আমার বান্দরবেলা পর্ব ৬

একবার আমার খালাতো ভাই কোথেইকা যেনো জোলাপের গুলি যোগাড় কইরা নিয়া আসছিলো।একদিন ভাইয়ার ঘর থেইকা ঐ গুলি চুরি করে ছাগলের খাবারের সাথে মিশায় দিছিলাম।দুপুরে যথারিতী নানার পেয়ারের ছাগল দুইটা রাজার মতো খাবার খায় উঠানে বইসা জাবর কাটতেছে।একটু পর বসা অবস্থাতেই ছাগল দুইটার পিছনদিক থেইকা পাতলা পায়খান বাইর হওয়া শুরু করলো।সবসময় ছাগলরে গুটি গুটি খেজুরের বিচীর মতো লাদি ছাড়তে দেখছি।ঐবার প্রথম কোন ছাগল কে পাতলা হাগু করতে দেখছিলাম।সারাদিন হাগু করতে করতে দুর্বল হয়া এমন অবস্থা হইলো যে ছাগল দুইটা আর উঠতে পারে না।বইসা বইসাই হাগু করতে লাগলো আর করুণ স্বরে ম্যা ম্যা করতে লাগলো।পরে রাতে ডাক্তার ডাইকা হাগু বন্ধ করতে হইছিলো।

ছোটবেলায় চাঁদ খাওয়ার খুব শখ ছিলো।রাতে চাঁদ উঠলেই খাওয়ার জন্য এমন চিল্লাচিল্লি করতাম যে আশেপাশের মানুষজন ঘরে ডাকাত পরছে মনে কইরা লাঠিসোঠা নিয়া দৌড়ায় চইলা আসতো।আমার যন্ত্রনায় একবার আমার খালাতো ভাই তার বাবার চকচকা টাক দেখায় বললো,”ঐ যে চাঁদ,দৌড় দিয়ে গিয়ে খেয়ে আসো।নাহলে অন্যকেউ খেয়ে ফেলবে”।অন্যকেউ আগেই খেয়ে ফেলার ভয়ে আমি এক দৌড়ে খালুর কোলে উঠে চকচকা টাকের মধ্যে আমার সামনের দুই দাত দিয়া দিলাম এক রামকামড়।খালু তখন বারান্দার চেয়ারে বইসা ঝিমাইতেছিলো,আমার অতর্কিত হামলায় দিশেহারা হইয়া “আক্রমন আক্রমন” চিল্লাইতে চিল্লাইতে একলাফে উঠানে আইসা এদিক সেদিক দৌড়াদৌড়ি শুরু কইরা দিলো।খালুর এহেন উদ্বাহু নৃত্য আর নাক দিয়া ঘোঁত ঘোঁতের মতো বিচিত্র সংগীতে খালুর গলা থেইকা আমার হাত গেলো ছুইটা।তারপরও দুই দাত খালুর টাকে বাজায়া ঝুইলা থাকলাম।খালু একবার ডানদিকে ছুটলে আমি বাতাসে ভাসতে ভাসতে ডানদিকে যাই আবার বা-দিকে ছুটলে আমিও ভাসতে ভাসতে বা-দিকে যাই।একটু পর মা আইসা টাইনা হেচড়ায়া খালুর টাক থেইকা দাত ছুটায়া আমাকে ঘরে নিয়া গেছিলো।

ছোটবেলায় জামাই সাজার শখ ছিলো দেইখা বাবা একবার মার্কেট থেইকা পাগড়ি,শেরোয়ানী,আর নাগড়া আইনা দিছিলো।বিকাল হইলেই পাগড়ী,শেরোয়ানী লাগায়া মুখে রুমাল দিয়া ছোট মামার সাথে পাড়ায় ঘুরতে বের হইতাম।একবার বিকালে ছোটমামা তার নতুন বিয়া করা বন্ধুর বাসায় বেড়াইতে নিয়া গেলো আমাকে।বন্ধু আমাকে দেইখা হাসি দিয়া বললো,”ছোট জামাই তোমার বউ কই?”,মামার বন্ধুর পাশে তার বউ দাড়ায় ছিলো।আমি নুরানী মার্কা হাসি দিয়া মামার বন্ধুর বউকে দেখায় বললাম,”এইটা আমার বউ”।এই কথা শুইনা মামার বন্ধুর পুর্ণিমার মতো ঝলঝলা হাসি মুখ শুকায়া অমাবশ্যার রাতের মতো অন্ধকার হইয়া গেলো।সে কোনরকম মুখ ভেংচায়া বললো,”এইটা তো আমার বউ”।আমি একদৌড়ে বন্ধুর বউয়ের কোলে উইঠা গলা জড়ায়া দেশ দখলের মতো বউ দখল কইরা বললাম, “এইটা আমার বউ”।বউ আমার কথা শুইনা হি হি কইরা হাসতে হাসতে বললো,”আচ্ছা! এখন থেইকা তুমি আমার ছোট জামাই”।নতুন বউয়ের মুখে এই কথা শুইনা মামার বন্ধুর প্রায় হার্টফেল করার দশা।যতক্ষন ঐ বাসায় ছিলাম মামার বন্ধুর বউয়ের কোল থেইকা নামি নাই।আসার সময় মামা তো আর আমাকে কোলের থেইকা নামাইতে পারে না।কোল থেইকা নামানোর জন্য মামা আমার দুই পা ধইরা যত টানাহেচড়া করে আমি তত জোড়ে বউয়ের গলা জড়ায় ধরি।এমন টানাটানিতে বন্ধুর বউয়ের দম আটকায় যাওয়ার দশা।কোল থেইকা না নামাইতে পাইরা অবশেষে মামা বললো,”আজকে চলো আরেক দিন এখানে নিয়ে আসবো”,আমি বললাম,”বউরে ছাড়া বাসায় যাবো না”।আমার মুখে একথা শুইনা মামার বন্ধুর মুখ শুকায়া আমসির মতো হইয়া গেলো।শেষপর্যন্ত নতুন বউয়ের কোলে উইঠা বাসায় ফিরছিলাম।

গরমের সময় একবার বাবা সেলুন থেইকা আমাকে মাথা টাক করায়া নিয়া আসলো।এই টাক মাথা নিয়া লোকজনের সামনে যাইতে খুব লজ্জ্বা পাইতাম।এদিকে ছোটমামা আমার টাকটাকে তবলা মনে কইরা প্রায়ই দুই আঙ্গুল দিয়া টাকডুম টাকডুম বাজাইতো আর নাকি স্বরে হুঁ হুঁ কইরা গান গাইতো।ছোটমামার তবলা বাজানির যন্ত্রনা থেইকা বাঁচার জন্য আমি ব্যস্ত হয়া পড়লাম।তখনকার সময়ে মা খালারা খোপা বড় দেখানোর জন্য বড় বড় পরচুলা লাগাইতো।একদিন দুপুরে মা ঘুমায় পড়লে আলমারী খুইলা মার সবগুলি পরচুলা বের কইরা সোজা স্টোররুমে গিয়ে আঠা দিয়া মাথার সামনে,পিছনে,উপরে সবজায়গায় পরচুলা লাগায় নিলাম।একেকটা পরচুলার সাইজ ছিলো ২ হাতের মতো এদিকে আমি ছিলাম দেড়ফুটিয়া একটা বাচ্চা।চুল লাগানোর পর আমার হাটু বাদে শরীরের উপরের সব অংশই চুলে চুলে ঢাইকা গেছিলো।যাই হোক,একটু পর চুপচাপ ছোটখালার রুমে গিয়ে খাটের উপর বইসা রইলাম।বিকালে ছোটখালা ঘুম ভাইঙ্গা দেখে তার বিছানায় বড় বড় চুলওয়ালা একটা জন্তু বইসা রইছে,যার চোখমুখ কিছুই নাই।এইটা দেইখা খালা চিকন স্বরে কাঁউ কাঁউ হুড়মুড় কইরা খাট থেইকা পইড়া দাত কপাটি লাগায় ফেললো।ঘটনা বেগতিক দেইখা আমি এক দৌড়ে আবার স্টোর রুমে গিয়ে লুকায় রইলাম।পরে ছোটমামা আইসা আমাকে বাইর করছিলো।ঐ ঘটনার পর সেলুন থেইকা নাপিত আইনা আবার ক্ষুর দিয়ে চুল ফালাইতে হইছিলো কারন হাজার টানাটানি কইরাও ঐ পরচুলা আমার মাথা থেইকা নামাইতে পারে নাই কেউ।বরন্চ মাথা থেইকা পরচুলা খোলার জন্য মা আর খালার যুগপৎ টানাটানি তে আমার শরীর দুই টুকরা হয়া যাইতে নিছিলো।

পর্ব ৫

৮ thoughts on “আমার বান্দরবেলা পর্ব ৬

  1. আপনের বান্দর বেলা দেখি কেবলি
    আপনের বান্দর বেলা দেখি কেবলি হাগাময় এর আগে ছিল নিজের হাগার সমস্যা এইবার দিলেন ছাগলের !!

  2. আগু ভাই, সত্যিই আপনে আমাগো
    আগু ভাই, সত্যিই আপনে আমাগো মাইরা ফালাবেন… :ভেংচি: :ভেংচি: :ভেংচি: :হাসি: :হাসি: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: 😀 😀 😀 😀 😀 😀 :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান:

Leave a Reply to জাকারিয়া হোসাইন অনিমেষ Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *