এতিম

বাংলাদেশে প্রায় কয়েক হাজার এতিম খানা আছে । অনেকেই অর্থের জোরে নিজের ও পরিবারের সোয়াবের জন্য অতিমখানা তৈরি করেছেন , অনেকে বিদেশী সাহায্য নিয়ে করেছেন কেউ নিজেদের দলের সংখ্যা বানানোর জন্য করেছেন এবং করছেন । এই এতমদের সংখ্যাও খুব কম না কিন্তু এই এতিমরা জারজ সন্তান হিসাবে এতিম না । এখন চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির কারনে জারজ বাচ্চা হয় না । এতিম খানায় সাহায্যের জন্য কোরবানির চামড়া নিতে আসা কয়েকজন হুজুরকে প্রশ্ন করেছিলাম – যেহেতু আমাদের দেশে এখন আর জারজ বাচ্চা হয় না , বাবা মা মারা যাওয়ার ফলে যারা এতিম হয় তাদেরও অনেক আত্মিয় স্বজন থাকে , এমতাবস্তায় তারা এত এতিম কোথায় পায় ? সাহায্য করবেন না ভাল কথা ফালতু প্রশ্ন করেন কেন বলে রাগে গজ গজ করতে করতে চলে গিয়েছিল ।

এই এতিমদের মধ্যে কারও মা বাবা মারা যাওয়ায় এতিম , কারো বাবা মারা গেছে মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছে, কারো মাকে তালাক দেওয়ায় সে এতিম হয়েছে , কারো মা মারা যাওয়ায় বাবা আরেকটা বিয়ে করে তাকে এতিম বানিয়েছে । তবে মা অথবা বাবার অন্যত্র বা অধিক বিয়ে করার করনেই এতিমের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে । অনেক মোল্লারা আবার আমারিকা / ইউরোপে জারজ বাচ্চা হওয়ার সমালোচনা কোরে নিজেদেরকে তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রমান করার চেষ্টায় মেতে থাকে । আমরাও আত্ম তৃপ্তির ঢেকুর তুলি । তারা তাদের জারজ বাচ্চাদের (বিয়ের পূর্বের বাচ্চা )স্বীকৃতি দেয় ও তাদেরকে সুন্দর ভাবে মানুষও করে । আর আমরা আল্লাহর নামে এতিমখানায় পাঠিয়ে দিই । কিন্তু কোন বাচ্চার বাবা মায়ের রেখে যাওয়া সম্পদ থাকলে তাকে কিন্তু কেউ এতিম খানায় পাঠায় না ।

এই যে এতগুলো বাচ্চাকে যারা এতিম বানালো / বানাচ্ছে তাদের বিষয়ে ইসলামের বা যারা ইসলামের হেফাজত কারী অথবা আমাদের সমাজের তাদের কি কিছুই করার নাই । মা বাবার মৃত্যুর জন্য যারা এতিম হয়েছে তাদের জন্য কি আত্মীয় স্বজন বা সমাজের কি কিছুই করার নাই ? কৃত্তিম ভাবে এতিম বানানোর প্রক্রিয়া কতদিন চলবে ? যে বাবা মায়েরা তাদের একটু সুখের জন্য ও নিজের নিরাপত্তার জন্য অন্যত্র বিয়ে করে যে বাচ্চা গুলোকে এতিম বানালো , এই এতিম বানানোর অধিকার সেই বাবা মাকে কে দিল ? একটা বাচ্চার জন্য নিজের একটু সুখ যদি সেই মা বাবারা ত্যাগ করতে না পারেন তাহলে কি তাদের মা বাবা হবার অধিকার থাকে ? এটা কি অন্যায় নয় ? এটা কি পাপ নয় ? এটা কি অমানবিকতা নয় ? এটা কি অধর্ম নয় ? এটা কি অন্যায় নয় ?– নাকি এটা বুঝতে শিক্ষিত ডঃ ডিগ্রী , আলেম, এমপি, মন্ত্রী হতে হয় । এটা কি আমরা বন্ধ করতে পারি না ? আমাদের শিক্ষিত জ্ঞানী বিশেষজ্ঞ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষর এজেন্ট, এবং মানবাধিকার সংস্থা কেন নিশ্চুপ থাকেন ? এর দায় কি শুধু সরকারের ? আমাদের কি কোন দায় নাই ? কি বলবেন আমাদের সমাজ পতি বা আপনারা ? এখানে অনেক জ্ঞানী গুণী আছেন কেউ ইসলাম বা কেউ মানবতায় বা কেউ অন্য ধর্মের – একটু ব্যাখ্যা করবেন প্লীজ ।

বর্তমান সরকার আগের টার্মে বাবা মাকে দেখ ভালের (খরপোস )জন্য আইন পাশ করেছেন । এটা অবশ্যই সময়োপযোগী আইন কিন্তু আমার দৃস্টিতে এটা অসমপূর্ন ও একপেশে আইন । ধরি স্বামী মারা যাওয়ার কারনে আজ কোন মা অন্যত্র বিয়ে করল । আইনীনত সেই মা স্বামী পেল বাচ্চাটাও একটা বাবা পেল , কয়েকদিন পরে সেই বাবা সেই বাচ্চাকে এতম খানায় রেখে এল । একদিন সেই বাচ্চাটা বড় হবে , সেদিন সেই মা ও বাবা বৃদ্ধ হয়ে সেই বাচ্চার কাছে আইনগত ভাবে খরপোস চাইবে, যা রাস্ট্রের দৃস্টিতে সেই বাচ্চাটা মানতে বাধ্য কিন্তু আমার দৃস্টিতে অমানবিক ও অন্যায় । আপনারা কি বলেন ? আমার মতে কৃত্তিম এতিম তৈরি বন্ধ করার জন্য কোন আইন থাকলে তবেই এই আইনটা পরিপূর্ন হতো বলেই আমার বিশ্বাস ।

৩ thoughts on “এতিম

  1. বিষয়টা মাঝে মাঝে আমাকেও
    বিষয়টা মাঝে মাঝে আমাকেও ভাবায়… কিন্তু একসময় ভাবতে ভাবতে ভুলে যাই যে কি নিয়ে ভাবছিলাম। আর এটাই বাস্তব। যান্ত্রিক এই জীবনে আমরা নিজেকে নিয়ে ভাবতেই আমরা ব্যস্ত থাকি, এই অসহায় বাচ্চা গুলোকে নিয়ে ভাবার মত কোন অবকাশই নেই আমাদের। আর তাই এই বিষয়টি নিয়ে আপনার ভাবনাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

    আমার মতে কৃত্তিম এতিম তৈরি বন্ধ করার জন্য কোন আইন থাকলে তবেই এই আইনটা পরিপূর্ন হতো বলেই আমার বিশ্বাস । –

    এই বিষয়টিতে আপনার সাথে ১০০ ভাগ সহমত দাদাভাই… :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :ফুল:

  2. দিদিভাই, কোন মন্তব্য না পেয়ে
    দিদিভাই, কোন মন্তব্য না পেয়ে নিজের মধ্যে একটা কনফিউশান তৈরি হয়েছিল ।আমি কি ভুল লিখেছি বা ভুল চিন্তা করেছি ? আপনি সহমত প্রকাশ করেছেন , অন্তত একটু সান্তনা যে একজন হলেও একমত হয়েছে । সেজন্য :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: কষ্ট করে পড়ার জন্য :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *