ছোট-ছোট ছোটগল্প

ভাদ্রমাসের ক্লান্ত বিকেল। ভ্যাপসা গরম। খাঁ-খাঁ করা একটি জনশূন্য ফুটপাতে বসে ভাবছি, সকলেই যেন কিছু না কিছু চাইছে, কিছু খুঁজছে। কি চাইছে? কিছু একটা তো নিশ্চয়ই।

পাত্র’র বাবা-মা পাত্রী খুঁজছে, পাত্রী’র অভিভাবকরা পাত্র।
উপেক্ষিতা স্ত্রী অপেক্ষা-প্রতীক্ষা’র পার্থক্য নিয়ে ভাবতে ভাবতে, গোপনে গোপনে চোখের জলে বুক ভাসায় মধ্যরাতে।
নির্যাতিতা স্ত্রী, নারী সংগঠনের নারী নেত্রীটির চেহারাতেও নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পায়।
আর নির্যাতিত স্বামী? সে হয়তো টয়লেটের আলো আঁধারে সময় পার করে একলা একা।
একাকী বৃদ্ধা শূণ্যে চেয়ে শূণ্য হতেই সঙ্গী খোঁজে।

ভাদ্রমাসের ক্লান্ত বিকেল। ভ্যাপসা গরম। খাঁ-খাঁ করা একটি জনশূন্য ফুটপাতে বসে ভাবছি, সকলেই যেন কিছু না কিছু চাইছে, কিছু খুঁজছে। কি চাইছে? কিছু একটা তো নিশ্চয়ই।

পাত্র’র বাবা-মা পাত্রী খুঁজছে, পাত্রী’র অভিভাবকরা পাত্র।
উপেক্ষিতা স্ত্রী অপেক্ষা-প্রতীক্ষা’র পার্থক্য নিয়ে ভাবতে ভাবতে, গোপনে গোপনে চোখের জলে বুক ভাসায় মধ্যরাতে।
নির্যাতিতা স্ত্রী, নারী সংগঠনের নারী নেত্রীটির চেহারাতেও নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পায়।
আর নির্যাতিত স্বামী? সে হয়তো টয়লেটের আলো আঁধারে সময় পার করে একলা একা।
একাকী বৃদ্ধা শূণ্যে চেয়ে শূণ্য হতেই সঙ্গী খোঁজে।
নাকে সিকনি ঝরা বালক ঝোপের আড়ে হারানো মার্বেলের খোঁজে হা-হুতাশে মরে।
মধ্যবিত্তের শ্যামলা রঙের কুমারী মেয়েটির মা; ক’দিন ধরেই উদ্বিন্ন কোন এক গুপ্ত ক্লিনিকের খোঁজে।
ক্যাশিয়ার সাহেব একটা বড় অংকের ক্যাশ ভাউচারের খোঁজে বড় কর্তার ভয়ে তটস্থ।
পার্থিব নানা রঙের রস আস্বাদন হতে বিরত থেকেও, বোধি বৃক্ষের তলায় দু’চোখ মুদে বসে আছেন বিবাগী ব্রহ্মচারী; কিসের আশায়?
দুর্গম হিমালয়ের চূড়ায় নব আবিষ্কারের কিছু নেই জেনেও ছুটে যাচ্ছে নবাগত পর্বতারোহী।
ভণ্ড প্রেমিক বিছানাকে ফোকাস করে, বিভিন্ন এঙ্গেলে গোপন ক্যমেরা বসিয়ে মদির স্বপ্নে বিভোর।
তিরিশ বছরের পুরনো সংসার ভেঙ্গে নতুন বাসর সাজায় মাছরাঙ্গা রঙের রঙ্গিলা কোন মন।
বিশ্বপিতারা নতুন কোন দেশ হামলায় রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মগ্ন।
নিশ্চিত মৃত্যুর দুয়ার হতে সদ্য ফেরত আসা বৃদ্ধ নব উদ্যমে জীবন শুরু করতে উদগ্রীব।
ফিল্মের ডাকসাইটে পরিচালক তার নতুন ছবির জন্য লাস্যময়ী নতুন নায়িকার খোঁজে চিন্তিত।
উঠতি মাস্তানকে কি করে দমানো যায় সেই ভাবনায় অস্থির পাড়ার পুরনো মাস্তান।
সদ্য ধর্ষিতার অসহায় পিতাটি দা-বটি’র খোঁজে রান্নাঘর আর স্টোর রুম তন্ন তন্ন করতে থাকে।
ফুটপাতের অন্ধ ভিক্ষুক ঘুম থেকে জেগে সুতলি দিয়ে বাঁধা বহু পুরনো চশমা হাতড়ে মরে।
নিম্নাঙ্গে বস্তা পেঁচানো পাগলটি সর্বদাই অদৃশ্য কারো সাথে তর্কে লিপ্ত।
কিবোর্ডে এক বিবাহিত পুরুষের ঘর্মাক্ত আঙ্গুল সদা ব্যস্ত ইন্টারনেটের বিশেষ ওয়েবসাইটের সন্ধানে।
সরদার বাড়ীর নতুন বউটি বাসরের পরদিন মুখ গোঁজ করে বসে থাকে, হারানো নাকফুলের আফসোসে।
থ্রি স্টার হোটেলের অনতিদূরের ডাস্টবিনে হাঁটু গেঁড়ে বসে থাকে কঙ্কালসার প্রৌঢ়।
কিশোরী মেয়েটি আলতার বোতলের খোঁজে খাটের নীচ, আলমারীর তলা, ভাঙ্গা ট্রাঙ্কের ভেতরটা তছনছ করে।
রেল লাইনের পাশের ঝুপরির ওই ডবকা যুবতীটি গাল দিতে দিতে গিয়ে, কিপ্টা খদ্দেরের ধাত্রীকেও ছাড় দেয় না।
আঁচলের নীচে কাঁচা মাংশ নিয়ে সটকে পড়ার ফাঁক খুঁজে ঠিকা ঝি।
মক্কেল খুনী, নিশ্চিত জেনেও ভোর পর্যন্ত আইনের মোটা মোটা বই ওল্টায় আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বিশিষ্ট আইনজীবি।
অসহিঞ্চু যৌবন যাতনায়, হাতে দুর্বিন নিয়ে বাথরুমের জানালা দিয়ে কি যেন খোঁজায় ব্যস্ত যুবক ছেলেটি।
রাস্তার মোড়ের ট্রাফিকটির চোখজোড়া কালো চশমার আড়ালে খুবই সজাগ।
‘নোভেল’ পাওয়া বিজ্ঞনীটি নতুন প্রতিষেধক আবিষ্কারের নেশায় অনুবীক্ষন যন্ত্রের উপর হুমড়ি খেয়ে থাকে।
হিরোইনের পুরিয়া হাতে নিরাপদ স্থানের খোঁজে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ায় ভদ্র ঘরের সন্তান।

আমিও কি সাধু, সফেদ? আমার ভিতরও কি কিলবিল করে না কালো কালো কুকুরের জিভ?

আড় চোখে লক্ষ্য করলাম; ল্যামপোস্টের নীচে যৌবনা এক কুক্কুরীর পিছে ঠাঁই দাঁড়িয়ে লোল ঝরাচ্ছে ছাল ওঠা এক নেড়ি কুত্তা।

২৩ thoughts on “ছোট-ছোট ছোটগল্প

  1. ফুটপাতের অন্ধ ভিক্ষুক ঘুম

    ফুটপাতের অন্ধ ভিক্ষুক ঘুম থেকে জেগে সুতলি দিয়ে বাঁধা বহু পুরনো চশমা হাতড়ে মরে।

    ভেরি নাইস !!! এই গল্পগুলো আমাদের চারপাশেই হেঁটে বেড়ায় । কেউ দেখে কেউ দেখেনা …

  2. আহ!!!! কি ঝামেলা রে!!!!এত
    আহ!!!! কি ঝামেলা রে!!!!এত কিছু ভাবেন রাত্রে ঘুমান ক্যমনে!!!

    আতিক ভাই এর সুরে সুর মিলা বলতে চাই খাউনা (আপনারে দেয়া নতুন নাম) ভাই একটা মাল……

  3. ইহা একটি মাইরালা টাইপের
    ইহা একটি মাইরালা টাইপের ছোটগল্প… :মাথাঠুকি: :খাইছে: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: আর মুগ্ধতার জোয়ারে এইভাবে মাইরা ফালানোর দায়ে খাউনা ভাইয়ের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হইল… :bow: :bow: :ফুল: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল:

    1. যতই অভিযোগ আনা হোক, আমি ন্যায়
      যতই অভিযোগ আনা হোক, আমি ন্যায় বিচার পাবোই। না পেলেও সমস্যা নাই, উচ্চ আদালততো আছেই ডন।
      (পরিশেষে অশেষ ধন্যবাদ)

  4. শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার স্টাইলে লেখা গদ্য বলে মনে হল। অন্য রকম গভীরতা আছে,
    ভালো লাগলো নাসির ভাই।

  5. পড়ার পর ভাবছি, কী পড়লাম
    পড়ার পর ভাবছি, কী পড়লাম এটা?
    চমকপ্রদ প্লট, দুর্দান্ত গাঁথুনি। সম্পূর্ণ অন্যরকম কয়েক মিনিট উপহার দেওয়ার জন্য :গোলাপ: নিন ভাইয়া।

  6. খান সাহেব, আপনার লেখা পড়ে
    খান সাহেব, আপনার লেখা পড়ে বহুদিন আগে পড়া Arundhati Roy এর The God Of Small Things উপন্যাসটার কথা মনে পরে গেল। এসব আপাতঃতুচ্ছ ছোট ছোট ঘটনা জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। খুব ভালো লাগলো। প্রিয়তে নিয়ে নিলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *