সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন প্রসঙ্গে

নির্মলেন্দু গুন নাকি একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, তিনি যদি নারী হতেন বঙ্গবন্ধু নিয়ে এতো কবিতা লিখেছেন যে, তিনি এতো দিনে আওয়ামী ব্যানারে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হতে পারতেন। কিন্তু হায় সেই কপাল কি তার আছে সে তো পুরুষ তাই মারাত্মক বৈষম্যের স্বীকার।

অতীতে রাজসিংহাসনের দুপাশে রাজাকে বাতাস করার জন্য ২ জন নারীকে রাখা হত। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজসিংহাসনে ৫০ জন নারীকে রাখা হয় বাতাস দেবার জন্য। এরা ৪ মিনিট বাতাস দেবার সুযোগ পেলে ১ মিনিট নিজ দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানকে অনুকূল বাতাস করে আর তিন মিনিট বিরোধী দলের ১৪ গুষ্ঠি উদ্ধার করে কালবৈশাখী বাতাস করে।


নির্মলেন্দু গুন নাকি একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, তিনি যদি নারী হতেন বঙ্গবন্ধু নিয়ে এতো কবিতা লিখেছেন যে, তিনি এতো দিনে আওয়ামী ব্যানারে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হতে পারতেন। কিন্তু হায় সেই কপাল কি তার আছে সে তো পুরুষ তাই মারাত্মক বৈষম্যের স্বীকার।

অতীতে রাজসিংহাসনের দুপাশে রাজাকে বাতাস করার জন্য ২ জন নারীকে রাখা হত। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজসিংহাসনে ৫০ জন নারীকে রাখা হয় বাতাস দেবার জন্য। এরা ৪ মিনিট বাতাস দেবার সুযোগ পেলে ১ মিনিট নিজ দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানকে অনুকূল বাতাস করে আর তিন মিনিট বিরোধী দলের ১৪ গুষ্ঠি উদ্ধার করে কালবৈশাখী বাতাস করে।

১৯৭২ সালে প্রথম সংসদ অধিবেশনে নারী প্রতিনিধিত্ব ছিল না বলেই অনেকটা করুণা করেই ১৫ টা সংরক্ষিত আসন দেয়া হয়েছিল। সেই থেকে শুরু, আর থামল না গুরু। বিএনপির সময়ে তা ৪৫ এ এসে ঠেকে এবং পরে পঞ্চদশ সংশোধনীতে তা সর্বশেষ হাফ সেঞ্চুরী করে। মজার ব্যাপার হল, বাকি ৩০০ টা আসনে যদি বাই চান্স সব নারী প্রতিনিধি নির্বাচিত হয় তাহলেও এই আসন গুলতে পুরুষ যেতে পারবে না। ৩০০ টা আসনে কিন্তু নারীদের কে নির্বাচিত হবার অবাধ সুযোগ থাকলেও ৫০ টি আসনে পুরুষরা একেবারেই বঞ্চিত।

সংরক্ষিত আসন যদি এতো বেশিই প্রয়োজন হয় তাহলে নারী সেক্টর সহ বিভিন্ন সেক্টর থেকে তা হতে পারে। যেমন, প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত প্রতিবন্ধী আসন যারা প্রতিবন্ধীদের কথা বলবে, সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত আসন যারা সংখ্যালঘুদের কষ্টের কথা বলবে, উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত আসন যারা উপজাতিদের সমস্যা নিয়ে বলবে এই রকম বিভিন্ন সেক্টরের থেকে সংসদে প্রতিনিধি থাকাতাই উত্তম।

আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, বেশীরভাগ সমঅধিকার চাওয়া নারীরাও প্রয়োজনে সুবিধাবাদী ছাড়া আর কিছুই নয়। আমার খুব কাছের এক নাস্তিক মেয়েবন্ধুর সাথে বেশ কয়েকদিন লোকাল বাসে চলার অভিজ্ঞতা হয়েছে। ভীরের মধ্যে বাসে উঠে বান্ধবী বসার জায়গা না পেলে পিছনে যেয়ে দাড়িয়ে থাকতো অসহায়ের মতো, তার অসহায় অবস্থা দেখে তাকে দয়া করে সিট ছেড়ে দিতো কোন পুরুষ। আর সিট পেয়ে সে বসে আমার দিকে চেয়ে হাঁসি দিতো আর আমি বেচারা তখনো দাড়িয়ে থাকতাম। বর্তমানে সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্যও দৌড়াদৌড়ি করছে সমঅধিকারে বিশ্বাসী বেশ কিছু মিডিয়া পারসন ও নারী সেলিব্রেটি। এই গুলা সব সুবিধাবাদী ছাড়া আর কিছুই নয়। সংরক্ষিত আসন এখন বিক্রি হচ্ছে কয়েক কোটি টাকায়।

সংসদে কিছু শো পিস সাজিয়ে রাখলেই এবং সেইগুলো দিয়ে মন্ত্রী, স্পিকার বানালেই নারীর ক্ষমতায়ন হয়না। নারীকে আর কতদিন আমরা বাস বা সংসদের সংরক্ষিত করে সম্মানিত করবো বলতে পারেন???

১ thought on “সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন প্রসঙ্গে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *