ষোলো কোটি মানুষের স্বপ্ন…আমরাই জিতবো … বাংলাদেশ হারতে শিখে নাই

‘ক্রিকেট’; আক্ষরিক অর্থটা বেশ মজার – ঝিঁঝিঁ পোকা।
হয়তোবা দল বেঁধে সবাই খেলে বলে বা দল বেঁধে খেলাটা দেখতে যায় বলেই এমন নামকরণ। দলবদ্ধ হয়ে তো নিম্নশ্রেণীর পশুপাখিও থাকে তারপরেও এই দলবদ্ধ হয়ে খেলা ঝিঁঝিঁ পোকার খেলাটা আলাদা কারণ এটা ভদ্রলোকের খেলা।


‘ক্রিকেট’; আক্ষরিক অর্থটা বেশ মজার – ঝিঁঝিঁ পোকা।
হয়তোবা দল বেঁধে সবাই খেলে বলে বা দল বেঁধে খেলাটা দেখতে যায় বলেই এমন নামকরণ। দলবদ্ধ হয়ে তো নিম্নশ্রেণীর পশুপাখিও থাকে তারপরেও এই দলবদ্ধ হয়ে খেলা ঝিঁঝিঁ পোকার খেলাটা আলাদা কারণ এটা ভদ্রলোকের খেলা।

“দ্য টাইগার”- বাংলাদেশ ক্রিকেট দল; আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জাতীয় ক্রিকেট দল হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। বাংলাদেশ আইসিসি’র টেস্ট এবং ওয়ানডে ক্রিকেট স্ট্যাটাসপ্রাপ্ত স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর অন্তর্ভূক্ত। ২০০০ সালের ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নাইমুর রহমানের অধিনায়কত্বে প্রথম আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট অঙ্গনে পা রাখে। দশম টেস্টখেলুড়ে দেশ হিসেবে ভারতের বিপক্ষে ২০০০ সালে ঢাকায় “দ্য টাইগার” তাদের প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে।
১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফি জেতে এবং এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। বিশ্বকাপে তারা পাকিস্তান এবং স্কটল্যান্ডকে পরাজিত করে। ১৯৯৭ সাল থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আইসিসি ওয়ানডে খেলুড়ে দেশ হিসেবে ওয়ানডে খেলে আসছিল। ২০০০ সালের ২৬ জুন তারা দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে আইসিসি’র সদস্যপদ লাভ করে। সর্বপ্রথম টেস্ট জেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বর্তমানে বাংলাদেশ আইসিসি টেস্ট ক্রিকেটে ১০ম এবং ওয়ানডে ক্রিকেট রেটিংয়ে অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে।

এই ইতিহাস বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ক্রিকেটপ্রেমীর জানা। কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলাদেশী ক্রিকেটপ্রেমীদের চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু ক্রিকেটবিশ্বের তিন জমিদার(!!!)

তিন জমিদারের’ বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করার প্রস্তাব ফাঁস হওয়ার পর থেকেই তোলপাড় চলছে ক্রিকেট বিশ্বে। তিন জমিদার ছাড়া নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ‘প্রজাদের’ বাকি সবাই। যতই দিন যাচ্ছে, ভারত-অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের সমন্বয়ে গঠিত আইসিসির অর্থ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত কমিটির (এফঅ্যান্ডসিএ) প্রস্তাবিত ‘নীলনকশা’ ফাঁস হওয়ার পর সেসব উপাত্ত নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ ততই বাড়ছে আর বের হচ্ছে নতুন নতুন তথ্য। এমন সব ভয়ঙ্কর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, ষোলো কোটি মানুষের আবেগের ক্রিকেট আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হয়ে যেতে পারে ‘মিসরের মমি’! বাংলাদেশকে খেলতে হবে আইসিসির সহযোগী দলগুলোর সঙ্গে “ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ” (WTF!!)।

ক্রিকইনফো তিন ‘রাঘব বোয়ালে’র খসড়া প্রস্তাব ফাঁস করে দেওয়ার পর বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। কী হবে দুবাইয়ে ২৮-২৯ জানুয়ারির আইসিসির দুই দিনব্যাপী সভায়? এই নিয়ে উৎকণ্ঠা সর্বমহলে। কারণ, না-ও থাকতে পারে বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস। ‘অবস্থান পত্র’ শিরোনামের ২১ পৃষ্ঠার ‘খসড়া প্রস্তাব’ ফাঁস হওয়ার পরপরই যেমনটা ধারণা করা হয়েছিল, টেস্ট ক্রিকেট ‘দ্বিস্তর’বিশিষ্ট হয়ে যাবে, মূল ব্যাপারটা আসলে তা-ও নয়। টেস্ট ক্রিকেটকে মূলত ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আট দলের খেলায়। বাংলাদেশকে এখানে জিততে হবে প্রথমত। তারপর, সেই সময়ের অষ্টম টেস্ট দলের সঙ্গে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে ‘চ্যালেঞ্জ সিরিজ’ জেতার পরই খেলার সুযোগ পাবে টেস্ট। ফলে, এই সমীকরণ দিয়ে মোটেই প্রমাণিত হয় না যে, টেস্ট ক্রিকেট ‘দ্বিস্তর’বিশিষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পূর্বে ধারণা করা হয়েছিল যে, আট দলের বাইরে থাকলেও বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে আসলে টেস্টই খেলবে। কিন্তু তাদেরকে খেলতে হবে সান্ত্বনার চার দিন দৈর্ঘ্যের প্রথম শ্রেণীর ওই ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ’!

‘যদিও খবরটি ফাঁস করা ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো কিংবা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় বাংলাদেশ খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। তবে প্রস্তাবিত খসড়ায় যা দেখা যাচ্ছে, তাতে সবচেয়ে করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের ভাগ্যেই। আইসিসির পূর্ণ সদস্য পদ থাকবে। থাকবে টেস্ট মর্যাদাও। তবু টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারবে না বাংলাদেশ! ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ড প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো সত্যিই বাস্তবায়িত হলে অভূতপূর্ব এই ঘটনা দেখবে ক্রিকেট বিশ্ব। টেস্ট ক্রিকেটের আঙিনায় বাংলাদেশের বিচরণ থমকে যেতে পারে এ বছরই। আগামী বছর থেকে আবার কবে টেস্ট খেলতে পারবেন মুশফিক-সাকিবরা, কিংবা আদৌ আর খেলতে পারবেন কি না, অনিশ্চিত সবই। একই ভাগ্য মেনে নিতে হবে জিম্বাবুয়েকেও।

আইসিসির নতুন সংস্কার প্রস্তাব কি আদৌ ক্রিকেটের স্বার্থে, না তাতে ভারত, ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলীয় বোর্ডেরই শুধু লাভ হবে? আইসিসির লভ্যাংশ ভাগ, প্রশাসনিক কাঠামো আর ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে ব্যাপক রদবদল করতে হবে। যার মধ্যে ভারত, অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডকে স্থায়ী সদস্য রেখে নতুন এক্সিকিউটিভ কমিটি গঠনও রয়েছে। এই কমিটির আইসিসির অন্য সব কমিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে। প্রস্তাবে টেস্ট ক্রিকেটে অবনমন চালু করার কথা বলা হয়েছে। তবে এর আওতায় পড়বে না ভারত, ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া। পাশাপাশি এফটিপি নির্ধারণ থেকে আইসিসি নিজেকে সরিয়ে নেবে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তিই গুরুত্ব পাবে। এখানেই শেষ নয়, আইসিসি চেয়ারম্যান, চিফ এক্সিকিউটিভ কমিটি, আর্থিক আর ব্যবসায়িক বিষয়ে কমিটির চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে ‘বিগ থ্রি’-র মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচন। দুবাইয়ে ২৮-২৯ জানুয়ারি আইসিসির এক্সিকিউটিভ বোর্ডের বৈঠকে তিন বোর্ডের প্রস্তাবিত সংস্কারের যে খসড়া প্রস্তাবিত হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা আর ভোটাভুটি হবে। সেখানেই ঠিক হবে এই প্রস্তাবের ভবিষ্যত্। এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কা সংস্কার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তিন বোর্ডেরই বক্তব্য—এতে ক্ষতি হবে তাদের। তবে নিউজিল্যান্ড নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার আগে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে গররাজি। প্রস্তাব পাস করতে হলে সাতটি ভোট চাই। যা পরিস্থিতি তাতে এখনই বিপক্ষে তিন বোর্ড। আইসিসির সাত সদস্য বোর্ডের ক্রিকেটারদের সংগঠন ফিকাও প্রবল বিরোধিতা করেছে সংস্কার প্রস্তাবের। ফিকার বক্তব্য—এতে লাভ হবে শুধু ‘বিগ থ্রি’ ভারত, ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়া বোর্ডেরই। যারা আর্থিক দিক থেকে এমনিতেই শক্তিশালী। পিছিয়ে পড়বে বাকি বোর্ড। অসাম্য বাড়বে। তাই ফিকা অনুরোধ করেছে সংস্কার প্রস্তাব পাস করার আগে গোটা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের ওপর ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে খেলার খড়্গ নেমে আসছে আগামী বছরই। তবে অদূর ভবিষ্যৎ ভাবলে শঙ্কায় থাকবে নিউজিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশগুলোও। র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত-আটে ঘোরাফেরা তো তাদেরই। ২০১৯ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল যদি তাদের হারিয়ে দেয়, কী হবে ভাবুন! হয়তো দেখা যাবে টেস্ট খেলবে আফগানিস্তান, আর ১৯২৮ সাল থেকে টেস্ট খেলে আসা, সত্তর-আশির দশকে বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খেলতে হবে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ! শঙ্কায় আসলে ‘তিন জমিদার’ ছাড়া বাকি সব দেশই। চার বছর পর তো টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের আটে থাকতে পারে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার মতো দলও। কিংবা কে জানে, ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তায় চার বছর পর আটে নেমে যেতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকাও। তৃতীয় দেশ হিসেবে টেস্ট মর্যাদা পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকেও তখন খেলতে হতে পারে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে!

গণতন্ত্রের কথা বলে আইসিসি যে প্রস্তাব তুলতে যাচ্ছে তা আইসিসিকে একটি অগণতান্ত্রিক সংস্থায় পরিণত করবে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে আইসিসি যে ক্রিকেট সাম্রাজ্য তৈরি করেছে ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া হবে সেই সাম্রাজ্যের নতুন সম্রাট। যারা নিজেদের স্বার্থে খেলা আয়োজন করবে। এক্ষেত্রে অন্য দলগুলো নিয়ে তাদের কোন ধরনের মাথাব্যথাই থাকবে না। ক্রিকেট খেলুড়ে বাকি দেশগুলো এই তিন ‘মোড়লের’ হাতের পুতুলে পরিণত হবে।

নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মরিয়া বিসিসিআই হুমকি দিয়েছে, প্রস্তাবিত খসড়া আইসিসির সভায় পাস না হলে কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না ভারত! ইএসপিএনক্রিকইনফো জানাচ্ছে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো ভারতের জন্য কেন জরুরি, সেটি সভায় সবাইকে ব্যাখ্যা করেছেন সুন্দর রমণ। বোঝানো হয়েছে, প্রস্তাব পাস হলে আইসিসির আয়ের একটা বড় অংশ পাবে ভারত। এফটিপির বাধ্যবাধকতা না থাকায় নিজেদের ইচ্ছেমতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন করতে পারবে। অন্তত প্রতি দুই বছরে একটি করে আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে ভারত, বোর্ডের কোষাগার এতে আরও ফুলেফেঁপে উঠবে। ইচ্ছেমতো টেস্ট খেলা যাবে বলে ভারতের যেসব স্টেডিয়ামে টেস্ট হয় না, সেখানেও টেস্ট আয়োজন করা যাবে। এসব শুনে খুশিমনেই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। (ওয়েবসাইট)
ব্যাটের উদ্ভব হয়েছে দক্ষিন ভারত হতে, যেখানে এটি ‘ডান্ডা’ নামে প্রচলিত ছিলো।
ঐ ব্যাটাদের এই ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করতে হবে!!!

নিউজিল্যান্ডও বিস্ময়করভাবে সমর্থন দিয়েছে এই প্রস্তাবকে। বাংলাওয়াশ হয়েও এদের মনের ময়লা দূর হয় নাই!!

বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন ক্রিকইনফোকে কিছুদিন আগে খুবই কৌশলী উত্তরে বলেছেন, ‘আমরা নিজেরা কিছুই করতে পারব না। আমি প্রতিবাদ করতে পারি। বাকি নয় বোর্ড যদি একদিকে থাকে তাহলে তো কিছুই করার নেই। আমাকে খুঁজতে হবে যে, কারা আমাদের পক্ষে আছে। আগে প্রস্তাবনাগুলো পড়ে নিই তারপর ভাবব কী করা যায়।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ২০ জনই আইসিসির পক্ষে ভোট দিয়েছে; মাত্র ৩ জন বাংলাদেশের পক্ষে!! সভাপতি পাপনসহ গতকালের সভায় উপস্থিত ছিলেন ২৪ জন পরিচালক। সেখানে প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন তিনজন-আহমেদ সাজ্জাদুল আলম, শওকাত আজিজ রাসেল ও তানজিল চৌধুরী। সাজ্জাদুল আলম তো প্রতিবাদে ওয়াকআউটই করেছেন সভা থেকে। বোর্ড রুম থেকে বের হয়ে আসার আগে তিনি নাকি এমনও বলেছেন, বিসিবির চিন্তাভাবনায় সর্বাগ্রে থাকা উচিত ক্রিকেটের স্বার্থ। কিন্তু এই সভায় যা হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের মৃত্যুদণ্ডের রায়ই লেখা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাকিরা প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দেন। বিস্ময়কর হলেও আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ সুজন এবং নাঈমুর রহমান দুর্জয়ও প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছেন। যাদের হাত ধরে টেস্ট ক্রিকেটে এতটা পথ এগিয়েছে বাংলাদেশ, সেই সাবেক তিন অধিনায়কও টেস্ট ক্রিকেটকে বাইরে ঠেলে দিতে উদ্যত হয়েছেন

সময়ের পরিক্রমায় উৎপাদনমুখী যেকোন পরিবর্তনকে সবসময়ই সাধুবাদ জানান উচিত। কিন্তু আইসিসির নতুন এই প্রস্তাব ক্রিকেটের কোন উন্নয়ন ঘটাবে। এমনকি যারা ক্রিকেট ভালবাসে, তাদের কাছে কেবল ভারত-ইংল্যান্ড ও অস্ট্রোলিয়ার খেলা বিরক্তি তৈরি করবে। এমনকি দেশগুলোর ক্রিকেটপ্রেমীরাও বিরক্ত হতে বাধ্য হবেন।
এটা ঠিক যে, ক্রিকেটের মোট বাণিজ্যের শতকরা ৭০-৮০ ভাগই ভারত কেন্দ্রিক। বাকী দুটি দলও ক্রিকেট বাণিজ্যের প্রধান প্রদায়ক। কিন্তু মনে রাখা উচিত, বাংলাদেশেও ক্রিকেটের একটি বিশাল বাজার রয়েছে। বাংলাদেশের বিশাল ক্রিকেট বাজারকে অস্বীকার করে আইসিসি এমন প্রস্তাব নিলে তা ক্রিকেটের সামগ্রিক স্বার্থকেই বিনষ্ট করবে। এছাড়া কেবল স্পন্সরশীপ ও সম্প্রচারের লাভের কথা বলে বাংলাদেশের মত ক্রিকেটপ্রেমী দেশকে কেবল র‍্যাংকিং বিবেচনা করে খেলার বাইরে রাখলে, বাংলাদেশের ক্রিকেটের সম্ভাবনাকেই অস্বীকার করা হবে। তাই আইসিসির উচিত, কেবল টাকার কথা বিবেচনা না করে, সত্যিকারের ক্রিকেট ভক্তদের ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসাকে মূল্য দিয়ে এমন ক্রিকেট বিরোধী প্রস্তাব উত্থাপন থেকে বিরত থাকা।

এই ক্রিকেট এর জন্যই ষোল কোটি মানুষ একসাথে হাসি আবার এই ক্রিকেট এর জন্যই একসাথে কাঁদি।
বন্ধ করতে হবে তিন জমিদারের খবরদারী; রুখতে হবে আইসিসির এই অবিচার।
সোনার বাংলার ষোলকোটি মানুষ চায় আজ,ক্রিকেট খেলার র্পূণ অধিকার।

৫ thoughts on “ষোলো কোটি মানুষের স্বপ্ন…আমরাই জিতবো … বাংলাদেশ হারতে শিখে নাই

  1. বিস্ময়কর হলেও আকরাম খান,

    বিস্ময়কর হলেও আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ সুজন এবং নাঈমুর রহমান দুর্জয়ও প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছেন।

    উনারা কেন মত দিলেন সেই বিষয়ে কিছুই তো জানতে পারছি না । আমাদের উচিত অন্যসব দলকে সাথে নিয়ে প্রতিবাদ করা ।

  2. আমার মনে হয় বি.সি.বি সরাসরি
    আমার মনে হয় বি.সি.বি সরাসরি ভারতের প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে না অনেকটা ডিপলোমেটিক চিন্তা ভাবনা থেকেই!! এইমুহূর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতের সাথে সরাসরি বিরোধ তৈরি করতে চাচ্ছে না….তারা মোটামুটি একটা সেইফ জোন তৈরি করতে চাচ্ছে।তাই হইতো ভারতের প্রস্তাবের পক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-এর ১৭জন কর্মকর্তা মত দিয়েছেন…….

  3. বন্ধ করতে হবে তিন জমিদারের
    বন্ধ করতে হবে তিন জমিদারের খবরদারী; রুখতে হবে আইসিসির এই অবিচার।
    সোনার বাংলার ষোলকোটি মানুষ চায় আজ,ক্রিকেট খেলার র্পূর্ণ অধিকার..

    *************************************
    ♦ আমি বাঙালি, বাংলা আমার

  4. পাপান সাবের কাছে অনুরোধ থাকলো
    পাপান সাবের কাছে অনুরোধ থাকলো বাকি ৯ বোর্ডের বিপক্ষে গিয়ে হলেও আপনার অবস্থান দেশের ক্রিকেটের পক্ষে নিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *