এ ব্লগ ছাড়ার চিন্তা মাথায় ঢুকেছিল। এখন দেখছি আমার ধারণা অঠিক ছিল, এখানে অনেক বোদ্ধা পাঠকের সমাবেশ ঘটেছে। আপনার বন্ধুও আপনার মত প্রাজ্ঞ। আমি সৌভাগ্যবান মনে করছি আপনাদের সাথে এক ব্লগে ভাল-মন্দ আলোচনায় আছি বলে।

            হ্যা আমি বয়সে আপনাদের সিনিয়র হবো, জব করি একটা। ঢাবি থেকে ভাষা আর শিক্ষায় লেখাপড়া করেছি। সেরা অসেরার জন্য লিখিনা, একটা নাজানা, কুসংস্কারপূর্ণ সমাজে বসবাস করছি, যা উন্নয়ন আর প্রগতির অন্তরায়। এই যে দেখুন বিশ্ব ইজতেমা হয়ে গেল, আবার হবে কি তার আউটপুট? লাখ লাখ মানুষকে এখানে এনে অনেকের কষ্ট, নানা ঘট্না-দুর্ঘটনা আর কি। এগুলো যাবে না মানুষ সুশিক্ষিত না হোয়া পর্যন্ত। এ জন্য আমার লেখা যাতে মানুষ সচেতন হয়, এ সমাজ আর মানুষ বদলায়!

            আবার বলছি কোন ইতিহাসজ্ঞ নই আমি, নানা সূত্র থেকে টোটকা ঔষধের মত তথ্য সংগ্রহ করে তার সাথে নিজের মতবাদ মিলিয়ে বিতরণের চেষ্টা করছি, তা নিয়ে নানাবিধ বিতর্ক, মতবিরোধ সৃষ্টি হতেই পারে, কারণ মানুষের মনন আর চেতনা ভিন্নতর সবার। সে হিসেবে এ নিয়ে বিতর্ক থাকবেই!

            ধন্যবাদ

    1. আমার পোস্ট দিতে বেশি সময় তো
      আমার পোস্ট দিতে বেশি সময় তো লাগে না। কিন্তু আপনাদের তা পড়ে মন্তব্য করতে অবশ্যই সময় লাগে। এ জন্যে এখন ১/২ দিন পর পর পোস্ট দেব, যদিও আগে বলেছিলমা ডেইলি দেব। এখন অবস্থা বুঝে সিস্ধান্ত পাল্টেছি। ভাল থাকুন।

      1. আমার জানতে ইচ্ছা করতেছে!!
        আমার জানতে ইচ্ছা করতেছে!! আপনি কি কোন গবেষণার জন্যে বা পড়াশুনার খাতিরে এই নিবন্ধটি লিখেছিলেন? যা এখন ধারাবাহিকভাবে পোস্ট করতেছেন?
        যদি কিছু মনে না করেন, জাস্ট জানার জন্যেই জিজ্ঞেস করা!!!
        আর অসাধারণ তথ্য ভাণ্ডার ইস্টিশনের যাত্রীদের সামনে উপস্থাপন করার জন্যে আপনাকে আবারও অফুরন্ত ধইন্যা :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow: :bow:

        1. একই প্রশ্ন আপনাকেও আপনি ব্লগে
          একই প্রশ্ন আপনাকেও আপনি ব্লগে লেখেন কেন? আমার ধারণা ব্লগাররা চায় মানুষ সত্য জানুক, মিথ্যা পরিহার করুক।

          ইহুদি সম্পর্ক লেখার শানেনযুল হচ্ছে : একটা অনুষ্ঠানে সব আলোচক ইহুদিদের আগ্রাসী বলছে ও মুসলিমদেরক আগ্রাসনের শিকার বলাতে বিষয়টা জানার জন্য আমি ইহুদি ধর্ম পড়া শুরু করি। হাদিসগুলোতে দেখি তাদের উপর মুসলমানরা নানাভাবে অত্যাচার করেছে, তারা করেছে এমন কথা ইসলামের হাদিসে নেই, তাই নেট ঘাটলাম, কিছু বই পড়লাম ও হাদিস থেকে রেফারেন্স নিয়ে এগুলো লিখছি। যাতে সবাই সত্য জানতে পারে।

          এখন হেফাজত শিবির বলবে আমি ইহুদি এজেন্ট!

          1. হ্যা তা ঠিক বলেছেন, আর
            হ্যা তা ঠিক বলেছেন, আর অসত্যের পথে মানুষ সহজেই চলে যায় সপ্তপদী স্বার্থে, সত্যের পথে থাকে কম, কারণ এই কথ কাঁটায় ভরা থাকে।

  2. অনেকদিন থেকেই ইহুদি ধর্ম
    অনেকদিন থেকেই ইহুদি ধর্ম সম্মন্ধে জানার ইচ্ছা ছিল , আপনার লেখার মাধ্যমে তা পুরন হচ্ছে । সেজন্য :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: ও :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

    1. কি কারণে জানিনা ক্লান্ত
      কি কারণে জানিনা ক্লান্ত কালবৈশাখিকে পাঠক হিসেবে পাচ্ছি এখানে শুরু থেকেই, আপনাকে হৃদয় থেকে অভিনন্দন জানাই। ভাল আর কল্যাণে থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *