৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও সোভিয়েত মানুষদের আত্মত্যাগ কি অকথিত-ই থাকবে?

হাজার বছরের চির পরাধীন এবং অবশেষে একাত্তরে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের মহান বিষয়ের ৪৩-তম দিন পালনে আমরা এখন সবাই উদগ্রিব। স্বাধীনতা অর্জনে ত্রিশ লাখ শহীদ, অগণিত মা-বোনের ইজ্জত এবং জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের নানাবিধ খেতাব ও কমবেশী সুযোগ সুবিধাও আমরা দেয়ার চেষ্টা করছি স্বল্প সম্পদের এদেশে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা এখন বংশানুক্রমে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং নাতিপুতিদের দেয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। ৭-জন বীর শ্রেষ্ঠর সম্মানে এদেশের মানুষ এখনো আপ্লুত হয়। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে আমরা জাতীয় স্মৃতিসৌধও নির্মাণ করেছি। শোনা যাচ্ছে, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বিদেশীদেরও সরকার সম্মানিত করবেন এবং সে লক্ষে একটি তালিকাও নাকি তৈরী হচ্ছে। যা সবই প্রশংসার দাবী রাখে।



হাজার বছরের চির পরাধীন এবং অবশেষে একাত্তরে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের মহান বিষয়ের ৪৩-তম দিন পালনে আমরা এখন সবাই উদগ্রিব। স্বাধীনতা অর্জনে ত্রিশ লাখ শহীদ, অগণিত মা-বোনের ইজ্জত এবং জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের নানাবিধ খেতাব ও কমবেশী সুযোগ সুবিধাও আমরা দেয়ার চেষ্টা করছি স্বল্প সম্পদের এদেশে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা এখন বংশানুক্রমে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং নাতিপুতিদের দেয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। ৭-জন বীর শ্রেষ্ঠর সম্মানে এদেশের মানুষ এখনো আপ্লুত হয়। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে আমরা জাতীয় স্মৃতিসৌধও নির্মাণ করেছি। শোনা যাচ্ছে, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বিদেশীদেরও সরকার সম্মানিত করবেন এবং সে লক্ষে একটি তালিকাও নাকি তৈরী হচ্ছে। যা সবই প্রশংসার দাবী রাখে।

কিন্তু একটি ব্যাপার এদেশের অসাম্প্রদায়িক ‘কৃতজ্ঞ’ বাঙালিকে ‘দহন’ করছে প্রতিনিয়ত সেই একাত্তর থেকেই। আর তা হচ্ছে, একাত্তরে আমাদের চরম বিপদের সময় ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন যেভাবে প্রত্যক্ষভাবে আমাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিল, তার স্মরণে কিংবা তারা কিভাবে কতটুকু আমাদের সহায়তা করেছিল তা সুষ্পষ্টভাবে সকল জাতির মাঝে কখনো ব্যাপক প্রচার না হওয়া। দীর্ঘদিন এদেশের মানুষ নানা প্রচার মাধ্যমে শুনে এসেছে, যুদ্ধের পর ভারত নাকি এদেশের অনেক সম্পদ ‘পাচার’ করে তাদের দেশে নিয়ে গেছে। এর সত্যা-সত্যও প্রকাশিত হওয়া দরকার ৪৩-তম এ বিজয়ের প্রাক্কালে এ জাতির সামনেই।

আমরা যারা নিজ চোখে একাত্তর দেখেছি তারা কমবেশী জানি, পাকিস্তানীদের ভয়ে প্রায় কোটি শরণার্থী বাংলাদেশের ৩-দিকের বর্ডার দিয়ে ভারতের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের দেয়া হয়েছিল আশ্রয়, খাদ্য, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র। কত মানুষের জন্যে ভারতের কত আশ্রয় কেন্দ্র ছিল সেখানে তার হিসেব কি আমরা কখনো করেছি? সরবরাহকৃত খাদ্য, ক্যাম্প আর অস্ত্রের পরিমাণ কি ছিল? এ ক্ষেত্রে ভারতের জনগণ কি ত্যাগ স্বীকার করেছিল এ জাতির স্বাধীনতায় বা ট্যাক্স দিয়েছিল বাংলাদেশের মানুষের জন্যে? স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রটিও কি ভারত সরকার বাংলাদেশকে দান করেছিল বিনে পয়সায়? তার মূল্য ছিল কত? এ ছাড়া যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের ডাকটিকেট, পোস্টার, মুদ্রা ইত্যাদি প্রকাশিত হয়েছিল ভারত থেকেই। সরকারি দফতরও ছিল সেখানে। সেগুলো কিভাবে হয়েছিল?

একাত্তরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধে সরাসরি ভারত বাংলাদেশের পক্ষে ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন সেক্টরে যুদ্ধে নামে। পাকিস্তানের মত একটি ‘যুদ্ধবাজ’ মার্কিন ও চীনের সহায়তাপুষ্ট শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে ভারতের কি কোন ক্ষতি হয় নি? আমাদের জানা ও বোঝা দরকার, এ ক্ষেত্রে এ যুদ্ধে (বাংলাদেশ যুদ্ধে) ভারতের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে মোট কত সৈন্য নিহত ও আহত হয়েছিল? যার আর্থিক মূল্য কত? মানুষ ছাড়াও এ যুদ্ধে ভারতীয় সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর ধ্বংসপ্রাপ্ত অস্ত্র, বিমান, নৌ-জাহাজ ইত্যাদির পরিমাণ ও তার আর্থিক মূল্যমান কি আমরা বলতে পারবো? যুদ্ধে ভারতের মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কি খুব নগণ্য ছিল?

ভারত ছাড়াও এ যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন কি প্রকারে আমাদের সহায়তা দিয়েছিল? মানে অস্ত্র, অর্থ, কূটনৈতিক কিংবা অন্য আর কি কি ভাবে? যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানীদের রক্ষায় যখন বঙ্গোপসাগরে মার্কিন ‘সপ্তম নৌবহর’ এলো বাংলাদেশের উপর আক্রমন চালাতে, তখন তা প্রতিরোধে সৌভিয়েত ৪০-জাহাজের পারমাণবিক নৌ-বহর ও ভারতীয় যুদ্ধ জাহাজ ‘ভিক্রান্ত’ কিভাবে তার মোকাবেলায় এগিয়ে এসেছিল, তার ইতিহাস কি এদেশের শিশুরা জানবে না? স্বাধীনতা লাভের পরও বাংলাদেশ বিমান ও নৌবাহিনী গঠনে ভারত কি কি বিমান ও নৌযান বাংলাদেশকে দান করেছিল, তাও প্রকাশিত হওয়া দরকার সত্য ইতিহাস সামনে আনার প্রয়াসে। আরো জানা দরকার, আত্মসমর্পনের প্রাক্কালে চট্টগ্রাম বন্দরকে অচল করার লক্ষে, পাকিস্তান নৌবাহিনী কর্তৃক পুরো বঙ্গোপসাগরে ‘অসংখ্য ভাসমান মাইন’ ছড়িয়ে দেয়ার গল্প এবং স্বাধীনতার পর তা উদ্ধারে এসে মাইন বিস্ফোরণে সৌভিয়েত নাবিকদের পতেঙ্গা সৈকতে নির্মম নিহত হওয়ার কাহিনি। নিহত এ সোভিয়েত সৈনিকরা হয়তো জন্ম নিয়েছিল লেনিনগ্রাদ বা ভারখয়োনস্কের কোন প্রত্যন্ত গ্রামে, যারা অন্য এক অচেনা জাতির ‘মুক্তি সংগ্রামে’ এসে নিজের জীবনটি দান করলেন পতেঙ্গা সৈকতে! এদের সাহসের গল্প আমাদের না শোনালে, এ বীরত্বের কাহিনি আমাদের না জানালে, এদের স্মৃতিতে স্মৃতিশৌধ আমরা না বানালে, এদের আত্মত্যাগকে এ জাতি ‘স্যালুট’ না করলে, আমরা দিনের পর দিন ‘অকৃতজ্ঞ’ জাতি থেকে একটি ‘কৃতঘ্ন’ জাতিতে পরিণত হবো না কি? আর এটি হলে কি ভবিষ্যত প্রজ্ন্ম আমাদের ক্ষমা করবে? কারণ ‘অকৃতজ্ঞ’ ব্যক্তিকে নাকি আল্লাহ-ও পছন্দ করেন না। আর যাকে আল্লাহ পছন্দ করেনা, তাকে কি বিশ্বের মানুষরা পছন্দ করবে?

লেখকের ফেসবুক ঠিকানা [ধর্মান্ধতামুক্ত যুক্তিবাদিদের ফ্রেন্ডভুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানাই ] : https://www.facebook.com/logicalbengali

৪০ thoughts on “৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও সোভিয়েত মানুষদের আত্মত্যাগ কি অকথিত-ই থাকবে?

  1. ৫/৭ প্রকারের সিরিজে কম্পিউটার
    ৫/৭ প্রকারের সিরিজে কম্পিউটার ভরা, পাঠক আকাল লক্ষ্য করছি, আছে কোন প্রতিষেধক নিরাময়ের? ধন্যবাদ ভাল থাকুন।

    1. ব্লগারদের সাথে পরিচয় না থাকলে
      ব্লগারদের সাথে পরিচয় না থাকলে যতই ভাল লিখুন, কেউ পড়বে না। নিয়মিত কমেন্ট করতে হবে… অন্যদের পোস্টও পড়তে হবে। নইলে তো আর পরিচয়ের সুযোগ থাকে না…

    2. আপনাকে আবারও অনুরোধ করছি,
      আপনাকে আবারও অনুরোধ করছি, আপনি ৩ দিন পরপর পোস্ট দিন তাহলেই প্রচুর পাঠক পাবেন… সবাই আপনার পোস্ট পড়ে মন্তব্য করবে এমন সময় আপনি আরেকটি চমৎকার বিষয় নিয়ে চমৎকার তথ্যবহুল পোস্ট দেন! তাহলে পাঠক কি করবে?
      সবাইতো দৈনন্দিন জীবনের সকল কিছু সাম্লে এসেই ব্লগে সময় দেয় তাই না?
      একটু রয়েসয়ে ধীরে সুস্থে পোস্ট দিন আপনার পোস্টের প্রচুর পাঠক এবং আলোচক আপবেন…
      ধন্যবাদ!! দারুণ লিখেছেন… তবে ক্লান্তের সাথে একমত!!

      1. তারিক লিংকনের কথা আরো যৌক্তিক
        তারিক লিংকনের কথা আরো যৌক্তিক মনে হচ্ছে। চেষ্টা করবো তারিক + ক্লান্তর পরামর্শ দুটোই ফলো করতে। ভাল থাকুন।

      2. সহমত লিংকন ভাইয়ের সাথে…
        সহমত লিংকন ভাইয়ের সাথে… :আমারকুনোদোষনাই: পোস্ট পড়বার যথেষ্ট সময় দেয়া হোক… :ভাবতেছি: :মাথাঠুকি:

    1. একটা লেখা সঙ্গত কারণেই
      একটা লেখা সঙ্গত কারণেই পরিশ্রমের ফল। লেখকের পরিশ্রম সার্থক হয় যথার্থ পাঠকের সাগ্রহ অংশ গ্রহণে, এখানে ব্যাপার উল্টো মনে হ্চছে!!

  2. অধিকতর যুক্তিনির্ভর
    অধিকতর যুক্তিনির্ভর লেখা।লেখাটা সিরিজ আকারে চালিয়ে যাবার অনুরোধ করছি। সেই সাথে আমাদের স্বধীনতা যুদ্ধে সকল বিদেশী শহীদদের শহিদি মর্যাদা ও যথাযথ সম্মাননা জানানোর দাবী জানাচ্ছি।

    1. ধন্যবাদ সুন্দর প্রস্তাবনার
      ধন্যবাদ সুন্দর প্রস্তাবনার জন্য। দেখি পাঠকের আগ্রহ থাকলে সিরিজ দেয়া সমস্যা হবে না। ভাল থাকুন।

      আমার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় এসেছিল “তোমার প্রিয় উপন্যাস” লিখেছিলাম শঙ্খনীল কারাগার। ভাল থাকুন

  3. অনেক দিন পরে মুক্তিযুদ্ধ
    অনেক দিন পরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ভাল একটা লেখা পড়লাম :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: মন্তব্যের জন্য ভাইবেন না । এই ব্লগের ব্লগারগনের মন্তব্য পেতে হলে অনেক সাধনা করতে হয় । মনের টানেই লিখুন ।

  4. চমৎকার একটা বিষয়ে লিখেছেন।
    চমৎকার একটা বিষয়ে লিখেছেন। লেখা বরাবরের মতই আগ্রহজাগানিয়া চমৎকার… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও সোভিয়েত মানুষদের আত্মত্যাগ কি অকথিত-ই থাকবে?

    মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকলের কাছে এই প্রশ্নটার জবাব চেয়ে গেলাম… :অপেক্ষায়আছি:

    1. মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকলের
      মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকলের কাছে এই প্রশ্নটার জবাব চেয়ে গেলাম

      মন্তব্যটি খুবই চমৎকার লাগলো, ভাল থাকুন।

  5. সোভিয়েত সৈন্যরা যে সরাসরি যে
    সোভিয়েত সৈন্যরা যে সরাসরি যে অপারেশনে অংশগ্রহণ করেছিল বিষয়টা আমার অজানা ছিল। তবে বিস্তারিত আরও জানতে পারলে ভাল হত। আশাকরি পরে পাব।
    আপনার পোস্ট সম্পর্কে বলেছেন ভাল পাঠক পাচ্ছেন না। কথাটা ইস্টিশনের ক্ষেত্রে ঠিক না। প্রতি মাসেই বেশ কিছু লেখা আছে যেগুলো ৫০০ এর বেশি পড়া হয়। আর তারিক ভাই উপরে বলেছেন যে আপনার পোস্ট খুব দ্রুত আসে সেটা একটা বিষয়। আলচনার করার আগেই দেখা যায় আপনার একাধিক পোস্ট শো করছে। এর বাইরে ব্লগ একটা পারস্পারিক প্রতক্রিয়ার বিষয়। আপনি সাধারণত অন্যের পোস্টে কমেন্ট করেন না। করেলও একদম ফরমাল আলোচনা ভিত্তিক কিছু না সেটা। এতে অনেকেই আপনার লেখার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
    কিছুদিন আগে তারিক ভাই আপনার পোস্টের জবাবে একটা লেখা লিখেছিলেন। সবাই আশা করেছিল আপনি ভাল একটা উত্তর দিবেন। দিয়েছেন তাও একটা পোস্ট দিয়ে। অথচ ব্লগে সবাই আপনার জন্য অপেক্ষা করছিল। আপনি অন্তত বলে আসতে পারতেন যে আপনি লিখবেন। যারা এখানে আছে সবাই ব্যক্তিগত কাজের ফাঁকে ফাঁকেই এটা করে থাকে। সেখানে যদি রেসপন্স না পায় স্বাভাবিক আর ইচ্ছা থাকে না।

    1. মুক্তিযুদ্ধে সৌভিয়েত ভূমিকার
      মুক্তিযুদ্ধে সৌভিয়েত ভূমিকার কথা আমরা কমবেশি জানলেও, বাংলাদেশের ইতিহাসগুলোতে সোভিয়েত ভূমিকাকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয়নি, পচাত্তর পরবর্তি নানা ধর্মান্ধতা ও রাজনৈতিক অপশাসকদের কারণে। তবে সপ্তম নৌবহরকে প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে পীত সাগর ও ভারখয়নস্ক বন্দর থেকে ৪০টি পারমাণবিক শক্তিচালিত ডেট্রয়ার সজ্জিত নৌবহর বাংলাদেশ যুদ্ধে অংশ নিতে যখন বঙ্গোপসাগরের দিকে ধাবিত হয় এবং ভারতীয় একমাত্র বিমানবাহি জাহাজটি যখন মার্কিন ৭ম নৌবহরের পথ আগলে দাড়ায় মুখোমুখি যুদ্ধের জন্যে, তখন ইতিহাসের নতুন পথ সুচিত হয়, মার্কিনরা অবস্থা অনুধাবন করে ভারত মহাসাগরেই অবস্থান করতে থাকে।

      সুতরাং এটি সহজেই অনুমেয় যে, তৎকালিন বিশ্ব পরাশক্তি সোভিয়েত ভয়েই মার্কিন নৌবহর বাংলাদেশে সরাসরি গোলা নিক্ষেপে বিরত থাকে। বাংলা বিজয় অর্জন করে। এ ঋণ কিন্তু বাঙালি শোধ করেনি না ভারতকে, না সোভিয়েতকে। আমি এ বিষয়ে আরো তথ্য খোজার চেষ্টা করছি, পেলে অবশ্যই সবার সাথে শেয়ার করবো।

      হ্যা আমার পোস্ট বিষয়ক আপনাদের সবার মূল্যবান মন্তব্য আমি স্মরণ রাখবো, পোস্টের মাঝে বিরতি রাখবো, অন্যের পোস্ট পড়ার চেষ্টা করবো অন্তত ছুটির দিনগুলোতে।

      আর তারিক সাহেবের পোস্টর ব্যাপারে আমার মন্তব্যতো আমি দিয়েছি তার ব্লগে + আলাদা করে, এখন সেটি ভাল হয়েছে কিনা এটাতো যার যার মননের বিষয়। যিনি আত্মসমালোচনা পছন্দ করবেন না কিংবা যে কোন অবস্থায়ই বাঙালিকে উচ্চতর আসনে বসিয়ে রাখতে চাইবেন, তারতো আমার লেখা ভাল না লাগারই কথা। তা ছাড়া আমি অত্যন্ত সাধারণ মানের ব্লগার, কোন সুলেখক নই, অনেকেরই আমার লেখা নানাবিধ কারণে পছন্দ নাও হতে পারে। জনপ্রিয় লেখক হলে অবশ্যই সবাই ভিড় করবে। ভাল আর কল্যাণে থাকুন। ধন্যবাদ

      1. এখানে বিভিন্ন চিন্তার, বয়সের
        এখানে বিভিন্ন চিন্তার, বয়সের ও রুচির মানুষ আছেন। পাশাপাশি সবার সব বিষয়ে আগ্রহও থাকে না। আর আপনার লেখা পছন্দ হচ্ছে জন্যই তো খোঁচা মেরে হলেও কিছু বলছি। আপনার অভিজ্ঞটা ও লেখনীকে প্রশংসা জানাই। ভাল থাকুন। লিখে যান। :ফুল:

        1. আমি খোচাকে কখনো ভয়
          আমি খোচাকে কখনো ভয় পাইনি-পাবনা, আমার লেখা পড়লে দেখবেন আমার ৯৫% লেখা প্রচলিত চিন্তার বিপরিত। কেন জানি আমি গড্ডলিকা প্রবাহে চলতে পছন্দ করিনা, সত্য কথা শুনতে কখনো সুন্দর বা অসুন্দর, তারপরো বলতে থাকি সর্বত্র।

          আমরা সবাই সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণের কথা বলি, কিনতু আমি পোস্ট রেডি করেছি এ বাঘে আমাদের কি কি ক্ষতি করছে এবং কেন তা সংরক্ষণ ঠিক না। জানি এর সাথে অনেকেই একমত হবেন না, তারপরো দেখবেন কথার ভেতর যুক্তি আছে।

          মুসলিমসহ অনেক মানুষই ইহুদিদের আগ্রাসী বলে, আমার ইহুদি ১৮ পড়লে দেখবেন, তারা আগ্রাসী নয় বরং তারা হাজার বছর ধরে অত্যাচারিত, নির্যাতিত।

          আমি সমালোচনা পছন্দ করি। ধন্যবাদ আপনাকে। ভাল থাকুন।

    1. আসলে আমরা যারা ব্লগে লিখি
      আসলে আমরা যারা ব্লগে লিখি তারা তথ্য সংগ্রহ করি বিভিন্ন সূত্র থেকে, এ ক্ষেত্রে ভারতের অবদানের কথা বিভিন্নস্থানে বলে হলেও, সোভিয়েত ভূমিকার কথা কোথাও তেমন পাইনি, তবে অনেক বছর আগে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে গেলে একটা স্মৃতিসৌধ চোখে পড়ে, যাতে মাইন উদ্ধার করতে এসে ৮-জন সোভিয়েত নৌ-সৈনিকের আত্মহুতির কথা বলা আছে। এ বিষয় আমি নিজেই জানতে উদগ্রিব, তথ্য পেলে পোস্ট দেব।

  6. চমৎকার লিখেছেন ভাই… আসলে
    চমৎকার লিখেছেন ভাই… আসলে এমন কিছু প্রশ্ন আছে যেগুলোর উত্তর আমাদের জানা নাই, তারপরেও আমরা খুঁজে যাই… খুঁজে যাবো… চালিয়ে যান… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. যাক অবশেষে ফাতেমা জোহরার
      যাক অবশেষে ফাতেমা জোহরার দর্শন পেলাম আমার লেখায়! জি তবে আমাদের সম্মিলিত সচেতনায় একদিন এর সব উত্তর বেরুবেই বেরুবে। কল্যাণে থাকুন

  7. আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত
    আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল অকৃত্রিম বন্ধু।আমেরিকা সরাসরি মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।সেদিন যদি ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান না নিত তবে ইতিহাস অন্য হতে পারত।আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান কমবেশি সকলেই জানে কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন বা রাশিয়ার অবদান সম্পর্কে সকলে জানে না! এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

    যারা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে গভীর ভাবে জানার চেষ্টা করে তারাই কেবল বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সোভিয়েত ইউনিয়ন বা রাশিয়ার অবদান সম্পর্কে জানতে পারে।

    …….লেখা চমৎকার হয়েছে।মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এধরনের আরও পোস্ট দেওয়ার অনুরোধ রইল।আশা করি এধরনের পোস্ট দিলে আপনার লেখার পাঠক আর মন্তব্যকারীর অভাব হবে না।ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *