ব্যাখ্যার অতিত …আমার জীবনে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনা…

নীশাচর পাখিরা নির্ভিক হয়,পথে যেতে যেতে আমি সেটাই বলছিলাম আমার এক জুনিয়র ভাইকে।নিজে যতোটুকু জানি বলছিলাম,যদি ধোঁয়াটে মানুষও দেখো সেটাকেও প্রথমে ব্যাখ্যা করবে,যদি ব্যাখ্যা না দাঁড়ায় ভয় না পেয়ে ধর্মশক্তির দ্বারস্ত হবে।মনে রাখবে ব্যাখ্যার অতিত কিছু নেই এমনকি স্রষ্টাও নন।স্রষ্টার অস্তিত্বের ব্যাখ্যার নাম বিশ্বাস,প্রতিটি মানুষের শ্বাস প্রশ্বাস,প্রতিটি মানুষের অস্তিত্ব স্রষ্টাকে প্রমান করে,স্রষ্টা আছেন।


নীশাচর পাখিরা নির্ভিক হয়,পথে যেতে যেতে আমি সেটাই বলছিলাম আমার এক জুনিয়র ভাইকে।নিজে যতোটুকু জানি বলছিলাম,যদি ধোঁয়াটে মানুষও দেখো সেটাকেও প্রথমে ব্যাখ্যা করবে,যদি ব্যাখ্যা না দাঁড়ায় ভয় না পেয়ে ধর্মশক্তির দ্বারস্ত হবে।মনে রাখবে ব্যাখ্যার অতিত কিছু নেই এমনকি স্রষ্টাও নন।স্রষ্টার অস্তিত্বের ব্যাখ্যার নাম বিশ্বাস,প্রতিটি মানুষের শ্বাস প্রশ্বাস,প্রতিটি মানুষের অস্তিত্ব স্রষ্টাকে প্রমান করে,স্রষ্টা আছেন।

সেদিন সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমাদের একটি পথনাটকের শো ছিলো,নাটকের নাম “মড়া”…কোলকাতার স্ক্রিপ্ট,শুভঙ্কর চক্রবর্তীর লেখা।হায়দার নামে একজন মুসলিম মৌলবাদীর চরিত্র করছিলাম আমি,আমি যাদের সাথে থিয়েটার করি প্রায় সবাই জানে প্রতিটি চরিত্রকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেই,ভালোবেসে নিজেকে চরিত্রের সাথে মিশিয়ে দেই।এই হায়দার চরিত্রের জন্য আমি পাক্কা তিন দিন হায়দার হয়ে ছিলাম।রিহার্সেলে যেতাম হায়দার হয়ে ফিরতাম হায়দার হয়ে।গোসল আর ঘুমের সময়টা শুধু নিজের মাঝে থাকতাম।
হায়দার চরিত্রটা ছিলো আমার জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ,ষাট বছরের একজন বৃদ্ধের চরিত্রে অভিনয় করা ভিজুয়ালিই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আর সেটা ছিলো মঞ্চ।সাজেস্টিভ ফর্মে কাজ করে অভ্যস্ত একজন মঞ্চ কর্মীর রিয়েলিস্টিক ফর্মে অভিনয় করা টাফ হয়ে দাঁড়ায়।তবুও আমাদের থিয়েটার কর্মীদের হতে হয় জলবৎ তরলং। তৃনমূল পর্যায়ে নিপুন দক্ষতায় পৌঁছে দিতে হয় নাটকের মেসেজ।

দীর্ঘ ভুমিকা টেনে অপ্রাসঙ্গিক কথায় চলে যাওয়ায় দুঃখিত।
সেদিন শো শুরু হবার কথা ছিলো রাত ন’টায়।শিডিউলে গোলমালের কারনে আমাদের নাটক শুরু হলো রাত সারে দশটায়।১৭ই ডিসেম্বরের কনকনে শীত, মঞ্চের চাঁদোয়া বেয়ে কুয়াশার জল এসে পড়ছিল মাথায়।সামনের দর্শকের অর্ধেকের বেশী চলে গেছে।তবুও আমরা পরম ধ্যানে সংলাপ দিয়ে যাচ্ছিলাম।
যারাই দর্শক ছিলো মজা পেয়ে হাসছিলো, তালি দিচ্ছিলো, কেউ কেউ ভদ্র টাইপের খিস্তিও দিচ্ছিলো। সেদিন শো শেষে প্রপস কস্টিউম জমা দিতে দিতে রাত বারোটা বেজে গেলো।এদিকে আমাকে যেতে হবে শিবগঞ্জে।জিন্দাবাজার থেকে শিবগঞ্জের দুরত্ব রিক্সায় করে প্রায় আধা ঘন্টা,পঁচিশটাকা ভাড়া।শীতের রাতে এমনিতেই রাত দশ এগারোটার পর রিক্সা পাওয়া দুস্কর তবুও একটা পেয়ে গেলাম।ভাড়া চাইলো সত্তর টাকা।হাতে অতো টাকা ছিলোনা।ভাবলাম হেঁটে বন্দরবাজার গিয়ে বটেশ্বর বা মেজরটিলাগামী কোন সি এন জি যদি পাই ওতে করে শিবগঞ্জ পয়েন্টে নেমে যাবো।কিন্ত ওখানে গিয়ে দেখলাম অসম্ভব নির্জনতা, করিমউল্লাহ মার্কেটের সামনে জড়সড়ো হয়ে এক পাগল শুয়ে আছে সম্ভবত।আর কেউ নেই।
অগত্যা হেঁটেই রওনা হলাম,আমার পরনে তুলনার কচুপাতা গেঞ্জি উপরে পাতলা একটা ব্লেজার আর জিন্সের প্যান্ট।ভালোই শীত লাগছিলো। চুল দাড়ি রঙ দিয়ে সাদা করা।হয়তো অদ্ভুত দেখাচ্ছিলো।বিশ মিনিট হাঁটার পর নাইওরপুল পয়েন্টে যেতেই পুলিশের গাড়ি আটকালো।জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ না দিয়েই বললাম,শহীদ মিনারে নাটক ছিলো,খানিক আগেই শো শেষ হয়েছে,এখন বাসায় ফিরছি।ওরা আর কিছু জিজ্ঞেস না করে তারাতারি বাসায় চলে যান বলে নয়াসড়কের দিকে চলে গেলো।মিরাবাজার কিশোরীমোহন হাইস্কুলের সামনে দেখলাম একটা সিগারেটের দোকান খোলা।ভাবলাম টাকা যখন বেঁচেই গেলো এক শলাকা সিগারেট আর এক খিলি মিষ্টি পানই খাই(সিনিয়রদের কেউ ব্লগ পড়ে থাকলে সিগারেটের ঘটনা এড়িয়ে যাবেন,মনে করবেন শুধু পান খেয়েছি।জানেন তো আমি ভালো ছেলে।)
চমন বাহার আর পানপরাগের মিষ্টি স্বাদ আর গোল্ড লিফের যাদুকরী ধোঁয়া গিলতে গিলতে যখন শিবগঞ্জে পৌঁছলাম তখন ঘড়িতে রাত ১টা ৪৪মিনিট।আমার মেস চিপা গলির ভেতর দিয়ে খরাদিপাড়ায়।একে তো রাত অনেক হয়ে গেছে মনিপুরী পাড়া ঘুরে গেলে বাসায় পৌঁছতে গেলে সময় লাগবে দশ মিনিট।কিন্ত টিলাবাড়ির উপর দিয়ে গেলে দুই মিনিট লাগে।দিনের বেলা ওই বাড়িতে দুইটা কুকুর ধাওয়া করে তাই কেউ এদিকে আসিনা।ভাবলাম রাতে নিশ্চই কুকুরদের গেটের ভিতর আটকে রাখা আছে।আশ্চর্য হলেও সত্য ভুত টুতের ভয় তখনো আমার মাথায় আসেনি।কিন্ত ওই বাড়িতে আসতে সন্ধ্যা বেলাতেও কেউ সাহস করেনা ভয়ে।আমার মাথায়ই ছিলোনা এসব।একবার মনে আছে এ বাড়িতে লিচু কিনতে এসে কুকুরের দৌড়ানি খেয়েছিলাম।সেই স্মৃতিটাই বরং মাথার মধ্যে প্রকট হয়ে ভেসে উঠছিলো।লিচুতলাটা পার হবার সময় আমার অদ্ভুত অনুভুতি হলো,বেশী করে তামাক দিয়ে কাঁচা সুপুরি খেলে যেমন কানটান গরম করা অনুভুতি হয় অনুভুতিটা তেমন।শীত যেনো দৌড়ে পালালো,শরীরে একফোটা ক্লান্তিও ছিলোনা।খানিকটা ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে মেসের বড় গেটটায় এসে দেখলাম ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগানো।আমার মেসমেট জামিলের শিখিয়ে দেয়া টেকনিকে অনায়াসেই খুলে ফেললাম সেটা।
বাসায় ঢুকে শর্টকাট গোসল সেরে নিলাম।বাথরুমে থাকার সময়েই বুকের মধ্যে ছ্যাৎ করে উঠলো।
আমার মনে হলো আমি ছাড়াও মেসে আর কেউ আছে,আর সে কান পেতে আছে বাথরুমের দরজায়।বিশ্বাস করুন আমি ভয় পেতে শুরু করলাম।আমার অবস্থানে থাকলে যে কেউ ভয় পেতো,কারন আমার মেসমেটরা সব যার যার বাড়িতে চলে গিয়েছিলো।ফেরার কথা দুইদিন পর।

আমি তখনো টের পাচ্ছিলাম দরজার ওপাশে কেউ একজন আছে,জলের আওয়াজ ছাপিয়ে আমি তার নিঃশ্বাসের শব্দ পর্যন্ত শুনতে পাচ্ছিলাম।আমি বেসিনের কল ছেড়ে দিয়ে কুলি করার ভান করলাম।এর পর চার পাঁচ সেকেন্ড! এক ঝটকায় টান মেরে খুলে ফেললাম বাথরুমের দরজা।কোথাও কেউ নেই।আমি শুধু ষাট ওয়াট বাতির ম্যারমেরে আলোতে আশরাফের রুমে টেবিলের উপর স্তুপ করে রাখা বই আর ওর বিছানা দেখতে পেলাম।শুধু দেখলাম মশারীর স্ট্যান্ডে রাখা কাপড়গুলো মৃদু দুলছে।পাত্তা না দিয়ে রান্নাঘরে চলে গেলাম।
বেশ ক্ষিদে পেয়েছিলো আমার। টমেটো দিয়ে রান্না করা তেলাপিয়া মাছের সালুন আর ডাল গরম করে গোগ্রাসে খেলাম।ঘড়ির কাটা তখন তিনটা ছুঁই ছুঁই।পকেটে তখনো আরেকটা সিগারেট পরেছিলো। সেটা ধরিয়ে দুই তিনবার গভীর টান দিলাম।নার্ভ স্থির রাখার আশ্চর্য অষুধ এই সিগারেট।
টানতে টানতে সমস্ত বাসা তন্ন তন্ন করে খুঁজলাম।কাপড় রাখার আলনার প্রতিটা কাপড়ের ভাঁজ থেকে শুরু করে জানালার পর্দার পেছন পর্যন্ত খুঁজলাম। রান্নাঘরে একটি চিকা আর কয়েকটি তেলাপোকা ছাড়া কিছুই পেলাম না।হেলালের রুম তালা দেয়া ছিলো তাই সেঘরে কিছু খুঁজতে পারলাম না।

ভয় কিছুটা কমে এলে নিশ্চিন্তে ঘুমুতে গেলাম।বিছানায় এয়ার ফ্রেসনার ছিটিয়ে বিছানায় শুয়ে পায়ের কাছের লেপটা যখন শরীরের উপর টেনে নিলাম আরামে চোখ বুজে এল।তন্দ্রামতো আসতেই মাথার কাছের জানলার কাছ থেকে একটা ছায়া সরে যেতে দেখলাম।ভয়টা আবার বাড়তে শুরু করলেও ঘাপটি মেরে শুয়ে থাকলাম।
কখন ঘুমালাম বা কতোক্ষন ঘুমিয়েছিলাম জানিনা,ঘুম ভাঙ্গলো বিছানার প্রচন্ড কাঁপুনিতে।কেউ যেনো বিছানাটা গুড়িয়ে ফেলতে চাইছে।আমি নিশ্চিত হলাম ভুমিকম্প চলছে,এক ঝটকায় মশারী ছিড়ে বিছানা থেকে নামতেই বুঝতে পারলাম কাহিনী অন্যরকম।ভুমিকম্প নয়!অথবা সমস্ত ঘরটা নয় শুধু আমার বিছানাটাই কাঁপছে।আমি নিশ্চিত হতে মাটিতে বসে পড়লাম,আমার পা’গুলো কাঁপছিলোনা তার মানে এটা শরীরের কাঁপুনি হতেই পারেনা।বিছানায় হাত দিতে দেখলাম সেটা এখনো কাঁপছে।খানিকটা ভাইব্রেশনের মতো।আমি প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলাম।বিছানার তলা খুঁজে কিছু পেলাম না।ঘামতে ঘামতে আবিস্কার করলাম সমস্ত ঘর আবছা কুয়াশায় ছেয়ে গেছে।অসম্ভব ঠান্ডা ঘরটা। কুয়াশার উৎস খুঁজতে গিয়ে যা দেখলাম তাতে আমার জ্ঞান হারানো উচিত ছিলো।বাসার সবগুলো জানালা কেউ খুলে রেখে গেছে,সেখান থেকে প্রবেশ করছে হু হু করা শীতের বাতাস আর কুয়াশা।

আমি ভোর পর্যন্ত জেগে বসে রইলাম।শরীরে প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে ভোর হতেই ছুটে চলে গেলাম মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে।তিনি আমাকে দুই ধরনের ব্যাখ্যা দিলেন।তিনি বললেন হতে পারে পুরো ব্যাপারটাই আপনার স্বপ্ন এটা আপনাকে শান্তনা দেয়ার জন্য বলতে পারি।কিন্ত সত্য হলো আপনার শরীরে ভর করে খারাপ জিনিসটা আপনার ঘরে প্রবেশ করেছিলো। আপনার শরীরে কি ব্যাথা?
আমি বললাম, জ্বি!ব্যাথা আছে।
উনি বললেন,আপনি শক্ত মানুষ তাই কবজা করতে পারেনি ময় মুরুব্বীর দোয়ায় ওটা আপনার ভেতর থাকতে পারেনি।ওটা বেড়িয়ে যাবার সময় ব্যাথাটা রেখে গেছে।
আপনার উচিৎ হবে বাসাটা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়া।আপনি যদি নাও যান এটা আপনাকে থাকতে দেবেনা।যেভাবেই হোক আপনাকে সে এখান থেকে সরাবে।

ওটা আসলেই আমাকে মেসে থাকতে দেয়নি।এই এক বৈঠকে এতো কথা বলাটা ক্লান্তিকর।বাকি কথাগুলো পরের যেকোন পোষ্টে প্রকাশ করবো। আমার জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু বিভৎস স্মৃতি।

৭ thoughts on “ব্যাখ্যার অতিত …আমার জীবনে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনা…

  1. আমারও এই রকম অভিজ্ঞতা আছে
    আমারও এই রকম অভিজ্ঞতা আছে অনেক কিন্তু মিথ্যা বলবনা আমি আপনার মত এতটা সাহসী নয় তাই ভয়কে জয় করার চেষ্টা করিনা বরং ভয়ের চোটে দে ছুট …… কিন্তু আপনার ব্যাপারটা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিশেষ করে সমস্ত ঘর আবছা কুয়াশায় ছেয়ে গেছে।অসম্ভব ঠান্ডা ঘরটা। কুয়াশার উৎস খুঁজতে গিয়ে যা দেখলাম তাতে আমার জ্ঞান হারানো উচিত ছিলো।বাসার সবগুলো জানালা কেউ খুলে রেখে গেছে,সেখান থেকে প্রবেশ করছে হু হু করা শীতের বাতাস আর কুয়াশা। আমি হলে নির্ঘাত পত্রিকার হেডলাইন হয়ে যেতাম :হয়রান:

  2. প্রিয় জুয়েলদা, আমি সাহসী
    প্রিয় জুয়েলদা, আমি সাহসী নই।আমি খুব ভিতু,আমি চোর ডাকাত ভয় পাই।কিন্ত ভুতে ভয় খুব একটা পাইনা কারন আমি স্রষ্টায় বিশ্বাস করি।আমি যে ঘটনা তুলে ধরলাম সেটাতো স্রেফ ঘটনা। এর পরে আমার মানসিক অবস্থা কি ছিলো তা কিভাবে বুঝাবো।মেস ছাড়ার আগে পর্যন্ত আমি একটি রাতও সুখে ঘুমুতে পারিনি।মানসিক অস্থিরতা এমন পর্যায়ে ছিলো যে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে করতো। 🙁

  3. যদিও আমার ভূত-টুতে বিশ্বাস
    যদিও আমার ভূত-টুতে বিশ্বাস নাই তবুও কেন যেন আপনার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সত্য বলে ভাবতে ইচ্ছা করছে……

  4. আমার মনে হয় সব কিছুর ব্যাখ্যা
    আমার মনে হয় সব কিছুর ব্যাখ্যা দেওয়ার মত অবস্থায় আমাদের বিজ্ঞান এখনও আসেনি ।

    ওটা আসলেই আমাকে মেসে থাকতে দেয়নি।

    এর অর্থ কি ?

  5. ওরে বাবা !!! আম্মু, দেখ আমার
    ওরে বাবা !!! আম্মু, দেখ আমার :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: সব দোষ রাজু দার… আমাকে ভয় দেখাচ্ছে। :দেখুমনা: :দেখুমনা:
    রাজু দা, আমি হলে মরেই যেতাম। :কানতেছি: :কানতেছি:
    তবে যা-ই হোক পড়তে কিন্তু বেশ লাগলো… :ফুল: :ফুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *