ভারতের আম আদমি পার্টি, আর বাংলাদেশে তরুন নেতৃত্তের ভবিষ্যত

(১)
অনেক দিন থেকেই কিছু কথার রোল সবজায়গাতেই শোনা যাচ্ছে – “তরুণরা সবকিছু বদলে দেবে, তারাই পারে দেশে যুগান্তকারী বিপ্লব আনতে, ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু, সেই আশাবাদ, সেই স্বপ্ন যেন শুধু মাত্র ভাঙ্গা রেকর্ড, যেটা শুধু বেজেই চলে, কিন্তু, দেয়না তেমন কোন ফলাফল। তাদের দারা দেশ আর সমাজের আমূল পরিবর্তন যেন সূদুর পরাহত।


(১)
অনেক দিন থেকেই কিছু কথার রোল সবজায়গাতেই শোনা যাচ্ছে – “তরুণরা সবকিছু বদলে দেবে, তারাই পারে দেশে যুগান্তকারী বিপ্লব আনতে, ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু, সেই আশাবাদ, সেই স্বপ্ন যেন শুধু মাত্র ভাঙ্গা রেকর্ড, যেটা শুধু বেজেই চলে, কিন্তু, দেয়না তেমন কোন ফলাফল। তাদের দারা দেশ আর সমাজের আমূল পরিবর্তন যেন সূদুর পরাহত।

প্রজন্ম যায়, প্রজন্ম আসে। যে প্রজন্ম সমাজ আর দেশের পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হয়, তারা তাকিয়ে থাকে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের দিকে, আশা করে তাদের অসমাপ্ত কাজ ভবিষ্যত প্রজন্মই সমাধা করে দেবে। শুধু তাই নয়, যে তরুণদের দিকে আশা নিয়ে তাকিয়ে থাকে পূর্ব প্রজন্ম, সেই তরুণরাও আশায় থাকে, তাদেরই মধ্যে অন্য কেউ, ব্যাক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে, সমাজ ও দেশকে বদলে দেবে। তারা ভাবে অন্য কেউ না কেউ এটা করবে, অন্যরা ভাবে তারাই এটা করবে। আদপে কেউ এতে সামর্থ্যবান হয়না।
কাজেই, যখন পাশের দেশ ভারতে আরবিন্দ কেজরিওালের নেতৃত্তে দিল্লিতে আম আদমি পার্টী সরকার গঠন করলো, তখন আমাদের দেশের আশাবাদিরাও নড়ে-চড়ে বসলেন – বিপ্লব এই আসলো বলে আমাদের দেশেও!
কিন্তু, আদপে কি তা সম্ভব? নাকি তা সূদুর পরাহত? বাস্তবতার নিরিখে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা যাচাই করেই দেখা যাক…।

(২)
আসলে বাংলাদেশে কোন সেই তরুণরা, যাদের দ্বারা সমাজ, রাজনীতি ও দেশ পরিবর্তন হতে পারে, সেটা নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। আজ থেকে বছর পাঁচেক আগে থেকে দেশে বেশ কিছু সমাজকল্যাণভিত্তিক তরুণ সংগঠন যখন বেশ সক্রিয়ভাবে দাঁড়িয়ে গেল, তখন তাদের নিয়ে আশবাদ ব্যক্ত করার মত মানুষের অভাব হয় নাই। ২০০৬ সাল থেকে জাগো ফাউন্ডেশন অসহায় পথশিশুদের নিয়ে কাজ করতে শুরু করল, এবং তারা যথেষ্ট সফলও হল। ক্রান্তি ফাউন্ডেশনের মত বেশ কিছু সংগঠন ২০০৭ সাল থেকে ‘নিউ সেভেন ওয়ান্ডারস’ হিসেবে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কাজ চালিয়ে গেল এবং সফলতার সাথে এই ব্যাপারে প্রচারণা চালাল।
সমাজ ও দেশের জন্য হিত কর্মের ব্রত নিয়ে এভাবে অনেক সংগঠন এগিয়ে আসলো এবং সফলও হল। ওয়ান ডিগ্রি ইনিশিয়েতিভ, বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশীপ সেন্টার, কমিউনিটি আকশন, হাউস অব ভলান্টিয়ার্স বাংলাদেশ, পভার্টি ফাইটিং ফাউন্ডেশন, বিল্ড বেটার বাংলাদেশ হল এরকম আরও কিছু সংগঠন যারা কিনা নানারকম সমাজ কল্যাণমূলক কাজ দেখিয়ে যথেস্ট পরিচিতি আর সফলতাও লাভ করল।
জাগো ফাউডেশন যখন সিলেট জেলায় একটি সফল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করল ২০১১ সালে, তখন ডঃ মুহাম্মাদ জাফর ইকবাল তাদের কার্যক্রমে মুগ্ধ হয়ে তাদের কে ‘নতুন প্রজন্মের মুক্তিযদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন।
এরকম আর অনেক প্রশংসাবাণীই পেয়েছে জাগো, ওয়ান ডিগ্রি ইনিশিয়েটিভ বা বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশীপ সেন্টারের মত সংগঠনগুলো। প্রশংসা করার মত কাজ করলে তারা প্রশংসা পাবেন, এতে কার আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু, সমস্যা অন্য বেশ কয়েকটি জায়গায়…।

প্রথমত, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত কিছু মানুষদের জন্য সেবামূলক কাজ করে তাদেরকে সাময়িকভাবে অভাব বা সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়া যায়। কিন্তু, পুরো সিস্টেম বা দেশের সিস্টেমকে যা নিয়ন্ত্রণ করছে, সেই রাজনীতিকে চেঞ্জ না করে যে একটি সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র, যেখানে সমাজের প্রান্তিকেরাও একদিন বড় হয়ে উঠতে পারবে, সেটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, তা এই ‘সোশ্যাল ওয়ারকার’রা হয় জানেন না, অথবা তার প্রয়জনীয়তা, জেনেও শিকার করেন না। মোটকথা, রাজনিতির ব্যাপারে তাদের প্রবল অনীহা।

আর এসব সমাজসেবামূলক সংগঠনে যে শত-শত ছেলেমেয়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে, তাদের এক্তা বড় অংশই এই কাজটাকে ক্যারিয়ার আপগ্রেড করার একটা উপকরণ হিসেবে দেখে। দেখা যায়, তারা স্রেফ সার্টিফিকেট নেয়া বা বিদেশ পাড়ি জমানোর ক্ষেত্রে সাহায্য করার মাধ্যম হিসেবে এশব কাজে জড়ায়। মুহাম্মদ জাফর ইকবালের মত মানুষ, যারা কিনা সরলভাবে সবকিছু দেখেন ও অন্য মানুষের দ্বারা সহজেই প্রভাবিত হন, তারা যখন এদেরকে ‘এই প্রজন্মের মুক্তিযদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, তখন মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, “এই প্রজন্মের মুক্তিযদ্ধাদের উদ্দেশ্য কি বিদেশ পাড়ি জমানর জন্য সমাজসেবা করা?”

আর সবচেয়ে বড় কথা হল, এই সংগঠনগুলোর সিংহভাগই নিরভরশীল বিভিন্ন বিদেশী দুতাবাস, বিশেষ করে আমেরিকান দূতাবাসের প্রদত্ত অর্থ সাহায্যের উপর। অনেকেরই ধারণা, দূতাবাসগুলো যে অর্থ সাহায্য দিচ্ছে, তা এমনি এমনি দেয়া হচ্ছেনা। এর পিছনে হয়তো, তাদের এই মনোভাব কাজ করছে যে, এই তরুণরা একসময় তাদের ‘এজেন্ডা’ বাস্তবায়নে কাজ করবে। ইতিমধ্যেই, যে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি, তাই বা কে বলতে পারে?
(৩)
এত গেল রাজনীতিতে অনীহ দেশের সেই সকল তরুণের কথা, যারা অন্তত দেশকে নিয়ে, দেশের মঙ্গলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করতো।

এবার আসা যাক, রাজনীতি সচেতন তরুণদের কথায়, যারা কিনা রাজনৈতিকভাবে যুক্ত হতে আগ্রহী এবং এর মাধ্যমে দেশের জন্য কিছু করতে চান।

সংখ্যার দিক দিয়ে বিচার করলে দেশে আওয়ামী লীগ বিএনপি , জামাত ও হেফাজাতে ইসলামির মত দলের তরুণরাই সংখ্যাগুরু। কিন্তু, তাদের দারা সমাজ, রাজনীতি ও দেশের পরিবর্তন কোনোদিনই সম্ভব নয়। কারণ, প্রচলিত রাজনীতির বাইরে তারা কখনই যেতে পারবেনা।

বাকি থাকল আর দুই শ্রেণী – বাম দলগুলোর তরুণ ও ছোট ছোট কিছু গনতান্ত্রিক দল ও গণতান্ত্রিক আন্দলনের তরুণ। প্রথম ভাগে রয়েছে অসাম্প্রদায়িক ও সমাজ তন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাসী তরুণরা, যারা কিনা বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের যে গনতান্ত্রিক রাজনীতি পছন্দ, সেই স্রোতের বাইরে আছেন। এদের মধ্যে অনেক তরুণই আছেন, যারা কিনা গণজাগরণ মঞ্চের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। গনজাগরণ মঞ্চ সম্পর্কে অনেকেরই অনেক আশা ছিলও প্রথম দিকে। অনেকেই মনে করেছিলেন, এরাই সেই তরুণ সমাজ, যার কথা অনেক আগে থেকেই উচ্চারিত হচ্ছিল – যারা কিনা প্রচলিত দূষিত রাজনীতির বাইরে থেকে দেশবাসিকে পথ দেখাবে । কিন্তু, মানুষের সেই আশার বেলুন ভূপাতিত হতে বেশি সময় লাগেনি। একচোখা ও ক্ষমতাসীন ১৪ দলের দালালী করে আর যাই হোক তরুণ সমাজের আলোর দিশারী হওয়া যায় না।

আর বাকি থাকল কিছু ছোট ছোট নবগঠিত রাজনৈতিক দলের কথা, যারা কিনা নিজেদের ক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়ে কাজ করে এগোনোর চেস্টা করছে, যদিও তাদের ভিশনে যথেষ্ট দূরবলতা রয়েছে । ভিশন ঠিক থাকলেও তা বাস্তবায়নে যে প্রচেস্তা দরকার, তার মারাত্মক অভাব রয়েছে। আবার এদের মধ্যে কাউকে কাউকে দেখা যায়, তারা ২ বা ৩ বছর হয়তো আগ্রহ নিয়ে লেগে থাকেন, কিন্তু তার পরে উদ্যম আর প্রচেস্টা – দুটোই তারা হারিয়ে ফেলেন। সম্প্রতি তো ভারতের আম আদমী পার্টীর দেখাদেখি ঢাকার কাঠালবাগানের কিছু বাসিন্দা ‘আম জনতার দল’ নামে একটি দল গঠনও করে ফেলেছেন। কয়েকদিন পর তাদের প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করার কথা…।

তো বোঝেন অবস্থা! কোন কিছু থেকে অনুপ্রেরনা নেয়া ভাল, কিন্তু, একেবারে ভারতের সফল রাজনৈতিক দলের নাম সরাসরি নকল করে দেশে কাজ শুরু করা, আর যাই হোক, কোন ভিশনারি কাজ হতে পারে না। বেশিরভাগ সচেতন মানুষের কাছেই এটাকে কিন্তু হুজুগে কাজ বলে বিবেচিত হবে।

মাহি বি চৌধুরী কিছুদিন আগে ব্লু ব্যান্ড কল নামে নতুন একটি রাজনৈতিক মুভমেন্ট তৈরির চেস্টা করেছিলেন। কিন্তু, পরবর্তীতে বিকল্প ধারা প্রচলিত নস্ট রাজনীতির ১৮ দলিয় জোটে যুক্ত হওয়ার কারণে তিনি এই আন্দোলন্টাকে বেশিদুর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন নাই।

তাহলে, তারুণ্যের শক্তির ভবিষ্যৎ কোথায় ? কিভাবেই বা তারা কি করবে? তাদের দ্বারা আসলেই কি কিছু, বৈপ্লবিক কিছু করা সম্ভব?
(৪)
আমাদের এখন দুটো ধারার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। একটি বৈপ্লবিক ধারা, আরেকটি হল নতুন ধরণের গনতান্ত্রিক ধারা, যার মাধ্যমে তরুণরাই দেশ, সমাজ আর দেশের জন্য প্রয়জনীয় পরিবরতন আর পুনর্গঠন আনয়ন করতে পারে।

বিপ্লব কোন সহজ কাজ নয়। বিপ্লবের মধ্যে গনতান্ত্রিক দেশে যেটা সম্ভব সেটা হচ্ছে ‘ম্যাসিভ ম্যাস আপরাইজিং’ অথবা ‘সাইলেন্ট রেভুলুশন’; প্রথমটির উদাহরণ দেখা যায়, নিকট অতীতে মিসর, তিউনিসিয়া বা ইয়েমেনের মত দেশে। এসব দেশে দীর্ঘদিন স্বৈরশাসন ছিলও বলে এক্সময় একটা গনবিস্ফরণ হয়েছে। কিন্তু, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন, এই ক্ষেত্রে যে, দেশে ভাল হোক মন্দ হোক, এক ধরণের গনতান্ত্রিক শাসন প্রচলিত আছে। এখানে আম আদমির মত কোন দলকে ক্ষমতায় আসতে হলে, জনগনের ভোটেই আসতে হবে। কারণ, দেশের মদ্যবিত্ত জনগণ এখনও গনতন্ত্র ও ভোটের রাজনিতিকেই বেশি পছন্দ করে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সমস্যা ছিল একটি — দীর্ঘদিন ধরে শিকড় গাড়া স্বৈরতন্ত্র, আর বাংলাদেশে সমস্যা একাধিক – নস্ট রাজনীতির আবর্তে ঘুরপাক খাওয়া বেশ কিছু প্রধান রাজনৈতিক দল, যারা পরিবারতন্ত্রের মাধ্যমে অনেকদিন ধরে ‘গনতান্ত্রিকভাবে’ ক্ষমতায় আছে।

এখানে তরুণ সমাজের মধ্য হতে কোন একটি দল যদি সমাজ, দেশ ও রাজনীতির মঙ্গলের জন্য রাষ্ট্রের সর্বচ্চ ক্ষমতায় যেতে চায় তাহলে, তাদেরকে জনগনের মন জয় করে জনগণের ভোটেই আসতে হবে। এটা হবে একটা টেস্ট ম্যাচ খেলার মতই ব্যাপার, যার জন্য প্রয়োজন অনেক ধৈর্য আর হতে হবে লম্বা রেসের ঘড়া। রাজনীতির ময়দান অনেক কঠিন, এখানে টিকে থাকতে হলে অনেক ত্যাগ, তীতিক্ষা আর কষ্ট করেই টিকে থাকতে হবে। আসতে পারে জীবনের ঝুকিও।

সেই পরিমান সংগ্রাম করেই গণতন্ত্রে বিশ্বাসী তরূণ সমাজ নিজেদের মধ্যে অহিংস নীতিকে ছড়িয়ে দিয়ে, বিশাল একটা জাতিয় ঐক্যের মাধ্যমে যদি সমাজের আবর্জনাগুলো ঝেটিয়ে বিদায় করার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে এগিয়ে যেতে পারে, তবেই সত্যিকারের পরিবর্তন সম্ভব। নিকট ভবিষ্যতে না হলেও আগামি ১৫-২০ বছরের মধ্যে তা অবশ্যই সম্ভব। আম আদমি পার্টীর অরবিন্দ কেজরিও্যাল এভাবেই নিজের লক্ষ ঠিক রেখে এগিয়েছিলেন। আম আদমি পার্টীর উত্থান আজকের দিনে হলেও, অরবিন্দ দিল্লিবাসীর কাছে অনেক পুরাতন এক নাম। তিনি দিল্লির জনসাধারণের নাগরিক অধিকার রক্ষায় অনেক আগে থেকেই কাজ করেছেন।
অরবিন্দ চাকুরী করতেন অতিরিক্ত কর কমিশনার হিসেবে। চাকরিরত অবস্থাতেই রাজস্ব বিভাগেই শুরু করেছেন দুর্নীতিবিরোধী লড়াই। এ লড়াইয়ে বান্ধব জুটেছে। কখনও অন্তরালে, কখনও সামনে থেকে লড়াইটা চালিয়ে গেছেন নানাভাবে। বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাতে তৈরি করেন কর্মযোগিস এসোসিয়েশন ফর ব্রিংগিং ইন্ডিয়ান রিজেনারেশন (KABIR)। তৈরি করেন বেসরকারি সংস্থা PARIVARTAN। ট্যাক্স দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে যাতে ঠকতে না হয়, কর বিভাগের দুর্নীতির সঙ্গে জড়াতে না হয়, সে জন্য বন্ধুদের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বিনেপয়সায় জনগণের ট্যাক্স সংক্রান্ত সকল কাজ করে দিয়েছেন। খোদ ট্যাক্স অফিসে ‘ইনকাম ট্যাক্স অফিসে ঘুষ দেবেন না’ এ ব্যানার লাগিয়ে আলোড়ন তোলেন।

কাজেই যারা ভাবেন দিল্লিতে আম আদমি পার্টির উত্থান আকস্মিক ঘটেছে, তারা সঠিকটা জানেন না। প্রায় ১৬ বছর ধরে কেজরিওয়ালের জনস্বার্থের সপক্ষে লড়াই দিল্লিবাসীর চেনা। তথ্য পাওয়ার অধিকার জনগণের জন্য অবারিত করে তিনি এশিয়ার নোবেল খ্যাত ম্যাগসেস পুরস্কারও লাভ করেছেন। সে কারণেই তিনি যখন প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তখন মানুষ তাকে গ্রহণ করেছে সাদরে, সাড়ম্বরে।

আর একটা উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অরবিন্দ কিন্তু প্রচলিত রাজনীতির সাথে মিশে গিয়ে কোন কিছু পরিবরতন করার জন্য মাঠে নামেন নাই। কারও দালালীও করেন নাই, বা কারও এজেন্ডা বাস্তবায়নে নিজেকে বিলিয়ে দেন নাই, বাংলাদেশে যে অভিযোগ আছে ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ ও কিছু তরুণ সমাজ-সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশেও তরুণদের কোন দল বা সংগঠিত শক্তি যদি এভাবে নিজেদের আদর্শকে অটুট রেখে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর জনস্বার্থে কাজ করে যেতে পারে, তবে আমাদের আশাহত হয়ার কোন কারণ নেই।

(৫)
বাংলাদেশের রাজনীতি এখন চলছে অনেকটা নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্র হিসেবে, স্বাধীনতার ৪৩ বচর পরেও আমরা একটা নির্বাচনের জন্য সরবগ্রহণযোগ্য পদ্ধতিই খুজে বের করতে পারিনি।
পক্ষান্তরে, ভারতের নিরবাচন পদ্ধতি অনেক শক্তিশালী আর নিরপেক্ষ । সেখানে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন – এগুলোও অনেক শক্তিশালী। সিভিল সমাজও সেখানে অনেক সক্রিয়।
তাই হয়তো, আম আদমি পার্টির উত্থান সহজ হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের ‘নীরব বিপ্লব’ হয়ত অনেকটাই সুদুর পরাহত। তবে, যারা চেস্টা চালিয়ে যায়, কালের পরিক্রমায়, কালের সঠিক একটি মুহূর্ত তাদের পাশে এসেও দাড়াতে পারে—সেই সে মুহুরত, যে মুহুরতটি তাদের সব প্রচেষ্টাকে দুহাত ভরে দিতে সক্ষম।

সেই, মুহুরতটি আসার আগ পর্যন্ত, তরুণদের গনতান্ত্রিক আদর্শ সমুন্নত রেখে, বিরাট একটি ঐক্য গড়ে, শান্তি ও ভালবাসার মন্ত্র সাথে করে নিয়ে একটা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। তবেই, হয়ত অভাগা বাংলা মায়ের মুখে সত্যিকারের হাসি তারা ফুটিয়ে তুলতে পারবে।

আমরা না হয় সেই তরুণ দল বা ‘সোনালী প্রজন্ম’-এর প্রতিক্ষায় থাকলাম…!

১ thought on “ভারতের আম আদমি পার্টি, আর বাংলাদেশে তরুন নেতৃত্তের ভবিষ্যত

  1. প্রজন্ম যায়, প্রজন্ম আসে। যে

    প্রজন্ম যায়, প্রজন্ম আসে। যে প্রজন্ম সমাজ আর দেশের পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হয়, তারা তাকিয়ে থাকে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের দিকে, আশা করে তাদের অসমাপ্ত কাজ ভবিষ্যত প্রজন্মই সমাধা করে দেবে। শুধু তাই নয়, যে তরুণদের দিকে আশা নিয়ে তাকিয়ে থাকে পূর্ব প্রজন্ম, সেই তরুণরাও আশায় থাকে, তাদেরই মধ্যে অন্য কেউ, ব্যাক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে, সমাজ ও দেশকে বদলে দেবে। তারা ভাবে অন্য কেউ না কেউ এটা করবে, অন্যরা ভাবে তারাই এটা করবে। আদপে কেউ এতে সামর্থ্যবান হয়না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *