তারিক লিংকনের “বাঙালির ঐতিহ্যের সংকট নাকি ঐতিহ্য ভুলে থাকার ভ্রান্তি বিলাস” এবং এর প্রতিক্রিয়া

তারিক লিংকনের লেখাটির লিংক :

দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টান

দিন কয়েক আগে এ ব্লগের একজন নবাগত অখ্যাত ব্লগার হিসেবে “২০১৪ সনের বিশ্বে বাঙালির অবস্থান পরিমাপ করেছেন কি” শিরোনামে ৫-পর্বের একটা লেখা পোস্ট করি। যার প্রতিক্রিয়ায় এ ব্লগের পুরণো ও খ্যাতিমান ব্লগার মি. তারিক লিংকন “বাঙালির ঐতিহ্যের সংকট নাকি ঐতিহ্য ভুলে থাকার ভ্রান্তি বিলাস” শিরোনামে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সঙ্গে মন্তব্য/প্রতিমন্তব্যও করেছেন অনেক বোদ্ধা ব্লগার। এ প্রেক্ষিতে অনেকেই আমার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইছেন বিধায় এ লেখার অবতারণা।


তারিক লিংকনের লেখাটির লিংক :

দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টান

দিন কয়েক আগে এ ব্লগের একজন নবাগত অখ্যাত ব্লগার হিসেবে “২০১৪ সনের বিশ্বে বাঙালির অবস্থান পরিমাপ করেছেন কি” শিরোনামে ৫-পর্বের একটা লেখা পোস্ট করি। যার প্রতিক্রিয়ায় এ ব্লগের পুরণো ও খ্যাতিমান ব্লগার মি. তারিক লিংকন “বাঙালির ঐতিহ্যের সংকট নাকি ঐতিহ্য ভুলে থাকার ভ্রান্তি বিলাস” শিরোনামে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সঙ্গে মন্তব্য/প্রতিমন্তব্যও করেছেন অনেক বোদ্ধা ব্লগার। এ প্রেক্ষিতে অনেকেই আমার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইছেন বিধায় এ লেখার অবতারণা।

তারিক লিংকন পরিশ্রমি লেখক, যা তার লেখাতেই প্রমাণ দেয়। সে জন্যে তাকে প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই চমকপ্রদ তথ্যসমৃদ্ধ উপস্থাপনার জন্য। আমি আমার উপর্যুক্ত শিরোনামের লেখায় প্রত্যেকটি বিষয় অত্যন্ত ষ্পষ্ট করেছি এভাবে যে, বিশ্বের প্রাগৈহাসিক যুগ থেকে অদ্যাবধি মানুষের উন্নয়নের যে নানাবিধ কর্মতৎপরতা, সেখানে বাঙালির অবস্থান কোথায়! সম্ভবত সুলেখক তারিক লিংকনসহ মন্তব্যকারি অনেকেই বিষটটাকে “বাঙালি তথা নিজের প্রতি অবমাননাকর ধরে নিয়ে” বিষয়টাকে সেভাবে দেখার চেষ্টা করছেন। বাঙালির প্রতি আমার আরোপিত (আমার আরোপিত নয়, নিজেদের কর্মফল) কলঙ্কতিলক (!) ও তা খণ্ডণের চেষ্টা করেছেন নানাভাবে। কিন্তু বিষয়টা সেভাবে নয়। জনাব তারিকের পরিশ্রমি লেখা পড়ে কিছু প্রশ্ন আমার মনে জাগ্রত হয়েছে। যেমন-

আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবিতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের মর্যাদা নির্ণিত হয় বা হয়েছে কি কখনো? তাহলে ইহুদিদের বিশ্ব উন্নয়নে এতো অবদান কেন? আফ্রিকার আয়তন অনেক বেশি নয় কি কিন্তু অবদান কি তাদের? লেখক প্রাগৈতিহাসিক ভারতবর্ষীয় সভ্যতাকে বাঙালি সভ্যতা মনে করছেন! হরপ্পা সভ্যতা বা ইন্দোস ভ্যালী সভ্যতা কি বাঙালি সভ্যতা। বাঙালিরা কি সিন্ধুতীরে বসতি গড়েছিল না গঙ্গাতীরে? রামায়ণ, মহাভারত, বেদ-উপনিষদ কোনটি বাঙালির হাতে রচিত হয়নি। বাঙালি অষ্টম বা নবম শতকে রচিত চর্যাপদকে তাদের সবচেয়ে আদি গ্রন্থ বলে দাবি করে যা নেপালিরাও করে তাদের বলে। বাঙালির অবিতর্কিত প্রথম সাহিত্য হচ্ছে মধ্যযুগের দেবতা নির্ভর পয়ারছন্দের কাব্যমালা (শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য ইত্যাদি), এর আগের যা কিছু তাতে বাঙালির কোন অবদান আছে এমন কথা বাঙালির ইতিহাসে বলে না। ব্যাসদেব-বাল্মিকি বাঙালি ছিলেন এমন কথা আমি কোথাও শুনিনি। লেখক নিজের অজান্তে কিংবা জান্তে ভারতীয় পুরাণকে বাঙালি পুরাণ বলে নিজেকে জাতে উঠাতে চাইছেন, যা অঠিক। জাতিতাত্ত্বিক যাদুঘরে ২/৪-টি থালা, বাসন, হাড়ি, পাতিল, ঘাটি-বাটি প্রদর্শনে বিশ্ব উন্নয়নে এর গুরুত্ব খুব বেড়ে যায় না। এ জাতীয় যাদুঘর নেই এমন দেশ, গোষ্ঠী পৃথিবিতে এখন আছে কি? ভুটানের যাদুঘর দেখুন। অনেক সমৃদ্ধাশালী। আমাদের সম্মানিত লালন, হাসন, রবীন্দ্রনাথকে খাটো করার উপায় নেই কিন্তু এ জাতীয় ব্যক্তিত্ব বিশ্বে বিরল কি? সব জাতির মধ্যেই কমবেশি লালন-হাসন, রবীন্দ্রনাথ বিদ্যমান। মিয়া তানসেন বাঙালি ছিলেন বলে কোথাও পাইনি। জয়নুল আবেদীন, এস এম সুলতান, শাহাবুদ্দিন আহমেদকে লেখক কেন এ প্রসঙ্গে টানলেন বুঝতে অক্ষম আমি। আমি অত্যন্ত ষ্পষ্টভাবে ভূমিকাতেই যা বলতে চেয়েছি তা হচ্ছে –

“এ মাটিতে জন্মের পর থেকেই আমি একজন বাঙালি হিসেবে গর্ববোধ করতে শিখেছি। গর্ববোধ করছি বাঙলার অপরূপ সৌন্দর্যময় প্রকৃতির জন্যে; রক্ত দেয়া বাংলা ভাষার জন্যে; বিশ্বজনীন ‘বঙ্গবন্ধু’ আর ‘রবীন্দ্রনাথে’র জন্যে! এদেশের ভাববাদী কবি আমাকে ভাবতে শিখিয়েছেন, ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি’ কিংবা ‘বাঙলার রূপ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাইনা আর”, এর পর বলেছি “প্রাচীন সভ্যতায় কোন পর্বেই বাঙালির কোন নিদর্শন খুঁজে পায়নি কেউ। প্রাচীন ব্যাবীলনীয় ধর্ম, মায়ানদের উদ্ভাবিত ধর্ম, কেলটিক ধর্ম, প্রাচীন অ্যাজটেক-কানেনাইট-চৈনিক ধর্ম, মনি ধর্ম, বৃটিশ-স্কটিশ-আইরিশ এবং ওয়েলস এর প্রাগৈতিহাসিক দেবদেবীর ধর্ম, প্রাচীন মিশরের ফারাওদের ধর্ম, নরওয়ের দেবতাবাদ, গ্রীস ও রোমের প্রাচীন জিউস কেন্দ্রিক ধর্ম, পার্শী ধর্ম ও জরথুস্ট্র, শিন্টো (শিন-তাও) ধর্ম, কনফুসিয়াস ধর্ম, তাও ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম (গৌতম বুদ্ধ কি বাঙালি ছিলেন?), জৈন ধর্ম, আর্যদের সনাতন ধর্ম, শিখ ধর্ম, ইহুদী ধর্ম, খ্রীস্ট ধর্ম, ইসলাম ধর্ম, শিয়া ধর্ম, বাহাই ধর্ম, আহমদিয়া বা কাদিয়ানী মতবাদের কোথাও বাঙালিকে খুঁজে পাওয়া যায়না। কিতাব, নবী, ভাষা, ধর্মীয় স্থান কোথাও নেই বাংলা” এরপর বলেছি “প্রাচীন অলিম্পিক থেকে বর্তমান খেলাধুলো তথা সাঁতার, দেঁৗড়, নৌকা-বাইচ, নাচ-গান, বক্সিং, ফুটবল, জাম্প, ফেন্সিং, গদাযুদ্ধ, জ্যাভেলিন, বর্শা নিক্ষেপ, সাইক্লিং, মোটর-রেস, ঘুড়ি-ওড়ানো, তাস-দাবা খেলা, পাশা খেলা, পিংপং, ক্রিকেট, হকি, টেনিস, সুটিং, ব্যাডমিন্টন, জিমন্যাস্টিক, বাস্কেটবল, ভলিবল, রাগবী, পোলো, গলফ, স্কেটিং, বোট-রেস, স্কি কোথাও খুঁজে পাইনা বাঙালিকে”।

আবার অন্য প্যারায় বলেছি –
“প্রাচীন মধ্যযুগীয় চিকিৎসা এবং আধুনিক এ্যানাটমি, শরীর বিদ্যা, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, দাঁত, চোখ, কান, রোগ, জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাস, প্রতিষেধক, ফুসফুস, বৃক্ক, হার্ট ও মস্তিস্ক, স্নায়ুতন্ত্র, অন্তঃক্ষরণতন্ত্র, থাইরয়েড গ্রন্থি, এ্যাড্রিনাল গ্রন্থি, এন্টিবায়োটিক, সাজার্রী পদ্ধতি, ভিটামিন, রেডিয়াম, সিজারিয়ান কোথায় আছে বাঙালি? চিকিৎসাবিদ গ্রিক হিপোক্রিটাস থেকে গ্যালেন, ইবনে সিনা, হ্যানিমান, গ্যারাসেলসাস, জনসন, লুই পাস্তর, লিস্টার, কক, জেনার, রস, ফ্লেমিং, (কালাজ্বরের ব্রক্ষ্মচারী এদেশের), সিমসন, রন্টজেন, কার্টিয়ের, জেমস কুক, হপকিনস্, ক্যুরি, ডিউনা, নাইটেংগেল, মার্কোনী, লিপম্যান, ব্রাউন, আইনস্টাইন, হফ, রাদারফোর্ড, জুলিওকুরি, রস, জেমস ওয়াট, স্টিফেনসন, নিউটন, গ্রাহামবেল, এডিসন, পাস্তর, ফ্লেমিং, রাইট, বেয়ার্ড, রবার্ড গডার্ড, ওপেনহাইমার; ইউনানী, আয়ুের্বদিক, তিববীয়া, এ্যালোপ্যাথিক, হোমিও, আকুপাংচার, চীনা চিকিৎসা পদ্ধতি কোথাও বাঙালি নেই। প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রে বাঙালি তাহলে কি করলো?”

এ ছাড়া দার্শনিক তালিকা, আবিস্কার ও আবিস্কারকের তালিকা, ইঞ্জিন, যোগাযোগ, খনিজ সম্পদ আহরণ, মহাকাশ বিজয়, সমুদ্র বিজয়, জলপোত নির্মাণ, দেশজয়, যুদ্ধবিগ্রহ, লিপি, কাগজ, মুদ্রণযন্ত্র আবিস্কার, ছাপাখানা, ঐতিহাসিক, পর্যটক, পৃথিবির নাচ, গান, নাটক, অপেরা, শিল্পকর্ম, আধুনিক যুগের বৈজ্ঞানিক আবিস্কার ও বাণিজ্যিক ব্যবহার, প্রাচীন বিশ্বসাহিত্য, এপিক, প্রাচীন ও আধুনিক শিক্ষা, নিজ জাতিকে ঘুরিয়ে দেয়া বিশ্বনেতৃবৃন্দ, অসংখ্য আবিস্কার ও আবিস্কারকের তালিকা তুলে ধরে দেখিয়েছি সেখানে বাঙালির অনুপস্থিতি!
সবশেষে বাঙালি হিসেবে নিজের দু:খবোধ থেকে বলতে চেয়েছি “বাঙালি কি এভাবেই কাল কাটাবে নিজের তথাকথিত গৌরবের গান গেয়ে? আর কবিরা কি লিখেই যাবে “এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, —– আমার জন্মভূমি”? আজকের বিশ্ব যখন উন্নয়নের ছায়াপথে দৌঁড়াচ্ছে চরমতম গতিতে, তখনও বাঙালি ঘুরে বেড়াচ্ছে তার আজন্ম লালিত প্রিয়তম স্বদেশ ভূমিতে একটি ‘দুষ্টচক্রের ভেতরে’, যে দেশটি বাঙালি ছেড়ে যায়নি কখনো অন্য জাতির মতো। নিজের দেশে মাটি কামড়ে পড়ে থাকা জাতিটি কি তার দেশকে ভালবেসেছিল কখনো সত্যিকার অর্থে? যদি ভালবেসেই থাকে, তবে তার দেশ আর মানুষের এতো দুরবস্থা্ কেন? বাঙালির এখনই উচিত, তার নিজের মুখকে অন্তরের আয়নায় গভিরভাবে প্রত্যক্ষণ এবং তার ক্লেদাক্ত মুখের বন্ধুরতাকে বিনাশের মহৌষধ আবিস্কারের সর্বাত্মক চেষ্টা! নাহলে প্রত্যেক নির্বাচনের সময়ই বাঙালি এভাবে রক্তারক্তি করতে থাকবে অনন্ত কাল? এর কি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করবে না বাঙালি?

আমার এ শেষ প্যারার মধ্যেই আমার চিন্তন ও বাঙালির প্রতি মমত্ববোধ খুঁজে পেতে সচেতন পাঠকের কষ্ট করতে হয় না। কিন্তু তারপরও লেখকসহ কেউ কেউ গৌরবের গান গাইতে গিয়ে আমার বর্ণিত “বাঙালি কি এভাবেই কাল কাটাবে নিজের তথাকথিত গৌরবের গান গেয়ে?” বাক্যটি সত্যে পরিণত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন, যার সত্যতা বিশ্ব ইতিহাস স্বীকার করেনি কিংবা করেনা। কেউ কেউ আমার প্রতি অর্বাচীন, গ্রাম্য, স্লাং শব্দ প্রয়োগ করে বাঙালির ঋণাত্মক, সংকীর্ণতা তথা নেতিবাচকতার সত্যতা তুলে ধরেছেন এ প্রবন্ধ ও মন্তব্যে!

আমার ধারণা ৩-শ্রেণির ব্লগার আছে ব্লগে। [১] যারা নিজেরা লেখে ও পোস্ট দেয় [২] যারা কোন লেখা পোস্ট দেয়না। তবে অন্যের লেখা পড়ে ও মন্তব্য/প্রতিমন্তব্য করে [৩] যারা নিজের লেখা পোস্ট দেয়, অন্যের লেখা পড়ে ও মন্তব্য করে। কে কোন শ্রেণির ভেতর থাকবে বা থাকতে পারবে তা ব্লগারের নিজের সময়, যোগ্যতা, সুযোগ-সুবিধে তথা ইচ্ছের উপর নির্ভর করে। আমি সংসারি, কর্মক্ষেত্রে কিছুটা ব্যস্ত মানুষ। নানা সপ্তপদি কারণে অন্যের লেখা খুব একটা পড়তে পারিনা, যে কারণে মন্তব্য করাও অনেক সময় সম্ভব হয়না। তারিক সাহেবের লেখাটি আমাকে জানিয়ে দেয়া হয়নি, সঙ্গত কারণেই অন্য অনেক মূল্যবান ব্লগারের মত তার ২০ তারিখ পোস্টকৃত লেখাটিও আমি পড়িনি কিংবা পারিনি, এ জন্য শালীন মন্তব্য প্রত্যাশা করা অন্যায় হবে কি এ ব্লগে?

লেখক তারিক সাহেব তার লেখার উপসংহারে বলেছেন “আমাদের এই অঞ্চলের মনবগোষ্ঠীর ঐতিহ্যের সংকট আসলেই নেই, তা আরও স্পষ্ট হবে আগামী এবং শেষ পর্বে। আমাদের যা আছে তা হল হীনমন্যতা এবং নিজেদের নিয়ে গর্ব করতে না পারার ঐতিহ্য। আর এইটাই আমাদের সংকটময়তার ঐতিহ্য। আমাদের আগামী প্রজন্ম একদিন ঠিকই নিজেদের গর্বের ঐতিহ্যকে মাটি খুঁড়ে বের করবে। বিশ্বের সবচে পুরাতন এই সভ্যতার অনন্য নিদর্শন মাত্র উন্মোচিত হতে শুরু করেছে। লেখকের অনেক মন্তব্যের সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করলেও তার “আমাদের আগামী প্রজন্ম একদিন ঠিকই নিজেদের গর্বের ঐতিহ্যকে মাটি খুঁড়ে বের করবে” বাক্যটি আমি শ্রদ্ধাভরে মনে রাখবো এবং প্রত্যাশা করবো তা সত্যে পরিণত হোক এবং দ্রুত! তবে যারা আমার প্রবন্ধে আত্মতুষ্টি লাভ করতে পারেননি বরং বাঙালির অহংবোধে আঘাতকারী মনে করছেন, তাদের জন্য আপাতত কোন সুখবর নেই! আরেকটা আঘাত দেয়ার জন্য আরো হাজারো নিষ্ঠুর সত্য নিয়ে আরেকটি পোস্ট দিয়েছি এই মাত্র যার শিরোনাম “বিশ্বে এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি! হায়!!” অবশ্যই তা বাংলাদেশ আর বাঙালিকে নিয়ে!

লিংক দেয়া হলো নিচে :
http://www.istishon.com/node/6562#sthash.mYVkCwAQ.dpbs

লেখকের ফেসবুক ঠিকানা [ধর্মান্ধতামুক্ত যুক্তিবাদিদের ফ্রেন্ডভুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানাই ] : https://www.facebook.com/logicalbengali

২২ thoughts on “তারিক লিংকনের “বাঙালির ঐতিহ্যের সংকট নাকি ঐতিহ্য ভুলে থাকার ভ্রান্তি বিলাস” এবং এর প্রতিক্রিয়া

  1. ড. লজিক্যাল বাঙালি, আমি নিজে
    ড. লজিক্যাল বাঙালি, আমি নিজে নিজে একটু শিকড়ের সন্ধান করতে চাই, কিন্তু নানা কারনে তা হয়ে উঠছে না । আপনার ও তারিক লিংকন ভাইয়ের লেখা গুলি পড়ে অনেক কিছু জানতে পারি সে জন্য কৃতজ্ঞ । বাংগালীর ঐতিহ্যের খোজ না পেলেও আমরা যে প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার অংশ সেটা তো অস্বীকার করতে পারি না তাই না ? সে ক্ষেত্রে আমার একটা প্রশ্ন ঃ ভারতীয় সভ্যতায় পায়খানা করে হাত কিভাবে পরিস্কার করতে হয় সেটা কি এই ভারতীয় সভ্যতায় ছিল না ? তা না হলে আজ আমরা জাতীয় প্রচার যন্ত্রে প্রতি মিনিট ১০০০০ টাকা খরচ করে কেন শিখছি বা শিখাচ্ছি ?

  2. ধন্যবাদ ভাইয়া, অনেক সভ্যতায়
    ধন্যবাদ ভাইয়া, অনেক সভ্যতায় অনেক জিনিস থাকে না, তবে বর্তমান মানুষ বৈশ্বিক! যেমন আরবের মুসলমানরা কখনো টয়লেট ব্যবহার করতো না, বাগানে দূরে যেত, পাথর দিয়ে কাজ সারতো। এখন সব দেশেই একই মানের শ্রেণির টয়লেট বিদ্যমান।

    আমি আমার লেখায় বাঙালির প্রকৃত অবস্থান বলতে চেয়েছে, নিজে যেহেতু পাঞ্জাবি-পাকিস্তানি নই, তাই বাঙালি হিসেবে নিজের আত্মাসমালোচনা করা উচিৎ মনে করি। ভাল থাকুন।

  3. প্রথমেই আপনাকে এই জ্ঞানগর্ভ
    প্রথমেই আপনাকে এই জ্ঞানগর্ভ আলোচনার জন্য ধন্যবাদ। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
    অতঃপর আপনার এই সুদীর্ঘ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমার কিছু কথা পয়েন্ট আকারে বললামঃ
    ১)

    লিংকনসহ মন্তব্যকারি অনেকেই বিষটটাকে “বাঙালি তথা নিজের প্রতি অবমাননাকর ধরে নিয়ে” বিষয়টাকে সেভাবে দেখার চেষ্টা করছেন।

    — ধারণাটি সম্পূর্ণ অবান্তর। আপনি লক্ষ করবেন আমি একজন মন্তব্যকারী সহব্লগারকে বলেছিলামঃ “দেখেন গণ্ড-মূর্খ বেয়াদব গোলাপি থেকে এমন শিক্ষিত – জ্ঞানী সমালোচকই আমাদের জন্যে উপকারী! তানাহলে আমার এত ঐতিহ্যের কথা জানা হত না আপনাদেরও জানানোর সুযোগ হত না”; যা আপনি নিজের শেষ অর্থাৎ ৫ম পোস্টের শেষে বলেছিলেনঃ
    [নিজে একজন বাঙালি হয়েও অনেক কষ্টে লিখলাম লেখাটি, প্রবন্ধটি লেখার সময় বাঙালি হিসেবে নিজ জাতির কষ্টে আমার চোখ আর বুক ভারি হয়ে এসেছিল। বন্ধুরা ক্ষমা করবেন আমায়! পছন্দ না হলেও Like দিন, সকল বাঙালির ঘিলুতে আঘাত দেয়ার জন্যে! যদিবা সে আঘাতে সে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কখনোবা!]
    আপনার এই কথাটা মাথায় রেখেই আমার পোস্ট দেয়া। এই আঘাতে নিজে নতুন করে ইতিহাস গড়ার তীব্র আকাংখার পাশাপাশি সোনালি অতীতকেও জানতে প্রাথমিকভাবে এই পোস্ট দিয়েছিলাম। অতএব আমাকে ভুল বুঝার অভিযোগ করা অবান্তর।

    ২) আপনার পোস্ট এতইতাই বিশাল পটভূমিতে লিখা যে তা নিতান্তই অবিচারের পর্যায়ে পরে। কেননা ১৯৫ টি দেশের ইতিহাসকে কখনও ১ টি দেশ যার ব্যাপ্তি ভূখণ্ডের বিচারে ০.০৯৮% আর জনসংখ্যার হিসেবে ২.২২%; আপনার এই অসামাঞ্জস্যতাপূর্ণ আলোচনার প্রসঙ্গটি আপনি সচেতনভাবেই এড়িয়ে গেছেন বলে আমি মনেকরি। আর এই আলোচনায় ইহুদীদের প্রসঙ্গ টেনে আনা আমার মনে হয় যথেচ্ছাচার, কেননা ইহুদীদের ঐতিহাসিক লিগাসি জাতিসত্ত্বার থেকে বেশী কিছু প্রমাণ করে। আপনার আরেকটি পোস্টে আপনি নিজেই তা প্রমাণ করবেন/করতে যাচ্ছেন। [আপনার পোস্টের ফ্রিকুয়েন্সি এতই বেশী যে সব পোস্টে মন্তব্য করার সুযোগ হয় না, আমার অনুরোধ থাকবে আপনার প্রতি যেন অন্তত ২/৩ দিন বিরতি দিয়ে পোস্ট দিবেন, তাতে আমাদের পড়ার সুযোগ হবে।]

    ৩)

    “লেখক প্রাগৈতিহাসিক ভারতবর্ষীয় সভ্যতাকে বাঙালি সভ্যতা মনে করছেন! হরপ্পা সভ্যতা বা ইন্দোস ভ্যালী সভ্যতা কি বাঙালি সভ্যতা। বাঙালিরা কি সিন্ধুতীরে বসতি গড়েছিল না গঙ্গাতীরে?”—

    আমি নিশ্চিত ছিলাম আপনি এই প্রশ্নটি তুলবেন এবং তুলেছেন। লজিক্যাল – ভাই আপনি কি দেখেন নাই যে গঙ্গা, সিন্দু এবং যমুনা এই তিন নদীর তীরকে কেন্দ্র করেই ইন্দোস ভ্যালী সিভিলাইজেশন ? আর আমি নিজেও পোস্টে বলেছি যে সভ্যতা কখনও ছোট্ট কোন পটভূমিতে গড়ে উঠে না। যেই সভ্যতা এমনকি দেশবিভাগের আগ পর্যন্ত সকল ইতিহাস এবং অর্জন একীভূতভাবে হত তা আপনি কীভাবে শেষ ৫০/৬০ বছরের ইতিহাসের জন্যে অস্বীকার করবেন? কুমিল্লা থেকে বগুড়া হয়ে দিনাজপুরের এই বিশাল অঞ্চলজুড়ে আমাদের সভ্যতার যে ইতিহাস উন্মোচিত হয়েছে তা আপনি অস্বীকার করছেন কীভাবে? আমি পোস্টেও বলেছি আবারও বলছি আমাদের এই সুবিশাল সভ্যতার পূর্ণাঙ্গ আবিষ্কারের অভাবে আজ আপনি এইসব বলার সুযোগ পাচ্ছেন। আমাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতা একদিন এমন সকল ইতিহাসের সত্য উন্মোচন করবে আর তা আমি-আপনি জীবদ্দশায় দেখে যাব।

    ৪)

    “রামায়ণ, মহাভারত, বেদ-উপনিষদ কোনটি বাঙালির হাতে রচিত হয়নি”

    কি ছিলেন? তাও কি আপনি জানতে পেরেছেন? ৫০০০ হাজার বছর পুরাতন এই সকল থেকে শেষপর্যন্ত হিন্দু, বাঙালীসহ সকল জাতিই এসেছে। একটা প্রশ্নই আপনার বিভ্রান্তি দূর করবে আশাকরি। আচ্ছা বলেন তো, মিলিয়ন বছর পূর্বের আর্ডি কি শুধুই মানুষের পূর্বপুরুষ নাকি বানর, শিম্পাঞ্জী, বেবুন এবং মানুষ সকলরই পূর্বপুরুষ? এইবার আশাকরি আপনি ধরতে পেরেছেন বা পারছেন আমি কি বলতে চাচ্ছি?

    ৫)

    ‘জাতিতাত্ত্বিক যাদুঘরে ২/৪-টি থালা, বাসন, হাড়ি, পাতিল, ঘাটি-বাটি প্রদর্শনে বিশ্ব উন্নয়নে এর গুরুত্ব খুব বেড়ে যায় না’


    আপনি খুব ভাল করেই জানেন এই অঞ্চলের ঐতিহ্যকে আজ পর্যন্ত ৩-৫% ও উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। যেভাবে পশ্চিমা বিশ্ব তাঁদের ইতিহাসকে তন্নতন্ন করে খুঁজেছে। এই ৩/৫% এই আমাদেরকে আদিমতম সভ্যতার বংশধর প্রমাণ করেছে। আজ BRIC-ভুক্ত ভারত এবং নেক্সট এলেভেনের অন্যতম এমারজিং টাইগার বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে সক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খুদা এবং মৌলিক চাহিদা পূরণের পরই যখন আমরা গবেষণায় প্রচুর মনোনিবেশ করতে পারব তখনই আমরা আমাদের সোনালি অতীতকে আরও চমৎকারভাবে জানতে পারব। লক্ষণ কিন্তু তাই বলে…

    ৬)

    “আমাদের সম্মানিত লালন, হাসন, রবীন্দ্রনাথকে খাটো করার উপায় নেই কিন্তু এ জাতীয় ব্যক্তিত্ব বিশ্বে বিরল কি? সব জাতির মধ্যেই কমবেশি লালন-হাসন, রবীন্দ্রনাথ বিদ্যমান। মিয়া তানসেন বাঙালি ছিলেন বলে কোথাও পাইনি”।


    এই কথা প্রচণ্ড অবেজেকশনাবল। আপনি হয়তো সম্পূর্ণ পোস্ট পড়েন নি। বিথোভেন-মোজার্টকে নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব পাগলপ্রায়, অথচ তারও ২৫০ বছর পূর্বের তানসেনকে আমরা আজও ভালভাবে জানতে পারি নি আর ‘বিথোভেন-মোজার্ট’ এর সময়কার লালনকে মাত্রই বুঝতে শুরু করেছি। আর হ্যাঁ আপনি গোটা বিশ্ব খোঁজে আরেকজন লালন-হাসন এবং রবীন্দ্রনাথের খোঁজ দেন। সহস্রাব্দের সেরা ৪ জন উপন্যাসিকের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ অন্যতম। সেক্সপিয়ার, লিও তলস্তয় এবং রবীন্দ্রনাথকেই গোটা দুনিয়া অন্য মাপকাঠিতে মাপে আর আমরাই বিভ্রান্ত থাকি। আফসোস… ‘বিথোভেন-মোজার্ট’ কেবলই সুর স্রষ্টা ছিলেন কিন্তু লালন একই সাথে দার্শনিকও বটে। মাত্রই পশ্চিমা বিশ্ব এই রত্নের খোঁজ পেয়েছে দেখুন কিছুদিন পর তাকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যায়।

    ৭) লালনের মানব ধর্মই আধুনিকতম এবং সর্বোত্তম ধর্ম। আর বাকি সাম্প্রদায়িক হানাহানিপূর্ণ কোন ধর্মের লিগাসি আমরা বহন করছি এতে আমি খুশি। বেশীরভাগ ধর্মইতো ঊশর মরুর ধূসর বালিকায় হয়েছে? এইটা কি মানব কল্যাণকর কিছু? আমি বাঙালী হিসেবে গরবিত কারণ ইতিহাসের কোন কলঙ্ক সৃষ্টিতে তারা নেই। আর হিন্ধু বা সনাতন ধর্মের ক্রেডিট এই গোটা উপমহাদেশের হলেও ধর্ম হিসেবে ওইটা ছিল একদমই বুনিয়াদী ধর্ম। আর সাঁতার, দৌড়, নৌকা-বাইচ, নাচ-গান, বক্সিং, ফুটবল এমন বেসিক খেলাগুলো ঠিক কোথায় কখন শুরু হয়েছে তার কি কোন ইতিহাস আছে? প্রথম রান্না কোথায় হয়েছিল তারও কি কোন ইতিহাস বের করা সম্ভব? গ্রীকেরা অলম্পিকের মাধ্যমে কেবলই একটা প্রতিযোগিতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে এইটা নিয়ে এত হা-হুতাশ করার কিছু নেই।

    ৮) আমি আজই অন্য একটি কাজে ব্যস্ত হয়ে পরছি। আশকরি আপনার শেষোক্ত কিছু ব্যাপার নিয়ে আমি আগামী এবং শেষপর্বে আলোচনা করতে পারব। আর লজিক্যাল-ভাই, আমি কিন্তু কোন ছাত্রকে তোর চৌদ্দগোষ্ঠী অশিক্ষিত তোর কোন এই নাই সেই নাই এইসব বলে ভাল রেজাল্ট করাতে পারব বিশ্বাস করি না। আমি যা আছে তা নিয়েই প্রেরণা দিতে বিশ্বাসী…

    আবারও ধন্যবাদ আপনার জ্ঞানগর্ভ আলোচনার জন্যে!! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: আগামী পোস্টে কথা হবে।। ভাল থাকবেন, শুভ কামনা…

    1. সত্য সন্ধানে যুদ্ধসাথি তারিক
      সত্য সন্ধানে যুদ্ধসাথি তারিক লিংকনকে অসংখ্য ধন্যবাদ তার মননশিল, আবেগময়ি তথা বাঙালি প্রেমে স্নাত প্রতিমন্তব্যের জন্যে। এর পর আপনার ২য় পর্ব দেখে পরবর্তি বাৎচিৎ হবে।

      তবে আপনার জন্যে কিঞ্চিৎ ঈর্ষা হয় এজন্যে যে, প্রায় সবাই আপনার বাঙালিপ্রেমময় অঐতিহাসিক কথাবার্তা শুনে প্রশংসার প্লাবন বইতে দিলো, আর আমার কঠোর অপছন্দনিয় সত্য ভাষণ শুনে পারলে আমার মাথাটা এখনই কেটে নেয় আরকি! যে কারণে বাঙালি রিলেটেড “বিশ্বে এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি! হায়!!” পোস্টটি শ’ খানেক পাঠক পড়লেও কেউই কোন মন্তব্য করেনি, সম্ভবত মুখ কালো করে আমার মুন্ডপাত করতে করতে বিদায় নিয়েছেন। সে হিসেবে আপনি ধন্য ভাইয়া। আমি অভাগা।
      ভাল আর কল্যাণে থাকুন।

      1. প্রথমে কিছুক্ষণ মাথা ঠুইকা লই
        প্রথমে কিছুক্ষণ মাথা ঠুইকা লই :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

        আমার মন্তব্য যৌক্তিক না হয়ে আবেগময় হল কীভাবে বুঝলাম না। যাহোক, তবে ভাই ‘তেরি জামিন পার‘ (আমার একমাত্র সম্পূর্ণ দেখা হিন্দি ছবি) Ishaan Awasthi’র কথা মনে পরে গেল!! বাঙালী ভাই আপনি আমাদের ঐতিহ্যের সংকট নিয়ে ৫ পর্বের যে ধারাবাহিক পোস্ট দিয়েছিলেন তার মন্তব্যের এক পর্যায়ে না জানি, পোস্টেই বলেছিলেন আমাদের আঘাত করে আমাদের মধ্যের সুপ্ত মেধা বা প্রতিভাকে জাগ্রত করতে চেয়েছিলেন!! আপনার পরিশ্রম এবং ধৈর্যের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি পদ্ধতিটি বোধহয় নারী-পুরুষের প্রেমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, দেশ বা ঐতিহ্য প্রেমের ক্ষেত্রে নয়!! আপনি আমার যুক্তির অসাড়তা প্রমাণ না করে এড়িয়ে গেছেন সবকিছু…
        কিছু মন্তব্য ছিল যার জন্যে ২য় বা শেষ পর্ব পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগে না। ধন্যবাদ… ভাল থাকবেন!!

        1. মাথা ঠুইকেন না তারিক ভাই আপনি
          মাথা ঠুইকেন না তারিক ভাই আপনি মননশীল মানুষ! আমার প্রিয় ছবি “তারে জামিন পার”, হ্যা আঘাত অনেকে পেয়েছেন এটাই আমার সাফল্য, আপনি আমি না হোক, আমাদের সন্তানদের চেষ্টা করবো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মত বাঙালি হতে। যেমন আমার মেয়েকে রাশিয়া থেকে পড়িয়েছি “মিডিয়া”র উপরে। সে যোগ্য বাঙালি হয়েছে মনে করি, এভাবে ১%, ২% করে যখন ১০০% বাঙালি যোগ্য হবে, তখন টিকে যাবো আমরা। একদিন অবশ্যই দাঁড়াবে জাতিটি, কিন্তু কষ্ট করে গেলাম আমরা!

          আর এই যে লেখালেখি, ভাব বিনিময় এতেই এসে যাবে সব, ভাল থাকুন আপনি।

    1. প্রাজ্ঞ ব্লগার কিরন শেখরের
      প্রাজ্ঞ ব্লগার কিরন শেখরের নিচের মন্তব্য দুটো যেমন :

      ১:

      “মন্তব্য করেছেন : কিরন শেখর >> সময় মঙ্গল, 21/01/2014 – 11:17পূর্বাহ্ন
      যা ভাবছিলাম তাই ঠিক ডঃ লজিকালি সাহেব আসছেন জ্ঞান দান করতে, নিতে না। তাই তিনি গতকাল থেকে বেশ কয়েক বার ইস্টিশনে আসলে এবং নতুন পোস্ট দিলেও এইসব বাল ছাল পড়ার প্রয়োজনীয়তা মনে করেন নি। তারিক ভাই সহ বাকীদের অপেক্ষা কখন ফুরাবে কে জানে। তিনি দেশ বিদেশ ঘুরে আইসা বাঙ্গালীরে না পেয়ে খোঁচানো শুরু করেছেন এবং নতুন তত্ব দিয়েছেন ৩০১৪ সালে বাঙালি জেগে উঠবে। ওনার নাকি আরও ২-৩ হাজার এইরাম সুন্দর পোস্ট পড়ে আছে।
      হে ইস্টিশন বাসি তোমরা তো জ্ঞানের বাল গাছই অর্জন করতে পারোনি, তাল গাছ ওয়ালা ডঃ লজিক্যালির সাথে কেন তর্ক করতে যাও!”

      ২ :

      “মন্তব্য করেছেন : কিরন শেখর >> সময় মঙ্গল, 21/01/2014 – 12:09অপরাহ্ন
      খেপুম না কেন ভাই। তিনি কিছু কথা বললেন, আমরা শুনলাম ভাল কথা। কিন্তু যদি আপনি আলোচনায় চান তাহলে নাই কেন। ব্লগ তো আর পত্রিকা না। যে আমি বলেই খালাস। এখানে সুযোগ আছে দুই পক্ষেরই যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করার। শুরু যখন করেছেন তাহলে আবার থেমে যান কেন… তাই না।”

      ক্লিয়ার বুঝলেও তার পোস্টকৃত ১৮০৯, ১৮৮২ এবং বর্তমান জার্মানির ম্যাপ দিয়ে তিনি ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন আমার কাছে পরিস্কার নয়! দয়া করে ষ্পষ্ট করবেন কি? ধন্যবাদ আপনাকে! ভাল থাকুন!

  4. এখানে অনেক বিজ্ঞজনদের আনাগোনা
    এখানে অনেক বিজ্ঞজনদের আনাগোনা দেখে নিজেকে বেশ ভাগ্যবান মনে করছি। আপনাদের পোস্ট, পোস্টে মন্তব্য, প্রতিমন্তব্য দেখে সত্যিই খুব ভাল লাগছে আমার…. চালিয়ে যান তারিক লিংকন একজন ভাল লেখক এটা আমি অনেক আগে থেকেই জানি। তারিক লিংকন অনেক বাস্তব তথ্য সমৃদ্ধ লেখক কোন সন্দেহ নাই। তার লেখা পেলে আমি অন্তত: একবার হলেও পড়ি। তবে লজিক্যাল ভাই ভাল লেখেন কোন সন্দেহ নাই। অনেক দিন পর ইস্টিশনে এসে অনেক ভাল লেখকের দেখা পেলাম। খুব ভাল লাগলো। আপনার লিখতে থাকুন আর আমরা পড়তে থাকি………ধন্যবাদ

    1. ধন্যবাদ মুকুলকে। হ্যা সুলেখক
      ধন্যবাদ মুকুলকে। হ্যা সুলেখক তারিক লিংকনের অনেক শুভার্থি এ ব্লগে দেখে ভাল লাগছে। কিন্তু আমি এক প্রতিকুল পরিবেশে পড়েছি বলেই মনে হচ্ছে! কারণ আমার ভাষণ যুক্তিশিল হলেও, শুনতে শ্রুতিমধুর লাগছে না অনেক পাঠকের কাছে! আমার এ জাতিয় পোস্টের সংখ্যাই বেশি যা নিরেট সত্য ভাষণ মাত্র। যেমন বড় একটি পর্বের নাম “বাঙালি কি সত্যি একটি মেধাহিন জাতি?” যেখানে বাঙালির অমেধার তালিকা দির্ঘতর! কিন্তু মেধাহিনতার কথা কি “মেধাবি(!) বাঙালি মানতে চাইবে?” মানার মতো এতো মেধা ২০১৪ সনে বাঙালি অর্জন করেছি কি? তাহলে বাঙালির এতো ভগ্ন দশা কেন স্বদেশে আর বিদেশে, ঘর আর বাইরে!

      ভাল থাকার প্রত্যাশা করছি!

      1. অন্ধকারের যাত্রীকে ধন্যবাদ।
        অন্ধকারের যাত্রীকে ধন্যবাদ। কিন্তু ভাইয়া এতোসব কষ্টকর লেখার পরও পড়ুয়া আকাল দেখতে পাচ্ছি, ভাটার টানে পড়েছি মনে হয়। নৌকো কি অনুকুলে বাইতে হবে নাকি?

  5. মানে কি!! এই পোস্ট প​ড়ে মনে
    মানে কি!! এই পোস্ট প​ড়ে মনে হচ্ছে আপনার পুর্বপুরুষ ইয়েমেন থেকে ভ্রমন করে এই দেশে এসেছে। ভাই, আমরা দ্রাবিঢ়ীয় জাতি, আমাদের ইতিহাস আমাদের কাছেই ছেড়ে দেন। আর বাঙালি জাতি মেধাহীন কিনা জানি না, তবে বরাহমিহির খাটি বাঙালি ই ছিলেন, এবং খনাও বাঙালি ই ছিলেন। বাংলা ভাষা বিবর্তনের মাধ্যমে আসার আগ পর্যন্ত ইতিহাসটুকু আমরা এই মাটি থেকে ফেলে দেব, এটা ইতিহাসের প্রতি অবমাননা। তাছাড়া আমাদের জাতিটি একটি মিক্সড জাতি। আমাদের ঐতিহ্য বিশ্লেষন করার জন্য অন্য জাতির রেফারেন্স আসা স্বাভাবিক, সবক্ষেত্রেই হ​য়। কিন্তু ভুলে যাবেন না, মাটি থেকে ধুয়ে সোনা বের করলে সোনা মাটি হ​য় না।

    1. ইলোসিয়া মৌনিন রাইনকে ধন্যবাদ
      ইলোসিয়া মৌনিন রাইনকে ধন্যবাদ এ বিতর্কে যোগদানের জন্যে! আমার জানা মতে বাঙালির নিম্নরূপ বিভাজন হতে পারে :

      ১) ককেশিয় জাত বাঙালি,
      ২) মঙ্গোলিয় জাত বাঙালি
      ৩) নিগ্রো জাত বাঙালি,
      ৪) হেমেটিক-সেমেটিক জাত বাঙালি এবং
      ৫) দ্রাবিঢ় জাত (ভেড্ডিড, কোল, ভিল, মুন্ডা, সাঁওতাল জাত) বাঙালি

      আমার ধারণা আমি দ্রাবিঢ়জাত খাঁটি বাঙালি। সে হিসেবে আমার আত্মসমালোচনার অধিকারকে ব্যঙ্গ করা সুযৌক্তিক মনে করিনা! যারা এ প্রবন্ধের যৌক্তিকতাকে অস্বীকার করতে চান, তাদের অনুরোধ, অনুচ্ছেদ হিসেবে কোন বাক্যটি এবং কেন অযৌক্তিক তা ব্যাখ্যা করবেন। অথবা বাঙালি হিসেবে নিজের মুখ মননের আয়নায় দেখবেন, তাহলে এ প্রজন্মকের ব্যর্থতা হয়তো পরবর্তি প্রজন্মগুলোকে আর বহন করতে হবে না কিংবা শোধরাণো সহজতর হবে।

      যেমন : আমাদের পূর্ব প্রজন্মগণ ৩৭,০০০ রাজাকার এদেশে রেখে গেছেন, যারা এখন গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে হয়তো ৩৭-লাখ কিংবা তার চেয়েও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে কেউ শিবির, কেউ হেফাজত কিংবা অন্য নাম ধারণ করে আমাদের দেশের উপর কি তান্ডবই না করছে, এ জন্যে আমাদের পূর্ববর্তি প্রজন্মকে আমি দায়ি করে যাবো। কিন্তু কষ্টটা ভোগ করছি আমরা এখন, আর জাতিটা দিচ্ছে যারপরনাই ঋণাত্মক খেসারত রাজপথে, রেলপথে, বৃক্ষনিধন আর কতনা স্থানে? একইভাবে বাঙালি হিসেবে যদি এখনো নিজেদের না চিনতে পারি আমরা, তাহলে পরবর্তি প্রজন্ম আপনার-আমার দায়িত্বহিনতার জন্যে অবশ্যই আমাদের দায়ি করবে। শুধু “এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকে তুমি” ধরণের গান গাইলেই এ দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তা আরো বড়, আরো জটিল অন্তত বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে।

      আপনাকে ধন্যবাদ জানাই ও আমন্ত্রণ জানাচ্ছি জীবনভিত্তিক এ জাতিয় আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্যে। ভাল আর কল্যাণে থাকুন।

      1. আমাদের পূর্ব প্রজন্মগণ ৩৭,০০০

        আমাদের পূর্ব প্রজন্মগণ ৩৭,০০০ রাজাকার এদেশে রেখে গেছেন, যারা এখন গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে হয়তো ৩৭-লাখ কিংবা তার চেয়েও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে কেউ শিবির, কেউ হেফাজত কিংবা অন্য নাম ধারণ করে আমাদের দেশের উপর কি তান্ডবই না করছে, এ জন্যে আমাদের পূর্ববর্তি প্রজন্মকে আমি দায়ি করে যাবো। কিন্তু কষ্টটা ভোগ করছি আমরা এখন, আর জাতিটা দিচ্ছে যারপরনাই ঋণাত্মক খেসারত রাজপথে, রেলপথে, বৃক্ষনিধন আর কতনা স্থানে? একইভাবে বাঙালি হিসেবে যদি এখনো নিজেদের না চিনতে পারি আমরা, তাহলে পরবর্তি প্রজন্ম আপনার-আমার দায়িত্বহিনতার জন্যে অবশ্যই আমাদের দায়ি করবে। শুধু “এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকে তুমি” ধরণের গান গাইলেই এ দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তা আরো বড়, আরো জটিল অন্তত বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে।

        — দুর্দান্ত বলেছেন!! :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :bow: :bow: :bow: :bow: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
        তবে এর জন্যে খোঁচা দেয়া থেকে প্রেরণা দেয়া বেশী কার্যকর হবে বলেই আমার ধারণা। আরেকটা কথা ব্যাপারটা এমন না যে কেউ প্রেরণা দিয়ে ব্যর্থ হয়েছে তাই নিরুপায় হয়ে শিকড়ে আঘাত করতে হবে!! আমরা আজও নিজেদের ভাল করেই চিনতে পারি না।। আশাকরি প্রানে প্রান মিলিয়ে একসাথে চলতে পারব!

        1. আপনার চিন্তন দেখেতো আমার মনে
          আপনার চিন্তন দেখেতো আমার মনে হচ্ছে আপনি আমি একই ট্রেনের যাত্রি। আমি যা খোচা দিয়ে বলছি, আপনি তা বলতে চাইছেন ভদ্র ভাষায়! সমস্যা কি? দুজনেই একই উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমি না হয় খোচা একটু কম দিলাম, আর আপনি না হয় ভাষা একটু কড়া করলেন, তবেইতো ঠিক হয়ে যাবে।

          আমি একটা পোস্ট দেব (কেউ পছন্দ না করলেও) আজকের রাজাকার হেফাজত উত্থানে “বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা”, আপনার কি মত?

      2. এই জাতগুলো সম​য়ের সাথে মিশে
        এই জাতগুলো সম​য়ের সাথে মিশে গেছে, এদের বিভিন্ন আচার ব্যবহার মিশে গিয়ে পরিবর্তিত হ​য়ে বাঙালি হ​য়েছে, এটা আলাদা করা গুরুচন্ডালি দোষের মত হবে। তাই বাঙালি জাতি ভাগ করাও তাই, তাদের কিছু অংশ আলাদা করাও তাই। এখন পুরো ভাগটি রং, বর্ন , জাত ছেড়ে চেতনায় এসে ঠেকেছে, চেতনা এক হ​য়ে গেলে এই ভাগ ও থাকবে না। তখন কি ভাগ করবেন আপনি?

        1. তবে এদের চেতনা সম্পূর্ণ
          তবে এদের চেতনা সম্পূর্ণ ভিন্নতর। এরা কখনো বাঙালি চেতনাকে লালন করেনি, আপন করবে না, করেনি, এদের চেতনা হচ্ছে আরব প্যাগান চেতনা। পশ্চিম বাংলার হিন্দুদের উলুধ্বনিকে এরা হিন্দু কালচার বললেও, সৌদি, মিশর বা আরব মহিলারা যখন বিয়েতে উলু্ধ্বনি দেয়, তখন তারা মুখে কুলুপ আটে। কথা বলেনা।

    1. অন্ধকারের যাত্রীকে ধন্যবাদ।
      অন্ধকারের যাত্রীকে ধন্যবাদ। কিন্তু ভাইয়া এতোসব কষ্টকর লেখার পরও পড়ুয়া আকাল দেখতে পাচ্ছি, ভাটার টানে পড়েছি মনে হয়। নৌকো কি অনুকুলে বাইতে হবে নাকি?

Leave a Reply to একেলা পথের পথিক Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *