মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত

দাঁড়াও পথিকবর, জন্ম যদি তব
বঙ্গে; তিষ্ঠ ক্ষণকাল। এ সমাধিস্থলে
(জননীর কোলে শিশু লভয়ে যেমতি
বিরাম) মহীর পদে মহানিদ্রাবৃত্ত
দত্ত-কুলোদ্ভব কবি শ্রী মধুসুদন।
যশোরে সাগরদাঁড়ী কপোতাক্ষ-তীরে
জন্মভূমী, জন্মদাতা দত্ত মহামতি
রাজনারায়ণ নামে, জননী জাহ্নবী।



দাঁড়াও পথিকবর, জন্ম যদি তব
বঙ্গে; তিষ্ঠ ক্ষণকাল। এ সমাধিস্থলে
(জননীর কোলে শিশু লভয়ে যেমতি
বিরাম) মহীর পদে মহানিদ্রাবৃত্ত
দত্ত-কুলোদ্ভব কবি শ্রী মধুসুদন।
যশোরে সাগরদাঁড়ী কপোতাক্ষ-তীরে
জন্মভূমী, জন্মদাতা দত্ত মহামতি
রাজনারায়ণ নামে, জননী জাহ্নবী।


(কলকাতায় সমাধির পাশে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রতিকৃতি)

খৃষ্টীয় আঠারোশো শতক। সাগরদাঁড়ি গ্রামের সেই সময়ে দুর্দান্ড প্রতাপশালী বিত্তবান ব্যাক্তি রামনিধি দত্ত।প্রখর ব্যাক্তিত্ব আর প্রবল অনুশাসন এর অধিকারী। তার চার পুত্র সন্তান। বড় পুত্র রাধামোহন, মেজো মদন মোহন, সেজো দেবীপ্রসাদ এবং কনিষ্ঠ পুত্র রাজনারায়ণ। কনিষ্ঠ পুত্র রাজনারায়ণ পেশায় একজন উকিল। যশোরে একজন আদর্শ উকিল হিসেবে রাজনারায়ণের বেশ নাম ডাক।রাজনারায়ণ যশোর ত্যাগ করে কলকাতায় পাড়ি জমালেন।কলকাতায় সদর দেওয়ানী আদালতে একজন আইনজীবী হিসেবে জীবন শুরু করলেন।খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হয়ে উঠেন যশখ্যাতি, অর্থ প্রাপ্তি ও প্রাচুর্যের অধিকারী। কলকাতায় খিদিরপুর বড় রাস্তার উপরে একটি দোতলা বাড়ি কিনলেন।হয়ে উঠেন তৎকালীন বৃটিশ সরকারের খুবই আস্থাভাজন।লর্ড কর্ণওয়ালিশ ভারতবর্ষে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করলে রাজনারায়ণ দত্ত সাগরদাঁড়িতে জমিদারি কিনে জমিদার হলেন। সাগরদাঁড়ির গোঁড়া হিন্দুদের সমাবেশ ভরে ওঠে দত্তবাড়ির বহিরাঙ্গন। রাজনারায়ণ দত্তের জমিদারীতে তখন বড়ই সুনাম।মুলত তিনি কলকাতায় থাকলেও মাঝে মাঝেই নিজের জমিদারি সাগরদাঁড়িতে আসতেন।

(কবির বাড়ীতে ঢোকার রাস্তা)

১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারী শনিবার। শীতের পরশে সেজে আছে সাগরদাঁড়ি প্রকৃতির অঙ্গ জুড়ে। হঠাৎ ভেতর বাড়ির কোণের ঘরে উলুধ্বনি শঙ্খধ্বনি। কাটিপাড়ার জমিদার গৌরীচরণ ঘোষের কন্যা জাহ্নবী দেবী আঁতুর ঘরে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেছেন। এর মধ্যে কোলকাতার খিদিরপুর থেকে কর্তাবাবু রাজনারায়ণ দত্ত ফিরলেন। পুত্র ভুমিষ্ঠ হওয়ার সংবাদ শুনে আত্মহারা হয়ে গেলেন। পুত্রের জন্য সোনার চেন-বুতাম, জামা কাপড়, পোশাক-আশাক, খেলনা-গাড়ী, জুড়ি-টুড়ি বজরা বোঝাই করে আনলেন। দত্তবাবু পুত্র সন্তান লাভ করায় প্রজাদের ওপর রাজস্ব হ্রাস করলেন খুশী হয়ে। বাড়িতে পুত্রের মঙ্গল কামনায় বেশ ক’দিন চললো ভোজ উৎসব। খুশীর জোয়ার বয়ে চললো সাগরদাঁড়ির আকাশে-বাতাসে। বেশ কয়েকদিন কাটলো আনন্দ উৎসবে। ঢাক ঢোল পিটিয়ে ঘটা করে ভেবে-চিন্তে নাম দিলেন মধু। শ্রী মধুসূদন দত্ত।

(মধুসূদনের পৈত্রিক বাড়ী হতে কিছু দূরে শেখপুরা জামে মসজিদ। মসজিদটি মোঘল আমলে নির্মিত। শোনা যায় মধুসূদন বাল্যকালে এখানে ফার্সি শিখতে আসতেন।)

শিক্ষা জীবন ঃ
শিশুকালে মধুসূদনের হাতে খড়ি হয়েছিল তাঁদের বাড়ীর চন্ডীমণ্ডপে। এরপর তিনি তাঁর গ্রামের নিকটবর্তী শেখপুরা গ্রামের এক মৌলভী শিক্ষকের নিকট ফরাসী শিখতে যেতেন। চন্ডীমণ্ডপে শিক্ষা ও মৌলভী শিক্ষকের শিক্ষায় তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি রচিত হয়েছিল। ১৮৩৭খ্রীষ্টাব্দে মধুসূদন হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং ১৮৪৩ সাল পর্যন্ত সেখানে ইংরেজী ও ফরাসী অধ্যয়ন করেন। এই সময় খিদিপুরে তাঁদের নিজের বাড়ীতেই তিনি বসবাস করতেন। ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী কবি মধুসূদন খ্রীষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। এই সময় তিনি হিন্দু কলেজ পরিত্যাগ করে শিবপুরস্থ বিশপস্ কলেজে ভর্তি হন এবং চার বৎসর সেখানে অধ্যয়ন করেন। এখানে অধ্যয়নকালে তিনি গ্রীক, ল্যাটিন, ফরাসী, হিব্রু প্রভৃতি ভাষা আয়ত্ব করেন।

(কবির প্রসূতি স্থান)

খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ ঃ
খ্রীষ্টধর্ম গ্রহণ করায় মাইকেল পিতার অর্থ সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়ে ১৮৪৮ খ্রীষ্টাব্দে পারিবারিক স্নেহের নোঙ্গর ছিঁড়ে মাদ্রাজের পথে পাড়ি জমান। এখানে প্রথমে মাদ্রাজ ‘মেল অরফ্যান অ্যাসাইলাম’ বিদ্যালয়ে ইংরেজী শিক্ষকের চাকরি গ্রহণ করেন। পরে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সী কলেজে অধ্যাপনায় নিযুক্ত হন। মাদ্রাজ প্রবাসকালে তাঁর সাহিত্য প্রতিভা উজ্জ্বীবিত হয়ে ওঠে। এই সময়ে তিনি লিখতেন ইংরাজী কাব্য “Captive Lady” ও “Visions of the past” এখানে তিনি কয়েকটি পত্রিকার সম্পাদক ও সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর ইংরাজী ভাষায় প্রথম নাটক “Riza” (Empress of India) এখান থেকেই প্রকাশিত হয়।

(কোলকাতার রেড রোডে কবির আবক্ষ ব্রোঞ্জ মূর্তি।)

কর্মজীবন ঃ
মাইকেল মাদ্রাজ থেকে কোলকাতায় ফিরে এসে কবি দেখলেন, তাঁর পিতা-মাতা ইতঃপূর্বেই ইহজগৎ ত্যাগ করেছেন এবং তাঁদের অনেক সম্পত্তি অন্যেরা দখল করে নিয়েছে। অগত্যা মধুকবি পুলিশ আদালতে সামান্য কেরানীর চাকরি গ্রহণ করেন।

মধুসূদনের দূর্দিনে একমাত্র সুহৃদ ছিলেন বিদ্যাসাগর। আপন অসচ্ছলতা সত্ত্বেও বিদ্যাসাগর বহু অর্থ ব্যয় করেন মধুসূদনের ব্যারিস্টারী পড়ার জন্যে। লন্ডনের ‘গ্রেজ ইন’ থেকে ব্যারিস্টারী পাস করে দেশে ফিরে ১৭-১১-১৮৬৬ তারিখে কলকাতা বারে যোগদান করেন এবং ৭-৫-১৮৬৭ তারিখে হাইকোর্ট বারে যোগদান করেন। পরে তাঁকে প্রিভিউ কাউন্সিলের ‘আপীল একজামিনার’ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।


(কবি পরিবারের ব্যবহৃত কাঠের সিন্ধুক।)

বিলেত গমন ঃ

মহাকাব্যের স্রষ্টা মাইকেল মধুসূদন দত্ত সাহিত্যিক জীবনে স্বদেশে খ্যাতি ও যশ লাভ করেও পরিতৃপ্ত হতে পারেননি। দুর্বার উচ্চকাঙ্খা ও অপরিতৃপ্ত বাসনা তাঁর শৈল্পিক স্বত্ত্বাকে স্বদেশের মাটি থেকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় দেশ দেশান্তরে। ১৮৬২ সালে জুন মাসের ৯ তারিখে ব্যারিস্টারী পড়ার মনোবাসনায় তিনি স্ত্রী, পুত্র কন্যা কোলকাতায় রেখে বিলাত যাত্রা করেন।

যে আর্থিক নিরাপত্তার আশ্বাসে তিনি বিলাত যাত্রা করেন, অচিরেই তা ভঙ্গ হলো। তাঁর ভূসম্পত্তির পত্তনীদার ও প্রতিভূরা তাঁকে বিলাতে ও তাঁর স্ত্রীকে কোলকাতায় টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিলেন। ১৮৬৬ খ্রীষ্টাব্দে মে মাসের ২ তারিখে নিতান্ত নিরুপায় হয়ে দুটি শিশু সন্তানসহ তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হেনরীয়েটা কলকাতা ছেড়ে ইংল্যান্ডে স্বামীর নিকট গিয়ে পৌঁছালেন। ব্যাপক অর্থসংকটের কারণে স্ত্রী, পুত্র, কন্যাসহ মাইকেল মধুসূদন প্রথমে ফ্রান্সের প্যারী ও পরে ভার্সাই নগরীতে যান। দেশ থেকে অর্থ না আসায় তাঁর অবস্থা এমন শোচনীয় হয়ে পড়ল যে, স্ত্রীর গহনা, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এমনকি বই পুস্তক পর্যন্ত বন্ধক রাখতে হয়। অবস্থা এমন চরম আকার ধারণ করে যে, কপর্দকহীন অসহায় অবস্থায় ঋণের দায়ে তাঁর জেলে যাবার উপক্রম ঘটে।

এই দুর্দিনেও তিনি সৃষ্টি বিমুখ ছিলেন না। বাংলা সনেট (চতুর্দশপদী) এর সার্থক স্রষ্টা কবি মধুসূদন দত্ত ১৮৬৫ খ্রীষ্টাব্দে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে অবস্থানকালেই ইতালির কবি পেত্রার্কের সনেট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রথম বাংলা সনেটের দিগন্ত উন্মোচন করেন। ১৮৬৬ খ্রীষ্টাব্দে কবির চতুর্দশপদী কবিতাগুলি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এই কবিতাগুলিতে কবি চিত্তের ব্যকুলতা, স্বদেশ প্রেমিকতা ও আবেগ ধ্বনিত হয়েছে।

নিচের চতুর্দশপদী কবিতাংশের কবি স্মরণ করেছেন জন্মভূমির কপোতাক্ষ নদের কথা :-

সতত, হে নদ, তুমি পড় মোর মনে।
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে;
সতত (যেমতি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া-মন্ত্র ধ্বনি) তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে !
বহু দেশ দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে ?
দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্ম-ভূমি-স্তনে !


(মধুসূদনের বাড়ীর নিকটবর্তী কপোতাক্ষ নদীতে বাঁধানো ঘাট)

সাহিত্য চর্চা ঃ

১৮৪৪ সালে কলকাতার “Circulator” পত্রিকায় তাঁর অনূদিত পারস্যের কবি শেখসাদীর একটি গজল “Ode” নামে প্রকাশিত হলে ইংরাজী রচনায় তাঁর প্রতিভার স্বক্ষর পরিলক্ষিত হয়।

১৮৫৯ খ্রীষ্টাব্দে তাঁর প্রথম নাটক ‘শর্মিষ্ঠা’ লিখিত হয় এবং বেলগাছিয়ার নাট্য শালায় নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। এর দুই মাসের মধ্যে ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ এবং অল্পকাল পরেই ‘বুড়ো শলিকের ঘাড়ে রোঁ’ নামে দুটি প্রহসন রচিত হয়। ১৮৬০ সালে রচনা করেন ‘পদ্মাবতী’, ১৮৬১ সালে ‘কৃঞ্চকুমারী’ নাটক। বাংলা নাটকের দৈন্যদশা মোচনের অঙ্গীকার নিয়েই কবি এ নাটকগুলি রচনা করেছিলেন।

বাংলা কাব্য রচনার ক্ষেত্রে কবি মধুসূধনের বিচিত্র শৈল্পিক মনের পরিচয় পাওয়া যায়। ১৮৬০ সালে তিনি নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেন ‘তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য’ প্রকাশের মাধ্যমে। কবি মধুসূদনের অমর কীর্তি বিষ্ময়কর সৃষ্টি ‘মেঘনাদ বধ’ কাব্য। এই মহাকাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে। ১৮৬২ সালে মধুসূদনের ‘বীরঙ্গনা’ কাব্য প্রকাশিত হয়। মহাকবি ‘তিলোত্তমা সম্ভব’ কাব্য, ‘মেঘনাদ বধ’ কাব্য- এ দুটিই সাহিত্যরস সমৃদ্ধ উল্লেখযোগ্য কাব্য। ‘মেঘনাদ বধ’ কাব্যে ধর্মীয় গোঁড়ামীর বিরম্নদ্ধে তাঁর বিদ্রোহী চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। রামচন্দ্র সম্পর্কে প্রচলিত ধর্মীয় গোঁড়ামীর বিরুদ্ধে অনেক কঠিন বাণী উচ্চারণ করেছেন। এখানে ছন্দ শৈলী বিচিত্রতায় মহিমাপূর্ণ। ‘মেঘনাদ বধ’ কাব্য থেকে :-

দৈববলে বলী যে জন, কাহারে
ডরে সে এ ত্রিভুবনে ? দেব কুলপতি
সহস্রাক্ষ পক্ষ তব; কৈলাস নিবাসী
রিরূপাক্ষ শৈলবালা ধর্ম্ম সহায়িনী !
চোখ চেয়ে লঙ্কা পানে; কাল-মেঘ সম
দেবক্রোধ আবরিছে স্বর্ণময়ী আভা
চারিদিকে ! দেবহাস্য উজলিছে; দেখ,
এ তব শিবির, প্রভু ! আদেশ দাসেরে
ধরি দেব-অস্ত্র আমি পশি রক্ষোগৃহে;
অবশ্য নাশির রক্ষে ও পদ প্রসাদে;
বিজ্ঞতম তুমি, নাথ! কেন অবহেলা
দেব-আজ্ঞা ? ধর্ম্মপথে সদা গতি তব,
এ অধর্ম্ম কার্য, আর্য্য, কেন কর আজি ?
কে কোথা মঙ্গলঘট ভাঙে পদাঘাতে ?


(কবিপত্নী হেনরিয়েটার ছবি)

বিবাহিত জীবন ঃ
১৮৪৮ সালে মাদ্রাজে অবস্থানকালে তাঁর লোকাতীত গুণে বিমোহিত হয়ে নীলকর কন্যা রেবেকা তাঁকে পরিণয়ে পাশে আবদ্ধ করেন। ১৮৫৬ খ্রীষ্টাব্দে মধুসূদন সস্ত্রীক কোলকাতায় গমন করেন। কোলকাতায় এই স্ত্রীর গর্ভে কবি মধুসূদনের এক পুত্র ও এক কন্যা জন্মগ্রহণ করে।

(কবির সমাধিস্থল)
করুন পরিনতি ও মৃত্যু ঃ
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অগ্রদূত বাঙ্গালী মনীষীর এক বিষ্ময়কর নিদর্শন, বাঙ্গালী তথা বাংলা সাহিত্যের প্রাণপুরুষ কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৭৩ খ্রীষ্টাব্দে বেনিয়াপুকুর রোডের বাড়ীতে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুণতে থাকেন। পাশের কক্ষে স্ত্রী প্রাণপ্রিয়া হেনরীয়েটা শয্যাশায়িনী অথচ চিকিৎসা করার মত সামর্থ তাঁর নেই। শেষ অবধি কবি আশ্রয় নিলেন অলীপুরের দাতব্য চিকিৎসালয়ে। ১৮৭৩ খ্রীষ্টাব্দে ২৬ জুন মৃত্যু শয্যায় শায়িত মধুসূদন শুনতে পেলেন স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ। তখন তাঁর চোখ গড়িয়ে পড়ে শোকাশ্রু। স্ত্রীর মৃত্যুর তিনদিন পর ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন রবিবার অপরাহ্ন প্রায় দুই ঘটিকার সময় জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত কবি মধুসূদনের জীবন প্রদীপ নিভে গেল। শেষ হয়ে গেল নিয়তি নির্ধারিত এক অভাবিত ট্রাজেডী।
মধুসূদনের গ্রন্থ তালিকা

নাম রচনাকাল প্রকাশকাল

শর্মিষ্ঠা নাটক ১৮৫৮ সালের জুনের শেষার্ধ থেকে
ডিসেম্বর মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে জানুয়ারী ১৮৫৯

একেই কি বলে সভ্যতা ১৮৬০ সালের মে মাসের
অল্প পরে অল্প সময়ের মধ্যে জুন- ১৮৬০

বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ ঐ জুন- ১৮৬০

পদ্মাবতী নাটক ১৮৬০-এর মার্চ থেকে মে-র মধ্যবর্তী
কোন এক সময়ে সমাপ্ত এপ্রিল-মে ১৮৬০

তিলেত্তমা সম্ভব কাব্য জুলাই ১৮৪৯ এর পূর্বে শুরু
১৮৬০ সালের মধ্যে সমাপ্ত মে ১৮৬০

মেঘনাদ বধ কাব্য মার্চ ১৮৬০ ডিসেম্বর ১৮৬১ ৪টা জানুয়ারী ১৮৬১
১ম খন্ড (১ম-৫ম সর্গ)
২য় খন্ড ১৮৬১ এর ফেরুয়ারী জুন – ১৮৬১
(৬ষ্ঠ-৯ম সর্গ) সমাপ্ত

ব্রজাঙ্গনা কাব্য এপ্রিল ১৮৬০ এর মধ্যে সমাপ্ত জুলাই – ১৮৬১

কৃষ্ণকুমারী নাটক ৬ই আগষ্ট-৭ই সেপ্টেম্বর ১৮৬০ শেষ ভাগে ১৮৬১

বীরাঙ্গনা কাব্য ১৮৬১ সালের শেষে বা
১৮৬২ সালের প্রারম্ভে সমাপ্ত ফেব্রুয়ারী ১৮৬২

চতুর্দশপদী কবিতাবলী ১৮৬৩-১৮৬৫-এর মধ্যবর্তী সময়ে আগষ্ট ১৮৬৬

হেক্টর বধ ১৮৬৭ সালের মধ্যে ১লা সেপ্টেম্বর ১৮৭১

মায়াকানন জীবন সায়াহ্নে ১৮৭৪ সাল

অসম্পূর্ণ বাংলা রচনাবলী

নাম শ্রেণী পরিচয় রচনাকাল
সুভদ্রা নাট্য কাব্য ১৮৫৯-১৮৬০

রিজিয়া নাটক ১৮৬০

ব্রজাঙ্গনা কাব্য
২য় সর্গ। বিহার কবিতা এপ্রিলের পূর্বে
১৮৬০

সিংহল বিজয় মহাকাব্য ১৮৬১ সালের মাঝা-মাঝি

বীরাঙ্গনা কাব্য
২য় খন্ড কবিতা ১৮৬২ সালের ফেব্রুয়ারী

দ্রৌপদী স্বয়ম্বর

মৎস গন্ধা (কাব্য) মহাভারতে উল্লেখিত ১৮৬৩-১৮৬৪

সুভদ্রা হরণ বিবিধ প্রসঙ্গ নিয়ে

পাণ্ডব বিজয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাহিনী

দুর্যোধনের মৃত্যু কাব্য বা মহাকাব্য

বিষ না ধনুর্গুন নাটক জীবন সায়াহ্নে

দেব দানবীয়ম ব্যঙ্গ কবিতা জীবন সায়াহ্নে

নীতিগর্ভ কবিতাবলী কবিতা জীবন সায়াহ্নে

বিবিধ কবিতাবলী কবিতা বাল্য ও পরবর্তীকালে

ইংরেজী রচনাবলী
CAPTIVE LADIE (POETRY) ১৮৪৮ সালের ২৫ শে নভেম্বর পূর্বে লেখা।

VISIONS OF THE PAST (POETRY) ১৮৪৯

THE ANGLO-SAXON AND THE HINDU (Lecture- 1) ১৮৫৪ সালের পূর্বে রচিত ও প্রদত্ত বক্তৃতা

RIZIA t EMPRESS OF INDE (DRAMA) মাদ্রাজ জীবনের মধ্যবর্তী সময়ে রচিত

POEMS ১৮৪১-১৮৪৮

OTHERS POEMS ১৮৪৮-১৮৫৬

নাট্যানুবাদ
RATNAVALI ১৮৫৮ সালের জুলাই

Sermista (Author’s translation of his Sarmistha) ১৮৫৯

NIL DURPUN, OR The Indigo Planting Mirror, A Drama, Trans, from the Bengali by A Native with an introduction by the Rev. J. Long. ১৮৬১

অসম্পূর্ণ ইংরেজী রচনাবলী
TILLOTTOMA (Poem) স্ব-লিখিত কাব্যের স্বীকৃত অনুবাদ

QUEEN SITA (Poem) রামায়ণ কাহিনী অবলম্বে কাব্য সৃষ্টির প্রয়াস

OPSORI পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বে কাব্য সৃষ্টির প্রয়াস

“bangabhumir prati’ [Rekho maa dasere mane] by Sri Michael Madhusudan Dutta; Music by Sri Salil Chowdhury; Performed by Sri Dwijen Mukherjee”

তথ্যসূত্র ঃ-
[১]Michael Madhusudan Dutt – Wikipedia, the free encyclopedia
[২]বাংলাপিডিয়া।
[৩]যশোর. ইনফো।
[৪]আনন্দবাজার ব্লগ।

১৭ thoughts on “মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত

      1. ১৮৭৩
        খ্রীষ্টাব্দে মধুসূদন

        ১৮৭৩
        খ্রীষ্টাব্দে মধুসূদন হিন্দু কলেজে ভর্তি হন
        এবং ১৮৪১ সাল পর্যন্ত সেখানে ইংরেজী ও
        ফরাসী অধ্যয়ন করেন।

        তিনি তো ১৮৭৩ সালের ২৯শে জুন পরলোক গমন করেন। উনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন আরও আগে যদিও ডেট টা জানি না। এইটা হয়তো ভুলে লিখেছেন।

        যাই হোক আমি জয়, রাজু দা না।

  1. দুঃখিত অনিচ্ছাকৃত ভুলের
    দুঃখিত অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য।মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৩৭ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হোন।এবং ১৮৪৩পর্যন্ সেখানে অধ্যায়ন করেন।

  2. বাহ, বেশ তথ্যপূর্ণ একটি লেখা।
    বাহ, বেশ তথ্যপূর্ণ একটি লেখা। পড়তে দেরী লাগলেও ভালো লাগলো… :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. অসাধারণ… ২/৩ দিন পর ফিরে
    অসাধারণ… ২/৩ দিন পর ফিরে এসেই প্রথমে আপনার দুর্দান্ত এই পোস্ট দেখে ভাল লাগছে। শঙ্খনীল-ভাই আপনার পরিশ্রমী এই পোস্টের জন্যে আবারও :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:
    আর দুর্দান্ত একটা ভিডিও দেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্যে অফুরন্ত ধইন্যা :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
    আর প্রিয় মহাকবি মাইকেল মধুসূদন-কে :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

  4. চমৎকার লেখা। আপনার মতো
    চমৎকার লেখা। আপনার মতো পরিশ্রমী ব্লগারদের কারনেই ব্লগে আসা স্বার্থক হয়। ধন্যবাদ শঙ্খনীল। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *